Dhaka মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ নামক উড়োজাহাজের চালক হবে যুবকেরা, আমরা থাকব প্যাসেঞ্জারের সিটে : জামায়াত আমির

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের পরিবর্তনের জন্য যুবকেরা লড়াই করেছে, জীবন দিয়েছে। ১৩ তারিখ থেকে সেই পরিবর্তন হবে ইনশাআল্লাহ। এ দেশ তোমরাই গড়বে। সেদিন তোমরাই বলবে ‘আমরাই বাংলাদেশ’। বাংলাদেশ নামক উড়োজাহাজের চালক হবে এ দেশের যুবকেরা, আমরা থাকব প্যাসেঞ্জারের সিটে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের উদ্যোগে কটিয়াদী কলেজ মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তরুণদের উজ্জীবিত করে তিনি একটি বিশেষ উপমা ব্যবহার করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ নামের যে উড়োজাহাজ, তার ককপিটে অর্থাৎ চালকের আসনে আমরা যুবকদের বসিয়ে দেব। দেশ তারাই চালাবে, তারাই গড়বে। আর আমরা প্রবীণরা প্যাসেঞ্জার সিটে বসে তাদের দিকনির্দেশনা দেব। এখন আর পেছনে তাকানোর সময় নেই, এখন শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ বেকার। তারা রাস্তায় নেমে বলেনি, আমাদের বেকার ভাতা দিন। তারা বলেছে, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। আমার যোগ্যতা ও মেধা অনুযায়ী আমাকে কাজ দিতে হবে। প্রিয় যুবকেরা, আমরা কথা দিচ্ছি, তোমাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলব। তোমাদের হাতে বেকার ভাতা নয়, মর্যাদা অনুযায়ী কাজ তুলে দেব।

পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বিদেশে পাচারকারীদের পেটে হাত দিয়ে ২৮ লাখ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনব। যে এলাকা যত বেশি পিছিয়ে, সেই এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তত বেশি এগিয়ে নেওয়া হবে। আমরা দুর্নীতি নিজেরাও করব না, অন্য কাউকে করতেও দেব না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়, বরং এই দেশ সকল ধর্মের মানুষের। তিনি বলেন, আমরা এই দেশটাকে সব ধর্ম দিয়ে ইনশাআল্লাহ একটি ফুলের বাগানের মতো সাজাবো। ধর্মের সৌন্দর্যই হলো একে অপরের সাথে চমৎকার সম্পর্ক রক্ষা করা। বিভেদের রাজনীতি করে যারা জাতিকে টুকরো টুকরো করতে চায়, তাদের আর সেই সুযোগ দেওয়া হবে না।

ডা. শফিকুর রহমান বিগত শাসন আমলের কড়া সমালোচনা করে বলেন, অতীতের কাসুন্দি ঘেঁটে লাভ নেই, জনগণ এখন আর ওসব শুনতে চায় না। যারা বিগত দিনে জনগণকে গালগল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিল আর পেছনের দরজা দিয়ে মানুষের কপাল ও জনপদের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে, তাদের জায়গা আর বাংলাদেশে হবে না। তেরো তারিখ থেকে বাংলাদেশে পরিবর্তনের যে সূচনা হবে, সেখানে অতীতের ‘পোড়া রাজনীতি’ বা ব্যক্তিগত লড়াইয়ের কোনো স্থান নেই।

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্য তুলে ধরে আমীরে জামায়াত বলেন, এটি আলেম-ওলামা, মুক্তিযোদ্ধা এবং মেধাবীদের জেলা। এখানকার মানুষ কঠোর পরিশ্রমী ও দেশপ্রেমিক। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, বছরের পর বছর এই কিশোরগঞ্জের সন্তানরাই প্রশাসনের এবং সরকারের সর্বোচ্চ পদ অলংকৃত করেছেন। অথচ এই এলাকার মানুষ কী পেয়েছে? যোগাযোগ ব্যবস্থা আজও ঝুঁকিপূর্ণ, হাওর অঞ্চলের মানুষের কষ্ট ঘোচেনি। আপনারা নিজেরাই তার সাক্ষী।

তিনি আরও যোগ করেন, কিশোরগঞ্জ জেলা মূলত কৃষিভিত্তিক এলাকা। আমাদের পরিকল্পনা হলো কৃষিকে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে শিল্পে রূপান্তরিত করা। যাতে কৃষকের শ্রমে ফলানো ফসল তাদের ভাগ্য বদলে দেয়।

নির্বাচনী প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার ৬টি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের জন্য দোয়া ও সমর্থন চেয়ে বলেন, আমরা মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে একটি দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, মামলাবাজমুক্ত এবং শোষণহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই। জমিদারি প্রথা ও পারিবারিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে আমরা আপনাদের পবিত্র ভোটের আমানত রক্ষা করব এবং ইনসাফের ভিত্তিতে আস্থার প্রতিদান দেব।

জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার ত্যাগের কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান তরুণ প্রজন্মের প্রতি তার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমাদের তরুণরা বেকার ভাতা চায় না, তারা চায় ‘জাস্টিস’। তারা চায় মেধার মূল্যায়ন। কোনো রাজনৈতিক প্রভাবে বা ‘লাল টেলিফোনের’ নির্দেশে যেন মেধাবীদের কপাল পুড়ে না যায়, আমরা সেই নিশ্চয়তা দেব। আমরা যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেব, তাদের দক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে তুলব।

জনসভার শেষে তিনি দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করেন। কিশোরগঞ্জ জেলা আমির অধ্যাপক রমজান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। কটিয়াদী কলেজ মাঠের এই জনসভাটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগম হিসেবে গণ্য হচ্ছে, যা কিশোরগঞ্জের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

জামায়াত ক্ষমতায় আসলে নতুন করে ফ্যাসিবাদের আবির্ভাব হবে : রিজভী

বাংলাদেশ নামক উড়োজাহাজের চালক হবে যুবকেরা, আমরা থাকব প্যাসেঞ্জারের সিটে : জামায়াত আমির

প্রকাশের সময় : ০১:৪২:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের পরিবর্তনের জন্য যুবকেরা লড়াই করেছে, জীবন দিয়েছে। ১৩ তারিখ থেকে সেই পরিবর্তন হবে ইনশাআল্লাহ। এ দেশ তোমরাই গড়বে। সেদিন তোমরাই বলবে ‘আমরাই বাংলাদেশ’। বাংলাদেশ নামক উড়োজাহাজের চালক হবে এ দেশের যুবকেরা, আমরা থাকব প্যাসেঞ্জারের সিটে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের উদ্যোগে কটিয়াদী কলেজ মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তরুণদের উজ্জীবিত করে তিনি একটি বিশেষ উপমা ব্যবহার করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ নামের যে উড়োজাহাজ, তার ককপিটে অর্থাৎ চালকের আসনে আমরা যুবকদের বসিয়ে দেব। দেশ তারাই চালাবে, তারাই গড়বে। আর আমরা প্রবীণরা প্যাসেঞ্জার সিটে বসে তাদের দিকনির্দেশনা দেব। এখন আর পেছনে তাকানোর সময় নেই, এখন শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ বেকার। তারা রাস্তায় নেমে বলেনি, আমাদের বেকার ভাতা দিন। তারা বলেছে, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। আমার যোগ্যতা ও মেধা অনুযায়ী আমাকে কাজ দিতে হবে। প্রিয় যুবকেরা, আমরা কথা দিচ্ছি, তোমাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলব। তোমাদের হাতে বেকার ভাতা নয়, মর্যাদা অনুযায়ী কাজ তুলে দেব।

পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বিদেশে পাচারকারীদের পেটে হাত দিয়ে ২৮ লাখ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনব। যে এলাকা যত বেশি পিছিয়ে, সেই এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তত বেশি এগিয়ে নেওয়া হবে। আমরা দুর্নীতি নিজেরাও করব না, অন্য কাউকে করতেও দেব না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়, বরং এই দেশ সকল ধর্মের মানুষের। তিনি বলেন, আমরা এই দেশটাকে সব ধর্ম দিয়ে ইনশাআল্লাহ একটি ফুলের বাগানের মতো সাজাবো। ধর্মের সৌন্দর্যই হলো একে অপরের সাথে চমৎকার সম্পর্ক রক্ষা করা। বিভেদের রাজনীতি করে যারা জাতিকে টুকরো টুকরো করতে চায়, তাদের আর সেই সুযোগ দেওয়া হবে না।

ডা. শফিকুর রহমান বিগত শাসন আমলের কড়া সমালোচনা করে বলেন, অতীতের কাসুন্দি ঘেঁটে লাভ নেই, জনগণ এখন আর ওসব শুনতে চায় না। যারা বিগত দিনে জনগণকে গালগল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিল আর পেছনের দরজা দিয়ে মানুষের কপাল ও জনপদের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে, তাদের জায়গা আর বাংলাদেশে হবে না। তেরো তারিখ থেকে বাংলাদেশে পরিবর্তনের যে সূচনা হবে, সেখানে অতীতের ‘পোড়া রাজনীতি’ বা ব্যক্তিগত লড়াইয়ের কোনো স্থান নেই।

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্য তুলে ধরে আমীরে জামায়াত বলেন, এটি আলেম-ওলামা, মুক্তিযোদ্ধা এবং মেধাবীদের জেলা। এখানকার মানুষ কঠোর পরিশ্রমী ও দেশপ্রেমিক। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, বছরের পর বছর এই কিশোরগঞ্জের সন্তানরাই প্রশাসনের এবং সরকারের সর্বোচ্চ পদ অলংকৃত করেছেন। অথচ এই এলাকার মানুষ কী পেয়েছে? যোগাযোগ ব্যবস্থা আজও ঝুঁকিপূর্ণ, হাওর অঞ্চলের মানুষের কষ্ট ঘোচেনি। আপনারা নিজেরাই তার সাক্ষী।

তিনি আরও যোগ করেন, কিশোরগঞ্জ জেলা মূলত কৃষিভিত্তিক এলাকা। আমাদের পরিকল্পনা হলো কৃষিকে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে শিল্পে রূপান্তরিত করা। যাতে কৃষকের শ্রমে ফলানো ফসল তাদের ভাগ্য বদলে দেয়।

নির্বাচনী প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার ৬টি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের জন্য দোয়া ও সমর্থন চেয়ে বলেন, আমরা মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে একটি দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, মামলাবাজমুক্ত এবং শোষণহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই। জমিদারি প্রথা ও পারিবারিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে আমরা আপনাদের পবিত্র ভোটের আমানত রক্ষা করব এবং ইনসাফের ভিত্তিতে আস্থার প্রতিদান দেব।

জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার ত্যাগের কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান তরুণ প্রজন্মের প্রতি তার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমাদের তরুণরা বেকার ভাতা চায় না, তারা চায় ‘জাস্টিস’। তারা চায় মেধার মূল্যায়ন। কোনো রাজনৈতিক প্রভাবে বা ‘লাল টেলিফোনের’ নির্দেশে যেন মেধাবীদের কপাল পুড়ে না যায়, আমরা সেই নিশ্চয়তা দেব। আমরা যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেব, তাদের দক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে তুলব।

জনসভার শেষে তিনি দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করেন। কিশোরগঞ্জ জেলা আমির অধ্যাপক রমজান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। কটিয়াদী কলেজ মাঠের এই জনসভাটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগম হিসেবে গণ্য হচ্ছে, যা কিশোরগঞ্জের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।