নিজস্ব প্রতিবেদক :
আধিপত্যবাদের ছায়া বাংলাদেশে দেখতে চান না জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিশ্বের সব সভ্য দেশের সঙ্গে আমরা বন্ধুত্বের সম্পর্ক চাই, আমরা কারো ওপর খবরদারি করতে চাই না। আর কেউ এসে বাংলাদেশের ওপর খবরদারি করুক তা-ও দেখতে চাই না।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় ১০ দলীয় জোট আয়োজিত ঢাকা-৪ ও ৫ আসনের এমপি পদপ্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, তরুণদের হাতে বেকার ভাতা নয়, তাদের বাংলাদেশ গড়ার কারিগরে পরিণত করা হবে। দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এলাকার উন্নয়নে কাজ করব। এছাড়া ৫৪ বছর যেই শাসন, যেই রাজনৈতিক ব্যবস্থা, যে বন্দোবস্ত দেশবাসীকে ফ্যাসিবাদ উপহার দিয়েছে, সেই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের কথা বলেন তিনি।
গণভোটে হ্যাঁ’র পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই শহীদের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে।
জুলাই আন্দোলনে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বক্তব্যের শুরুতেই তাকে দেওয়া একটি সম্মাননা স্মারক তিনি একজন শহীদ বোনের হাতে তুলে দিয়ে বলেন, ‘এই সম্মান আমার প্রাপ্য নয়; এই সম্মান সেই শহীদদের প্রাপ্য যারা জালিমের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বুক পেতে দিয়েছিল।’
যুবসমাজের উদ্দেশে আমির জামায়াত বলেন, ‘আমরা যুবকদের হাতে ‘বেকার ভাতা’ তুলে দিয়ে তাদের অলস বানাতে চাই না। আমরা তাদের হাতকে দক্ষ কারিগরের হাতে রূপান্তর করতে চাই, যাতে তারা দেশ গড়ার কারিগর হতে পারে। সাধারণ শিক্ষা, আলিয়া বা কউমি—সব মাধ্যমেই কর্মমুখী ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে।’
নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত আমাদের জীবনের চেয়েও মূল্যবান। কর্মক্ষেত্র ও যাতায়াতে তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে (পিক আওয়ারে) বড় শহরগুলোতে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য বিশেষ ‘ইভিনিং বাস সার্ভিস’ চালু করা হবে এবং সরকারি বাসের নিচতলা তাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।’
নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহারের ঘোষণা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দুটি অ্যাপস চালু করছি। একটির মাধ্যমে চাঁদাবাজদের গোপনে চিহ্নিত করা যাবে এবং অন্যটির মাধ্যমে জনগণ সরাসরি তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। নির্বাচিত হলে প্রতি ৬ মাসে একবার জনপ্রতিনিধিদের জনগণের মুখোমুখি হতে হবে এবং সম্পদের হিসাব দিতে হবে।
ঢাকা-৪ ও ৫ আসনের জলাবদ্ধতা এবং নদী দূষণ নিয়ে তিনি এক অভিনব হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা দেশ পরিচালনার সুযোগ পাই, তবে ওই এলাকার এমপি, মেয়র ও কাউন্সিলরদের বছরে চারবার এই দূষিত নদীর পানিতে গোসল করানো হবে। যখন তারা নিজেরা ওই পানিতে নামবেন, তখনই নদী পরিষ্কার রাখতে তারা বাধ্য হবেন।’
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের গণহত্যাকারীদের ক্ষমা নেই। জুলাইয়ের চেতনা এখনো জাগ্রত। কেউ যদি বাঁকা পথে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা করে, তবে ছাত্র-জনতা তা রুখে দেবে।’ তিনি প্রশাসনকে কোনো দলের পক্ষ না নিয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই দেশে নতুন একটি পেশা এখন ভাল চলছে। এই পেশার নাম কি আপনারা বলতে পারবেন? কি নাম? চাঁদাবাজি।’
এসময় জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা কেউ চাঁদাবাজের ভাই হতে রাজি আছেন? পিতা হতে রাজি আছেন? সন্তান হতে রাজি আছেন? কেউ চাঁদাবা্জরে স্ত্রী হতে রাজি আছেন? মা হতে রাজি আছেন? বোন হতে রাজি আছেন? নাই।
তিনি বলেন, আজকের জনসভা থেকে যারা এই পেশায় যুক্ত তাদেরকে অনুরোধ করবো ভালো পথে ফিরে আসুন। আমরা আপনাদের হালাল রুজির জন্য জায়গা করে দেব, ইনশাল্লাহ। কিন্তু যদি এ পথ বাদ না দেন আমরা একদম সাফ জানিয়ে দিচ্ছি, আমাদের পক্ষ থেকে কমপ্লিট লালকার্ড। এই চাঁদা আমরাতো করার প্রশ্নই উঠে না, চাঁদাকে আমরা ঘৃণা করি। এটা ভিক্ষার চেয়েও নিকৃষ্ট। আমরা ইনশাআল্লাহ কারো মায়ের সন্তানকে চাঁদাবাজি করতে দেব না। কথা একদম সাফ। এখানে কোনো রাগডাক নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বলেছি আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না। আমরা জনগণের বিজয় চাই। জনগণের বিজয় হলেই আমাদের বিজয়। আলহামদুলিল্লাহ। সেই বিজয়টা আমরা চাচ্ছি।’
জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরীর নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন ১০ দলীয় জোট মনোনীত ঢাকা-৫ আসনের এমপি পদপ্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা-৪ আসনের এমপি পদপ্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকির হোসেন, মাওলানা আব্দুর রহমান প্রমুখ।
বেলা ১১টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই সমাবেশস্থল কানায় কানায় ভরে যায়। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ছাড়াও বক্তব্য দেন ১০ দলীয় জোটের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















