Dhaka শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রথম দিন ওয়াকআউট না করলেও পারত বিরোধী দল : স্পিকার

সাভার উপজেলা প্রতিনিধি :

বিরোধী দলের ওয়াকআউট করা তাদের সাংবিধানিক অধিকার হলেও সংসদের প্রথম দিন এ ধরনের পদক্ষেপ না নিলেও পারত বলে মন্তব্য করেছেন নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ওয়াকআউট করার অধিকার বিরোধী দলের রয়েছে। সংসদের এটি একটি প্রচলিত কার্যক্রম। তারা তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি করেছে। না করলে ভালো হতো- বিশেষ করে প্রথম দিন না করলেই ভালো হতো। যাই হোক, সেটি তাদের বিষয়।’

তিনি বলেন, আপনারা ক্রিকেট খেলা দেখেন, আমিও একজন সাবেক খেলোয়াড়, ক্রিকেটে দুজন আম্পায়ার থাকেন, এখন আপনাদের সামনে আমরা দুজন আম্পায়ার আমি আর ডেপুটি স্পিকার। সংসদে সরকারি দল ও বিরোধীদল যাতে সঠিকভাবে কার্যক্রম করতে পারে সে জন্য নিরপেক্ষভাবে আম্পায়ারের ভূমিকা পালন করব।

স্পিকার বলেন, সরকার ও বিরোধীদল উভয়ে মিলে দেশের জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবেন এটা কামনা করছি। গতকালকে (বৃহস্পতিবার) প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত হয়েছে, আশা করি আগামী দিনগুলোতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ এ দেশের জনগণের সব আশা আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে।

বিরোধীদলের ওয়াক আউট করা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, সংসদে ওয়াক আউট করা দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি। তারা আইনানুগভাবেই সেটি করেছেন। এটি তাদের রাজনৈতিক দলের বহিঃপ্রকাশ। রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে তাদের যে মনোভাব সেটি তাদের একান্ত নিজস্ব। আমরা এ ব্যাপারে কোনো কমেন্ট করতে চাই না। তবে আমরা আশা করব, আগামী দিনগুলোতে ওয়াক আউট করার সময়, তারা সতর্ক থাকবেন, এমন কিছু করবেন না, যাতে আবার ফ্যাসিস্টের পুনরুত্থান করার সুযোগ হয়।

তিনি বলেন, আমরা সরকারি দল, বিরোধীদল এবং সব রাজনৈতিক দল মিলে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলাম, আগামী দিনগুলোতে গণতন্ত্র যাতে আর ব্যাহত না হয়, গণতন্ত্রের ওপর আর যেন কোনো আঘাত না সেজন্য সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ থাকব এবং বাংলাদেশকে উন্নয়নের অভিষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যাব, এটাই আমাদের একান্ত কামনা।

স্পিকার হওয়ার পর দল থেকে পদত্যাগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগেও সম্ভবত এরকম প্রচলন ছিল, তবে আমি মনে করেছি নিরপেক্ষতার খাতিরে আমার ৩৪ বছরের পুরোনো দল বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছি। যাতে বিরোধীদলের আস্থার মধ্যে কোনো ঘাটতি না থাকে। একই সঙ্গে ডেপুটি স্পিকারও এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

সামনের দিনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অহেতুক জুলাই সনদ নিয়ে একটা বিতর্কের সৃষ্টি করা হয়েছে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই সবার মান্য করা উচিত। বাংলাদেশের জনগণ কত সতর্ক, কত বিচক্ষণ, দেখেন, একটি দলকে দুই তৃতীয়াংশ মেজরিটি দিয়েছে, এটা যদি জনগণ না দিত, তাহলে আগামী দিনগুলো হতো, ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ। একটা বেসামাল সংসদ হতো। কিন্তু বাংলাদেশের বিচক্ষণ জনগণ সঠিকভাবে রায় দিয়েছে, যাতে আগামী দিনগুলোতে সংসদীয় গণতন্ত্রের পথ সুগম হয়।

বিরোধীদলের নেতা বলেছেন, আপনাদের মাধ্যমে সুবিচার পাবেন। আপনি কি মনে করেন, এমন প্রশ্নের জবাবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, নিশ্চয়ই পাবেন।

সংসদে প্লেকার্ড প্রদর্শন করা যায় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আগেও দেখা গেছে, সুশৃঙ্খলভাবে করলে কোনো সমস্যা নেই। তবে ওপরে স্পিকারের পোডিয়ামের দিকে আসার চেষ্টা করা ঠিক না। যতটুকু করেছে, আগামীতে তারা আরও সুশৃঙ্খল হবেন এটাই আশা করি।

তিনি বলেন, ‘সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সহযোগিতা এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সংসদ তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। ভবিষ্যতে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করবে বলে আশা। একই সঙ্গে যাতে দেশে ফ্যাসিস্ট শক্তির পুনরুত্থান না ঘটে, সে বিষয়েও সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিরোধী দলকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে স্পিকার বলেন, ‘নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার স্বার্থে ৩৪ বছরের পুরোনো দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে পদত্যাগ করেছি, যাতে বিরোধী দল আস্থা রাখতে পারে। বিরোধী দলের সব ধরনের সহযোগিতা কামনা করছি এবং আশা করি তারা সেই সহযোগিতা করবে।’

বিরোধী দলের অধিকারকে সম্মান করা হবে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে তিনি আর কোনও মন্তব্য করতে চান না বলেও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক রাজনৈতিক দল তাদের নিজস্ব কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবে—এটাই প্রত্যাশা, এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহনশীলতাও থাকা উচিত।’

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলের অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে স্পিকার বলেন,‘ অধিবেশন চলাকালে কিছু স্লোগান দেখেছি। তবে বিরোধী দলের কাজই হলো বিরোধিতা করা। বিরোধিতা হবে গঠনমূলক এবং এমন কোনও কর্মকাণ্ড তারা করবে না, যাতে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় বা জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হয়।’

এসময় তার সঙ্গে ছিলেন, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

পাঁচ দিনে ১৪০টির বেশি ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা কাতার এয়ারওয়েজের

প্রথম দিন ওয়াকআউট না করলেও পারত বিরোধী দল : স্পিকার

প্রকাশের সময় : ০১:০৩:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

সাভার উপজেলা প্রতিনিধি :

বিরোধী দলের ওয়াকআউট করা তাদের সাংবিধানিক অধিকার হলেও সংসদের প্রথম দিন এ ধরনের পদক্ষেপ না নিলেও পারত বলে মন্তব্য করেছেন নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ওয়াকআউট করার অধিকার বিরোধী দলের রয়েছে। সংসদের এটি একটি প্রচলিত কার্যক্রম। তারা তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি করেছে। না করলে ভালো হতো- বিশেষ করে প্রথম দিন না করলেই ভালো হতো। যাই হোক, সেটি তাদের বিষয়।’

তিনি বলেন, আপনারা ক্রিকেট খেলা দেখেন, আমিও একজন সাবেক খেলোয়াড়, ক্রিকেটে দুজন আম্পায়ার থাকেন, এখন আপনাদের সামনে আমরা দুজন আম্পায়ার আমি আর ডেপুটি স্পিকার। সংসদে সরকারি দল ও বিরোধীদল যাতে সঠিকভাবে কার্যক্রম করতে পারে সে জন্য নিরপেক্ষভাবে আম্পায়ারের ভূমিকা পালন করব।

স্পিকার বলেন, সরকার ও বিরোধীদল উভয়ে মিলে দেশের জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবেন এটা কামনা করছি। গতকালকে (বৃহস্পতিবার) প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত হয়েছে, আশা করি আগামী দিনগুলোতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ এ দেশের জনগণের সব আশা আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে।

বিরোধীদলের ওয়াক আউট করা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, সংসদে ওয়াক আউট করা দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি। তারা আইনানুগভাবেই সেটি করেছেন। এটি তাদের রাজনৈতিক দলের বহিঃপ্রকাশ। রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে তাদের যে মনোভাব সেটি তাদের একান্ত নিজস্ব। আমরা এ ব্যাপারে কোনো কমেন্ট করতে চাই না। তবে আমরা আশা করব, আগামী দিনগুলোতে ওয়াক আউট করার সময়, তারা সতর্ক থাকবেন, এমন কিছু করবেন না, যাতে আবার ফ্যাসিস্টের পুনরুত্থান করার সুযোগ হয়।

তিনি বলেন, আমরা সরকারি দল, বিরোধীদল এবং সব রাজনৈতিক দল মিলে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলাম, আগামী দিনগুলোতে গণতন্ত্র যাতে আর ব্যাহত না হয়, গণতন্ত্রের ওপর আর যেন কোনো আঘাত না সেজন্য সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ থাকব এবং বাংলাদেশকে উন্নয়নের অভিষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যাব, এটাই আমাদের একান্ত কামনা।

স্পিকার হওয়ার পর দল থেকে পদত্যাগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগেও সম্ভবত এরকম প্রচলন ছিল, তবে আমি মনে করেছি নিরপেক্ষতার খাতিরে আমার ৩৪ বছরের পুরোনো দল বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছি। যাতে বিরোধীদলের আস্থার মধ্যে কোনো ঘাটতি না থাকে। একই সঙ্গে ডেপুটি স্পিকারও এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

সামনের দিনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অহেতুক জুলাই সনদ নিয়ে একটা বিতর্কের সৃষ্টি করা হয়েছে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই সবার মান্য করা উচিত। বাংলাদেশের জনগণ কত সতর্ক, কত বিচক্ষণ, দেখেন, একটি দলকে দুই তৃতীয়াংশ মেজরিটি দিয়েছে, এটা যদি জনগণ না দিত, তাহলে আগামী দিনগুলো হতো, ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ। একটা বেসামাল সংসদ হতো। কিন্তু বাংলাদেশের বিচক্ষণ জনগণ সঠিকভাবে রায় দিয়েছে, যাতে আগামী দিনগুলোতে সংসদীয় গণতন্ত্রের পথ সুগম হয়।

বিরোধীদলের নেতা বলেছেন, আপনাদের মাধ্যমে সুবিচার পাবেন। আপনি কি মনে করেন, এমন প্রশ্নের জবাবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, নিশ্চয়ই পাবেন।

সংসদে প্লেকার্ড প্রদর্শন করা যায় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আগেও দেখা গেছে, সুশৃঙ্খলভাবে করলে কোনো সমস্যা নেই। তবে ওপরে স্পিকারের পোডিয়ামের দিকে আসার চেষ্টা করা ঠিক না। যতটুকু করেছে, আগামীতে তারা আরও সুশৃঙ্খল হবেন এটাই আশা করি।

তিনি বলেন, ‘সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সহযোগিতা এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সংসদ তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। ভবিষ্যতে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করবে বলে আশা। একই সঙ্গে যাতে দেশে ফ্যাসিস্ট শক্তির পুনরুত্থান না ঘটে, সে বিষয়েও সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিরোধী দলকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে স্পিকার বলেন, ‘নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার স্বার্থে ৩৪ বছরের পুরোনো দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে পদত্যাগ করেছি, যাতে বিরোধী দল আস্থা রাখতে পারে। বিরোধী দলের সব ধরনের সহযোগিতা কামনা করছি এবং আশা করি তারা সেই সহযোগিতা করবে।’

বিরোধী দলের অধিকারকে সম্মান করা হবে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে তিনি আর কোনও মন্তব্য করতে চান না বলেও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক রাজনৈতিক দল তাদের নিজস্ব কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবে—এটাই প্রত্যাশা, এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহনশীলতাও থাকা উচিত।’

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলের অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে স্পিকার বলেন,‘ অধিবেশন চলাকালে কিছু স্লোগান দেখেছি। তবে বিরোধী দলের কাজই হলো বিরোধিতা করা। বিরোধিতা হবে গঠনমূলক এবং এমন কোনও কর্মকাণ্ড তারা করবে না, যাতে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় বা জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হয়।’

এসময় তার সঙ্গে ছিলেন, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।