Dhaka বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিগত দিনে আমি-ডামি, নিশিরাতের নির্বাচন হয়েছে : তারেক রহমান

সিলেট জেলা প্রতিনিধি : 

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছর ব্যালট ছিনতাই হয়েছে, আমি-ডামি, নিশিরাতের নির্বাচন হয়েছে, আমরা দেখেছি।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিগত দিনে মানুষের রাজনৈতিক ও ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক, বাক স্বাধীনতার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গত ১৬ বছর অনেককে হারিয়েছি।

গত ১৬ বছর এই দেশকে অন্য দেশের কাছে বন্ধক দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এজন্য বলেছি, দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, উন্নয়নের নামে লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তথাকথিত উন্নয়নের নামে অর্থ লুট করে নেওয়া হয়েছে। এই অবস্থার উন্নয়ন করতে চাই।

তারেক রহমান বলেন, যারা পালিয়ে গিয়েছে, যারা বাক-স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়েছিল, তারাই ইলিয়াস আলীর মতো শত হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। গুম খুনের মামলা দিয়ে জর্জরিত করা হয়েছে।

লাখ লাখ মানুষের এই জমায়েতের জন্য হাজারো মানুষ ২০২৪ সালে জীবন দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একাত্তরের স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে ২০২৪ সালের গণতন্ত্রকামীরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে।

দিল্লি নয় পিন্ডি নয়; সবার আগে বাংলাদেশ বলে মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা দেখেছি গত ১৫/১৬ বছর অন্য দেশের কাছে কিভাবে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিয়েছিল। এজন্য আমি আগে বলেছি দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়; সবার আগে বাংলাদেশ। আমি আরেকটি কথা বলেছিলাম, স্বৈরাচার সরকার যখন মানুষের ঘাড়ে চড়ে বসেছিল, সেটা হচ্ছে ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’। আমরা ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশের’ অর্ধেক পথে এসেছি।

একটি দল নির্বাচনের আগেই মানুষ ঠকাচ্ছে, মুসলমানদের শিরক করাচ্ছে

তিনি বলেন, উন্নয়নের নাম করে আমরা দেখেছি কিভাবে দেশের মানুষের সম্পদ লুটপাট করে পাচার করেছে। আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন করতে চাই। এ জন্য ধানের শীষের পাশে থাকবেন। আমরা কৃষকের পাশে থাকতে চাই। এ কারণে আপনাদের ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।

১২ তারিখের নির্বাচনের পর আমরা বিজয়ী হয়ে জিয়াউর রহমানের মতো খাল খনন করতে চাই বলে মন্তব্য করেন বিএনপির চেয়য়ারম্যান।

তারেক রহমান বলেন, আমরা দেখেছি গত ১৫/১৬ বছর অন্য দেশের কাছে কিভাবে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিয়েছিল। এজন্য আমি আগে বলেছি দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়; সবার আগে বাংলাদেশ। আমি আরেকটি কথা বলেছিলাম, স্বৈরাচার সরকার যখন মানুষের ঘাড়ে চড়ে বসেছিল, সেটা হচ্ছে ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’। আমরা ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশের’ অর্ধেক পথে এসেছি। আমরা স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশ করেছি। গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করেছি। ১২ তারিখে ধানের শীষকে নির্বাচিত করার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হবে।

নির্বাচনের আগে একটি দল মানুষ ঠকাচ্ছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, তারা নির্বাচনের পরে কেমন ঠকাবেন, এবার বোঝেন। শুধু ঠকাচ্ছে না, যারা মুসলমান তাদের শিরক করাচ্ছে।  এখন আমি আপনাদের সামনে একটি প্রশ্ন করতে চাই, এখানে কারা (মাঠে উপস্থিত) ওমরা বা হজ করে এসেছেন, হাত তোলেন।

তখন মাঠে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি হাত তোলেন। তার মধ্যে থেকে একজনকে মঞ্চে আনা হয় এবং তারেক রহমান তাকে জিজ্ঞাসা করেন- আপনি কাবা শরীফে গেছেন? কাবা শরীফের মালিক কে? তখন ওই ব্যক্তি বলেন, আল্লাহ, আল্লাহ। তখন তারেক রহমান বলেন, আমরা সবাই মুসলমান। এই দিন-দুনিয়ায় যা দেখি, এই পৃথিবীর মালিক কে? তখন হজকারী ব্যক্তি বলেন আল্লাহ। তারেক রহমান প্রশ্ন রাখেন এই সূর্য, নক্ষত্র যা দেখি তার মালিক কে? বেহেশতের মালিক কে?

তারেক রহমান বলেন, আপনারা সবাই সাক্ষী দিলেন- দোজখ, বেহেশতের মালিক আল্লাহ। এই পৃথিবী, কাবার মালিক আল্লাহ। আরে ভাই যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা কি অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? রাখে না। তাহলে কি দাঁড়ালো? নির্বাচনের আগেই একটি দল এই দেবো, ওই দেবো বলছে, টিকেট দেবো, বলছে না?

নবীর আদর্শে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার তারেক রহমানের

তিনি আরও বলেন, যেটার মালিক মানুষ না, সেটার কথা যদি সে বলে, তাহলে কি শিরক করা হচ্ছে, হচ্ছে না? যার মালিক আল্লাহ, যার অধিকার শুধু মাত্র আল্লাহর। কাজেই আগেই তো আপনাদের ঠকাচ্ছে। নির্বাচনের পরে কেমন ঠকাবেন, এবার বোঝেন। শুধু ঠকাচ্ছে না, যারা মুসলমান তাদের শিরক করাচ্ছে, নাউজুবিল্লাহ।

তারেক রহমান আরও বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে আমরা এই দেশ স্বাধীন করেছি। সেই সময় অনেকের ভূমিকা আমরা দেখেছি। যাদের ভূমিকার কারণে লাখ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে। মা-বোনরা সম্ভ্রম হারিয়েছে।

ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছুদিন দেখছি, দেশের কোনো কোনো মহল ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পোস্টাল ব্যালট ডাকাতি করা হচ্ছে। যারা পালিয়ে গেছে তারা যেমন ভোট ডাকাতি করেছিল, একইরকম ষড়যন্ত্র চলছে। এর বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা সম্ভব।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, যারা পালিয়ে গিয়েছে, যারা বাক-স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়েছিল, তারাই ইলিয়াস আলীর মতো শত হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। গুম খুনের মামলা দিয়ে জর্জরিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, একটি মহল দেশে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। যারা ভোট ডাকাতি করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল, তাদের মতো ব্যালট ডাকাতির ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের জনগণ ৫ আগস্ট প্রমাণ করেছে, যেকোনো ষড়যন্ত্র তারা প্রতিহত করতে পারবে।

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ও দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচিত হলে সারাদেশে খাল খনন করা হবে। খাল খনন করে কৃষকদের পাশে দাঁড়াবো। আমরা কৃষকদের উন্নয়ন করতে চাই। ১২ তারিখ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে পারবো।

তিনি বলেন, আমরা সকল শিক্ষিত মা-বোনকে স্বনির্ভর করতে চাই। লাখ লাখ বেকারের কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলতে চাই। বিএনপি সরকার গঠন করলে গ্রাম ও শহরের সকল দুস্থ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। যাতে পরিবারের সকলের সহযোগিতা বাড়বে। এজন্য ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, আমরা দেখেছি বিগত ১৫-১৬ বছরে উন্নয়নের নাম করে কীভাবে দেশের মানুষের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছে। আজকে এই যে ঢাকা থেকে সিলেট বা সিলেট থেকে ঢাকার যে মহাসড়ক; ২০০৫ সালে আমি এসেছিলাম সুনামগঞ্জে, বন্যা হয়েছিল। আমার আসতে লেগেছিল সাড়ে ৪ ঘণ্টার মতন। কিন্তু আজ আজ আমরা দেখি ১০ ঘণ্টার মতন সময় লাগে। সিলেটের এই পূণ্যভূমির মানুষ বহু মানুষ আছেন, যারা লন্ডনে যাতায়াত করেন; লন্ডন যেতেও এত সময় লাগে না প্লেনে করে যেতেও-এই হচ্ছে আজকে উন্নয়নের ফিরিস্তি।

উন্নয়নের নামে ১৬ বছর জনগণের সম্পদ বিদেশে পাচার হয়েছে: তারেক রহমান

তিনি বলেন, গত ১৫-১৬ বছরে আমরা দেখেছি, কীভাবে একের পর এক নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাই হয়েছে; কীভাবে আমি-ডামির নির্বাচন হয়েছে; কীভাবে নিশি রাতের নির্বাচন হয়েছে। এবং এই নির্বাচনগুলোর মাধ্যমে তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার তথা রাজনৈতিক অধিকারকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আজ আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি সেই মানুষগুলোর জীবনের বিনিময়ে, যারা আমাদের সকলের জন্য রাজপথে নেমে এসেছিল।আমরা একত্রিত হয়েছি সেই মানুষগুলোর জীবনের বিনিময়ে- যারা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছে, অত্যাচারিত হয়েছে। বাংলাদেশের সেই মানুষগুলোর জীবনের বিনিময়ে আজ আমরা আবার এই রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাওয়ার অধিকার আদায়ের পথে নেমেছি।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, প্রিয় ভাই-বোনেরা, সেজন্যই আমরা বলতে চাই- টেক ব্যাক বাংলাদেশ। টেক ব্যাক বাংলাদেশের লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায় করা। সেজন্যই আমরা ২১ দফার কর্মসূচি দিয়েছি। এই ২১ দফার কর্মসূচির মাধ্যমে ইনশাল্লাহ আগামী দিনে বিএনপি সরকার গঠিত হলে আমরা এই ২১ দফার মাধ্যমে এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করতে চাই। …আমরা ফ্যামিলি কার্ড করতে চাই। প্রতিটি পরিবারকে আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই- তাদেরকে সাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য।”

তিনি বলেন, এখানে আপনাদের যাদের সংসার আছে, জানেন- স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে সংসার সুন্দর হয়। যাতে আমাদের মায়েরা আপনাদের পাশে বোনেরা আপনাদের পাশে থেকে সংসারকে সচ্ছলভাবে গড়ে তুলতে পারে। আমরা গ্রামে গ্রামে, শহরে শহরে সকল দুস্থ পরিবার যারা আছে; মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত সকল পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আপনার পরিবার, আপনার মা বা আপনার স্ত্রী আপনার বোনের মাধ্যমে আপনার পরিবার সহযোগিতা পাবে। কিন্তু এই ফ্যামিলি কার্ডকে যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে কী করতে হবে? কী করতে হবে? ধানের শীষকে জয় যুক্ত করতে হবে, পারবেন? ইনশাআল্লাহ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সিলেট জেলা ও মহানগর এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে এ জনসভার আয়োজন করা হয়। জনসভায় সভাপতিত্ব করছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধরী।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বিগত দিনে আমি-ডামি, নিশিরাতের নির্বাচন হয়েছে : তারেক রহমান

প্রকাশের সময় : ০২:২৫:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

সিলেট জেলা প্রতিনিধি : 

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছর ব্যালট ছিনতাই হয়েছে, আমি-ডামি, নিশিরাতের নির্বাচন হয়েছে, আমরা দেখেছি।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিগত দিনে মানুষের রাজনৈতিক ও ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক, বাক স্বাধীনতার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গত ১৬ বছর অনেককে হারিয়েছি।

গত ১৬ বছর এই দেশকে অন্য দেশের কাছে বন্ধক দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এজন্য বলেছি, দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, উন্নয়নের নামে লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তথাকথিত উন্নয়নের নামে অর্থ লুট করে নেওয়া হয়েছে। এই অবস্থার উন্নয়ন করতে চাই।

তারেক রহমান বলেন, যারা পালিয়ে গিয়েছে, যারা বাক-স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়েছিল, তারাই ইলিয়াস আলীর মতো শত হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। গুম খুনের মামলা দিয়ে জর্জরিত করা হয়েছে।

লাখ লাখ মানুষের এই জমায়েতের জন্য হাজারো মানুষ ২০২৪ সালে জীবন দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একাত্তরের স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে ২০২৪ সালের গণতন্ত্রকামীরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে।

দিল্লি নয় পিন্ডি নয়; সবার আগে বাংলাদেশ বলে মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা দেখেছি গত ১৫/১৬ বছর অন্য দেশের কাছে কিভাবে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিয়েছিল। এজন্য আমি আগে বলেছি দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়; সবার আগে বাংলাদেশ। আমি আরেকটি কথা বলেছিলাম, স্বৈরাচার সরকার যখন মানুষের ঘাড়ে চড়ে বসেছিল, সেটা হচ্ছে ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’। আমরা ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশের’ অর্ধেক পথে এসেছি।

একটি দল নির্বাচনের আগেই মানুষ ঠকাচ্ছে, মুসলমানদের শিরক করাচ্ছে

তিনি বলেন, উন্নয়নের নাম করে আমরা দেখেছি কিভাবে দেশের মানুষের সম্পদ লুটপাট করে পাচার করেছে। আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন করতে চাই। এ জন্য ধানের শীষের পাশে থাকবেন। আমরা কৃষকের পাশে থাকতে চাই। এ কারণে আপনাদের ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।

১২ তারিখের নির্বাচনের পর আমরা বিজয়ী হয়ে জিয়াউর রহমানের মতো খাল খনন করতে চাই বলে মন্তব্য করেন বিএনপির চেয়য়ারম্যান।

তারেক রহমান বলেন, আমরা দেখেছি গত ১৫/১৬ বছর অন্য দেশের কাছে কিভাবে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিয়েছিল। এজন্য আমি আগে বলেছি দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়; সবার আগে বাংলাদেশ। আমি আরেকটি কথা বলেছিলাম, স্বৈরাচার সরকার যখন মানুষের ঘাড়ে চড়ে বসেছিল, সেটা হচ্ছে ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’। আমরা ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশের’ অর্ধেক পথে এসেছি। আমরা স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশ করেছি। গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করেছি। ১২ তারিখে ধানের শীষকে নির্বাচিত করার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হবে।

নির্বাচনের আগে একটি দল মানুষ ঠকাচ্ছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, তারা নির্বাচনের পরে কেমন ঠকাবেন, এবার বোঝেন। শুধু ঠকাচ্ছে না, যারা মুসলমান তাদের শিরক করাচ্ছে।  এখন আমি আপনাদের সামনে একটি প্রশ্ন করতে চাই, এখানে কারা (মাঠে উপস্থিত) ওমরা বা হজ করে এসেছেন, হাত তোলেন।

তখন মাঠে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি হাত তোলেন। তার মধ্যে থেকে একজনকে মঞ্চে আনা হয় এবং তারেক রহমান তাকে জিজ্ঞাসা করেন- আপনি কাবা শরীফে গেছেন? কাবা শরীফের মালিক কে? তখন ওই ব্যক্তি বলেন, আল্লাহ, আল্লাহ। তখন তারেক রহমান বলেন, আমরা সবাই মুসলমান। এই দিন-দুনিয়ায় যা দেখি, এই পৃথিবীর মালিক কে? তখন হজকারী ব্যক্তি বলেন আল্লাহ। তারেক রহমান প্রশ্ন রাখেন এই সূর্য, নক্ষত্র যা দেখি তার মালিক কে? বেহেশতের মালিক কে?

তারেক রহমান বলেন, আপনারা সবাই সাক্ষী দিলেন- দোজখ, বেহেশতের মালিক আল্লাহ। এই পৃথিবী, কাবার মালিক আল্লাহ। আরে ভাই যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা কি অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? রাখে না। তাহলে কি দাঁড়ালো? নির্বাচনের আগেই একটি দল এই দেবো, ওই দেবো বলছে, টিকেট দেবো, বলছে না?

নবীর আদর্শে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার তারেক রহমানের

তিনি আরও বলেন, যেটার মালিক মানুষ না, সেটার কথা যদি সে বলে, তাহলে কি শিরক করা হচ্ছে, হচ্ছে না? যার মালিক আল্লাহ, যার অধিকার শুধু মাত্র আল্লাহর। কাজেই আগেই তো আপনাদের ঠকাচ্ছে। নির্বাচনের পরে কেমন ঠকাবেন, এবার বোঝেন। শুধু ঠকাচ্ছে না, যারা মুসলমান তাদের শিরক করাচ্ছে, নাউজুবিল্লাহ।

তারেক রহমান আরও বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে আমরা এই দেশ স্বাধীন করেছি। সেই সময় অনেকের ভূমিকা আমরা দেখেছি। যাদের ভূমিকার কারণে লাখ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে। মা-বোনরা সম্ভ্রম হারিয়েছে।

ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছুদিন দেখছি, দেশের কোনো কোনো মহল ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পোস্টাল ব্যালট ডাকাতি করা হচ্ছে। যারা পালিয়ে গেছে তারা যেমন ভোট ডাকাতি করেছিল, একইরকম ষড়যন্ত্র চলছে। এর বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা সম্ভব।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, যারা পালিয়ে গিয়েছে, যারা বাক-স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়েছিল, তারাই ইলিয়াস আলীর মতো শত হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। গুম খুনের মামলা দিয়ে জর্জরিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, একটি মহল দেশে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। যারা ভোট ডাকাতি করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল, তাদের মতো ব্যালট ডাকাতির ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের জনগণ ৫ আগস্ট প্রমাণ করেছে, যেকোনো ষড়যন্ত্র তারা প্রতিহত করতে পারবে।

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ও দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচিত হলে সারাদেশে খাল খনন করা হবে। খাল খনন করে কৃষকদের পাশে দাঁড়াবো। আমরা কৃষকদের উন্নয়ন করতে চাই। ১২ তারিখ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে পারবো।

তিনি বলেন, আমরা সকল শিক্ষিত মা-বোনকে স্বনির্ভর করতে চাই। লাখ লাখ বেকারের কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলতে চাই। বিএনপি সরকার গঠন করলে গ্রাম ও শহরের সকল দুস্থ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। যাতে পরিবারের সকলের সহযোগিতা বাড়বে। এজন্য ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, আমরা দেখেছি বিগত ১৫-১৬ বছরে উন্নয়নের নাম করে কীভাবে দেশের মানুষের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছে। আজকে এই যে ঢাকা থেকে সিলেট বা সিলেট থেকে ঢাকার যে মহাসড়ক; ২০০৫ সালে আমি এসেছিলাম সুনামগঞ্জে, বন্যা হয়েছিল। আমার আসতে লেগেছিল সাড়ে ৪ ঘণ্টার মতন। কিন্তু আজ আজ আমরা দেখি ১০ ঘণ্টার মতন সময় লাগে। সিলেটের এই পূণ্যভূমির মানুষ বহু মানুষ আছেন, যারা লন্ডনে যাতায়াত করেন; লন্ডন যেতেও এত সময় লাগে না প্লেনে করে যেতেও-এই হচ্ছে আজকে উন্নয়নের ফিরিস্তি।

উন্নয়নের নামে ১৬ বছর জনগণের সম্পদ বিদেশে পাচার হয়েছে: তারেক রহমান

তিনি বলেন, গত ১৫-১৬ বছরে আমরা দেখেছি, কীভাবে একের পর এক নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাই হয়েছে; কীভাবে আমি-ডামির নির্বাচন হয়েছে; কীভাবে নিশি রাতের নির্বাচন হয়েছে। এবং এই নির্বাচনগুলোর মাধ্যমে তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার তথা রাজনৈতিক অধিকারকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আজ আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি সেই মানুষগুলোর জীবনের বিনিময়ে, যারা আমাদের সকলের জন্য রাজপথে নেমে এসেছিল।আমরা একত্রিত হয়েছি সেই মানুষগুলোর জীবনের বিনিময়ে- যারা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছে, অত্যাচারিত হয়েছে। বাংলাদেশের সেই মানুষগুলোর জীবনের বিনিময়ে আজ আমরা আবার এই রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাওয়ার অধিকার আদায়ের পথে নেমেছি।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, প্রিয় ভাই-বোনেরা, সেজন্যই আমরা বলতে চাই- টেক ব্যাক বাংলাদেশ। টেক ব্যাক বাংলাদেশের লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায় করা। সেজন্যই আমরা ২১ দফার কর্মসূচি দিয়েছি। এই ২১ দফার কর্মসূচির মাধ্যমে ইনশাল্লাহ আগামী দিনে বিএনপি সরকার গঠিত হলে আমরা এই ২১ দফার মাধ্যমে এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করতে চাই। …আমরা ফ্যামিলি কার্ড করতে চাই। প্রতিটি পরিবারকে আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই- তাদেরকে সাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য।”

তিনি বলেন, এখানে আপনাদের যাদের সংসার আছে, জানেন- স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে সংসার সুন্দর হয়। যাতে আমাদের মায়েরা আপনাদের পাশে বোনেরা আপনাদের পাশে থেকে সংসারকে সচ্ছলভাবে গড়ে তুলতে পারে। আমরা গ্রামে গ্রামে, শহরে শহরে সকল দুস্থ পরিবার যারা আছে; মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত সকল পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আপনার পরিবার, আপনার মা বা আপনার স্ত্রী আপনার বোনের মাধ্যমে আপনার পরিবার সহযোগিতা পাবে। কিন্তু এই ফ্যামিলি কার্ডকে যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে কী করতে হবে? কী করতে হবে? ধানের শীষকে জয় যুক্ত করতে হবে, পারবেন? ইনশাআল্লাহ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সিলেট জেলা ও মহানগর এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে এ জনসভার আয়োজন করা হয়। জনসভায় সভাপতিত্ব করছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধরী।