ন প্রতিবেদক :
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম দফায় ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষক, মৎস্যচাষি/আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খামারি ও দুগ্ধখামারীসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির সব কৃষককে এ কার্ড দেওয়া হবে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কৃষক কার্ড বিতরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এ কথা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং রাশেদ তিতুমীর উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৮ বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে এই কৃষক কার্ড কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এই পর্যায়ে মোট ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে ২০ হাজার ৬৭১ জন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এছাড়া তালিকায় ফসল উৎপাদনকারী কৃষক, মৎস্যজীবী, পশুখামারি ও লবণ চাষিরাও রয়েছেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রি-পাইলট পর্যায়ে মোট কৃষকের মধ্যে ২ হাজার ২৪৬ জন ভূমিহীন কৃষক এবং ৯ হাজার ৪৫৮ জন প্রান্তিক কৃষক রয়েছেন। পাশাপাশি ফসল উৎপাদনকারী কৃষক ২১ হাজার ১৪১ জন, মৎস্যজীবী ৬৬ জন, পশুখামারি ৮৫৫ জন এবং লবণ চাষি রয়েছেন ৩ জন।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত এসব কৃষকের মধ্যে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণসহ মোট ১০ ধরনের সেবা ও সহযোগিতা পাবেন। এ ছাড়া কৃষি কার্ডের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, স্বল্প মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি, সরকারি ভর্তুর্কি ও প্রণোদনা, মোবাইলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ, কৃষি বীমা সুবিধা এবং ন্যায্য মূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয়ের সুবিধা পাওয়া যাবে।
মন্ত্রী দাবি করেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্তভাবে কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তার ভাষায়, এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভরভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত কৃষকরাই সুবিধা পান।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, এই কর্মসূচি প্রি-পাইলটিং, পাইলটিং এবং পরবর্তীতে দেশব্যাপী বাস্তবায়ন এই তিন ধাপে সম্পন্ন করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আগামী চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, কৃষক কার্ড একটি ডিজিটাল ইউনিক পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করবে, যা কৃষকদের জন্য নিরাপদ পেমেন্ট ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সেবা ও প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। এর মাধ্যমে কৃষি খাতে ডিজিটাল রূপান্তর ঘটবে, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং দুর্নীতি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের জন্য ব্যয় হবে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রাক-পাইলটিং সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত দেশের ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। পাইলটিংয়ের অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী ৪ বছরে সারাদেশে এই কার্ড বিতরণ ও ডাটাবেজ তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আওতায় দেশের সকল কৃষককে যুক্ত করা হবে বলে মন্ত্রী তুলে ধরেন। তবে টাকার আওতায় আসবে কেবল ভূমিহীন, প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষক।
“এই কৃষক কার্ড শতভাগ রাজনৈতিক মুক্ত। অতীতে যা হয়েছে, তা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই”, বলেন আমিন উর রশিদ।
‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ উদ্বোধন করা হবে পহেলা বৈশাখে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
প্রাক-পাইলট পর্যায়ে কৃষক কার্ড বিতরণের জন্য নির্বাচিত জেলা ও কৃষি ব্লক: পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক; বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক; ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর ব্লক; পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি ব্লক; কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লক।
এছাড়াও কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণ্যপুর ব্লক; টাঙ্গাইল জেলার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক; রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপচা ব্লক; মৌলভিবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ব্লক; পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার পাঁচপির ব্লক ও জামালপুর জেলার, ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লক।
উদ্বোধনের দিন কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণ্যপুর ব্লক বাদে দেশের বাকি নয়টি ব্লকে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে।
কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণ্যপুর ব্লকে ১৭ এপ্রিল কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে।
এ কার্ডের আওতায় নগদ অর্থ সহায়তা ছাড়াও বেশকিছু সুবিধা পাওয়ার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী।
যেমন, ন্যায্য মূল্যে কৃষি উপকরণ মিলবে, ন্যায্য মূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ; স্বল্প মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি, সরকারি ভর্তুর্কি ও প্রণোদনা, মোবাইলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্যের সুবিধা, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ, কৃষি বীমা সুবিধা এবং ন্যায্য মূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয়ের সুবিধাও পাওয়া যাবে কার্ডের মাধ্যমে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















