Dhaka সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নারীদের অসম্মানকারীরা আর যাই হোক দেশদরদী হতে পারে না : তারেক রহমান

খুলনা জেলা প্রতিনিধি : 

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী সমাজকে যারা অসম্মান করে এবং কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালি দেয়, তারা আর যাই হোক দেশদরদী বা জনদরদী হতে পারে না। একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে মা-বোনদের ঘরের মধ্যে বন্দী করতে চায় এবং তাদের কর্মসংস্থান নিয়ে কলঙ্কজনক মন্তব্য করে। যারা নিজেদের দলের নারী কর্মীদেরই সম্মান দিতে পারে না, তাদের কাছে দেশের মানুষ নিরাপদ নয়।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) খুলনার খালিশপুরে প্রভাতী স্কুল মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে সাম্প্রতিক এক রাজনৈতিক নেতার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, একজন নেতা পরিষ্কারভাবে বলেছেন তারা নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করেন না। কর্মজীবী মা-বোনদের নিয়ে তিনি যে শব্দ ব্যবহার করেছেন, তা এই সমাজের জন্য কলঙ্কস্বরূপ। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প থেকে শুরু করে প্রতিটি পরিবারে নারীরা আজ আয়ের হাল ধরেছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। অথচ একটি দল তাদের অপমান করছে।

নারীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মা-বোনদের বলবো, যারা নারীদের অপমান করে, তাদের কীভাবে জবাব দেবেন তা ভেবে দেখুন। যে দলে নিজেরাই নারী সদস্য রয়েছে, সেই দলই যদি নারীদের অবমাননা করে, তাহলে তাদের প্রকৃত পরিচয় কী সেই প্রশ্ন জনগণকেই করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি, এর মধ্যে অন্তত ১০ কোটি নারী। এই বিশাল নারী সমাজকে পেছনে রেখে যত বড় পরিকল্পনাই করা হোক না কেন, দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে স্কুল থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন, যাতে তারা শিক্ষিত হয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারে।

জামায়াতের ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করে খুলনার জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “এই বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ, তারা পরিষ্কারভাবে বলেছে যে আইডি এভাবে হ্যাক হতে পারে না। একটি রাজনৈতিক দলের একজন সিনিয়র নেতা জনগণের সামনে নির্বাচনের আগে এভাবে মিথ্যা কথা বলছে, দলটি পর্যন্ত মিথ্যা কথা বলছে তাদের আইডি বলে হ্যাক হয়ে গিয়েছিল, অথচ আইডি হ্যাক হয়নি তাদের। এরা নির্বাচনের আগে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য মানুষের সামনে মিথ্যা কথা তুলে ধরছে, মিথ্যা কথা বলছে। এদের একটাই পরিচয় এরা মিথ্যাবাদী।

জামায়াতের অবস্থানের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দল এই যে বাংলাদেশের অর্ধেক গোষ্ঠী নারী, কীভাবে তাদেরকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখতে চায় সেই কথা তারা বলেছে। আমরা দেখেছি একটি রাজনৈতিক দলের একজন নেতা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছে যে তারা কোনভাবেই নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না। আমরা দেখেছি একটি রাজনৈতিক দলের নেতা পরিষ্কারভাবে দুদিন আগে বলেছে যে যেসকল মহিলা যেসকল মা বোনেরা কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে, কর্মসংস্থানের জন্য যান, তাদেরকে–প্রিয় ভাইবোনেরা, আপনাদের সামনে আমার বলতে রীতিমতো লজ্জা হচ্ছে এমন একটি শব্দ সে আমাদের মা বোনদের জন্য ব্যবহার করেছে, যা এই দেশের জন্য একটি কলঙ্ক স্বরূপ।

খুলনায় নির্বাচনি জনসভায় তারেক রহমান

বিএনপি নেতা বলেন, এই বাংলাদেশে খেটে খাওয়া মানুষের পরিবারের অধিকাংশ নারী কোনো না কোনোভাবে সংসারের উপার্জনের জন্য কাজ করে থাকে। এই বাংলাদেশের ৫০ লক্ষের ও উপরে নারী আজ যে গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে সকলে গৌরব করে, সেই গার্মেন্টস শিল্পে নারী শ্রমিকরা কাজ করেন। কিন্তু আজ আমরা দেখেছি একটি রাজনৈতিক দলের নেতা নারীদেরকে কীভাবে অসম্মানিত করেছে, তাদেরকে খারাপ ভাষা দিয়ে অসম্মানিত করেছে।

মুসলমানদের মহানবীর (সা.) স্ত্রী বিবি খাদিজাও যে একজন কর্মজীবী নারী ছিলেন, তিনি যে ব্যবসায়ী ছিলেন, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, তাহলে আজকে কোথায় গিয়ে দাঁড়াল বাংলাদেশের নারী সমাজ? তাবৎ পৃথিবীর নারী সমাজকে কিভাবে অপমান করা হল!

সেই দলটি (জামায়াতে ইসলামী) নির্বাচনের আগে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে ‘ঘরের মধ্যে বন্দি করতে চায়’ মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা যেহেতু বিশ্বাস করি, অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে কোনোভাবেই দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব নয় সেজন্যই আমরা বলেছি ইনশাআল্লাহ আপনাদের দয়ায় আল্লাহর রহমতে বিএনপি সরকার গঠন করলে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গৃহিণীর কাছে প্রত্যেকটি মায়ের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। যে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা দেশের নারী সমাজকে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। যাতে করে এই নারী সমাজ কারো প্রতি মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে না হয়; যাতে করে তারা নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে যেতে পারে।

জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আপনারাও তো ঘর থেকে বের হয়ে দলের কাজে যাচ্ছেন। ঘর থেকে বের হয়ে যে নারী কাজে যায়, তাকে আপনাদের নেতা কীসের সাথে তুলনা করেছে? চিন্তা করে দেখুন। তাহলে আমাদের প্রশ্ন ওই দলের যারা নারী সদস্য আছে তাহলে তাদের প্রকৃতি পরিচয় কী? তাদের নেতার বক্তব্য অনুযায়ী তাহলে তাদের প্রকৃতি পরিচয় কী?

তারেক রহমান বলেন, যে দলের নেতা নিজের দলের নারী কর্মীদেরকে এভাবে অপদস্ত অপমানিত করতে পারে, সেই দলের নেতা যদি সুযোগ পায়, তাহলে বাংলাদেশের সাধারণ নারীদেরকে, সাধারণ মা বোনদেরকে তারা কীভাবে অপদস্ত অপমানিত করবে, তার উদাহরণ আমরা ১৯৭১ সালেই দেখেছিলাম। এই দেশের লক্ষ লক্ষ মা বোনদেরকে অসম্মানিত করেছিল এই দলটির পূর্বসূরি নেতৃবৃন্দ। কাজেই যাদের কাছে মানুষের কোনো মূল্যায়ন নেই যাদের কাছে মানুষের কোনো আত্মসম্মান বোধ নেই, তাদের কাছে কখনো দেশ নিরাপদ হতে পারে না, তাদের কাছে কখনো দেশের মানুষ নিরাপদ হতে পারে না নারী পুরুষ নির্বিশেষে।

খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের ধানের শীষের ১৪টি আসনের প্রার্থীরা এই জনসভা মঞ্চে ছিলেন।

তাদের মধ্যে ছিলেন-আমীর এজাজ খান (খুলনা-১), নজরুল ইসলাম মঞ্জু (খুলনা-২), রকিবুল ইসলাম (খুলনা-৩), এস কে আজিজুল বারী (খুলনা-৪), মোহাম্মদ আলি আসগার (খুলনা-৫), এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী (খুলনা-৬); হাবিবুল ইসলাম হাবিব (সাতক্ষীরা-১), আব্দুর রউফ (সাতক্ষীরা-২), কাজী আলাউদ্দীন (সাতক্ষীরা-৩), মনিরুজ্জামান (সাতক্ষীরা-৪); কপিল কৃষ্ণ মন্ডল (বাগেরহাট-১), শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন (বাগেরহাট-২), শেখ ফরিদুল ইসলাম (বাগেরহাট-৩) ও সোম নাথ দে (বাগেরহাট-৪)।

তারেক রহমান বলেন, এই বিশাল অঞ্চলে আজ বহু সমস্যা আছে। যেমন এই খুলনা ছিল এক সময় শিল্প নগরী, কিন্তু আমরা দেখছি গ্যাসসহ বিভিন্ন কারণে আজ এই শিল্প নগরী প্রায় মৃত নগরীতে পরিণত হয়েছে। ইনশাআল্লাহ বিএনপি আগামী ১৩ তারিখে সরকার গঠন করলে, এই শিল্প নগরীকে আবার জীবিত শিল্প নগরীতে আমরা পরিণত করতে চাই। শুধু পুরুষরাই নয়, সেইসব শিল্পের মধ্যে যাতে নারীদেরও কর্মসংস্থান হয়, সেভাবে আমরা এই অঞ্চলের শিল্প নগরীকে গড়ে তুলতে চাই।

বিএনপি নির্বাচিত হলে খুলনায় আইটি পার্ক গড়ে তোলারও প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। যে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ আছে, সেই ঋণ সুদসহ মওকুফ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি বলেন, আমরা খেয়াল করছি একটি মহল বলার চেষ্টা করছে এবার ভোট গণনাতে বলে অনেক সময় লাগবে। শুনেছেন এই কথা আপনারা? ষড়যন্ত্র কিন্তু আবার শুরু করেছে। এই যে যাদের কথা বলেছি প্রথমে, যারা জনগণের সামনে সকাল বিকাল মিথ্যে কথা বলছে, যারা দেশের নারী সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করছে, এরাই আবার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বিভিন্নভাবে, কারণ তারা জানে, তাদের এইসব কথাবার্তা তাদের এইসব কাজকর্ম এইসব ফাঁকিবাজি মানুষ ধরে ফেলেছে এবং সেই জন্যই তারা বিভিন্ন ছলচাতুরীর চেষ্টা করছে।

তারেক রহমান বলেন, এই জনসভায় দাঁড়িয়ে আপনাদের সকলকে বলতে চাই, আপনাদেরকে আজ থেকে সতর্ক থাকতে হবে, সজাগ থাকতে হবে। যে অধিকার আপনি গত এক যুগ ধরে পাননি, আবার যাতে এই অধিকার কেউ কেড়ে নিয়ে যেতে না পারে আপনাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে, দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের সকলকে সতর্ক এবং সজাগ থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করা, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার সঠিক পরিবেশ ও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি বলেন, দেশ পুনর্গঠনের প্রতীক ধানের শীষ। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার অভিজ্ঞতা বিএনপির আছে। একইসঙ্গে দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের করার অভিজ্ঞতা আছে বিএনপির।

তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন। খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন। এটি প্রমাণ করে, বিএনপি জনগণের জন্য কাজ করে। কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশের স্লোগান, ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। একমাত্র বিএনপির অভিজ্ঞতা আছে দেশ পরিচালনার। সঠিক পথে পরিচালনা করা বিএনপির পক্ষেই সম্ভব।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

নারীদের অসম্মানকারীরা আর যাই হোক দেশদরদী হতে পারে না : তারেক রহমান

প্রকাশের সময় : ০৩:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খুলনা জেলা প্রতিনিধি : 

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী সমাজকে যারা অসম্মান করে এবং কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালি দেয়, তারা আর যাই হোক দেশদরদী বা জনদরদী হতে পারে না। একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে মা-বোনদের ঘরের মধ্যে বন্দী করতে চায় এবং তাদের কর্মসংস্থান নিয়ে কলঙ্কজনক মন্তব্য করে। যারা নিজেদের দলের নারী কর্মীদেরই সম্মান দিতে পারে না, তাদের কাছে দেশের মানুষ নিরাপদ নয়।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) খুলনার খালিশপুরে প্রভাতী স্কুল মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে সাম্প্রতিক এক রাজনৈতিক নেতার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, একজন নেতা পরিষ্কারভাবে বলেছেন তারা নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করেন না। কর্মজীবী মা-বোনদের নিয়ে তিনি যে শব্দ ব্যবহার করেছেন, তা এই সমাজের জন্য কলঙ্কস্বরূপ। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প থেকে শুরু করে প্রতিটি পরিবারে নারীরা আজ আয়ের হাল ধরেছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। অথচ একটি দল তাদের অপমান করছে।

নারীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মা-বোনদের বলবো, যারা নারীদের অপমান করে, তাদের কীভাবে জবাব দেবেন তা ভেবে দেখুন। যে দলে নিজেরাই নারী সদস্য রয়েছে, সেই দলই যদি নারীদের অবমাননা করে, তাহলে তাদের প্রকৃত পরিচয় কী সেই প্রশ্ন জনগণকেই করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি, এর মধ্যে অন্তত ১০ কোটি নারী। এই বিশাল নারী সমাজকে পেছনে রেখে যত বড় পরিকল্পনাই করা হোক না কেন, দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে স্কুল থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন, যাতে তারা শিক্ষিত হয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারে।

জামায়াতের ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করে খুলনার জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “এই বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ, তারা পরিষ্কারভাবে বলেছে যে আইডি এভাবে হ্যাক হতে পারে না। একটি রাজনৈতিক দলের একজন সিনিয়র নেতা জনগণের সামনে নির্বাচনের আগে এভাবে মিথ্যা কথা বলছে, দলটি পর্যন্ত মিথ্যা কথা বলছে তাদের আইডি বলে হ্যাক হয়ে গিয়েছিল, অথচ আইডি হ্যাক হয়নি তাদের। এরা নির্বাচনের আগে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য মানুষের সামনে মিথ্যা কথা তুলে ধরছে, মিথ্যা কথা বলছে। এদের একটাই পরিচয় এরা মিথ্যাবাদী।

জামায়াতের অবস্থানের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দল এই যে বাংলাদেশের অর্ধেক গোষ্ঠী নারী, কীভাবে তাদেরকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখতে চায় সেই কথা তারা বলেছে। আমরা দেখেছি একটি রাজনৈতিক দলের একজন নেতা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছে যে তারা কোনভাবেই নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না। আমরা দেখেছি একটি রাজনৈতিক দলের নেতা পরিষ্কারভাবে দুদিন আগে বলেছে যে যেসকল মহিলা যেসকল মা বোনেরা কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে, কর্মসংস্থানের জন্য যান, তাদেরকে–প্রিয় ভাইবোনেরা, আপনাদের সামনে আমার বলতে রীতিমতো লজ্জা হচ্ছে এমন একটি শব্দ সে আমাদের মা বোনদের জন্য ব্যবহার করেছে, যা এই দেশের জন্য একটি কলঙ্ক স্বরূপ।

খুলনায় নির্বাচনি জনসভায় তারেক রহমান

বিএনপি নেতা বলেন, এই বাংলাদেশে খেটে খাওয়া মানুষের পরিবারের অধিকাংশ নারী কোনো না কোনোভাবে সংসারের উপার্জনের জন্য কাজ করে থাকে। এই বাংলাদেশের ৫০ লক্ষের ও উপরে নারী আজ যে গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে সকলে গৌরব করে, সেই গার্মেন্টস শিল্পে নারী শ্রমিকরা কাজ করেন। কিন্তু আজ আমরা দেখেছি একটি রাজনৈতিক দলের নেতা নারীদেরকে কীভাবে অসম্মানিত করেছে, তাদেরকে খারাপ ভাষা দিয়ে অসম্মানিত করেছে।

মুসলমানদের মহানবীর (সা.) স্ত্রী বিবি খাদিজাও যে একজন কর্মজীবী নারী ছিলেন, তিনি যে ব্যবসায়ী ছিলেন, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, তাহলে আজকে কোথায় গিয়ে দাঁড়াল বাংলাদেশের নারী সমাজ? তাবৎ পৃথিবীর নারী সমাজকে কিভাবে অপমান করা হল!

সেই দলটি (জামায়াতে ইসলামী) নির্বাচনের আগে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে ‘ঘরের মধ্যে বন্দি করতে চায়’ মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা যেহেতু বিশ্বাস করি, অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে কোনোভাবেই দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব নয় সেজন্যই আমরা বলেছি ইনশাআল্লাহ আপনাদের দয়ায় আল্লাহর রহমতে বিএনপি সরকার গঠন করলে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গৃহিণীর কাছে প্রত্যেকটি মায়ের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। যে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা দেশের নারী সমাজকে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। যাতে করে এই নারী সমাজ কারো প্রতি মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে না হয়; যাতে করে তারা নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে যেতে পারে।

জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আপনারাও তো ঘর থেকে বের হয়ে দলের কাজে যাচ্ছেন। ঘর থেকে বের হয়ে যে নারী কাজে যায়, তাকে আপনাদের নেতা কীসের সাথে তুলনা করেছে? চিন্তা করে দেখুন। তাহলে আমাদের প্রশ্ন ওই দলের যারা নারী সদস্য আছে তাহলে তাদের প্রকৃতি পরিচয় কী? তাদের নেতার বক্তব্য অনুযায়ী তাহলে তাদের প্রকৃতি পরিচয় কী?

তারেক রহমান বলেন, যে দলের নেতা নিজের দলের নারী কর্মীদেরকে এভাবে অপদস্ত অপমানিত করতে পারে, সেই দলের নেতা যদি সুযোগ পায়, তাহলে বাংলাদেশের সাধারণ নারীদেরকে, সাধারণ মা বোনদেরকে তারা কীভাবে অপদস্ত অপমানিত করবে, তার উদাহরণ আমরা ১৯৭১ সালেই দেখেছিলাম। এই দেশের লক্ষ লক্ষ মা বোনদেরকে অসম্মানিত করেছিল এই দলটির পূর্বসূরি নেতৃবৃন্দ। কাজেই যাদের কাছে মানুষের কোনো মূল্যায়ন নেই যাদের কাছে মানুষের কোনো আত্মসম্মান বোধ নেই, তাদের কাছে কখনো দেশ নিরাপদ হতে পারে না, তাদের কাছে কখনো দেশের মানুষ নিরাপদ হতে পারে না নারী পুরুষ নির্বিশেষে।

খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের ধানের শীষের ১৪টি আসনের প্রার্থীরা এই জনসভা মঞ্চে ছিলেন।

তাদের মধ্যে ছিলেন-আমীর এজাজ খান (খুলনা-১), নজরুল ইসলাম মঞ্জু (খুলনা-২), রকিবুল ইসলাম (খুলনা-৩), এস কে আজিজুল বারী (খুলনা-৪), মোহাম্মদ আলি আসগার (খুলনা-৫), এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী (খুলনা-৬); হাবিবুল ইসলাম হাবিব (সাতক্ষীরা-১), আব্দুর রউফ (সাতক্ষীরা-২), কাজী আলাউদ্দীন (সাতক্ষীরা-৩), মনিরুজ্জামান (সাতক্ষীরা-৪); কপিল কৃষ্ণ মন্ডল (বাগেরহাট-১), শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন (বাগেরহাট-২), শেখ ফরিদুল ইসলাম (বাগেরহাট-৩) ও সোম নাথ দে (বাগেরহাট-৪)।

তারেক রহমান বলেন, এই বিশাল অঞ্চলে আজ বহু সমস্যা আছে। যেমন এই খুলনা ছিল এক সময় শিল্প নগরী, কিন্তু আমরা দেখছি গ্যাসসহ বিভিন্ন কারণে আজ এই শিল্প নগরী প্রায় মৃত নগরীতে পরিণত হয়েছে। ইনশাআল্লাহ বিএনপি আগামী ১৩ তারিখে সরকার গঠন করলে, এই শিল্প নগরীকে আবার জীবিত শিল্প নগরীতে আমরা পরিণত করতে চাই। শুধু পুরুষরাই নয়, সেইসব শিল্পের মধ্যে যাতে নারীদেরও কর্মসংস্থান হয়, সেভাবে আমরা এই অঞ্চলের শিল্প নগরীকে গড়ে তুলতে চাই।

বিএনপি নির্বাচিত হলে খুলনায় আইটি পার্ক গড়ে তোলারও প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। যে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ আছে, সেই ঋণ সুদসহ মওকুফ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি বলেন, আমরা খেয়াল করছি একটি মহল বলার চেষ্টা করছে এবার ভোট গণনাতে বলে অনেক সময় লাগবে। শুনেছেন এই কথা আপনারা? ষড়যন্ত্র কিন্তু আবার শুরু করেছে। এই যে যাদের কথা বলেছি প্রথমে, যারা জনগণের সামনে সকাল বিকাল মিথ্যে কথা বলছে, যারা দেশের নারী সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করছে, এরাই আবার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বিভিন্নভাবে, কারণ তারা জানে, তাদের এইসব কথাবার্তা তাদের এইসব কাজকর্ম এইসব ফাঁকিবাজি মানুষ ধরে ফেলেছে এবং সেই জন্যই তারা বিভিন্ন ছলচাতুরীর চেষ্টা করছে।

তারেক রহমান বলেন, এই জনসভায় দাঁড়িয়ে আপনাদের সকলকে বলতে চাই, আপনাদেরকে আজ থেকে সতর্ক থাকতে হবে, সজাগ থাকতে হবে। যে অধিকার আপনি গত এক যুগ ধরে পাননি, আবার যাতে এই অধিকার কেউ কেড়ে নিয়ে যেতে না পারে আপনাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে, দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের সকলকে সতর্ক এবং সজাগ থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করা, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার সঠিক পরিবেশ ও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি বলেন, দেশ পুনর্গঠনের প্রতীক ধানের শীষ। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার অভিজ্ঞতা বিএনপির আছে। একইসঙ্গে দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের করার অভিজ্ঞতা আছে বিএনপির।

তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন। খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন। এটি প্রমাণ করে, বিএনপি জনগণের জন্য কাজ করে। কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশের স্লোগান, ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। একমাত্র বিএনপির অভিজ্ঞতা আছে দেশ পরিচালনার। সঠিক পথে পরিচালনা করা বিএনপির পক্ষেই সম্ভব।