Dhaka মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাপুয়া নিউগিনিকে সহজেই হারাল বাংলাদেশ

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০২:১৮:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৯৭ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

চারটি মোটে ছক্কা। এ আর এমন কী! কিন্তু বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে এমন কিছুই ছিল না এতদিন। স্বর্ণা আক্তার করে দেখালেন। চার ছক্কায় দুর্দান্ত ক্যামিও ইনিংস খেলার পাশাপাশি অবদান রাখলেন বল হাতেও। তরুণ এই অলরাউন্ডারের সঙ্গে সোবহানা মোস্তারির কার্যকর পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ পেল আরেকটি জয়ের দেখা।

উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে পাপুয়া নিউ গিনিকে ৩০ রানে হারাল বাংলাদেশ।

নেপালের কির্তিপুরে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ২০ ওভারে তোলে ১৬৮ রান। পাপুয়া নিউ গিনি ২০ ওভার খেলে করতে পারে ১৩৮ রান। চার ছক্কা ও একটি চারে ১৪ বলে ৩৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন স্বর্ণা। বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই প্রথম কোনো ব্যাটার এক ইনিংসে চারটি ছক্কা মারতে পারলেন।

টি-টোয়েন্টিতে আগের রেকর্ড তিন ছক্কা ছিল যৌথভাবে আয়েশা রহমান, সানজিদা ইসলাম ও নিগার সুলতানার। ওয়ানডেতে তিন ছক্কা মারা একমাত্র ব্যাটার স্বর্ণাই।

স্বর্ণার এই ১৪ বলে ৩৭ রানের ইনিংসের স্ট্রাইক রেট ২৬৪.২৮। বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অন্তত ২০ ছোঁয়া ইনিংসগুলোর মধ্যে সেরা স্ট্রাইক রেটের ইনিংস এটি। যে কোনো মানদণ্ডেই এর চেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেটের ইনিংস আছে আর কেবল একটি। ২০১৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে জাহানারা আলম খেলেছিলেন ৫ বলে ১৮ রানের ইনিংস, স্ট্রাইক রেট ছিল ৩৬০। এমন ব্যাটিংয়ের পর এক ওভার বোলিং করে একটি উইকেট নেন স্বর্ণা। দুটি করে চার ও ছক্কায় সোবহানা ২৪ বলে ৩৪ রানের ইনিংস খেলার পর এক ওভার বোলিংয়ে উইকেট নেন একটি।
টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ওপেনিং জুটিতেই শক্ত ভিত গড়ে দেয় বাংলাদেশ। দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌসের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় দল। দু’জন মিলে ৪৯ রানের জুটি গড়েন। ১১ বলে ১৭ রান করা ফেরদৌস আউট হলে ভাঙে জুটি। এরপরও দিলারা ইনিংস টেনে নেন। ২৯ বলে ৩৫ রান করে তিনি ফিরে যান দলের ৬৭ রানে।

দুই ওপেনার বিদায় নেওয়ার পর কিছুটা ধীর হয়ে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ৬ বলে ৬ রান করে দ্রুত ফিরলে চাপ বাড়ে। তিনে নামা শারমিন আক্তার সুপ্তা পরিস্থিতি বুঝে খেলেন সংযত ইনিংস। ৩৪ বলে ২৮ রান করে ইনিংস ধরে রাখলেও বড় গতি আনতে পারেননি তিনি।

৩৬ রানে ৭ উইকেট নিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের এক পা

শেষ দিকে ম্যাচের চিত্রটাই বদলে দেন সোবহানা মোস্তারী ও স্বর্ণা আক্তার। দু’জনের ব্যাটে ঝড়ো গতিতে রান তুলতে থাকে বাংলাদেশ। বিশেষ করে স্বর্ণার ব্যাট ছিল বিধ্বংসী। মাত্র ১৪ বলে ৩৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল একাধিক বড় শট। মোস্তারীও দারুণ সঙ্গ দেন, ২৪ বলে ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। শেষ ২৮ বলে আসে ৬৭ রান, আর তাতেই বাংলাদেশের সংগ্রহ পৌঁছে যায় ৫ উইকেটে ১৬৮ রানে। পাপুয়া নিউগিনির হয়ে মাইরি টম, হেনাও থমাস ও ডিকা লোহিয়া একটি করে উইকেট নেন।

লক্ষ্য তাড়ায় কনিও ওলালা ও হোলান দরিগারকে নিয়ে ভালো শুরু করে পাপুয়া নিউগিনি। ওপেনিং জুটিতে আসে ৩২ রান। তবে দ্রুতই ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। রিতু মনি ও রাবেয়া খানের জোড়া আঘাতে দুই ওপেনার ফিরে গেলে চাপ পড়ে প্রতিপক্ষের ওপর।

এরপর অধিনায়ক ব্রেন্ডা টাউ ও সিবোনা জিমির ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে পাপুয়া নিউগিনি। ধীরগতিতে হলেও দু’জন মিলে স্কোর এগিয়ে নেন। ৫৬ বলে ৬৪ রানের এই জুটি কিছুটা আশা দেখালেও মোস্তারী টাউকে ফিরিয়ে সেই আশার আলো নিভিয়ে দেন। ৩২ বলে ৩৫ রান করেন টাউ।

এরপরই ধস নামে পাপুয়া নিউগিনির ইনিংসে। পরের ওভারেই পরপর উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় তারা। সিবোনা জিমিকে ফেরান ফাহিমা খাতুন, আর পাউকে সিয়ানা রান আউটে কাটা পড়েন। শেষ দিকে একের পর এক ব্যাটার ব্যর্থ হন। নাওয়ানি ভারের ১৭ বলে ১৫ রান ছাড়া শেষ সাত ব্যাটারের কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেটে ১৩৮ রানেই থেমে যায় পাপুয়া নিউগিনির ইনিংস।

বাংলাদেশের হয়ে বোলিংয়ে সমান অবদান রাখেন সবাই। সানজিদা আক্তার মেঘলা, রাবেয়া খান, রিতু মনি, ফাহিমা খাতুন, সোবহানা মোস্তারী ও স্বর্ণা আক্তার নেন একটি করে উইকেট।
‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ বৃহস্পতিবার নামিবিয়ার বিপক্ষে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

পাপুয়া নিউগিনিকে সহজেই হারাল বাংলাদেশ

প্রকাশের সময় : ০২:১৮:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

চারটি মোটে ছক্কা। এ আর এমন কী! কিন্তু বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে এমন কিছুই ছিল না এতদিন। স্বর্ণা আক্তার করে দেখালেন। চার ছক্কায় দুর্দান্ত ক্যামিও ইনিংস খেলার পাশাপাশি অবদান রাখলেন বল হাতেও। তরুণ এই অলরাউন্ডারের সঙ্গে সোবহানা মোস্তারির কার্যকর পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ পেল আরেকটি জয়ের দেখা।

উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে পাপুয়া নিউ গিনিকে ৩০ রানে হারাল বাংলাদেশ।

নেপালের কির্তিপুরে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ২০ ওভারে তোলে ১৬৮ রান। পাপুয়া নিউ গিনি ২০ ওভার খেলে করতে পারে ১৩৮ রান। চার ছক্কা ও একটি চারে ১৪ বলে ৩৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন স্বর্ণা। বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই প্রথম কোনো ব্যাটার এক ইনিংসে চারটি ছক্কা মারতে পারলেন।

টি-টোয়েন্টিতে আগের রেকর্ড তিন ছক্কা ছিল যৌথভাবে আয়েশা রহমান, সানজিদা ইসলাম ও নিগার সুলতানার। ওয়ানডেতে তিন ছক্কা মারা একমাত্র ব্যাটার স্বর্ণাই।

স্বর্ণার এই ১৪ বলে ৩৭ রানের ইনিংসের স্ট্রাইক রেট ২৬৪.২৮। বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অন্তত ২০ ছোঁয়া ইনিংসগুলোর মধ্যে সেরা স্ট্রাইক রেটের ইনিংস এটি। যে কোনো মানদণ্ডেই এর চেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেটের ইনিংস আছে আর কেবল একটি। ২০১৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে জাহানারা আলম খেলেছিলেন ৫ বলে ১৮ রানের ইনিংস, স্ট্রাইক রেট ছিল ৩৬০। এমন ব্যাটিংয়ের পর এক ওভার বোলিং করে একটি উইকেট নেন স্বর্ণা। দুটি করে চার ও ছক্কায় সোবহানা ২৪ বলে ৩৪ রানের ইনিংস খেলার পর এক ওভার বোলিংয়ে উইকেট নেন একটি।
টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ওপেনিং জুটিতেই শক্ত ভিত গড়ে দেয় বাংলাদেশ। দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌসের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় দল। দু’জন মিলে ৪৯ রানের জুটি গড়েন। ১১ বলে ১৭ রান করা ফেরদৌস আউট হলে ভাঙে জুটি। এরপরও দিলারা ইনিংস টেনে নেন। ২৯ বলে ৩৫ রান করে তিনি ফিরে যান দলের ৬৭ রানে।

দুই ওপেনার বিদায় নেওয়ার পর কিছুটা ধীর হয়ে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ৬ বলে ৬ রান করে দ্রুত ফিরলে চাপ বাড়ে। তিনে নামা শারমিন আক্তার সুপ্তা পরিস্থিতি বুঝে খেলেন সংযত ইনিংস। ৩৪ বলে ২৮ রান করে ইনিংস ধরে রাখলেও বড় গতি আনতে পারেননি তিনি।

৩৬ রানে ৭ উইকেট নিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের এক পা

শেষ দিকে ম্যাচের চিত্রটাই বদলে দেন সোবহানা মোস্তারী ও স্বর্ণা আক্তার। দু’জনের ব্যাটে ঝড়ো গতিতে রান তুলতে থাকে বাংলাদেশ। বিশেষ করে স্বর্ণার ব্যাট ছিল বিধ্বংসী। মাত্র ১৪ বলে ৩৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল একাধিক বড় শট। মোস্তারীও দারুণ সঙ্গ দেন, ২৪ বলে ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। শেষ ২৮ বলে আসে ৬৭ রান, আর তাতেই বাংলাদেশের সংগ্রহ পৌঁছে যায় ৫ উইকেটে ১৬৮ রানে। পাপুয়া নিউগিনির হয়ে মাইরি টম, হেনাও থমাস ও ডিকা লোহিয়া একটি করে উইকেট নেন।

লক্ষ্য তাড়ায় কনিও ওলালা ও হোলান দরিগারকে নিয়ে ভালো শুরু করে পাপুয়া নিউগিনি। ওপেনিং জুটিতে আসে ৩২ রান। তবে দ্রুতই ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। রিতু মনি ও রাবেয়া খানের জোড়া আঘাতে দুই ওপেনার ফিরে গেলে চাপ পড়ে প্রতিপক্ষের ওপর।

এরপর অধিনায়ক ব্রেন্ডা টাউ ও সিবোনা জিমির ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে পাপুয়া নিউগিনি। ধীরগতিতে হলেও দু’জন মিলে স্কোর এগিয়ে নেন। ৫৬ বলে ৬৪ রানের এই জুটি কিছুটা আশা দেখালেও মোস্তারী টাউকে ফিরিয়ে সেই আশার আলো নিভিয়ে দেন। ৩২ বলে ৩৫ রান করেন টাউ।

এরপরই ধস নামে পাপুয়া নিউগিনির ইনিংসে। পরের ওভারেই পরপর উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় তারা। সিবোনা জিমিকে ফেরান ফাহিমা খাতুন, আর পাউকে সিয়ানা রান আউটে কাটা পড়েন। শেষ দিকে একের পর এক ব্যাটার ব্যর্থ হন। নাওয়ানি ভারের ১৭ বলে ১৫ রান ছাড়া শেষ সাত ব্যাটারের কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেটে ১৩৮ রানেই থেমে যায় পাপুয়া নিউগিনির ইনিংস।

বাংলাদেশের হয়ে বোলিংয়ে সমান অবদান রাখেন সবাই। সানজিদা আক্তার মেঘলা, রাবেয়া খান, রিতু মনি, ফাহিমা খাতুন, সোবহানা মোস্তারী ও স্বর্ণা আক্তার নেন একটি করে উইকেট।
‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ বৃহস্পতিবার নামিবিয়ার বিপক্ষে।