Dhaka শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নতুন সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর ১৭, ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাবে না : প্রেস সচিব

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ১১:১৩:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৮৪ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। এটা ৩ দিনের মধ্যেও হতে পারে। তবে ১৭ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাবে না।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচনের পরপরই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। এরপর দ্রুততার সাথে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সরকার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সরকারের আমলে রেকর্ড সংখ্যক আইন পাশ হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে গুম উঠে গেছে।

প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচনের আমেজ খুব উৎসবমুখর হচ্ছে। কোথাও তেমন কোন সহিংসতা হয়নি। বেশ ভালো নির্বাচন হবে। এসময় নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো অপ তথ্য ছড়ালে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিন সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদন হওয়া অধ্যাদেশ, নীতিমালা, কর্মকৌশল ও কর্মপরিকল্পনা ছাড়াও দ্বিপাক্ষিক চুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রেস সচিব।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে গত ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৬৮টি নিয়মিত সাপ্তাহিক কেবিনেট বৈঠক হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে ৫২৬টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ৪৩৯টি ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাস্তবায়নের হার ৮৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ। আগের সরকারগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে এই সময়ে রেকর্ড পরিমাণ অধ্যাদেশ জারি হয়েছে।

অপর দিকে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১১৬টি অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। এছাড়া আরও ১৬টি অধ্যাদেশ প্রক্রিয়াধীন। এরমধ্যে ৩টির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, এই সময়ে সরকার ১৪টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতেও প্রবেশ করেছে। এগুলোর বাস্তবায়নের হার আগের সরকারের তুলনায় অনেক বেশি। এগুলো ছোটখাটো পরিবর্তন নয়; বরং অনেকগুলো অধ্যাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনে, যা দেশের মানুষের জীবনে যুগান্তকারী প্রভাব ফেলবে।

একই সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদের বিষয়ে ছড়ানো গুঞ্জন নিয়ে কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার ১৮০ কার্যদিবস ক্ষমতায় থাকবে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অপপ্রচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জনগণকে বিভ্রান্ত করার কোনো সুযোগ নেই।

ডেপুটি প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘সরকার শুরু থেকেই নিশ্চিত করেছে যে, নির্বাচন শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সরে যাবে।’

১৮০ কার্যদিবস নিয়ে চলমান আলোচনার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, এই সময়সীমাটি মূলত নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত। নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ‘গণপরিষদ’ সদস্য হিসেবে সংস্কারসংক্রান্ত কাজগুলো করবেন। বিশেষ করে ‘জুলাই চার্টার’ ও সংশ্লিষ্ট সংস্কারের ধারা-উপধারার আইনি ভাষা নির্ধারণের জন্য এই সময়টি প্রয়োজন হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো ভূমিকা থাকবে না বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

খুচরা বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আরও কমতে যাচ্ছে বলে জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, এলপি গ্যাসের স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়িক পর্যায়ে আরোপিত ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ২ শতাংশ আগাম কর থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। একই সঙ্গে আমদানি পর্যায়ে এলপি গ্যাসের ওপর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে এলপি গ্যাসের ওপর সামগ্রিক করভার কিছুটা কমবে, যার প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারে পড়বে। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দাম আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

গুরুতর আহত ৪৭৪ জুলাই যোদ্ধার গেজেট প্রকাশ

নতুন সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর ১৭, ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাবে না : প্রেস সচিব

প্রকাশের সময় : ১১:১৩:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। এটা ৩ দিনের মধ্যেও হতে পারে। তবে ১৭ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাবে না।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচনের পরপরই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। এরপর দ্রুততার সাথে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সরকার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সরকারের আমলে রেকর্ড সংখ্যক আইন পাশ হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে গুম উঠে গেছে।

প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচনের আমেজ খুব উৎসবমুখর হচ্ছে। কোথাও তেমন কোন সহিংসতা হয়নি। বেশ ভালো নির্বাচন হবে। এসময় নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো অপ তথ্য ছড়ালে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিন সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদন হওয়া অধ্যাদেশ, নীতিমালা, কর্মকৌশল ও কর্মপরিকল্পনা ছাড়াও দ্বিপাক্ষিক চুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রেস সচিব।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে গত ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৬৮টি নিয়মিত সাপ্তাহিক কেবিনেট বৈঠক হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে ৫২৬টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ৪৩৯টি ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাস্তবায়নের হার ৮৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ। আগের সরকারগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে এই সময়ে রেকর্ড পরিমাণ অধ্যাদেশ জারি হয়েছে।

অপর দিকে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১১৬টি অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। এছাড়া আরও ১৬টি অধ্যাদেশ প্রক্রিয়াধীন। এরমধ্যে ৩টির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, এই সময়ে সরকার ১৪টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতেও প্রবেশ করেছে। এগুলোর বাস্তবায়নের হার আগের সরকারের তুলনায় অনেক বেশি। এগুলো ছোটখাটো পরিবর্তন নয়; বরং অনেকগুলো অধ্যাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনে, যা দেশের মানুষের জীবনে যুগান্তকারী প্রভাব ফেলবে।

একই সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদের বিষয়ে ছড়ানো গুঞ্জন নিয়ে কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার ১৮০ কার্যদিবস ক্ষমতায় থাকবে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অপপ্রচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জনগণকে বিভ্রান্ত করার কোনো সুযোগ নেই।

ডেপুটি প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘সরকার শুরু থেকেই নিশ্চিত করেছে যে, নির্বাচন শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সরে যাবে।’

১৮০ কার্যদিবস নিয়ে চলমান আলোচনার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, এই সময়সীমাটি মূলত নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত। নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ‘গণপরিষদ’ সদস্য হিসেবে সংস্কারসংক্রান্ত কাজগুলো করবেন। বিশেষ করে ‘জুলাই চার্টার’ ও সংশ্লিষ্ট সংস্কারের ধারা-উপধারার আইনি ভাষা নির্ধারণের জন্য এই সময়টি প্রয়োজন হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো ভূমিকা থাকবে না বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

খুচরা বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আরও কমতে যাচ্ছে বলে জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, এলপি গ্যাসের স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়িক পর্যায়ে আরোপিত ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ২ শতাংশ আগাম কর থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। একই সঙ্গে আমদানি পর্যায়ে এলপি গ্যাসের ওপর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে এলপি গ্যাসের ওপর সামগ্রিক করভার কিছুটা কমবে, যার প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারে পড়বে। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দাম আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।