Dhaka শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশের বাজারে সোনার দামে ফের ধস, ভরিতে কমল ১৫,৭৪৬ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দেশের বাজারে সোনার দাম আরও কমানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম কমানো হয়েছে ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা। এতে এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা।

স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম কমানো হয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

যদিও সংগঠনটি জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম কমেছে; তবে মূল কারণ হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সোনা ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৮৯০ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে, বৃহস্পতিবার আউন্সে ৫ হাজার ৫৫০ ডলার ছাড়িয়েছিল সোনার দাম।

নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১৪ হাজার ৯৮৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪৪ হাজার ১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১২ হাজার ৮৮৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৯ হাজার ১৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১০ হাজার ৯৬৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার ৮৬৯ টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরো জানায়, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

এর আগে, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সোনার ভরিতে ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা কমিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাজুস। তখন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯৯ টাকা ও ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২২ হাজার ২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা বেচাকেনা হচ্ছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৩ টাকায়।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। যেখানে দাম ১৩ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৫ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

সোনার দাম কমানোর পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪৬৭ কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ২৯০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪৬৭ টাকা কমিয়ে ৬ হাজার ৯৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪০৮ টাকা কমিয়ে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৩৫০ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১৪ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ৯ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ৫ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সবাই বিনামূল্যে ইন্টারনেট পাবে : মাহদী আমিন

দেশের বাজারে সোনার দামে ফের ধস, ভরিতে কমল ১৫,৭৪৬ টাকা

প্রকাশের সময় : ১১:৫৬:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দেশের বাজারে সোনার দাম আরও কমানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম কমানো হয়েছে ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা। এতে এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা।

স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম কমানো হয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

যদিও সংগঠনটি জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম কমেছে; তবে মূল কারণ হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সোনা ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৮৯০ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে, বৃহস্পতিবার আউন্সে ৫ হাজার ৫৫০ ডলার ছাড়িয়েছিল সোনার দাম।

নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১৪ হাজার ৯৮৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪৪ হাজার ১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১২ হাজার ৮৮৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৯ হাজার ১৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১০ হাজার ৯৬৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার ৮৬৯ টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরো জানায়, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

এর আগে, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সোনার ভরিতে ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা কমিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাজুস। তখন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯৯ টাকা ও ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২২ হাজার ২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা বেচাকেনা হচ্ছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৩ টাকায়।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। যেখানে দাম ১৩ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৫ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

সোনার দাম কমানোর পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪৬৭ কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ২৯০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪৬৭ টাকা কমিয়ে ৬ হাজার ৯৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪০৮ টাকা কমিয়ে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৩৫০ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১৪ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ৯ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ৫ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।