নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপির দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে, সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দলটি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে হাত দিতে চায় বলে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, বিএনপিই একমাত্র দল এই মুহূর্তে, যাদের দেশ গঠনের কর্মসূচি আছে। প্রতিবারই বিএনপির ওপর জনগণের সমর্থন ছিলো। তারা দেশ ও মানুষ ছেড়ে কোথাও যায়নি।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নিজ নির্বাচনী এলাকার (ঢাকা-১৭) বনানী কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ খেলার মাঠে এক নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, বিএনপি হচ্ছে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের একমাত্র রাজনৈতিক দল, যাদের দেশ গড়ার একটি পরিকল্পনা আছে। বিএনপি একমাত্র দল যাদের কর্মসূচি আছে দেশকে পুনর্গঠন করার। বিএনপি একমাত্র দল যাদের সঠিকভাবে দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। কাজেই বিএনপি সব সময় বিশ্বাস করে, জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। বিএনপি সৃষ্টি থেকে সব সময় জনগণের সমর্থন ছিল। জনগণের সমর্থন ছিল বলে, বিএনপি জনগণকে রেখে চলে যায়নি।

জনগণের সুখ-দুঃখ যেকোনো পরিস্থিতিতে সব সময় বিএনপি জনগণের পাশে ছিল বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান বলেন, জনগণ যত বার বিএনপিকে সুযোগ দিয়েছে, ততবারই বিএনপি চেষ্টা করেছে তার সর্বশক্তি দিয়ে দেশকে গড়ে তুলবার।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আজ ঢাকা-১৭ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে সকলের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাচ্ছি। আপনাদের রায় চাচ্ছি। আপনারা সমগ্র দেশে ধানের শীষকে বিজয়ী করেন, সারা দেশে আপনাদের বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজন আছে, সবাইকে যদি অনুরোধ করেন, আমিও আপনাদের মাধ্যমে সবার কাছে অনুরোধ পৌঁছে দিতে চাই। আসনু আমাদের দেশ গঠন করতে হবে, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে। দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বিএনপি একমাত্র দল যার সেই পরিকল্পনা, কর্মসূচি এবং অভিজ্ঞতা আছে। কাজেই বিএনপিকে আপনারা সুযোগ দিন। বিএনপি আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আগামী দিনে দেশ গঠন করবে।
তিনি বলেন, আর দুইদিন পরে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের বহু প্রত্যাশিত সেই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যে নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের মানুষ বহু মানুষ গত ১৬ বছরে হত্যার শিকার হয়েছে, জুলাই আন্দোলনে আমরা দেখেছি, কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আসুন আমাদেরকে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে, দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আপনাদের সামনে বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল যে কর্মসূচি দিয়ে তা বাস্তবায়নে বিএনপিকে আপনারা সুযোগ দিন। ইনশাল্লাহ বিএনপি আপনাদেরকে সাথে নিয়ে আগামী দিনে দেশ গঠন করবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করা।

তারেক রহমান বলেন, আমি খালেদা জিয়ার একটি কথা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, প্রত্যেকটি জায়গায় একটি কথাই বলি দেশ যেহেতু আমাদের, তাই কেউ বাইরে থেকে এসে আমাদেরকে এই দেশ গঠন করে দিয়ে যাবে না। এই দেশ আমাদেরকেই গড়ে তুলতে করতে হবে। নিজের ঘর যেরকম নিজেকে সামাল দিয়ে রাখতে হয়, এই দেশকে আমাদেরই গড়ে তুলতে করতে হবে। আমি ঢাকা-১৭ প্রার্থী হিসাবে আপনাদের সকলের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাই।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, এই এলাকায় প্রার্থী ছিলেন খালেদা জিয়া। আমি এবার প্রার্থী। এই এলাকায় আমার বেড়ে ওঠা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে আমি এই এলাকাতেই বড় হয়েছি, আমার ভাই এই এলাকাতেই বড় হয়েছে, আমাদের পরিবার আমাদের সন্তানেরা এই এলাকাটি জন্মগ্রহণ করেছে। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বেগম খালেদা জিয়া উনিও এই এলাকাতেই সারা জীবন কাটিয়েছেন এবং এই এলাকা থেকেই উনি বিদায় নিয়েছেন। আজকে এই এলাকার সাথে স্বাভাবিকভাবে আমার এবং আমার পরিবারের একটি সম্পর্ক গড়ে উঠেছেৃ একটি মানসিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, আরেকটি আধ্যাত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে এই এলাকার মানুষের সাথে।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে করণীয় ও পরিকল্পনা সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরে তারেক বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়। স্বাভাবিকভাবেই বিশেষ করে বিএনপির মত একটি রাজনৈতিক দলের কাছে সারা বাংলাদেশের মানুষ শুধু ঢাকা শহরে নয় সারা বাংলাদেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা। আমরাও বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমরা চেষ্টা করেছি আমরা সেভাবে দলের পক্ষ থেকে পরিকল্পনা গ্রহণ করে সেইভাবে কর্মসূচি তৈরি করেছি যাতে আগামী ১২ তারিখে বাংলাদেশের মানুষ ধানের শীষকে নির্বাচিত করলে ইনশাআল্লাহ আমাদের সরকার গঠনে করলে আমরা যাতে সমাজের দেশের প্রত্যেকটি মানুষকে বিভিন্ন বিষয় যাতে আমরা এড্রেস করতে পারব।

তিনি বলেন, আমাদের এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে, আমরা স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি, এখন আমাদেরকে দেশ গড়ার কাজে হাত দিতে হবে। সেই কাজ হচ্ছে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে হাত দিতে হবে। আমাদের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আছে। প্রায় ২০ কোটি মানুষের এই দেশ, এই দেশের যারা সন্তান আছে, আমাদের যুবক আছ, তরুণ আছে তাদের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এই দেশের ভবিষ্যৎ সন্তানদের জন্য আমাদেরকে সুন্দরভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা করে তুলতে হবে। সমগ্র বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় যানজট আছে, রাস্তাঘাট সংস্কার করতে হবে। আমরা শুধু গত ১৫ বছরে দেখেছি মেগা প্রজেক্ট হয়েছে। মেগা মেগা দুর্নীতি হয়েছে এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। সেজন্য আমরা জনগণের সমর্থন চাই।
তারেক রহমান বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীকরণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিএনপি সরকার গঠন করলে পর্যায়ক্রমে গৃহিণী ও মায়েদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে ন্যূনতম আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে নারী শিক্ষার প্রসার ঘটেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় শিক্ষিত ও প্রান্তিক নারীদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা হবে।
কৃষি খাতকে দেশের অর্থনীতির মূলভিত্তি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠন করলে কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা সরাসরি সরকারি সহায়তা পাবেন এবং কৃষি উৎপাদন বাড়বে।
তরুণদের বেকারত্বকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইটি ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। বিদেশে যেতে ইচ্ছুকদের জন্য স্বল্পসুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থাও করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেবেন, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য।
এ ছাড়া ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানজনক জীবনযাপনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিচার হবে। জনগণই রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত উৎস এই বিশ্বাস থেকেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
দেশের মানুষ বিদেশে যাওয়ার আগে অর্থের তীব্র সংকটে পড়েন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, অনেককেই ভিটেমাটি বা জমিজমা বিক্রি করে প্রবাসে পাড়ি জমাতে হয়, যা একটি পরিবারের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিদেশগামীদের যেন জমিজমা বিক্রি করতে না হয়, সেজন্য সরকারিভাবে দ্রুত ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। এই ঋণের মাধ্যমে তারা সহজেই বিদেশের যাওয়ার খরচ মেটাতে পারবেন এবং বিদেশে গিয়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে পরবর্তীতে তা পরিশোধ করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা-১৭ তে যানজট, জলাবদ্ধতা, বায়ুদূষণের সমস্যা আছে। আমরা একত্রে কাজ করলে সবাই মিলে এই সমস্যার সমাধান করতে পারবো।’
ধর্মগুরুদের নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিব খতিব ও অন্যান্য ধর্মের যারা ধর্মগুরু আছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাদের সম্মানির ব্যবস্থা করা হবে। এতে তারা সমাজে সম্মানজনকভাবে বসবাস করতে পারবেন।’

খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের সময় দেশত্যাগের প্রস্তাব দেওয়া হলেও খালেদা জিয়া দেশ ছেড়ে কোথাও যাননি। খালেদা জিয়া জীবনের শেষ পর্যন্ত এদেশের মাটিতে ছিলেন। মানুষ ছেড়ে যাননি। সেজন্য আমাদেরও শেষ ঠিকানা এই দেশ।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যারা গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের ঋণ শোধ করার সময় এসেছে। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
জনসভা শুরুর আগে ঢাকা মহানগর উত্তর ওলামা দলের সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম কোরআন তেলাওয়াত করেন। এ সময় ঢাকা-১৭ আসনে মোরগ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী এনায়েত উল্লাহ তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে তারেক রহমানের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান শুধু ঢাকা-১৭ নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব।’
জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল সালাম, ড্যাব সভাপতি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফরহাদ হালিম ডোনার, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউর রহমান ফাহিম, সদস্য আবুল কালাম আজাদ, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মমিন, সাধারণ সম্পাদক শাহেদ আলী, বনানী থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি সাধারণ সরকারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















