Dhaka শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বৌভাতে নাতনির ওজনের সমপরিমাণ কয়েন উপহার দিলেন নানা

বগুড়া জেলা প্রতিনিধি :

বগুড়ায় প্রয়াত স্ত্রীর শখ পূরণে বিয়ের অনুষ্ঠানে নাতনির সমপরিমাণ ওজনের কয়েন (ধাতব মুদ্রা) উপহার দিয়েছেন নানা আবদুল কাদের প্রামাণিক। একটি বড় দাঁড়িপাল্লার একপাশে নাতনি নাইমা বেগম ও অন্যপাশে কয়েন রেখে ওজন করা হয়।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে শহরের ঠনঠনিয়া দক্ষিণপাড়ায় এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।

ঠনঠনিয়া দক্ষিণপাড়ার আলমগীর হোসেন বলেন, একসময়ের মাইক্রোবাস চালক আবদুল কাদের প্রামাণিকের স্ত্রী পাতা বেগমের ইচ্ছা ছিল তার নাতনি নাইমা বেগমের বিয়ের সময় তার ওজনের সমপরিমাণ কয়েন (মুদ্রা) উপহার দেবেন। এ ইচ্ছা পূরণে ওই দম্পতি গত প্রায় ১০ বছর ধরে বাড়িতে কয়েকটি মাটির ব্যাংকে পাঁচ টাকা মূল্যমানের কয়েন সঞ্চয় শুরু করেন। কিন্তু পাতা বেগম তার সেই শখ পূরণ করার আগেই মৃত্যুবরণ করেন। গত ২০২৩ সালের দিকে স্ত্রীর মৃত্যুর পর কাদের প্রামাণিক তার শখ পূরণ করতে কয়েন সঞ্চয় অব্যাহত রাখেন।

এদিকে গত দেড় বছর আগে নাতনি নাইমা বেগমের বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী শাজাহানপুর উপজেলার বেজোড়া গ্রামের ঠিকাদার হৃদয় হাসানের সঙ্গে; কিন্তু তখন কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ কয়েন সঞ্চয় না হওয়ায় আবদুল কাদের স্ত্রীর শখ পূরণ করতে পারেননি। সম্প্রতি নাতনি নাইমাকে উপহার দেওয়ার মতো কয়েন সঞ্চয় হয়। তিনি এ কয়েনগুলো নাতনিকে উপহার দেওয়ার জন্য শুক্রবার সন্ধ্যায় তার বাড়িতে নতুন করে নাতনির বৌভাতের আয়োজন করেন। সেখানে নাইমা, তার স্বামী হৃদয় হাসানসহ পরিবারের সব সদস্য এবং আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত করেন। খাবার হিসেবে পোলাও, গরুর মাংস, মুরগির রোস্ট ও ডালের আয়োজন করা হয়। রাত ৮টার দিকে স্বজনদের আপ্যায়ন শেষে বাড়িতে একটি বড় দাঁড়িপাল্লা আনা হয়। এক পাল্লায় নববধূর সাজে সজ্জিত নাইমা বেগম বসেন ও অন্য পাল্লায় তুলে দেওয়া হয় জমানো কয়েন। অধিকাংশই পাঁচ টাকা মূল্যমানের কয়েনের ওজন হয় ৭০ কেজি ৩০০ গ্রাম। ওজন শেষে কয়েনগুলো উপহার হিসেবে নাইমা ও হৃদয় দম্পতিকে দেওয়া হয়।

দাঁড়িপাল্লায় মেপে অভূতপূর্ব এ উপহার দেওয়ার দৃশ্য দেখার জন্য বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও স্থানীয়রা ভিড় করেন। কনের ওজনের সমপরিমাণ কয়েন উপহার দেওয়ার ভিডিও শুক্রবার রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। খবরটি দেখে বগুড়ার জনগণের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, আব্দুল কাদের ও তার স্ত্রীর শখ ছিল নাতনির ওজনের পরিমাণ কয়েন টাকা উপহার দেওয়ার। যা তিনি দিতে পেরেছেন নাতনির বিয়ের দেড় বছর পর। আমরা প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি, পরে দেখে অনেক ভালো লেগেছে। একজন নানার কাছে নাতনি কত আদরের হতে পারে এটি তার অন্যতম উদাহরণ।

আবদুল কাদের প্রামাণিক জানান, বগুড়ার শিবগঞ্জে একটি বিয়ের সময় কনের সমান ওজনে কয়েন উপহার দেওয়ার খবর পত্রিকায় দেখেছিলেন। বড় মেয়ে ফেরদৌসী বেগমের বিয়ের পর তার ঘরে প্রথম কন্যা সন্তান নাইমা বেগমের জন্ম হয়। তার প্রয়াত স্ত্রী পাতা বেগম নাতনি নাইমার বিয়ের সময় তার সমান ওজনে কয়েন (কাঁচা টাকা) উপহার দেওয়ার শখ করেন। এরপর থেকে তারা দুজন মিলে কয়েকটি মাটির ব্যাংকে কয়েন জমাতে শুরু করেন। দেড় বছর আগে নাইমার বিয়ের সময় কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ কয়েন সঞ্চয় না হওয়ায় তখন দিতে ব্যর্থ হন। অবশেষ ২৭ মার্চ শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে নতুন করে বৌভাতের আয়োজন করেন। সেখানে দাঁড়িপাল্লায় ওজন করে নাতনির সমান ওজনে কয়েন উপহার দিতে পেরেছেন।

তিনি ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান, শখ পূরণ ঠিকই হলো কিন্তু তার স্ত্রী পাতা বেগম সেটা দেখে যেতে পারলেন না। এরপরও প্রয়াত স্ত্রীর শখ পূরণ করতে পেরে আবদুল কাদের অনেক খুশি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাতনি নাইমা বেগম জানান, নানার এ উপহারে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা খুবই খুশি হয়েছেন। নানি বেঁচে থাকলে তিনিও অনেক খুশি হতেন। নাইমা তার প্রয়াত নানির রুহের মাগফিরাত কামনায় ও তার পরিবারের জন্য সবার দোয়া চেয়েছেন।

আবহাওয়া

গ্রিস উপকূলে ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, ২১ বাংলাদেশিসহ উদ্ধার ২৬

বৌভাতে নাতনির ওজনের সমপরিমাণ কয়েন উপহার দিলেন নানা

প্রকাশের সময় : ০৮:৩৫:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

বগুড়া জেলা প্রতিনিধি :

বগুড়ায় প্রয়াত স্ত্রীর শখ পূরণে বিয়ের অনুষ্ঠানে নাতনির সমপরিমাণ ওজনের কয়েন (ধাতব মুদ্রা) উপহার দিয়েছেন নানা আবদুল কাদের প্রামাণিক। একটি বড় দাঁড়িপাল্লার একপাশে নাতনি নাইমা বেগম ও অন্যপাশে কয়েন রেখে ওজন করা হয়।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে শহরের ঠনঠনিয়া দক্ষিণপাড়ায় এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।

ঠনঠনিয়া দক্ষিণপাড়ার আলমগীর হোসেন বলেন, একসময়ের মাইক্রোবাস চালক আবদুল কাদের প্রামাণিকের স্ত্রী পাতা বেগমের ইচ্ছা ছিল তার নাতনি নাইমা বেগমের বিয়ের সময় তার ওজনের সমপরিমাণ কয়েন (মুদ্রা) উপহার দেবেন। এ ইচ্ছা পূরণে ওই দম্পতি গত প্রায় ১০ বছর ধরে বাড়িতে কয়েকটি মাটির ব্যাংকে পাঁচ টাকা মূল্যমানের কয়েন সঞ্চয় শুরু করেন। কিন্তু পাতা বেগম তার সেই শখ পূরণ করার আগেই মৃত্যুবরণ করেন। গত ২০২৩ সালের দিকে স্ত্রীর মৃত্যুর পর কাদের প্রামাণিক তার শখ পূরণ করতে কয়েন সঞ্চয় অব্যাহত রাখেন।

এদিকে গত দেড় বছর আগে নাতনি নাইমা বেগমের বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী শাজাহানপুর উপজেলার বেজোড়া গ্রামের ঠিকাদার হৃদয় হাসানের সঙ্গে; কিন্তু তখন কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ কয়েন সঞ্চয় না হওয়ায় আবদুল কাদের স্ত্রীর শখ পূরণ করতে পারেননি। সম্প্রতি নাতনি নাইমাকে উপহার দেওয়ার মতো কয়েন সঞ্চয় হয়। তিনি এ কয়েনগুলো নাতনিকে উপহার দেওয়ার জন্য শুক্রবার সন্ধ্যায় তার বাড়িতে নতুন করে নাতনির বৌভাতের আয়োজন করেন। সেখানে নাইমা, তার স্বামী হৃদয় হাসানসহ পরিবারের সব সদস্য এবং আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত করেন। খাবার হিসেবে পোলাও, গরুর মাংস, মুরগির রোস্ট ও ডালের আয়োজন করা হয়। রাত ৮টার দিকে স্বজনদের আপ্যায়ন শেষে বাড়িতে একটি বড় দাঁড়িপাল্লা আনা হয়। এক পাল্লায় নববধূর সাজে সজ্জিত নাইমা বেগম বসেন ও অন্য পাল্লায় তুলে দেওয়া হয় জমানো কয়েন। অধিকাংশই পাঁচ টাকা মূল্যমানের কয়েনের ওজন হয় ৭০ কেজি ৩০০ গ্রাম। ওজন শেষে কয়েনগুলো উপহার হিসেবে নাইমা ও হৃদয় দম্পতিকে দেওয়া হয়।

দাঁড়িপাল্লায় মেপে অভূতপূর্ব এ উপহার দেওয়ার দৃশ্য দেখার জন্য বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও স্থানীয়রা ভিড় করেন। কনের ওজনের সমপরিমাণ কয়েন উপহার দেওয়ার ভিডিও শুক্রবার রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। খবরটি দেখে বগুড়ার জনগণের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, আব্দুল কাদের ও তার স্ত্রীর শখ ছিল নাতনির ওজনের পরিমাণ কয়েন টাকা উপহার দেওয়ার। যা তিনি দিতে পেরেছেন নাতনির বিয়ের দেড় বছর পর। আমরা প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি, পরে দেখে অনেক ভালো লেগেছে। একজন নানার কাছে নাতনি কত আদরের হতে পারে এটি তার অন্যতম উদাহরণ।

আবদুল কাদের প্রামাণিক জানান, বগুড়ার শিবগঞ্জে একটি বিয়ের সময় কনের সমান ওজনে কয়েন উপহার দেওয়ার খবর পত্রিকায় দেখেছিলেন। বড় মেয়ে ফেরদৌসী বেগমের বিয়ের পর তার ঘরে প্রথম কন্যা সন্তান নাইমা বেগমের জন্ম হয়। তার প্রয়াত স্ত্রী পাতা বেগম নাতনি নাইমার বিয়ের সময় তার সমান ওজনে কয়েন (কাঁচা টাকা) উপহার দেওয়ার শখ করেন। এরপর থেকে তারা দুজন মিলে কয়েকটি মাটির ব্যাংকে কয়েন জমাতে শুরু করেন। দেড় বছর আগে নাইমার বিয়ের সময় কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ কয়েন সঞ্চয় না হওয়ায় তখন দিতে ব্যর্থ হন। অবশেষ ২৭ মার্চ শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে নতুন করে বৌভাতের আয়োজন করেন। সেখানে দাঁড়িপাল্লায় ওজন করে নাতনির সমান ওজনে কয়েন উপহার দিতে পেরেছেন।

তিনি ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান, শখ পূরণ ঠিকই হলো কিন্তু তার স্ত্রী পাতা বেগম সেটা দেখে যেতে পারলেন না। এরপরও প্রয়াত স্ত্রীর শখ পূরণ করতে পেরে আবদুল কাদের অনেক খুশি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাতনি নাইমা বেগম জানান, নানার এ উপহারে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা খুবই খুশি হয়েছেন। নানি বেঁচে থাকলে তিনিও অনেক খুশি হতেন। নাইমা তার প্রয়াত নানির রুহের মাগফিরাত কামনায় ও তার পরিবারের জন্য সবার দোয়া চেয়েছেন।