Dhaka মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভিক্ষুকের এমএফএস অ্যাকাউন্টে কোটি টাকার প্রতারণা, ফাঁসলেন দম্পতি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৪০:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৯৭ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কৌশলে প্রতারণা চালিয়ে আসা এমন এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা বাড়িতে ভ্রাম্যমাণ ভিক্ষুক এলেই তাদের সরকারি রেশন ও বিভিন্ন ভাতার প্রলোভন দেখাতেন। বিনিময়ে তাদের নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের সিম, তথা বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদির নম্বর নিয়ে নিতেন তারা। এরপর সেই সিম ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে বেছে নিতেন সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের।

ফোন করে জানাতেন— তাদের মা, মেয়ে কিংবা স্ত্রী দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।

জরুরি ভিত্তিতে টাকা না পাঠালে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তাৎক্ষণিক অর্থ পাঠানোর জন্য আগে থেকে সংগ্রহ করা ভিক্ষুকের এমএফএস নম্বর দিতেন। টাকা পেয়ে গেলে ব্যবহৃত সিম ও মোবাইল ফোন নষ্ট করে ফেলতেন। আর তারা থাকতেন অধরায়।

সিআইডির ল’ফুল ইন্টারসেপশন সেল (এলআইসি) শাখার বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাজশাহী মেট্রোপলিটনের পবা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের এ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. মোবারক হোসেন (৫৫) ও মোছা. সুলতানা খাতুন (৪৫)। তাদের বাড়ি রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার ছোট বোনগ্রাম এলাকায়।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা নগদ ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, অপরাধে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন সেট ও চারটি সিম কার্ড জব্দ করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, এক ভুক্তভোগীর মাকে ফোন করে প্রতারক চক্র নিজেকে তার সুইডেন প্রবাসী মেয়ের পরিচয়ে পরিচয় দেয়। জানানো হয়, সে দেশে এসে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে এবং তার কাছে কোনো অর্থ নেই। চিকিৎসার খরচের জন্য একটি রকেট অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়া হয়। এসব কথায় বিশ্বাস করে ভুক্তভোগীর মা বিভিন্ন সময়ে মোট ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৯৬০ টাকা পাঠান।

পরে প্রকৃত মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হন তারা। এ ঘটনায় গত বছর ২৯ এপ্রিল ২০২৫ গোমস্তাপুর থানায় জিডি (নং-১৪৩৪) করা হয়। পরবর্তীতে এটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রূপ নেয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানায় দায়ের করা মামলা নম্বর-০৯, তারিখ ৭ মে ২০২৫, পেনাল কোডের ৪০৬/৪২০ ধারায় নথিভুক্ত হয়।

তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, গ্রেপ্তার দম্পতি তাদের বাড়িতে ভিক্ষুক এলে তাদের সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সিম ও এমএফএস অ্যাকাউন্ট নিজেদের কাছে জমা রাখতেন। পরে ওই সিম ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের ফোন দেওয়া হতো। মোবারক ও সুলতানা কথা বলার সময় ভুক্তভোগীদের সন্দেহ হলে বলা হতো ঠান্ডা, সর্দি বা দুর্ঘটনার কারণে কণ্ঠ পরিবর্তিত হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা আতঙ্কিত হয়ে যাচাই-বাছাই না করেই টাকা পাঠালে পূর্বে সংগ্রহ করা এমএফএস নম্বর দেওয়া হতো। অর্থ পাওয়ার পরপরই সিম ও মোবাইল ফোন নষ্ট করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হতো। এলআইসির প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে প্রতারক চক্রের ব্যবহৃত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর শনাক্ত করা হয়। এরপর অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান চালিয়ে দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অসংখ্য ভুক্তভোগীর সঙ্গে একই কায়দায় প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন। মামলার আরও তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে তাদের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে।

বর্তমানে মামলার তদন্ত সিআইডির চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ইউনিট পরিচালনা করছে। প্রতারণা চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ভিক্ষুকের এমএফএস অ্যাকাউন্টে কোটি টাকার প্রতারণা, ফাঁসলেন দম্পতি

প্রকাশের সময় : ০৪:৪০:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কৌশলে প্রতারণা চালিয়ে আসা এমন এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা বাড়িতে ভ্রাম্যমাণ ভিক্ষুক এলেই তাদের সরকারি রেশন ও বিভিন্ন ভাতার প্রলোভন দেখাতেন। বিনিময়ে তাদের নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের সিম, তথা বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদির নম্বর নিয়ে নিতেন তারা। এরপর সেই সিম ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে বেছে নিতেন সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের।

ফোন করে জানাতেন— তাদের মা, মেয়ে কিংবা স্ত্রী দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।

জরুরি ভিত্তিতে টাকা না পাঠালে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তাৎক্ষণিক অর্থ পাঠানোর জন্য আগে থেকে সংগ্রহ করা ভিক্ষুকের এমএফএস নম্বর দিতেন। টাকা পেয়ে গেলে ব্যবহৃত সিম ও মোবাইল ফোন নষ্ট করে ফেলতেন। আর তারা থাকতেন অধরায়।

সিআইডির ল’ফুল ইন্টারসেপশন সেল (এলআইসি) শাখার বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাজশাহী মেট্রোপলিটনের পবা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের এ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. মোবারক হোসেন (৫৫) ও মোছা. সুলতানা খাতুন (৪৫)। তাদের বাড়ি রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার ছোট বোনগ্রাম এলাকায়।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা নগদ ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, অপরাধে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন সেট ও চারটি সিম কার্ড জব্দ করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, এক ভুক্তভোগীর মাকে ফোন করে প্রতারক চক্র নিজেকে তার সুইডেন প্রবাসী মেয়ের পরিচয়ে পরিচয় দেয়। জানানো হয়, সে দেশে এসে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে এবং তার কাছে কোনো অর্থ নেই। চিকিৎসার খরচের জন্য একটি রকেট অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়া হয়। এসব কথায় বিশ্বাস করে ভুক্তভোগীর মা বিভিন্ন সময়ে মোট ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৯৬০ টাকা পাঠান।

পরে প্রকৃত মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হন তারা। এ ঘটনায় গত বছর ২৯ এপ্রিল ২০২৫ গোমস্তাপুর থানায় জিডি (নং-১৪৩৪) করা হয়। পরবর্তীতে এটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রূপ নেয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানায় দায়ের করা মামলা নম্বর-০৯, তারিখ ৭ মে ২০২৫, পেনাল কোডের ৪০৬/৪২০ ধারায় নথিভুক্ত হয়।

তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, গ্রেপ্তার দম্পতি তাদের বাড়িতে ভিক্ষুক এলে তাদের সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সিম ও এমএফএস অ্যাকাউন্ট নিজেদের কাছে জমা রাখতেন। পরে ওই সিম ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের ফোন দেওয়া হতো। মোবারক ও সুলতানা কথা বলার সময় ভুক্তভোগীদের সন্দেহ হলে বলা হতো ঠান্ডা, সর্দি বা দুর্ঘটনার কারণে কণ্ঠ পরিবর্তিত হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা আতঙ্কিত হয়ে যাচাই-বাছাই না করেই টাকা পাঠালে পূর্বে সংগ্রহ করা এমএফএস নম্বর দেওয়া হতো। অর্থ পাওয়ার পরপরই সিম ও মোবাইল ফোন নষ্ট করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হতো। এলআইসির প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে প্রতারক চক্রের ব্যবহৃত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর শনাক্ত করা হয়। এরপর অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান চালিয়ে দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অসংখ্য ভুক্তভোগীর সঙ্গে একই কায়দায় প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন। মামলার আরও তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে তাদের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে।

বর্তমানে মামলার তদন্ত সিআইডির চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ইউনিট পরিচালনা করছে। প্রতারণা চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।