Dhaka বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরিশালে চরমোনাই ঘাটে লঞ্চডুবি

বরিশাল জেলা প্রতিনিধি : 

বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাইতে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক মাহফিলে মুসল্লি নিয়ে আসা একটি একতলা লঞ্চ ডুবে গেছে। নোঙর করে রাখা ‘এমভি মানিক-৪’ নামের লঞ্চটি কীর্তনখোলা নদীর ভাটার টানে পানি কমে যাওয়ায় কাত হয়ে ডুবে যায়।

বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে চরমোনাই মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে লঞ্চটি তখন যাত্রীবিহীন থাকায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকা থেকে প্রায় ৩০০ যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি চরমোনাই মাহফিলে আসে। রাতে জোয়ারের সময় লঞ্চটি নোঙর করার পর এর একাংশ তীরের বালুর বস্তার ওপর উঠে যায়। দুপুরে ভাটা শুরু হলে পানি কমে যাওয়ায় ভারসাম্য হারিয়ে লঞ্চটি একপর্যায়ে কাত হয়ে নদীতে তলিয়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চটি এরই মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে পুনরায় জোয়ার চলে আসায় উদ্ধার কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। দ্রুতই উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, লঞ্চটি তীরে নোঙর করা ছিল। ভাটার টানে এর পেছনের অংশ হেলে গিয়ে পানির নিচে তলিয়ে যায়। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, ঘটনার সময় লঞ্চে কোনো যাত্রী ছিল না। তাই এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের সংবাদ মেলেনি।

চরমোনাই মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক কে এম শরিয়াতুল্লাহ বলেন, লঞ্চডুবির ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও এতে থাকা মুসল্লিদের বেশ কিছু মালামাল ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. জুলফিকার আলী বলেন, ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধারে বিআইডব্লিটিএ, ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরিরা যৌথভাবে কাজ করছে। লঞ্চটির বর্তমান অবস্থান পর্যাবেক্ষনের জন্য বিআইডব্লিউএর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর প্রয়োজন হলে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজাকে পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য, প্রতি বছরের মতো পহেলা এপ্রিল বাদ জোহর চরমোনাই পীরের দরবারে তিন দিনব্যাপী ফাল্গুনের বার্ষিক মাহফিল শুরু হয়েছে। মাহফিলে অংশগ্রহণের দেশের বিভিন্ন প্রান্ত মুসল্লিরা লঞ্চ ও বাসযোগে চরোমানাই এসেছেন। এর মধ্যে, ঘাটে বাঁধা এমভি মানিক-৪ লঞ্চ ডুবে গেছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বরিশালে চরমোনাই ঘাটে লঞ্চডুবি

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৩:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

বরিশাল জেলা প্রতিনিধি : 

বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাইতে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক মাহফিলে মুসল্লি নিয়ে আসা একটি একতলা লঞ্চ ডুবে গেছে। নোঙর করে রাখা ‘এমভি মানিক-৪’ নামের লঞ্চটি কীর্তনখোলা নদীর ভাটার টানে পানি কমে যাওয়ায় কাত হয়ে ডুবে যায়।

বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে চরমোনাই মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে লঞ্চটি তখন যাত্রীবিহীন থাকায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকা থেকে প্রায় ৩০০ যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি চরমোনাই মাহফিলে আসে। রাতে জোয়ারের সময় লঞ্চটি নোঙর করার পর এর একাংশ তীরের বালুর বস্তার ওপর উঠে যায়। দুপুরে ভাটা শুরু হলে পানি কমে যাওয়ায় ভারসাম্য হারিয়ে লঞ্চটি একপর্যায়ে কাত হয়ে নদীতে তলিয়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চটি এরই মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে পুনরায় জোয়ার চলে আসায় উদ্ধার কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। দ্রুতই উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, লঞ্চটি তীরে নোঙর করা ছিল। ভাটার টানে এর পেছনের অংশ হেলে গিয়ে পানির নিচে তলিয়ে যায়। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, ঘটনার সময় লঞ্চে কোনো যাত্রী ছিল না। তাই এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের সংবাদ মেলেনি।

চরমোনাই মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক কে এম শরিয়াতুল্লাহ বলেন, লঞ্চডুবির ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও এতে থাকা মুসল্লিদের বেশ কিছু মালামাল ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. জুলফিকার আলী বলেন, ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধারে বিআইডব্লিটিএ, ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরিরা যৌথভাবে কাজ করছে। লঞ্চটির বর্তমান অবস্থান পর্যাবেক্ষনের জন্য বিআইডব্লিউএর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর প্রয়োজন হলে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজাকে পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য, প্রতি বছরের মতো পহেলা এপ্রিল বাদ জোহর চরমোনাই পীরের দরবারে তিন দিনব্যাপী ফাল্গুনের বার্ষিক মাহফিল শুরু হয়েছে। মাহফিলে অংশগ্রহণের দেশের বিভিন্ন প্রান্ত মুসল্লিরা লঞ্চ ও বাসযোগে চরোমানাই এসেছেন। এর মধ্যে, ঘাটে বাঁধা এমভি মানিক-৪ লঞ্চ ডুবে গেছে।