সিলেট জেলা প্রতিনিধি :
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদ মর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরাচারের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত জাতি দীর্ঘ ১৬ বছর মুক্তির প্রহর গুনেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ ফ্যাসিবাদের কবল থেকে আপাত মুক্তি পেলেও বিদ্যমান সংবিধানে আবারও স্বৈরাচার সৃষ্টির সুযোগ রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো স্বৈরশাসন জনগণের ওপর চেপে বসতে না পারে, সে লক্ষ্যেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদ কার্যকরের জন্যই আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-কে জয়যুক্ত করতে হবে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আসন্ন গণভোট ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আলী রীয়াজ বলেন, অনেকেই প্রশ্ন করেন— ‘হ্যাঁ’-এর প্রার্থী কে? আমার উত্তর হলো, ‘হ্যাঁ’-এর প্রার্থী আপনি, আমি, আমরা সবাই। কারণ ‘হ্যাঁ’ আমাদের সবার জন্য একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার পথ উন্মুক্ত করবে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত এই জাতি আর কোনো স্বৈরশাসন বা দুঃশাসন চায় না। মানুষ চায় একটি আলোকিত আগামী, নতুন দিনের সূচনা—যে দিন হবে সাম্য, সমতা ও আনন্দের। যে দেশে কোনো ভয়ংকর বাহিনীর হাতে গুম হওয়ার আতঙ্ক থাকবে না, গায়েবি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার শঙ্কা থাকবে না। এমন একটি দিনের স্বপ্নই দেখেছিলেন আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধারা, আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অকাতরে জীবন দিয়েছেন ছাত্র-জনতা।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অনন্য অর্জন। এই অভ্যুত্থান অপ্রত্যাশিতভাবে দেশের জীবনে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ইতোমধ্যে কিছু সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
তবে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, সে কারণেই দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সরাসরি সম্মতি প্রয়োজন, আর সে উদ্দেশ্যেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি সবাইকে গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’-তে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান।
হ্যাঁ- ভোটের অর্থ ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ এ সহকারী বলেন, এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধীদল একসঙ্গে কাজ করবে। ক্ষমতাসীনরা ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না; গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য জনগণের সম্মতি নিতে হবে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে, যার ফলে বিচারের বাণী আর নিরবে নিভৃতে কাঁদবে না। গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ হয়ে যাবে; যে পথ আমাদের সংবিধানের দুর্বলতায় তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নিজাম উদ্দিন এবং হবিগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সায়েম উদ্দিন আহম্মদসহ অন্যরা।
সিলেট জেলা প্রতিনিধি 

















