নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সহকারী পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দেশ ছেড়েছেন।
এর আগে এই কর্মকর্তা গত ১০ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। আইসিটি ছাড়াও সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও নিয়োগ পেয়েছেন ফয়েজ।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে উঠেন তিনি।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আজই দেশ ত্যাগ করেছেন। এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি (ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব) আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব থেকে বিদায় নেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ উভয় বিভাগ থেকেই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দায়িত্ব ছাড়ার পর ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। এ প্রেক্ষাপটেই তিনি দেশ ত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।
ফরমালি মন্ত্রণালয় থেকে বিদায় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ৯ ও ১০ তারিখে অফিস থেকে বিদায় নিয়েছি। ফরমালি মন্ত্রণালয় থেকে বিদায় দেওয়া হয়েছে।
দেশ ছেড়েছেন কি না সেটা স্পষ্ট না করলেও ফয়েজ আহমদ বলেন, আমি অল্প সময়ে জীবনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, এটুকু বলতে পারি। একটা শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা, নতুন প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতা এনেছি। সবগুলা পুরানা আইন ও পলিসি পরিবর্তন করতে পাগলের মতো খেটেছি। এগুলা ৫ বছরের কাজ।’
তিনি বলেন, ‘আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলতে পারি আমি ১ টাকাও দুর্নীতি করিনি। আমি বাই ভার্চু সৎ লোক। টাকা মারসি এটা নিতে পারি না। মোবাইল ব্যবসায়ীরা, টেলিকম মাফিয়ারা আমার বিরুদ্ধে কুৎসা করেছে। আমি তাদের কাছে মাথা নত করিনি। দ্রুত একটা চাকরি খুঁজবো। আমার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবো।’
ফয়েজ আরও বলেন, ‘আমার স্ত্রী-সন্তানকে ডিপ্রাইভ করে, নিরাপদ জীবন ফেলে দেশে এসেছি, কিছু মানুষ আমাকে যে যেভাবে পেরেছে অপমান, অপদস্ত করতে কাজ করেছে। মাঝে মাঝে মনে হয় এই দেশের উল্লেখযোগ্য মানুষ সৎ লোক এবং নলেজ ড্রিভেন লিডারশিপ ডিজার্ভ করে না। এই কষ্ট আমাকে তীব্রভাবে আঘাত করেছে। আমি সাধারণ মানুষ, সাধারণ পানাহার করি, সাধারণ চলাফেরা করি। নিজের কাছে সৎ ও স্বচ্ছ আছি। দোয়া করবেন।’
গত বছরের ৫ মার্চ ডাক ও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পান ফয়েজ আহমদ। এর আগে তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগে ‘পলিসি এডভাইজার (সংস্কার ও সমন্বয়)’ পদে ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের প্রযুক্তি খাত নিয়ে কাজ করার জন্য ফয়েজ তৈয়্যবকে নিয়ে আসে অন্তবর্তী সরকার। বাংলাদেশের পাশাপাশি তিনি নেদারল্যান্ডসের নাগরিক।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















