নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি, অনাচার, আত্মীয়করণ ও দলীয়করণের কারণে ধ্বংসের পথে চলে গেছে। এই পরিস্থিতি অতিক্রম করেই দেশের জন্য কাজ করতে হবে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন-এ ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘নির্বাচনি বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর বিজয়ী দলগুলোর সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, একুশের চেতনা আমাদের ৬৯-এর গণভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪-এর আন্দোলনের পথে নিয়ে গেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী বিশাল এবং এটি অনেক দেশে দেখা যায় না। যদি তাদের সক্ষমতা কাজে লাগানো যায়, তবে দেশ অনেকদূর এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, যদি আমরা আমাদের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে পারি, তাহলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এই লক্ষ্যে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
পাঠ্যপুস্তকে সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে বিতর্ক প্রতিযোগিতাকে যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখনও স্কুলে বিতর্ক হতো। এটি পাঠ্যক্রমের অংশ করা যায় নিশ্চয়ই করা যায়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী গোল্ড কাপ’ ঘোষণা করেছিলেন। এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিতে আনার চেষ্টা করবেনএ
এসময় মহান একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনা থেকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতার কথা তুলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের বিভিন্ন গণআন্দোলনের মূল প্রেরণা ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা।
তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, আর পরবর্তী সময়ে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৯০-এর ছাত্র গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-শ্রমিক আন্দোলন—সবই গণতন্ত্রের ধারাবাহিক সংগ্রামের অংশ।
ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এ ভূখণ্ডের মানুষের চেতনায় প্রথম অগ্নিস্ফুলিঙ্গ জ্বালিয়েছিল। সেই চেতনা পরবর্তীকালে স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে প্রেরণা জুগিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যারা জীবন দিয়েছেন, খুন হয়েছেন, গুম হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন—তাদের সবার অবদানের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই। দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় গণতন্ত্র যথাযথভাবে চর্চা করতে পারেনি।
সাম্প্রতিক নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে সহিংসতা পরিহার জরুরি।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিতর্ক শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটি শেখার ক্ষেত্র।
দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দলীয়করণ, আত্মীয়করণ, দুর্নীতি ও অযোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্বে বসানোর ফলে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এ অবস্থা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তরুণদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বড় তরুণ জনগোষ্ঠীকে সম্পদে রূপান্তর করা গেলে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। জনসংখ্যাকে সমস্যা নয়, সম্পদ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, মানুষ শুধু মুখ নিয়ে জন্মায় না, সে দুই হাত ও মগজ নিয়েও জন্মায়।
বেগম খালেদা জিয়ার নামে জাতীয় বিতর্ক আয়োজনের প্রস্তাব সম্পর্কে তিনি বলেন, তার নামে নামকরণ করা আবশ্যক নয়, তবে জাতীয় পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজন করা উচিত। বেগম খালেদা জিয়া নিজের নামে কিছু করতে পছন্দ করতেন না।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান, প্রতিযোগিতার চিফ মডারেটর অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধ্যাপক ড. নাহরিন খানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে বিজয়ী দলগুলোর হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















