Dhaka শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নানা উপায়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করা হচ্ছে : মাহদী আমিন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ১০:০৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৯৩ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নানা উপায়ে নষ্ট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীল গুলশানে বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন।

ড. মাহ্দী আমিন বলেছেন, অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আসন্ন নির্বাচনে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে, একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের মাধ্যমে প্রতিটি রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে, এটিই জনগণের প্রত্যাশা। তবে গত কয়েক দিন ধরে আমরা দুঃখজনকভাবে দেখেছি, নানা উপায়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করা হচ্ছে, একটি বিতর্কিত নির্বাচন প্রক্রিয়া সৃষ্টি হতে যাচ্ছে।

একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল তাদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য ধর্মীয় অনুভূতির ক্রমাগত অপব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন মাহ্দী।

মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা গণমাধ্যমে দেখলাম তাদের মার্কায় ভোট দিতে পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ করানো হচ্ছে, যা সরাসরি নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন। শুধু তাই নয়, আমরা দেখেছি সেই বিশেষ রাজনৈতিক দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বিকাশ নাম্বার সংগ্রহ করছে, যার পেছনে অসাধু উদ্দেশ্য রয়েছে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বলেন, ইতিপূর্বে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের বেশকিছু দেশে যেমন: বাহরাইন, ওমান, কুয়েত ও সৌদি আরবে শত শত ব্যালট একটি নির্দিষ্ট দলের কর্মীদের কাছে রয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ সংঘবদ্ধ ভোট সম্পূর্ণ বেআইনি। কোথাও কোথাও একজনের নাম্বার দিয়ে আরেকজনের পোস্টাল ব্যালট পেপার সংগ্রহ করা হচ্ছে, যেটি অনাকাঙ্ক্ষিত। যেহেতু বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটদান প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে, আমরা চাই প্রবাসীদের ভোটের ক্ষেত্রেও সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হোক।
বিএনপি চেয়ারম্যানের এই উপদেষ্টা বলেন, দুঃখজনকভাবে লক্ষ করছি, পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে ধানের শীষের অবস্থান নিচের দিকে, যা সহজে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি ভাঁজ করলে ধানের শীষ প্রতীক চোখে পড়ে না কিংবা দাগের কারণে মুছে যেতে পারে। অথচ প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতীককে কৌশলে সহজে দেখা যায় এমন জায়গাগুলোতে রাখা হয়েছে। চাইলেই খুব সহজে কলাম বা লাইনের সংখ্যা পুণঃবিন্যাস করে প্রতীকের অবস্থানগত এ বৈষম্য দূর করে পোস্টাল ব্যালটকে স্বচ্ছ রাখা যেত।

মাহদী আমিন বলেন, গত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী আমলের গুম, খুন, হামলা ও মামলার সময়ে বিএনপির কয়েকজন প্রার্থী দেশের বাইরে ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের সেখানে নাগরিকত্ব হয়েছিল এবং মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা তাঁদের নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনপত্র থাকার পরও নির্বাচন কমিশনে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অথচ সংবিধানের আর্টিকেল ৬৬ অনুযায়ী, সেখানে কোনো অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের অবকাশ নেই।

মাহদী অভিযোগ করে বলেন, বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাদের প্রতীকসহ সরাসরি নিজ নিজ প্রার্থী ও দলের জন্য ভোট চাইছেন বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এবং অনলাইনে। অথচ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যক্তিগত সফরে তাঁর নানীর কবর জিয়ারত কিংবা মওলানা ভাসানী অথবা গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদসহ অন্যান্য শহীদদের কবর জিয়ারতে বগুড়া ও উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় যেতে চাইলেও, সেই ব্যাক্তিগত ও ধর্মীয় সফরকে স্থগিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। সেই অনুরোধকে সম্মান জানিয়ে তিনি তার নির্ধারিত সফর বাতিল করলেও অন্যান্য দল ও নেতারা প্রতিনিয়ত আচরণবিধি লঙ্ঘন করে যাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের এই নির্লিপ্ততা অনাকাঙ্ক্ষিত।

মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে জানান, তারেক রহমান তার আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করবেন আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেট সফরের মধ্য দিয়ে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।

তিনি বলেন, গণভোটকে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দেখেই বিএনপি ইতিমধ্যেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ২০১৬ সালের ভিশন ২০৩০, ২০২২ সালের ২৭ দফা এবং ২০২৩ সালের ৩১ দফার ভিত্তিতে প্রস্তাবিত সংস্কারের ধারক ও বাহক হিসেবে দলের এই অবস্থান জাতীয় ঐকমত্য কমিশনেও স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

গণভোটে হ্যাঁ’র পক্ষে অবস্থানজনিত বিষয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণকারী রাজনৈতিক দল হিসেবে সবার আগে আমরা সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিলাম ২০১৬ সালের ভিশন ২০৩০, ২০২২ সালের ২৭ দফা এবং ২০২৩ সালের ৩১ দফা এর উপর ভিত্তি করে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিএনপি যেভাবে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও গুরুত্বের সাথে সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, সেই আলোকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সংস্কারের ধারক, বাহক ও জনক রাজনৈতিক দল হিসেবে, জুলাই চার্টারে আমাদের অবস্থান ও প্রণীত নোট অফ ডিসেন্ট অনুযায়ী বিএনপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, যা ইতিমধ্যে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকেও জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আমরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছি। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এ নির্বাচনে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।

একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের মাধ্যমে প্রতিটি রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে, এটিই জনগণের প্রত্যাশা। তবে গত কয়েকদিন ধরে আমরা দুঃখজনকভাবে দেখেছি, নানা উপায়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করা হচ্ছে এবং একটি বিতর্কিত নির্বাচন প্রক্রিয়া সৃষ্টি হতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, লক্ষ্য করা যাচ্ছে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মীয় অনুভূতির ক্রমাগত অপব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ (গণমাধ্যমে দেখা গেছে) তাদের মার্কায় ভোট দিতে পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ করানো হচ্ছে, যা সরাসরি নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন। শুধু তাই নয়, সেই দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বিকাশ নাম্বার সংগ্রহ করছে, যার পেছনে অসাধু উদ্দেশ্য রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইতিপূর্বে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে, যেমন: বাহরাইন, ওমান, কুয়েত ও সৌদি আরবে শত শত ব্যালট একটি নির্দিষ্ট দলের কর্মীদের কাছে রয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ সংঘবদ্ধ ভোট সম্পূর্ণ বেআইনি। কোথাও একজনের নাম্বার ব্যবহার করে আরেকজনের পোস্টাল ব্যালট পেপার সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। যেহেতু বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটদান প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে, আমরা চাই প্রবাসীদের ভোটের ক্ষেত্রেও সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত হোক।

মাহদী আমিন বলেন, দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে ধানের শীষ প্রতীকের অবস্থান নিচের দিকে, যা সহজে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ভাঁজ করলে ধানের শীষ প্রতীক চোখে পড়ে না বা দাগের কারণে মুছে যেতে পারে। অথচ প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতীকের অবস্থান সহজে দেখা যায় এমন জায়গায় রাখা হয়েছে। চাইলেই কলাম বা লাইনের সংখ্যা পুনঃবিন্যাস করে প্রতীকের অবস্থানগত বৈষম্য দূর করা যেত এবং পোস্টাল ব্যালটকে স্বচ্ছ রাখা যেত।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

নানা উপায়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করা হচ্ছে : মাহদী আমিন

প্রকাশের সময় : ১০:০৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নানা উপায়ে নষ্ট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীল গুলশানে বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন।

ড. মাহ্দী আমিন বলেছেন, অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আসন্ন নির্বাচনে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে, একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের মাধ্যমে প্রতিটি রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে, এটিই জনগণের প্রত্যাশা। তবে গত কয়েক দিন ধরে আমরা দুঃখজনকভাবে দেখেছি, নানা উপায়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করা হচ্ছে, একটি বিতর্কিত নির্বাচন প্রক্রিয়া সৃষ্টি হতে যাচ্ছে।

একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল তাদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য ধর্মীয় অনুভূতির ক্রমাগত অপব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন মাহ্দী।

মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা গণমাধ্যমে দেখলাম তাদের মার্কায় ভোট দিতে পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ করানো হচ্ছে, যা সরাসরি নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন। শুধু তাই নয়, আমরা দেখেছি সেই বিশেষ রাজনৈতিক দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বিকাশ নাম্বার সংগ্রহ করছে, যার পেছনে অসাধু উদ্দেশ্য রয়েছে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বলেন, ইতিপূর্বে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের বেশকিছু দেশে যেমন: বাহরাইন, ওমান, কুয়েত ও সৌদি আরবে শত শত ব্যালট একটি নির্দিষ্ট দলের কর্মীদের কাছে রয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ সংঘবদ্ধ ভোট সম্পূর্ণ বেআইনি। কোথাও কোথাও একজনের নাম্বার দিয়ে আরেকজনের পোস্টাল ব্যালট পেপার সংগ্রহ করা হচ্ছে, যেটি অনাকাঙ্ক্ষিত। যেহেতু বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটদান প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে, আমরা চাই প্রবাসীদের ভোটের ক্ষেত্রেও সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হোক।
বিএনপি চেয়ারম্যানের এই উপদেষ্টা বলেন, দুঃখজনকভাবে লক্ষ করছি, পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে ধানের শীষের অবস্থান নিচের দিকে, যা সহজে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি ভাঁজ করলে ধানের শীষ প্রতীক চোখে পড়ে না কিংবা দাগের কারণে মুছে যেতে পারে। অথচ প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতীককে কৌশলে সহজে দেখা যায় এমন জায়গাগুলোতে রাখা হয়েছে। চাইলেই খুব সহজে কলাম বা লাইনের সংখ্যা পুণঃবিন্যাস করে প্রতীকের অবস্থানগত এ বৈষম্য দূর করে পোস্টাল ব্যালটকে স্বচ্ছ রাখা যেত।

মাহদী আমিন বলেন, গত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী আমলের গুম, খুন, হামলা ও মামলার সময়ে বিএনপির কয়েকজন প্রার্থী দেশের বাইরে ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের সেখানে নাগরিকত্ব হয়েছিল এবং মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা তাঁদের নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনপত্র থাকার পরও নির্বাচন কমিশনে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অথচ সংবিধানের আর্টিকেল ৬৬ অনুযায়ী, সেখানে কোনো অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের অবকাশ নেই।

মাহদী অভিযোগ করে বলেন, বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাদের প্রতীকসহ সরাসরি নিজ নিজ প্রার্থী ও দলের জন্য ভোট চাইছেন বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এবং অনলাইনে। অথচ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যক্তিগত সফরে তাঁর নানীর কবর জিয়ারত কিংবা মওলানা ভাসানী অথবা গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদসহ অন্যান্য শহীদদের কবর জিয়ারতে বগুড়া ও উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় যেতে চাইলেও, সেই ব্যাক্তিগত ও ধর্মীয় সফরকে স্থগিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। সেই অনুরোধকে সম্মান জানিয়ে তিনি তার নির্ধারিত সফর বাতিল করলেও অন্যান্য দল ও নেতারা প্রতিনিয়ত আচরণবিধি লঙ্ঘন করে যাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের এই নির্লিপ্ততা অনাকাঙ্ক্ষিত।

মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে জানান, তারেক রহমান তার আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করবেন আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেট সফরের মধ্য দিয়ে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।

তিনি বলেন, গণভোটকে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দেখেই বিএনপি ইতিমধ্যেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ২০১৬ সালের ভিশন ২০৩০, ২০২২ সালের ২৭ দফা এবং ২০২৩ সালের ৩১ দফার ভিত্তিতে প্রস্তাবিত সংস্কারের ধারক ও বাহক হিসেবে দলের এই অবস্থান জাতীয় ঐকমত্য কমিশনেও স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

গণভোটে হ্যাঁ’র পক্ষে অবস্থানজনিত বিষয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণকারী রাজনৈতিক দল হিসেবে সবার আগে আমরা সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিলাম ২০১৬ সালের ভিশন ২০৩০, ২০২২ সালের ২৭ দফা এবং ২০২৩ সালের ৩১ দফা এর উপর ভিত্তি করে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিএনপি যেভাবে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও গুরুত্বের সাথে সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, সেই আলোকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সংস্কারের ধারক, বাহক ও জনক রাজনৈতিক দল হিসেবে, জুলাই চার্টারে আমাদের অবস্থান ও প্রণীত নোট অফ ডিসেন্ট অনুযায়ী বিএনপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, যা ইতিমধ্যে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকেও জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আমরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছি। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এ নির্বাচনে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।

একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের মাধ্যমে প্রতিটি রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে, এটিই জনগণের প্রত্যাশা। তবে গত কয়েকদিন ধরে আমরা দুঃখজনকভাবে দেখেছি, নানা উপায়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করা হচ্ছে এবং একটি বিতর্কিত নির্বাচন প্রক্রিয়া সৃষ্টি হতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, লক্ষ্য করা যাচ্ছে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মীয় অনুভূতির ক্রমাগত অপব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ (গণমাধ্যমে দেখা গেছে) তাদের মার্কায় ভোট দিতে পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ করানো হচ্ছে, যা সরাসরি নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন। শুধু তাই নয়, সেই দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বিকাশ নাম্বার সংগ্রহ করছে, যার পেছনে অসাধু উদ্দেশ্য রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইতিপূর্বে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে, যেমন: বাহরাইন, ওমান, কুয়েত ও সৌদি আরবে শত শত ব্যালট একটি নির্দিষ্ট দলের কর্মীদের কাছে রয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ সংঘবদ্ধ ভোট সম্পূর্ণ বেআইনি। কোথাও একজনের নাম্বার ব্যবহার করে আরেকজনের পোস্টাল ব্যালট পেপার সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। যেহেতু বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটদান প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে, আমরা চাই প্রবাসীদের ভোটের ক্ষেত্রেও সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত হোক।

মাহদী আমিন বলেন, দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে ধানের শীষ প্রতীকের অবস্থান নিচের দিকে, যা সহজে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ভাঁজ করলে ধানের শীষ প্রতীক চোখে পড়ে না বা দাগের কারণে মুছে যেতে পারে। অথচ প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতীকের অবস্থান সহজে দেখা যায় এমন জায়গায় রাখা হয়েছে। চাইলেই কলাম বা লাইনের সংখ্যা পুনঃবিন্যাস করে প্রতীকের অবস্থানগত বৈষম্য দূর করা যেত এবং পোস্টাল ব্যালটকে স্বচ্ছ রাখা যেত।