Dhaka রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফোনালাপ ফাঁস নিয়ে লাইভে যা জানালেন তামিম

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৪৮:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪
  • ১৯৬ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

বাংলাদেশের জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই ক্রিকেটারের ফোনালাপ ফাঁস নিয়ে হঠাৎ হইচই দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে। সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের কলরেকর্ডটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ওই ফোনালাপের নেপথ্য ঘটনা কী তা অবশেষে খোলাসা করলেন তামিম ইকবাল।

তামিম জানান, মূলত মোবাইল আর্থিক লেনদেন প্রতিষ্ঠান নগদের একটি বিজ্ঞাপনের প্রচারণায় ফোনালাপ ফাঁসের অভিনয় করেন তারা। লাইভে তামিম-মিরাজ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং নগদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক।

এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে তামিম ও মিরাজের মধ্যকার একটি ফোনালাপ প্রকাশ করে প্রতিবেদন করা হয়। যেখানে শোনা যায়, কোনো এক কারণে সতীর্থ মুশফিকুর রহিমের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তামিম। নালিশ করছেন মেহেদী মিরাজের কাছে।

সেই ফোনালাপ প্রচার হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। অনেকেই পক্ষে-বিপক্ষে নানা ধরনের মন্তব্য করতে থাকেন।

অবশেষে বুধবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় জটলা ভাঙলেন তামিম। জানালেন, নগদের ক্যাম্পেইনের প্রচারণার জন্য তারা এই নাটক করেছেন।

লাইভে তামিম জানান, ঈদ উপলক্ষে নগদের একটি ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। যেখানে ২৪ জন গ্রাহককে জমি উপহার দেওয়া হবে। সেই ক্যাম্পেইনে জয়ের জন্য দুজন বা তিনজন করে দল গঠন করে লেনদেন করতে হবে। যেই দলেই মুশফিককে রেখেছিলেন তামিম। তবে মুশফিক বের হয়ে গেছেন। এসব ঘিরেই মূলত এই ফোনালাপ।

মূলত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাদের ফোনালাপ। যা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এরপরই শুরু হয় নানা বিতর্ক। অনেক ভক্তরাই ভেবে নেন, হয়তো বিপিএলে তামিমের দল ছেড়ে অন্য দল গঠন করছেন মুশফিক। কিন্তু পুরো বিষয়টিই ছিল নগদের প্রচার। যা একদিন পরই খোলাসা করলেন এই ক্রিকেটাররা।

এর আগে আলোচিত সেই ফোনালাপে তামিমকে বলতে শোনা যায়, গত বিপিএলে তাদের যেমন দল ছিল, তিনি প্রায় সেরকম দলই পরের বছর রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মুশফিক কথা রাখেননি– ‘মুশফিক এটা কোনো কাজ করছে রে মিরাজ? ফাইনালের পরে আমাদের মিটিংয়ে কী কথা হইছে? আমি তোরে ওই সময় একটা কথা বলছিলাম না যে আমরা চেষ্টা করব যে ৭০ থেকে ৮০ পারসেন্ট আমরা যেন সেইম টিম থাকতে পারি। ঠিক আছে? আর এই কথায় আমার বেইসই ছিল তুই মুশফিক সবাই–সহ। ঠিক না?’

তামিম অভিমান করে বলেছেন, তিনি জাতীয় দলে থাকলে বা অধিনায়ক হিসেবে থাকলে তার সঙ্গে কেউ এরকম ব্যবহার করতো না। আজ সবাই সুযোগ নিচ্ছে, ‘যদি ক্যাপ্টেন থাকতাম তাহলে তো তোরা এটা করতে পারতি না। এখন আমার দাম নাই, তাই তোরা এসব করছো। অসুবিধা নাই মিরাজ, সময় আমারও তো আসবে। একটা কথা শোন- পৃথিবীটা গোল তুই ওই সাইডে আমি এই সাইডে, কালকে আমি ওই সাইডে বসবো তুই এই সাইডে আসবি। বিষয়টা ভুলে যাইসনা, তোর বড়ভাইকেও বলে দিস।’

তামিম সবচেয়ে দুঃখ পেয়েছেন, মুশফিক তাকে একেবারেই কিছু না জানিয়ে আলাদা দল করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায়। সেটা না লুকিয়েই তিনি বলেছেন, ‘ছোটবেলা থেকে ও আমার ফ্রেন্ড। ও একবার আমাকে অ্যাটলিস্ট বলত, চলে যাওয়ার আগে। অ্যাটলিস্ট তখন তো আমার একটু শান্তি হইতো যে, বলে গেছে। অসুবিধা নাই মিরাজ। সময় আমারও তো আসবে। এখন তো ন্যাশনাল টিমে খেলি না, তাতে অনেকের ভাব বেড়ে গেছে।’

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর

ফোনালাপ ফাঁস নিয়ে লাইভে যা জানালেন তামিম

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৮:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪

স্পোর্টস ডেস্ক : 

বাংলাদেশের জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই ক্রিকেটারের ফোনালাপ ফাঁস নিয়ে হঠাৎ হইচই দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে। সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের কলরেকর্ডটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ওই ফোনালাপের নেপথ্য ঘটনা কী তা অবশেষে খোলাসা করলেন তামিম ইকবাল।

তামিম জানান, মূলত মোবাইল আর্থিক লেনদেন প্রতিষ্ঠান নগদের একটি বিজ্ঞাপনের প্রচারণায় ফোনালাপ ফাঁসের অভিনয় করেন তারা। লাইভে তামিম-মিরাজ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং নগদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক।

এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে তামিম ও মিরাজের মধ্যকার একটি ফোনালাপ প্রকাশ করে প্রতিবেদন করা হয়। যেখানে শোনা যায়, কোনো এক কারণে সতীর্থ মুশফিকুর রহিমের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তামিম। নালিশ করছেন মেহেদী মিরাজের কাছে।

সেই ফোনালাপ প্রচার হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। অনেকেই পক্ষে-বিপক্ষে নানা ধরনের মন্তব্য করতে থাকেন।

অবশেষে বুধবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় জটলা ভাঙলেন তামিম। জানালেন, নগদের ক্যাম্পেইনের প্রচারণার জন্য তারা এই নাটক করেছেন।

লাইভে তামিম জানান, ঈদ উপলক্ষে নগদের একটি ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। যেখানে ২৪ জন গ্রাহককে জমি উপহার দেওয়া হবে। সেই ক্যাম্পেইনে জয়ের জন্য দুজন বা তিনজন করে দল গঠন করে লেনদেন করতে হবে। যেই দলেই মুশফিককে রেখেছিলেন তামিম। তবে মুশফিক বের হয়ে গেছেন। এসব ঘিরেই মূলত এই ফোনালাপ।

মূলত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাদের ফোনালাপ। যা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এরপরই শুরু হয় নানা বিতর্ক। অনেক ভক্তরাই ভেবে নেন, হয়তো বিপিএলে তামিমের দল ছেড়ে অন্য দল গঠন করছেন মুশফিক। কিন্তু পুরো বিষয়টিই ছিল নগদের প্রচার। যা একদিন পরই খোলাসা করলেন এই ক্রিকেটাররা।

এর আগে আলোচিত সেই ফোনালাপে তামিমকে বলতে শোনা যায়, গত বিপিএলে তাদের যেমন দল ছিল, তিনি প্রায় সেরকম দলই পরের বছর রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মুশফিক কথা রাখেননি– ‘মুশফিক এটা কোনো কাজ করছে রে মিরাজ? ফাইনালের পরে আমাদের মিটিংয়ে কী কথা হইছে? আমি তোরে ওই সময় একটা কথা বলছিলাম না যে আমরা চেষ্টা করব যে ৭০ থেকে ৮০ পারসেন্ট আমরা যেন সেইম টিম থাকতে পারি। ঠিক আছে? আর এই কথায় আমার বেইসই ছিল তুই মুশফিক সবাই–সহ। ঠিক না?’

তামিম অভিমান করে বলেছেন, তিনি জাতীয় দলে থাকলে বা অধিনায়ক হিসেবে থাকলে তার সঙ্গে কেউ এরকম ব্যবহার করতো না। আজ সবাই সুযোগ নিচ্ছে, ‘যদি ক্যাপ্টেন থাকতাম তাহলে তো তোরা এটা করতে পারতি না। এখন আমার দাম নাই, তাই তোরা এসব করছো। অসুবিধা নাই মিরাজ, সময় আমারও তো আসবে। একটা কথা শোন- পৃথিবীটা গোল তুই ওই সাইডে আমি এই সাইডে, কালকে আমি ওই সাইডে বসবো তুই এই সাইডে আসবি। বিষয়টা ভুলে যাইসনা, তোর বড়ভাইকেও বলে দিস।’

তামিম সবচেয়ে দুঃখ পেয়েছেন, মুশফিক তাকে একেবারেই কিছু না জানিয়ে আলাদা দল করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায়। সেটা না লুকিয়েই তিনি বলেছেন, ‘ছোটবেলা থেকে ও আমার ফ্রেন্ড। ও একবার আমাকে অ্যাটলিস্ট বলত, চলে যাওয়ার আগে। অ্যাটলিস্ট তখন তো আমার একটু শান্তি হইতো যে, বলে গেছে। অসুবিধা নাই মিরাজ। সময় আমারও তো আসবে। এখন তো ন্যাশনাল টিমে খেলি না, তাতে অনেকের ভাব বেড়ে গেছে।’