স্পোর্টস ডেস্ক :
ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়েই ঘরের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্তু বিতর্কিত এক লাল কার্ড ও পেনাল্টিতে সপ্নভঙ্গ হয় তাদের। আরও একবার তাদের বিদায় করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে স্প্যানিশ জায়ান্টরা পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চতুর্থবারের মতো ম্যানচেস্টার সিটিকে বিদায় জানাল ইউরোপের সেরা আসর থেকে। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১ ব্যবধানে দাপুটে জয় নিশ্চিত করে ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা।
পাঁচ মৌসুমের মধ্যে চতুর্থবার সিটিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় করে দিল রিয়াল।
গোটা ম্যাচে ৪৭ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ২২টি শট নিয়ে আটটি লক্ষ্যে রাখতে পারে সিটি। রিয়ালের ১৪ শটের সাতটি লক্ষ্যে ছিল।
ম্যাচের প্রথম মিনিট পূর্ণ না হতেই আচমকা বড় সুযোগ পেয়ে যান প্রথম লেগে হ্যাটট্রিক করা ফেদে ভালভের্দে। মাঝমাঠের বাঁ দিক থেকে ভিনিসিউসের ক্রস ডি-বক্সের বাইরে ফাঁকায় পান তিনি। কিন্তু লবের চেষ্টায় দুর্বল শটে হতাশ করেন উরুগুয়ের তারকা। বল সহজেই ঠেকান এগিয়ে আসা গোলরক্ষক জানলুইজি দোন্নারুম্মা। একটু পরই মুহূর্তের ব্যবধানে ডাবল সেভে জাল অক্ষত রাখেন থিবো কোর্তোয়া। হায়ান শেহকি ও রদ্রির শট ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক।
সপ্তদশ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে ভিনিসিউসের নেওয়া জোরাল শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। সিটি যদিও বল ক্লিয়ার করতে পারেনি। বক্সের ভেতরেই অন্য পাশ থেকে ভিনিসিউসের শট বের্নার্দো সিলভার হাতে লাগলে পেনাল্টির আবেদন করে রেয়ালের খেলোয়াড়রা।
লাইন্সম্যান শুরুতে অফসাইডের পতাকা তুললেও, ভিএআরে দীর্ঘ পরীক্ষার পর মনিটরে দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি, একই সঙ্গে সিটি অধিনায়ক সিলভাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান তিনি।
প্রথম লেগে পেনাল্টিতে ব্যর্থ হলেও, এবার আর ভুল করেননি ভিনিসিউস।
গোল হজমের পর চতুর্থ অফিসিয়ালের গায়ে হাত রেখে হলুদ কার্ড দেখেন সিটির কোচ গুয়ার্দিওলা।
২৪তম মিনিটে আরেকটি ভালো সুযোগ পান ভিনিসিউস। বক্সের ভেতর থেকে এবার শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি। পরের মিনিটে দুরূহ কোণ থেকে হলান্ডের শট ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া। ফিরতি বল বক্সের ভেতর থেকে উড়িয়ে মারেন ২০২৪ সালের ব্যালন দ’র জয়ী রদ্রি।
একটু পরই আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন ভিনিসিউস। আর্দা গিলের দারুণ পাস দেন বক্সে, পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে বাইরে মারেন তিনি।
অনেক সুযোগ হারানোর পর ৪১তম মিনিটে ম্যাচে সমতা টানে সিটি। জটলার ভেতর দিয়ে আসা বলে কাছ থেকে হলান্ড ঠিকমতো পা ছোঁয়াতে না পারলেও, তা গড়িয়ে জালে জড়ায়।
গত ১১ ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম জালের দেখা পেলেন নরওয়ের তারকা।
দ্বিতীয়ার্ধে আর মাঠে নামেননি কোর্তোয়া। তিনি চোট পেয়েছেন কি না, তা পরিষ্কার নয়। তার বদলি নামেন আন্দ্রি লুনিন।
৫০তম মিনিটে হলান্ডের নিচু শট ঠেকান ইউক্রেইনের এই গোলরক্ষক। কয়েক মিনিট পর হলান্ডকে তুলে নেন কোচ। ৬৩তম মিনিটে জেরেমি ডোকু রেয়ালের জালে বল পাঠালেও, অফসাইডের কারণে গোল মেলেনি।
চোট কাটিয়ে ৬৯তম মিনিটে মাঠে ফেরেন কিলিয়ান এমবাপে। ব্রাহিম দিয়াসের বদলি নামেন এই ফরাসি তারকা।
৭৮তম মিনিটে কাছ থেকে হেডে রেয়ালের জালে বল পাঠান ডিফেন্ডার রায়ান আইত-নুরি, তবে তিনিও পরিষ্কার অফসাইডে ছিলেন।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ভিনিসিউস জালে বল পাঠালেও, অফসাইডের কারণে গোল হয়নি। একেবারে শেষ মুহূর্তে নিজের দ্বিতীয় গোলে দলের আরেকটি জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
স্পোর্টস ডেস্ক 
























