নিজস্ব প্রতিবেদক :
জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও আতঙ্কে মানুষ বেশি কিনছে বলে জানিয়েছে সরকার। সংসদে এ তথ্য তুলে ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বর্তমানে চাহিদার তুলনায় বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, নির্ধারিত পরিমাণেই তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে বাজারে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এর ফলে আগে যে পরিমাণ তেল দেড় দিনে বিক্রি হতো, এখন তা দুই ঘণ্টার মধ্যেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করছেন। তবে দেশে তেলের ঘাটতি রয়েছে এমন ধারণা সঠিক নয়।
এ সময় বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যুতের অপচয় কমানোর আহ্বান জানান তিনি। অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখার নির্দেশনা রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
সরকার মজুত ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছে বলেও জানান তিনি। ইরান-সংক্রান্ত পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক বাজারে চাপ সৃষ্টি হলেও বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রয়েছে। নতুন চালান আসার আগেই বিদ্যমান মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই বলেও আশ্বস্ত করেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।
ঢাকা-১৮ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, বিদ্যুৎকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম এবং ঝড়-বৃষ্টির কারণে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিতে পারে। এ সময় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং লোডশেডিং বন্ধে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন; বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন এবং উৎপাদনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর উন্নয়ন।
এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাথমিক জ্বালানির চাহিদা মোকাবেলায় জ্বালানি বহুমুখীকরণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবহারে দক্ষতা বাড়াতে মনোনীত ভোক্তাদের স্থাপনায় জ্বালানি নিরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ময়মনসিংহ, ঘোড়াশাল ও নারায়ণগঞ্জে ৭৪টি প্রতিষ্ঠানে এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে জ্বালানি নিরীক্ষা জোরদারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৪২ জন সনদপ্রাপ্ত জ্বালানি নিরীক্ষক এবং ১৭৮ জন সনদপ্রাপ্ত জ্বালানি ব্যবস্থাপক তৈরি করা হয়েছে। এ ধরনের দক্ষ জনবল তৈরির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেরই শক্তিশালী অংশগ্রহণ রয়েছে। বর্তমানে দেশে সরকারি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে ৬৪টি। এসব কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১২ হাজার ৩০২ মেগাওয়াট। সেই সঙ্গে বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে উঠেছে ৬৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ১০ হাজার ৮৫৩ মেগাওয়াট। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি যৌথ মালিকানায় রয়েছে তিনটি বিশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যেগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা ৩ হাজার ৬৮ মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এখন ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট।
তিনি বলেন, সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন মূলত নির্ভর করে প্রতিদিনের চাহিদার ওপর। বর্তমানে দেশের বিদ্যুতের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই কেন্দ্রগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৪ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে চুক্তি সই হওয়ার তথ্য সামনে আসায় এখন আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত বা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিটি পুনর্বিবেচনার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। অস্বাভাবিক শর্ত ও উচ্চমূল্যের কারণে এ চুক্তিটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে ভারতের আদানি পাওয়ার (ঝাড়খণ্ড) লিমিটেডের সঙ্গে করা চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিতে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা ছিলেন। তারা চুক্তিটির প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।
কমিটির পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সম্পাদিত এ চুক্তিতে বিদ্যুতের দাম তৎকালীন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি ধরা হয়েছে। পর্যালোচনার প্রয়োজনে আন্তঃদেশীয় চুক্তি বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতও নিয়েছে কমিটি।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, অস্বাভাবিক শর্ত ও উচ্চমূল্যের কারণে এ চুক্তিটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সরকার এখন দুটি পথ বিবেচনা করছে।
১. আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে চুক্তির বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্ত হওয়া। ২. দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে আদানি পাওয়ারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির শর্তগুলো সংশোধন ও বিদ্যুতের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দেশের স্বার্থরক্ষায় যা যা প্রয়োজন, সরকার সেই পদক্ষেপই নেবে।
সংসদ সদস্য এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবুর এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী বলেন, দেশে গ্যাস সংকট নিরসনে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশীয় উৎস হতে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধিকল্পে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আগামী ১ বছরে মোট ১১৭টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। দেশে গ্যাস সংকট নিরসনে পেট্রোবাংলা কর্তৃক গৃহীত অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রমের অগ্রগতি ও গ্যাস মজুদ সংক্রান্ত তথ্যাদি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মপরিকল্পনার আওতায় ২০২২ সাল থেকে অদ্যাবধি ২৫টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে দৈনিক ২৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংস্থান নিশ্চিত হয়েছে এবং বর্তমানে দৈনিক ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অনশোর ও অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬: উৎপাদন-বণ্টন চুক্তির আওতায় স্থলভাগ ও সমুদ্রাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে পেট্রোবাংলা কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ‘অনশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ ও ‘অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ চূড়ান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সম্ভাব্য নতুন গ্যাস মজুদ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, পেট্রোবাংলা কর্তৃক গৃহীত কর্মপরিকল্পনার আওতায় সব কূপ খনন কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হলে আনুমানিক ১,৫৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হবে।
ফেনী-২ আসনের এমপি জয়নাল আবেদিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার ক্ষমতা বাড়াতে বর্তমানে সারা দেশে ১৩৯টি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বিশেষ করে পল্লী এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগের মানোন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে সরকার।
তিনি জানান, বাপবিবোর আওতায় বর্তমানে ৫টি প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং ৩টি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ১২৮টি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ ও ৭৬টি উপকেন্দ্রের আপগ্রেডেশনের মাধ্যমে ২,৫৪৩ এমভিএ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ২২৬টি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে আরো ৩ হাজার ৭১২ এমভিএ সক্ষমতা যুক্ত হবে। সব মিলিয়ে ২০৩১ সালের মধ্যে ৬ হাজার ২৫৫ এমভিএ অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিতরণের সক্ষমতা তৈরি হবে। বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার আধুনিকায়নে অন্যান্য সংস্থাও পিছিয়ে নেই উল্লেখ করে সংসদকে তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা জোনে নতুন দুটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চলে বর্তমানে ৪টি প্রকল্প চলমান এবং নতুন আরো ৪টি প্রকল্প গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। উত্তরাঞ্চলে ৩টি প্রকল্পের কাজ চলমান এবং ১টি নতুন প্রকল্প পরিকল্পনাধীন। সরকারের এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎবিভ্রাট অনেকাংশে কমে আসবে এবং শিল্প-কারখানাসহ আবাসিক খাতে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সারা পৃথিবীতেই এটি এখন খুব বড় সমস্যা। তারপরও আমরা বাংলাদেশে এটা সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু মানুষের মধ্যে যদি প্যানিক বায়িং সৃষ্টি হয়, তবে তা রোধ করা কঠিন। আমরা মানুষের কাছে আবেদন করছি, আপনাদের যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই কিনুন। এটি করলে জ্বালানি নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।
এর আগে সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে সংসদ সদস্যদের (এমপি) অসম্মানিত হওয়া ও সংকটে পড়ার বিষয়টি সংসদে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তার এলাকায় ডিলারদের কারসাজি করে বাড়িতে লুকিয়ে তেল বিক্রির অভিযোগও করেন তিনি।
ড. মাসুদ বলেন, গতকালই দেখলাম আমাদের একজন সম্মানিত সংসদ সদস্য জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে কিছুটা অসম্মানিত হয়েছেন। এর আগে আরেকজন সংসদ সদস্য তেল না পেয়ে সংকটে পড়েছিলেন। আমরা ছোটখাটো জনপ্রতিনিধি, দিনে অন্তত ৩০ থেকে ৪০টা ফোন পাচ্ছি। আমার এলাকা বাউফলে পেট্রোল পাম্প না থাকায় ডিলাররা কারসাজি করছেন। তারা দোকান বন্ধ করে দিয়ে নিজেদের বাড়িতে তেল বিক্রি করছেন। সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট গেলে তাদের কাউকে পাওয়া যায় না।
মন্ত্রীর আগের বক্তব্যের বিরোধিতা করে এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, আজকে মন্ত্রী যে কথা বলেছেন, তার সঙ্গে আমাদের এলাকার পরিস্থিতির কোনো মিল নেই। রাত ৮টার মধ্যে বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিতে বলা হচ্ছে। আমার এলাকা বাউফলে জ্বালানি সংকটে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তা উত্তরণে মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?
জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, আমাদের যে মজুত আছে এবং যে এলাকায় প্রতিদিন যতটুকু তেল দেওয়ার কথা, আমরা তা সরবরাহ করছি। মাননীয় সদস্য নিজেই বললেন, ডিলাররা ইচ্ছে করে পালিয়ে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানালে তারা ওই ডিলারকে ধরে এনে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করতে পারে।
এ ছাড়া রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধের নির্দেশনার বিষয়ে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, সারা পৃথিবীতেই এখন সবাই সাশ্রয়ী হয়েছে। আমরা তো পৃথিবীর বাইরে নই। তাই আমরাও সাশ্রয় করার জন্য জনগণকে অনুরোধ করছি। আশা করি জনগণ আমাদের এই অনুরোধ রক্ষা করবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















