Dhaka বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিজের, মা–বাবা ও স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রকাশ করলেন আসিফ মাহমুদ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৫৭:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ১৭৮ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলবের পর নিজের দুটি, বাবার পাঁচটি এবং মা ও স্ত্রীর একটি করে মোট নয়টি ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ টাকার তথ্য প্রকাশ করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, আসিফের নিজের দুই অ্যাকাউন্টে আছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। আর পরিবারের অন্য সদস্যদের অ্যাকাউন্টে মোট আছে ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৪৭৮ টাকা।

বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ-সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে আমার আয় ও সম্পদের সম্পূর্ণ বিবরণী পেশ করে এসেছি। এরপরও যেহেতু এসব নিয়ে জল্পনা করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তখন আমি মনে করছি, আমার এবং আমার পরিবারের সবার ব্যাংক হিসাব জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা প্রয়োজন। যেন এই বিষয়গুলো নিয়ে কেউ কোনো ধরনের বিভ্রান্তি করতে না পারে।’

তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আমি শুধু আমার ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করার কথা জানিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে আমারসহ পরিবারের সবার ব্যাংক স্টেটমেন্ট উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিই, যেন এই বিষয়গুলোতে আর কোনো প্রশ্ন অবশিষ্ট না থাকে।’

পরিবারের সদস্যদের সম্পদের বিবরণ জানিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার বাবার পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। এই পাঁচটি ব্যাংকে মোট ক্রেডিট আছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। কিন্তু আমার বাবার সার্ভিস লোন আছে, উনি শিক্ষক হিসেবে ১০ লাখ টাকার একটি সার্ভিস লোন নিয়েছিলেন। যেটা প্রতি মাসে উনার সেলারি থেকে কেটে নেওয়া হয়। সার্ভিস লোনের এখনো পেমেন্ট বাকি আছে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা। সুতরাং, যা ক্রেডিট আছে সেটা যদি বাদ দিই তাহলে এখনো ৮২ হাজার ৩৫ টাকার মতো দেনায় আছেন তিনি।’

তিনি বলেন, ‘আমার মায়ের একটিই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। যেখানে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা আছে। এ ছাড়া আমার স্ত্রীর একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে, সেখানে ৬১৩ টাকা আছে। আর আমার নিজের দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। এরমধ্যে সোনালী ব্যাংকে আমার একটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট। এই অ্যাকাউন্টে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা আছে। আরেকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হলো আমার সেলারি অ্যাকাউন্ট। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় যাতায়াতসহ সরকারের অন্যান্য ভাতার লেনদেন এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই হতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ১৬ মাস দায়িত্বে ছিলাম। সেলারি গড়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার করে ধরে ভাতাসহ অন্যান্য সব লেনদেন এই অ্যাকাউন্টেই হয়েছে। বর্তমানে এই অ্যাকাউন্টে মোট ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা আছে। সব মিলিয়ে এই অ্যাকাউন্টে বেতনসহ মোট ক্রেডিট হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা। আর ডেবিট হয়েছে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে আমার দুটি অ্যাকাউন্টে মোট ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৬ টাকা রয়েছে।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এই সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে যে তিনজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি যুক্ত হয়েছিলেন, তাঁদের একজন ছিলেন আসিফ মাহমুদ। গত বছরের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে পদত্যাগের আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সম্পদের বিবরণী জমা দিয়েছিলেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন আগে সরকারের প্রকাশিত সেই বিবরণী অনুযায়ী আসিফের সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ৭১৭ টাকা। তখন অন্য উপদেষ্টারা নিজেদের পাশাপাশি স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করলেও আসিফ মাহমুদ শুধু নিজের সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন।

আজ ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রকাশের সময় আসিফ বলেন, ‘আমি যখন সরকার থেকে পদত্যাগ করি, তখন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে আমার আয় ও সম্পদের সম্পূর্ণ বিবরণী পেশ করে এসেছি। তারপরও যেহেতু আবার এগুলো নিয়ে কথা উঠল এবং জল ঘোলা করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তাই আমার এবং আমার পরিবারের সবার ব্যাংক হিসাব জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া প্রয়োজন বলে আমার মনে হয়েছে।’

আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া অভিযোগ করেন, গতকাল মঙ্গলবার বিএফআইইউ মোট ৫৬ জনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে। কিন্তু শুধু তাঁর তথ্য তলবের বিষয়টিই আলাদাভাবে সাংবাদিকদের নিয়ে থাকা একটি গ্রুপে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তাঁরা সত্যিকার অর্থে অনুসন্ধান করতে চাইলে করতেই পারেন। কিন্তু আমার বিষয়টা আলাদাভাবে নিউজ করতে বলা, গ্রুপে শুধু একজনেরটা দেওয়া—এগুলো শুধু অনুসন্ধানের বাইরেও তাঁদের হীন উদ্দেশ্য এবং চরিত্র হনন করাকেই স্পষ্ট করে।’

তাঁর বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচারের’ জন্য সরকারি দায়িত্বে থাকার সময় নানা কারণে মনঃক্ষুণ্ন হওয়া ব্যক্তি এবং গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘কিছু নির্দিষ্ট মিডিয়া থেকে, যাদের মালিকেরা প্রশ্নবিদ্ধ, তাদের থেকেই এ ধরনের চেষ্টাগুলো বেশি হচ্ছে। দায়িত্বশীল গণমাধ্যমগুলো এগুলো কাভার করছে না।’

সরকারের দায়িত্বে থাকতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে কাজ করেছেন উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সামনের দিনেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করব—এটা আমাদের অঙ্গীকার।’

নিজের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের কথা বলতে গিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গও টেনেছেন এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ। গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে মিথ্যা বয়ান উৎপাদনের অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে পুরো মিডিয়া এস্টাবলিশমেন্টের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে প্রয়াত খালেদা জিয়াকেও এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার উপাধি দিয়ে জেলে রাখা হয়েছিল। এ দেশে এগুলো সম্ভব। কিন্তু মানুষ জানে যে সেটা মিথ্যা ছিল এবং সেই ন্যারেটিভ সফল হয়নি এ দেশে।’

এ সময় তাঁর ব্যাংক হিসাব তলব সম্পর্কে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এর মাধ্যমে একধরনের রহস্য তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে যে না জানি কী আছে! আমি আমার ও পরিবারের ব্যাংক হিসাব জনগণের সামনেই পরিষ্কার করে দিলাম, যাতে কোনো সন্দেহ না থাকে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মনিরা শারমিন, হুমায়রা নূর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ময়মনসিংহে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৩৩ পরিবার পেলো ৫ কোটি টাকা

নিজের, মা–বাবা ও স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রকাশ করলেন আসিফ মাহমুদ

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৭:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলবের পর নিজের দুটি, বাবার পাঁচটি এবং মা ও স্ত্রীর একটি করে মোট নয়টি ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ টাকার তথ্য প্রকাশ করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, আসিফের নিজের দুই অ্যাকাউন্টে আছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। আর পরিবারের অন্য সদস্যদের অ্যাকাউন্টে মোট আছে ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৪৭৮ টাকা।

বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ-সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে আমার আয় ও সম্পদের সম্পূর্ণ বিবরণী পেশ করে এসেছি। এরপরও যেহেতু এসব নিয়ে জল্পনা করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তখন আমি মনে করছি, আমার এবং আমার পরিবারের সবার ব্যাংক হিসাব জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা প্রয়োজন। যেন এই বিষয়গুলো নিয়ে কেউ কোনো ধরনের বিভ্রান্তি করতে না পারে।’

তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আমি শুধু আমার ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করার কথা জানিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে আমারসহ পরিবারের সবার ব্যাংক স্টেটমেন্ট উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিই, যেন এই বিষয়গুলোতে আর কোনো প্রশ্ন অবশিষ্ট না থাকে।’

পরিবারের সদস্যদের সম্পদের বিবরণ জানিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার বাবার পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। এই পাঁচটি ব্যাংকে মোট ক্রেডিট আছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। কিন্তু আমার বাবার সার্ভিস লোন আছে, উনি শিক্ষক হিসেবে ১০ লাখ টাকার একটি সার্ভিস লোন নিয়েছিলেন। যেটা প্রতি মাসে উনার সেলারি থেকে কেটে নেওয়া হয়। সার্ভিস লোনের এখনো পেমেন্ট বাকি আছে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা। সুতরাং, যা ক্রেডিট আছে সেটা যদি বাদ দিই তাহলে এখনো ৮২ হাজার ৩৫ টাকার মতো দেনায় আছেন তিনি।’

তিনি বলেন, ‘আমার মায়ের একটিই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। যেখানে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা আছে। এ ছাড়া আমার স্ত্রীর একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে, সেখানে ৬১৩ টাকা আছে। আর আমার নিজের দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। এরমধ্যে সোনালী ব্যাংকে আমার একটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট। এই অ্যাকাউন্টে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা আছে। আরেকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হলো আমার সেলারি অ্যাকাউন্ট। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় যাতায়াতসহ সরকারের অন্যান্য ভাতার লেনদেন এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই হতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ১৬ মাস দায়িত্বে ছিলাম। সেলারি গড়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার করে ধরে ভাতাসহ অন্যান্য সব লেনদেন এই অ্যাকাউন্টেই হয়েছে। বর্তমানে এই অ্যাকাউন্টে মোট ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা আছে। সব মিলিয়ে এই অ্যাকাউন্টে বেতনসহ মোট ক্রেডিট হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা। আর ডেবিট হয়েছে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে আমার দুটি অ্যাকাউন্টে মোট ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৬ টাকা রয়েছে।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এই সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে যে তিনজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি যুক্ত হয়েছিলেন, তাঁদের একজন ছিলেন আসিফ মাহমুদ। গত বছরের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে পদত্যাগের আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সম্পদের বিবরণী জমা দিয়েছিলেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন আগে সরকারের প্রকাশিত সেই বিবরণী অনুযায়ী আসিফের সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ৭১৭ টাকা। তখন অন্য উপদেষ্টারা নিজেদের পাশাপাশি স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করলেও আসিফ মাহমুদ শুধু নিজের সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন।

আজ ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রকাশের সময় আসিফ বলেন, ‘আমি যখন সরকার থেকে পদত্যাগ করি, তখন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে আমার আয় ও সম্পদের সম্পূর্ণ বিবরণী পেশ করে এসেছি। তারপরও যেহেতু আবার এগুলো নিয়ে কথা উঠল এবং জল ঘোলা করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তাই আমার এবং আমার পরিবারের সবার ব্যাংক হিসাব জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া প্রয়োজন বলে আমার মনে হয়েছে।’

আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া অভিযোগ করেন, গতকাল মঙ্গলবার বিএফআইইউ মোট ৫৬ জনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে। কিন্তু শুধু তাঁর তথ্য তলবের বিষয়টিই আলাদাভাবে সাংবাদিকদের নিয়ে থাকা একটি গ্রুপে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তাঁরা সত্যিকার অর্থে অনুসন্ধান করতে চাইলে করতেই পারেন। কিন্তু আমার বিষয়টা আলাদাভাবে নিউজ করতে বলা, গ্রুপে শুধু একজনেরটা দেওয়া—এগুলো শুধু অনুসন্ধানের বাইরেও তাঁদের হীন উদ্দেশ্য এবং চরিত্র হনন করাকেই স্পষ্ট করে।’

তাঁর বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচারের’ জন্য সরকারি দায়িত্বে থাকার সময় নানা কারণে মনঃক্ষুণ্ন হওয়া ব্যক্তি এবং গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘কিছু নির্দিষ্ট মিডিয়া থেকে, যাদের মালিকেরা প্রশ্নবিদ্ধ, তাদের থেকেই এ ধরনের চেষ্টাগুলো বেশি হচ্ছে। দায়িত্বশীল গণমাধ্যমগুলো এগুলো কাভার করছে না।’

সরকারের দায়িত্বে থাকতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে কাজ করেছেন উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সামনের দিনেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করব—এটা আমাদের অঙ্গীকার।’

নিজের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের কথা বলতে গিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গও টেনেছেন এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ। গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে মিথ্যা বয়ান উৎপাদনের অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে পুরো মিডিয়া এস্টাবলিশমেন্টের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে প্রয়াত খালেদা জিয়াকেও এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার উপাধি দিয়ে জেলে রাখা হয়েছিল। এ দেশে এগুলো সম্ভব। কিন্তু মানুষ জানে যে সেটা মিথ্যা ছিল এবং সেই ন্যারেটিভ সফল হয়নি এ দেশে।’

এ সময় তাঁর ব্যাংক হিসাব তলব সম্পর্কে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এর মাধ্যমে একধরনের রহস্য তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে যে না জানি কী আছে! আমি আমার ও পরিবারের ব্যাংক হিসাব জনগণের সামনেই পরিষ্কার করে দিলাম, যাতে কোনো সন্দেহ না থাকে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মনিরা শারমিন, হুমায়রা নূর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।