নিজস্ব প্রতিবেদক :
জাতীয় নির্বাচনের আগের দিন ১১ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক মালিক সমিতি। তবে ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি অধিকাংশ সার্ভিস বন্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভোটের সময় বাস চলাচলে কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, বেশির ভাগ চালক ও সহকারী ভোটদানের কারণে অনুপস্থিত থাকবেন।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ বাস-ট্রাক মালিক সমিতির চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, ১১ তারিখে বাস চলবে। তবে, আমরা এখনো সেই দিনের টিকিটের খুব বেশি চাহিদা দেখিনি। ১০ তারিখে টিকিটের জন্য প্রচুর চাপ রয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারির বাস চলাচল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাস চলাচলের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। বেশিরভাগ কর্মী ভোটের জন্য ছুটি চেয়েছেন। আমরা তো আর না করতে পারি না। তবে, ভোট শেষ হওয়ার পরে রাতে সার্ভিস পুনরায় চালু হতে পারে।
গত ২ ফেব্রুয়ারি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপ-সচিব আল-আমিন মো. নূরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে।
এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত। আর ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টা সারা দেশে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে এসব বিধি-নিষেধ প্রযোজ্য হবে না। জরুরি সেবা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী পরিবহন, ওষুধ সরবরাহ এবং সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহনও চলাচলের সুযোগ পাবে।
বিদেশগামী ও বিদেশফেরত যাত্রীদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট ও টিকিট দেখিয়ে বিমানবন্দরে যাতায়াতে বাধা থাকবে না। দূরপাল্লার যাত্রীবাহী যানবাহন ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় যাতায়াতের ক্ষেত্রেও বিধি-নিষেধ শিথিল রাখা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি ও স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে নির্বাচনে প্রার্থী ও তাঁদের নির্বাচনী এজেন্টরা একটি করে ছোট গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন বা রিটার্নিং অফিরারের অনুমোদন সাপেক্ষে যানবাহন ও মোটরসাইকেল ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া নির্বাচন পরিচালনার কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং টেলিযোগাযোগ সেবা সচল রাখতে বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের যানবাহনগুলোকে জরুরি সেবা হিসেবে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
যদিও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুদ বলেন, ভোটের দিন বাস চলার কথা না। আমরা লিখিত কোনো নির্দেশনা না পেলেও শুনেছি, ১১ তারিখ রাত ১২টা থেকে ১২ তারিখ রাত ১২টা পর্যন্ত লোকাল ও দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকবে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত বলতে পারছি না।’
এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা নোবেল দে বলেন, গণপরিবহন তথা লোকাল বা দূরপাল্লার বাস চলাচলের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আছে কি না তা জানা নেই। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তথ্য নিয়ে জানাতে হবে।
ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি : সৌরভ আহমেদ (৬৫) একটি অফিসে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। বর্তমানে তিনি রাজধানীর ভাটারা এলাকায় থাকলেও তাঁর ভোটার এলাকা তেজগাঁও। তিনি এখনো জানেন না ভোটকেন্দ্রে কিভাবে যাবেন। তিনি বলেন, ‘আমি একসময় তেজগাঁওয়ে চাকরি করতাম। সেখানে দীর্ঘ সময় থাকায় সেখানকার ভোটার হয়েছি। প্রায় ১০ বছর ভাটারায় থাকছি। ভোটের দিন যদি লোকাল বাস না চলে তাহলে কিভাবে ভোট দিতে যাব চিন্তায় আছি। কারণ শুনছি, সিএনজি বা ছোট গাড়িগুলোও বন্ধ থাকবে।’
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘নির্বাচন-কেন্দ্রিক আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা থাকে, তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সজাগ থাকলে সেটি সমস্যা হওয়ার কথা না। ভোটারদের চলাচল সহজ করে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। যদি গণপরিবহনের বিষয়টি অস্পষ্ট রাখা হয়, এতে ভোটারদের বিভ্রান্ত হওয়াটা স্বাভাবিক।’
নিজস্ব প্রতিবেদক 























