নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে মুখে অনেক বাহবা দিলেও, তাদের জীবনমান নিয়ে কোনো কাজ করা হয় না বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী প্রবাস প্রত্যাগত শ্রমিক দলের উদ্যোগে আয়োজিত, বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণের জন্য একটা স্থায়ী কাঠামো দাঁড় করানো দরকার। এজন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে আরও আন্তরিক হয়ে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রয়োজনে আইন ও নীতিমালার পরিবর্তন করে প্রবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার কথা বলেন তিনি। আগামীতে যারাই ক্ষমতায় আসবে তারাই প্রত্যাগত প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে যেন কাজ করে এই আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রবাস থেকে ফিরে আসা শ্রমজীবীদের কল্যাণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে হবে। আগামীতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যারা আসবে, তাদেরকেও এ দিকে নজর রাখতে হবে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ইতিহাসের বৃহত্তম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার। আমরা সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই এবং এ থেকে সব রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানাই যে, মানুষকে ভালোবাসলে মানুষ ভালোবাসে। জনগণের জন্য কাজ করলে জনগণ ভালোবাসে। দেশের জন্য কাজ করলে দেশের মানুষ ভালোবাসে। এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের ইতিহাসে বহু রাজনীতিবিদের আবির্ভাব হয়েছে। উনি যে পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এ রকম বহু রাজনৈতিক দলের এরকম পদে আরো বহু নেতা অধিষ্ঠিত হয়েছেন। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বাংলাদেশে অনেক প্রধানমন্ত্রী ছিল, কিন্তু তার মতো হয়ে কেউ যেতে পারলো না। এটাই দৃষ্টান্ত। এটাই ইতিহাস হয়ে থাকবে। আমরা তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন তিনি দেশ এবং দেশের মানুষকে ভালোবাসতেন। এ দেশে আমরা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিভিন্ন ধর্ম বর্ণের বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্বাসের মানুষ বসবাস করি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া চেষ্টা করেছেন সবার জন্যই এমন কিছু করার, যেটা শুধু সাময়িক স্বস্তি কিংবা সাময়িক সমাধানের বিষয় না হয়ে স্থায়ী সমাধানের স্থায়ী কল্যাণের বিষয় হয়।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা প্রবাসী শ্রমিকদের মুখে অনেক প্রশংসা করি, তাদের যোদ্ধা বলে মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু তাদের কল্যাণে তেমন কিছু কেউ করে নাই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলেন। অর্থাৎ প্রবাসীদের কল্যাণের জন্য একটা স্থায়ী রাষ্ট্রীয় কাঠামো তিনি গড়ে দিয়ে গেছেন। একটা বিশেষ আলাদা মন্ত্রণালয় করে দিয়ে গেছেন। এই যে প্রবাসী যারা তাদের কল্যাণের জন্য একটা স্থায়ী কাঠামো দাঁড় করানো, একটা স্থায়ী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা তাদের কল্যাণের জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বা বিএনপি সরকারের আন্তরিকতার প্রমাণ।
প্রবাসী প্রত্যাগত শ্রমিক দল তারা প্রবাস থেকে প্রত্যাগত প্রত্যেকটা শ্রমজীবী মানুষের স্থায়ী কল্যাণের জন্য কিছু করার পরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন। দেশের আইন, দেশের প্রচলিত ব্যবস্থা, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যেসব সুযোগ আছেই অলরেডি তার আলোকে কিছু পরিকল্পনা করবেন। এমনকি এ প্রস্তাবও করতে পারেন যে, বিদ্যমান আইন বা বিদ্যমান বিধান বা বিদ্যমান ব্যবস্থায় কিভাবে উন্নয়ন করা যায়, যাতে প্রত্যাগত প্রবাসীরা উপকৃত হয় বলেন তিনি।
আগামী দিনে যারাই এ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসবে, তারাই এ প্রবাস প্রত্যাগত শ্রমজীবী মানুষের জন্য আরও কার্যকর উদ্যোগ নেবেন। প্রয়োজনে আইন বিধি পরিবর্তন করে তাদের মর্যাদার জীবনযাপনে সহযোগিতা করার ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমি অনুরোধ করব এখন থেকে এক বছর, দুই বছর তিন বছর পরে মানুষ বলবে যে, এ একটা সংগঠন, যে সংগঠন প্রত্যাগত বা প্রবাস প্রত্যাগত শ্রমজীবী মানুষের জন্য আসলেই কিছু ভালো কাজ করছে এবং এই সংগঠনটাকে সহযোগিতা করা দরকার বা সমর্থন দেওয়া দরকার এ কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আপনাদের এ উদ্যোগের সাফল্য কামনা করি এবং আশা করি যে, আপনাদের সমস্ত উদ্যোগই হবে প্রবাস থেকে যারা ফিরে আসবেন, তাদের নিরাপত্তা, তাদের কল্যাণ, তাদের উন্নয়ন এবং তাদের মর্যাদার জীবন নিশ্চিত করা।
জাতীয়তাবাদী প্রবাস প্রত্যাগত শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন কাজলের সভাপতিত্বে দোয়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্ঠা নাজিম উদ্দিন আলম।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























