Dhaka বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপে তেল বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জ্বালানি সরবরাহে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে রাজধানীর দুটি পেট্রোল পাম্পে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে আমরা দুটি ফিলিং স্টেশনে কাজ শুরু করেছি- একটি আসাদগেটের সোনার বাংলা, আরেকটি তেজগাঁয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন। এরই মধ্যে প্রচুর সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, অনেকেই রেজিস্ট্রেশন করছেন। আমার মনে হয় রেজিস্ট্রেশনকারীর সংখ্যা ১০ হাজার অতিক্রম করেছে।

যুগ্ম সচিব বলেন, তবে এই কাজটা একটু সময়সাপেক্ষ। প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে এ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ফুয়েল পাসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এই সীমা দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং ধাপে ধাপে উন্নয়ন করা হচ্ছে। সরকার আশা করছে, পাইলট প্রকল্প সফল হলে পর্যায়ক্রমে পুরো ঢাকা শহর এবং পরে দেশব্যাপী এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

সরকারি অফিস ও বাজারের সময় এক ঘণ্টা করে কমানোর সিদ্ধান্তেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, মানুষের চলাচল আগেভাগে সম্পন্ন হওয়ায় সামগ্রিক কার্যক্রমে কিছুটা শৃঙ্খলা এসেছে। যদিও এর পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পেতে আরও সময় লাগবে বলে তারা উল্লেখ করেন।

জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনও বিদ্যমান। যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্বল্পমেয়াদে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে, তবে এর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্বব্যাপী পড়বে।

সংসদে মন্ত্রীর জ্বালানি তেলের দাম আগামীতে বাড়তে পারে এমন ইঙ্গিত নিয়ে প্রশ্নের জবাবে যুগ্মসচিব বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ শুরু করেছে। জ্বালানি তেলের দাম আগামীতে বাড়তে পারে এমন ইঙ্গিত থাকলেও এপ্রিল মাসের শুরুতে দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কোনো পরিবর্তন হলে তা জনসাধারণকে জানানো হবে।

প্যানিক বায়িং নিয়ে সরকার আর কি উদ্যোগ নিয়েছে এমন প্রশ্নেন জবাবে এ মূখপাত্র বলেন, প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিকেই প্রধান উপায় হিসেবে দেখছে সরকার। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে মানুষের মধ্যে যে মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা ধীরে ধীরে কেটে যাবে।

আগামী দুই মাসে পেট্রল ও অকটেনের কোনো সংকট হবে না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই। পেট্রল ও অকটেনে আগামী দুই মাসে কোনো সংকট হবে না। বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, অকটেন ৯ হাজার ৫৬৯ মেট্রিক টন ও পেট্রল ১৬ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন মজুত আছে। এ পর্যন্ত সারা দেশে ৭ হাজার ৩৪২টি অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করা ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, মজুত ও অতিরিক্ত কেনার প্রবণতা পরিবর্তন না হলে সমস্যার সমাধান হবে না।

তিনি বলেন, প্রতি মাসে জ্বালানি তেলে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। এক লিটার ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা। অথচ এটা ১৫৫ টাকায় বিক্রি হওয়া উচিত। অর্থাৎ প্রতি লিটার ডিজেলে ৫৫ টাকা করে ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার।

ফুয়েল পাশ প্রসঙ্গে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ঢাকার আসাদ গেটে সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন এবং ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ফুয়েল পাশের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে চালু হবে।

যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ হলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়; বিশ্বের সব দেশেই যুদ্ধের প্রভাব থাকবে। এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি সরকার। জনগণের কথা চিন্তা করেই বাড়ানো হয়নি। পৃথিবীর কমই দেশই এমন জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে। যুদ্ধ বন্ধ হলে সরকারও সবকিছু বিবেচনা করেই জ্বালানি তেলের দাম ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেবে।

অন্তত ৩ মাসের জ্বালানি মজুতের সক্ষমতা তৈরি করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, এলপিজির দাম নিয়ে ভোক্তাদের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

আবহাওয়া

ফরিদপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা : স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপে তেল বিক্রি

প্রকাশের সময় : ০৩:০২:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জ্বালানি সরবরাহে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে রাজধানীর দুটি পেট্রোল পাম্পে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে আমরা দুটি ফিলিং স্টেশনে কাজ শুরু করেছি- একটি আসাদগেটের সোনার বাংলা, আরেকটি তেজগাঁয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন। এরই মধ্যে প্রচুর সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, অনেকেই রেজিস্ট্রেশন করছেন। আমার মনে হয় রেজিস্ট্রেশনকারীর সংখ্যা ১০ হাজার অতিক্রম করেছে।

যুগ্ম সচিব বলেন, তবে এই কাজটা একটু সময়সাপেক্ষ। প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে এ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ফুয়েল পাসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এই সীমা দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং ধাপে ধাপে উন্নয়ন করা হচ্ছে। সরকার আশা করছে, পাইলট প্রকল্প সফল হলে পর্যায়ক্রমে পুরো ঢাকা শহর এবং পরে দেশব্যাপী এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

সরকারি অফিস ও বাজারের সময় এক ঘণ্টা করে কমানোর সিদ্ধান্তেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, মানুষের চলাচল আগেভাগে সম্পন্ন হওয়ায় সামগ্রিক কার্যক্রমে কিছুটা শৃঙ্খলা এসেছে। যদিও এর পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পেতে আরও সময় লাগবে বলে তারা উল্লেখ করেন।

জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনও বিদ্যমান। যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্বল্পমেয়াদে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে, তবে এর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্বব্যাপী পড়বে।

সংসদে মন্ত্রীর জ্বালানি তেলের দাম আগামীতে বাড়তে পারে এমন ইঙ্গিত নিয়ে প্রশ্নের জবাবে যুগ্মসচিব বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ শুরু করেছে। জ্বালানি তেলের দাম আগামীতে বাড়তে পারে এমন ইঙ্গিত থাকলেও এপ্রিল মাসের শুরুতে দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কোনো পরিবর্তন হলে তা জনসাধারণকে জানানো হবে।

প্যানিক বায়িং নিয়ে সরকার আর কি উদ্যোগ নিয়েছে এমন প্রশ্নেন জবাবে এ মূখপাত্র বলেন, প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিকেই প্রধান উপায় হিসেবে দেখছে সরকার। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে মানুষের মধ্যে যে মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা ধীরে ধীরে কেটে যাবে।

আগামী দুই মাসে পেট্রল ও অকটেনের কোনো সংকট হবে না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই। পেট্রল ও অকটেনে আগামী দুই মাসে কোনো সংকট হবে না। বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, অকটেন ৯ হাজার ৫৬৯ মেট্রিক টন ও পেট্রল ১৬ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন মজুত আছে। এ পর্যন্ত সারা দেশে ৭ হাজার ৩৪২টি অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করা ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, মজুত ও অতিরিক্ত কেনার প্রবণতা পরিবর্তন না হলে সমস্যার সমাধান হবে না।

তিনি বলেন, প্রতি মাসে জ্বালানি তেলে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। এক লিটার ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা। অথচ এটা ১৫৫ টাকায় বিক্রি হওয়া উচিত। অর্থাৎ প্রতি লিটার ডিজেলে ৫৫ টাকা করে ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার।

ফুয়েল পাশ প্রসঙ্গে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ঢাকার আসাদ গেটে সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন এবং ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ফুয়েল পাশের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে চালু হবে।

যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ হলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়; বিশ্বের সব দেশেই যুদ্ধের প্রভাব থাকবে। এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি সরকার। জনগণের কথা চিন্তা করেই বাড়ানো হয়নি। পৃথিবীর কমই দেশই এমন জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে। যুদ্ধ বন্ধ হলে সরকারও সবকিছু বিবেচনা করেই জ্বালানি তেলের দাম ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেবে।

অন্তত ৩ মাসের জ্বালানি মজুতের সক্ষমতা তৈরি করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, এলপিজির দাম নিয়ে ভোক্তাদের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।