Dhaka শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রথমবারের মতো শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানালেন জামায়াত আমির

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৪৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৭৯ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ২২ মিনিটে তিনি শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। এছাড়া ১১ দলীয় জামায়াত জোটের শীর্ষ নেতারাও শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নেন।

শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার পর ডা. শফিকুর রহমান সেখানে মোনাজাত করেন।

মোনাজাত শেষে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জামায়াত আমির। শহীদ মিনারে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সঙ্গীদের নিয়ে আমাকে আসতে হবে, তাই আমি এসেছি।”

শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে জামায়াত এখনও ‘নাজায়েজ’ মনে করে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে কিছুটা ক্ষুব্ধ হন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি প্রশ্নকর্তার দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে বলেন, “আপনি এই প্রশ্ন কেন আজকে করছেন? এইরকম একটা পবিত্র দিনে এমন প্রশ্ন না করাই ভালো।”

বক্তব্যের শুরুতে ৪৭ থেকে শুরু করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত সব শহীদকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, “আমরা আসলে ভাষাশহীদদের আগে ৪৭-এ যারা শহীদ হয়েছেন তাদেরও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। বায়ান্নর শহীদদেরও স্মরণ করি। একাত্তরের শহীদদের স্মরণ করি, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করি। এরপরে যারা ফ্যাসিবাদের হাতে শহীদ হয়েছেন তাদেরও স্মরণ করি।”

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “বিশেষ করে সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের সবাইকে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। এবং শেষ পর্যন্ত আমরা স্মরণ করি যারা জুলাই যোদ্ধা হিসেবে জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে শহীদ হয়েছেন তাদের। ওসমান হাদিকেও আমরা স্মরণ করি।”

একটি মানবিক দেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “জাতির মুক্তি না আসা পর্যন্ত ফ্যাসিবাদমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনের জন্য আমাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। কোনও অপকর্মের সঙ্গে আমরা আপস করব না।”

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিরোধী দলীয় নেতার শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিচারপতি, নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন বাহিনী প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে পুরো শহীদ মিনার এলাকাকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রং তুলিতে শহীদ মিনারের বেদিসহ আশপাশের এলাকায় আলপনা আঁকা হয়েছে। শহীদ মিনার আবাসিক এলাকার দেওয়ালে লেখা হয়েছে বিখ্যাত কবি লেখকদের উক্তি।

নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুরো এলাকাকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনার পাশাপাশি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। সন্ধ্যা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রণীত রুটম্যাপ কার্যকর করা হয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

প্রথমবারের মতো শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানালেন জামায়াত আমির

প্রথমবারের মতো শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানালেন জামায়াত আমির

প্রকাশের সময় : ০৫:৪৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ২২ মিনিটে তিনি শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। এছাড়া ১১ দলীয় জামায়াত জোটের শীর্ষ নেতারাও শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নেন।

শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার পর ডা. শফিকুর রহমান সেখানে মোনাজাত করেন।

মোনাজাত শেষে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জামায়াত আমির। শহীদ মিনারে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সঙ্গীদের নিয়ে আমাকে আসতে হবে, তাই আমি এসেছি।”

শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে জামায়াত এখনও ‘নাজায়েজ’ মনে করে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে কিছুটা ক্ষুব্ধ হন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি প্রশ্নকর্তার দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে বলেন, “আপনি এই প্রশ্ন কেন আজকে করছেন? এইরকম একটা পবিত্র দিনে এমন প্রশ্ন না করাই ভালো।”

বক্তব্যের শুরুতে ৪৭ থেকে শুরু করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত সব শহীদকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, “আমরা আসলে ভাষাশহীদদের আগে ৪৭-এ যারা শহীদ হয়েছেন তাদেরও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। বায়ান্নর শহীদদেরও স্মরণ করি। একাত্তরের শহীদদের স্মরণ করি, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করি। এরপরে যারা ফ্যাসিবাদের হাতে শহীদ হয়েছেন তাদেরও স্মরণ করি।”

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “বিশেষ করে সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের সবাইকে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। এবং শেষ পর্যন্ত আমরা স্মরণ করি যারা জুলাই যোদ্ধা হিসেবে জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে শহীদ হয়েছেন তাদের। ওসমান হাদিকেও আমরা স্মরণ করি।”

একটি মানবিক দেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “জাতির মুক্তি না আসা পর্যন্ত ফ্যাসিবাদমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনের জন্য আমাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। কোনও অপকর্মের সঙ্গে আমরা আপস করব না।”

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিরোধী দলীয় নেতার শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিচারপতি, নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন বাহিনী প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে পুরো শহীদ মিনার এলাকাকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রং তুলিতে শহীদ মিনারের বেদিসহ আশপাশের এলাকায় আলপনা আঁকা হয়েছে। শহীদ মিনার আবাসিক এলাকার দেওয়ালে লেখা হয়েছে বিখ্যাত কবি লেখকদের উক্তি।

নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুরো এলাকাকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনার পাশাপাশি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। সন্ধ্যা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রণীত রুটম্যাপ কার্যকর করা হয়েছে।