Dhaka সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বন্দর নিয়ে জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করবে না সরকার : নৌপরিবহন উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দেশের বন্দর নিয়ে জাতীয় স্বার্থ বিরোধী কোনো কাজ করবে না সরকার বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে যে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বন্দরের কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে । চট্টগ্রাম বন্দর এ বিষয় নিয়ে কাজ করছে। বন্দর বা দেশের জন্য যেটি মঙ্গলজনক বা কল্যাণকর, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সেটি সমর্থন করে।

তিনি সকলকে দেশের স্বার্থে বন্দরকে সচল রাখার আহবান জানিয়ে বলেন, বন্দরে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে দেশের জনগণকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

তিনি বলেন, যে বিষয়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে- তা অনাকাঙ্ক্ষিত।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলন করছে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মচারীরা। তাদের কর্মবিরতিতে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে বন্দরের কার্যক্রম।

এ বিষয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, বন্দরে অচলাবস্থা তৈরি করছে কিছু সংখ্যক বা বহু সংখ্যক বন্দরেরই কর্মচারী, যারা সরকারি কর্মচারীও বটে। এ অচলাবস্থার কারণে দেশের ক্ষতি হচ্ছে, সেই ক্ষতির মাশুল কে দেবে আমি জানি না। নির্বাচনের আগে তাদের একটা পরিচয় আছে—যেটা আমরা পত্রপত্রিকায় দেখছি, জনগণ দেখছে; আমি এ নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছি না।

ডিপিওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে কি না জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, চুক্তির প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। শর্ত যদি আমাদের জন্য অনুকূল হয় তাহলে হবে, অন্যথায় হবে না।

শ্রমিকদের কর্মবিরতির ফলে বন্দরে সৃষ্ট অচলাবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই অচলাবস্থা অহেতুক তৈরি করা হয়েছে। আমি বন্দর কর্তৃপক্ষকে বলেছি, তারা একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। বন্দরের স্বার্থে যা ভালো হবে, তারা সেটিই করবে।

এ সময় সাংবাদিকরা ‘উপদেষ্টা হিসেবে আপনার সিদ্ধান্তহীনতায় মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে’ এমন বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, মানুষ কষ্ট করলে মানুষই বুঝবে। আমি তো কাউকে কাজ বন্ধ করতে বলিনি।

তিনি বলেন, যে বিষয়টি (বন্দর ইজারা) নিয়ে তারা কথা বলছে, এটি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ফাইনাল জায়গায় আমরা পৌঁছিনি। যেখানে আমাকে ডেকেছে যেখানে কথা বলেছি একটি কথাই বলেছি—রাষ্ট্রীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে আমি বা আমরা যারা আছি এমন কোনো কাজ করছি না বা করবো না। এখন যদি তারা না বুঝতে চায়, তারা কোনো স্বার্থ নিয়ে এটা (কর্মবিরতি) করে সে বিষয়ে আমি বলতে পারবো না।

তিনি বলেন, বন্দরে যে অচলাবস্থা আমি সেটিকে একেবারে অহেতুক মনে করি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য যেটা ভালো হয়, সেটাই করবে।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা এরই মধ্যে রমজানের পণ্য নিয়ে সমস্যায় আছি। প্রতিদিন রেইড হচ্ছে ফাইন হচ্ছে। আমি এমনও বলেছি- শুধু ফাইন করলেই হবে না। এরপর বলা হলো যে লাইটারকে এভাবে (ভাসমান গুদাম) পাওয়া যাবে সেটার রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হবে।

রমজানকে সামনে রেখে কতিপয় ব্যবসায়ী লাইটার জাহাজে পণ্য মজুদ করে দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির পায়তারা করছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা জানান, এ সকল অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিদিনই নৌপরিবহন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের ভিত্তিতে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, রমজান সামনে রেখে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দেশের বড় ছয়টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান প্রায় ১০ লাখ টন খাদ্যপণ্য নিয়ে ৬০০টি লাইটার জাহাজকে ‘ভাসমান গুদাম’ হিসেবে সাগরে আটকে রেখেছে।

উপদেষ্টা বলেন, ৬০০ লাইটার ভেসেলের কথা বলা হচ্ছে। এই ভেসেলগুলো কাদের, সেটা কি আপনারা কখনো দেখেছেন। আমি এ বিষয়ে নাম দিতে বলেছি, নামগুলো আসুক। দু-চারটি নাম আমি জানি, কিন্তু বলতে চাচ্ছি না।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ধানের শীষ জিতে গেলে প্রকৃত অর্থে জনগণই জিতে যাবে : মোশাররফ হোসেন

বন্দর নিয়ে জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করবে না সরকার : নৌপরিবহন উপদেষ্টা

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৪:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দেশের বন্দর নিয়ে জাতীয় স্বার্থ বিরোধী কোনো কাজ করবে না সরকার বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে যে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বন্দরের কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে । চট্টগ্রাম বন্দর এ বিষয় নিয়ে কাজ করছে। বন্দর বা দেশের জন্য যেটি মঙ্গলজনক বা কল্যাণকর, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সেটি সমর্থন করে।

তিনি সকলকে দেশের স্বার্থে বন্দরকে সচল রাখার আহবান জানিয়ে বলেন, বন্দরে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে দেশের জনগণকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

তিনি বলেন, যে বিষয়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে- তা অনাকাঙ্ক্ষিত।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলন করছে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মচারীরা। তাদের কর্মবিরতিতে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে বন্দরের কার্যক্রম।

এ বিষয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, বন্দরে অচলাবস্থা তৈরি করছে কিছু সংখ্যক বা বহু সংখ্যক বন্দরেরই কর্মচারী, যারা সরকারি কর্মচারীও বটে। এ অচলাবস্থার কারণে দেশের ক্ষতি হচ্ছে, সেই ক্ষতির মাশুল কে দেবে আমি জানি না। নির্বাচনের আগে তাদের একটা পরিচয় আছে—যেটা আমরা পত্রপত্রিকায় দেখছি, জনগণ দেখছে; আমি এ নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছি না।

ডিপিওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে কি না জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, চুক্তির প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। শর্ত যদি আমাদের জন্য অনুকূল হয় তাহলে হবে, অন্যথায় হবে না।

শ্রমিকদের কর্মবিরতির ফলে বন্দরে সৃষ্ট অচলাবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই অচলাবস্থা অহেতুক তৈরি করা হয়েছে। আমি বন্দর কর্তৃপক্ষকে বলেছি, তারা একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। বন্দরের স্বার্থে যা ভালো হবে, তারা সেটিই করবে।

এ সময় সাংবাদিকরা ‘উপদেষ্টা হিসেবে আপনার সিদ্ধান্তহীনতায় মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে’ এমন বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, মানুষ কষ্ট করলে মানুষই বুঝবে। আমি তো কাউকে কাজ বন্ধ করতে বলিনি।

তিনি বলেন, যে বিষয়টি (বন্দর ইজারা) নিয়ে তারা কথা বলছে, এটি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ফাইনাল জায়গায় আমরা পৌঁছিনি। যেখানে আমাকে ডেকেছে যেখানে কথা বলেছি একটি কথাই বলেছি—রাষ্ট্রীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে আমি বা আমরা যারা আছি এমন কোনো কাজ করছি না বা করবো না। এখন যদি তারা না বুঝতে চায়, তারা কোনো স্বার্থ নিয়ে এটা (কর্মবিরতি) করে সে বিষয়ে আমি বলতে পারবো না।

তিনি বলেন, বন্দরে যে অচলাবস্থা আমি সেটিকে একেবারে অহেতুক মনে করি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য যেটা ভালো হয়, সেটাই করবে।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা এরই মধ্যে রমজানের পণ্য নিয়ে সমস্যায় আছি। প্রতিদিন রেইড হচ্ছে ফাইন হচ্ছে। আমি এমনও বলেছি- শুধু ফাইন করলেই হবে না। এরপর বলা হলো যে লাইটারকে এভাবে (ভাসমান গুদাম) পাওয়া যাবে সেটার রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হবে।

রমজানকে সামনে রেখে কতিপয় ব্যবসায়ী লাইটার জাহাজে পণ্য মজুদ করে দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির পায়তারা করছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা জানান, এ সকল অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিদিনই নৌপরিবহন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের ভিত্তিতে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, রমজান সামনে রেখে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দেশের বড় ছয়টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান প্রায় ১০ লাখ টন খাদ্যপণ্য নিয়ে ৬০০টি লাইটার জাহাজকে ‘ভাসমান গুদাম’ হিসেবে সাগরে আটকে রেখেছে।

উপদেষ্টা বলেন, ৬০০ লাইটার ভেসেলের কথা বলা হচ্ছে। এই ভেসেলগুলো কাদের, সেটা কি আপনারা কখনো দেখেছেন। আমি এ বিষয়ে নাম দিতে বলেছি, নামগুলো আসুক। দু-চারটি নাম আমি জানি, কিন্তু বলতে চাচ্ছি না।