Dhaka সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাসস্ট্যান্ড মাদকসেবীদের দখলে, সড়কে বাস থামিয়ে ওঠানামা

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : 

যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রায় দুই দশক আগে নির্মিত হয় ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাসস্ট্যান্ড। পরে চার থেকে পাঁচ বছর সচল ছিল। এরপর থেকে ১৫-১৬ বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে বাসস্ট্যান্ডটি। পড়ে থাকা পাকা ভবনটি পরিণত হয়েছে মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে। পাকা ভবন, ছাউনি, কাউন্টার ও গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য বিশাল মাঠ– সবই অক্ষত আছে। নেই শুধু যানবাহন আর যাত্রীদের আনাগোনা।

সরেজমিন দেখা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের মুক্তিযোদ্ধা মোড় থেকে প্রায় ৮০০ মিটার দূরে বাসস্ট্যান্ডটি কার্যত পরিত্যক্ত। ফলে যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ ব্যস্ত সড়কের ওপরই বাস থামিয়ে ওঠানামা করছেন। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, অন্যদিকে তীব্র যানজটে নাকাল হচ্ছেন পথচারী ও সাধারণ মানুষ।

আরও দেখা যায়, পৌর এলাকায় নির্মিত দোতলা যাত্রী ছাউনিটি ২০০৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শাহ নূরুল কবীর শাহীন। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বসার স্থানসহ ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। ভেতরে গরু-ছাগলের মলমূত্র ও পরিত্যক্ত সিগারেটের টুকরো পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রাত নামলেই সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ের ৪০ শতক জমির ওপর জেলা পরিষদের বরাদ্দে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে যাত্রীদের বসার জন্য একটি পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনের পাশেই একটি শৌচাগারও নির্মিত হয়, যা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

বাসস্ট্যান্ডের আশপাশের বাসিন্দারা জানান, এক সময় এই বাসস্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে অন্তত ৫০টি নিম্নবিত্ত পরিবারের জীবিকা জুটত। খাবার হোটেল, মুদি দোকান, চায়ের দোকান, সেলুনসহ নানা ধরনের দোকানপাট গড়ে উঠেছিল। বাস এবং অন্যান্য যানবাহন এখান থেকে চলাচল বন্ধ হওয়ার পর একে একে সব দোকানপাটও গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৫-১৬ বছর আগে ঈশ্বরগঞ্জ-গৌরীপুরসহ বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী বাস, পিকআপ ও অন্যান্য যানবাহন এই বাসস্ট্যান্ড থেকেই ছেড়ে যেত। নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রথমে বাস চলাচল বন্ধ হয়, পরে ধীরে ধীরে সব ধরনের যানবাহন সরে যায়। ওই গাড়িগুলো পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক দাপিয়ে বেড়ায়। কাঁচামাটিয়া নদীর সেতু থেকে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এলাকা পর্যন্ত যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করছে।

স্থানীয়দের দাবি, অব্যবহৃত বাসস্ট্যান্ডটি পুনরায় চালু করা হলে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে যানজট নিরসন হবে। পাশাপাশি বাসস্ট্যান্ড কেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ফিরলে আবারও স্থানীয় মানুষের আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

মো. আবুল নামে একজন বলেন, চালু হওয়ার পর জমজমাট ছিল বাসস্ট্যান্ডটি। কী কারণে যে বন্ধ হয়ে গেল বুঝতে পারছেন না তিনি। আবার চালু হলে অনেক গরিব মানুষের উপকার হতো। আগামীতে ঈশ্বরগঞ্জের যিনি এমপি হবেন, তাঁর কাছে বাসস্ট্যান্ডটি চালু করার দাবি জানান তিনি।

নিরাপত্তাজনিত কারণেই মূলত বাসস্ট্যান্ডটি বন্ধ হয়ে যায় বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকরা। শহর থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় রাতে সেখানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটত, ফলে যাত্রীরা সেখান থেকে বাসে ওঠানামায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এক পর্যায়ে বাসস্ট্যান্ডটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পুনরায় চালু হলে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন চালকরা।

বিথী আক্তার নামে এক পথচারী বলেন, বাসগুলো যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী ওঠানামার কারণে সড়কে এমন যানজট তৈরি হয়, ৫ মিনিটের রাস্তা পার হতে সময় লাগে ২০ থেকে ৩০ মিনিট। সুমন মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, যানজটের কারণে প্রায় সময়ই দেখতে পান রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে আছে রাস্তায়।

এদিকে শহরের বাইরে বাসস্ট্যান্ড চালুর বিষয়ে একাধিক যাত্রী সহমত জানালেও এমকে সুপার বাসের যাত্রী নাজমা খাতুন দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘ওখানে নেমে বাজার পর্যন্ত আসতে আরও ৫-১০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হবে। তার চেয়ে বরং সুবিধামতো যেখানে-সেখানে নামতে-উঠতে পারি এটাই ভালো।’

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি সাইফুল ইসলাম তালুকদারের ভাষ্য, বাসস্ট্যান্ডটি ফের চালু হলে পৌর এলাকায় যানজট কমবে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে। বাসস্ট্যান্ড কেন্দ্রিক ব্যবসা ও স্থানীয়দের আয়ও ফিরে আসবে। প্রশাসন যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, এটি আবার কার্যকর করা সম্ভব।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক সালাহউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি চালু করা সম্ভব হবে না। নির্বাচনের পরে এটি ফের চালু করা নিয়ে পরিকল্পনা আছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা আছে বিএনপির : মির্জা ফখরুল

বাসস্ট্যান্ড মাদকসেবীদের দখলে, সড়কে বাস থামিয়ে ওঠানামা

প্রকাশের সময় : ১২:৩১:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : 

যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রায় দুই দশক আগে নির্মিত হয় ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাসস্ট্যান্ড। পরে চার থেকে পাঁচ বছর সচল ছিল। এরপর থেকে ১৫-১৬ বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে বাসস্ট্যান্ডটি। পড়ে থাকা পাকা ভবনটি পরিণত হয়েছে মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে। পাকা ভবন, ছাউনি, কাউন্টার ও গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য বিশাল মাঠ– সবই অক্ষত আছে। নেই শুধু যানবাহন আর যাত্রীদের আনাগোনা।

সরেজমিন দেখা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের মুক্তিযোদ্ধা মোড় থেকে প্রায় ৮০০ মিটার দূরে বাসস্ট্যান্ডটি কার্যত পরিত্যক্ত। ফলে যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ ব্যস্ত সড়কের ওপরই বাস থামিয়ে ওঠানামা করছেন। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, অন্যদিকে তীব্র যানজটে নাকাল হচ্ছেন পথচারী ও সাধারণ মানুষ।

আরও দেখা যায়, পৌর এলাকায় নির্মিত দোতলা যাত্রী ছাউনিটি ২০০৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শাহ নূরুল কবীর শাহীন। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বসার স্থানসহ ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। ভেতরে গরু-ছাগলের মলমূত্র ও পরিত্যক্ত সিগারেটের টুকরো পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রাত নামলেই সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ের ৪০ শতক জমির ওপর জেলা পরিষদের বরাদ্দে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে যাত্রীদের বসার জন্য একটি পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনের পাশেই একটি শৌচাগারও নির্মিত হয়, যা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

বাসস্ট্যান্ডের আশপাশের বাসিন্দারা জানান, এক সময় এই বাসস্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে অন্তত ৫০টি নিম্নবিত্ত পরিবারের জীবিকা জুটত। খাবার হোটেল, মুদি দোকান, চায়ের দোকান, সেলুনসহ নানা ধরনের দোকানপাট গড়ে উঠেছিল। বাস এবং অন্যান্য যানবাহন এখান থেকে চলাচল বন্ধ হওয়ার পর একে একে সব দোকানপাটও গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৫-১৬ বছর আগে ঈশ্বরগঞ্জ-গৌরীপুরসহ বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী বাস, পিকআপ ও অন্যান্য যানবাহন এই বাসস্ট্যান্ড থেকেই ছেড়ে যেত। নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রথমে বাস চলাচল বন্ধ হয়, পরে ধীরে ধীরে সব ধরনের যানবাহন সরে যায়। ওই গাড়িগুলো পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক দাপিয়ে বেড়ায়। কাঁচামাটিয়া নদীর সেতু থেকে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এলাকা পর্যন্ত যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করছে।

স্থানীয়দের দাবি, অব্যবহৃত বাসস্ট্যান্ডটি পুনরায় চালু করা হলে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে যানজট নিরসন হবে। পাশাপাশি বাসস্ট্যান্ড কেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ফিরলে আবারও স্থানীয় মানুষের আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

মো. আবুল নামে একজন বলেন, চালু হওয়ার পর জমজমাট ছিল বাসস্ট্যান্ডটি। কী কারণে যে বন্ধ হয়ে গেল বুঝতে পারছেন না তিনি। আবার চালু হলে অনেক গরিব মানুষের উপকার হতো। আগামীতে ঈশ্বরগঞ্জের যিনি এমপি হবেন, তাঁর কাছে বাসস্ট্যান্ডটি চালু করার দাবি জানান তিনি।

নিরাপত্তাজনিত কারণেই মূলত বাসস্ট্যান্ডটি বন্ধ হয়ে যায় বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকরা। শহর থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় রাতে সেখানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটত, ফলে যাত্রীরা সেখান থেকে বাসে ওঠানামায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এক পর্যায়ে বাসস্ট্যান্ডটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পুনরায় চালু হলে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন চালকরা।

বিথী আক্তার নামে এক পথচারী বলেন, বাসগুলো যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী ওঠানামার কারণে সড়কে এমন যানজট তৈরি হয়, ৫ মিনিটের রাস্তা পার হতে সময় লাগে ২০ থেকে ৩০ মিনিট। সুমন মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, যানজটের কারণে প্রায় সময়ই দেখতে পান রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে আছে রাস্তায়।

এদিকে শহরের বাইরে বাসস্ট্যান্ড চালুর বিষয়ে একাধিক যাত্রী সহমত জানালেও এমকে সুপার বাসের যাত্রী নাজমা খাতুন দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘ওখানে নেমে বাজার পর্যন্ত আসতে আরও ৫-১০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হবে। তার চেয়ে বরং সুবিধামতো যেখানে-সেখানে নামতে-উঠতে পারি এটাই ভালো।’

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি সাইফুল ইসলাম তালুকদারের ভাষ্য, বাসস্ট্যান্ডটি ফের চালু হলে পৌর এলাকায় যানজট কমবে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে। বাসস্ট্যান্ড কেন্দ্রিক ব্যবসা ও স্থানীয়দের আয়ও ফিরে আসবে। প্রশাসন যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, এটি আবার কার্যকর করা সম্ভব।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক সালাহউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি চালু করা সম্ভব হবে না। নির্বাচনের পরে এটি ফের চালু করা নিয়ে পরিকল্পনা আছে।