Dhaka শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দলীয় পদ ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন।

জোনায়েদ সাকির পদত্যাগের পর দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলুকে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের বিষয় নিয়ে বরং যে স্বাক্ষর করা হয়েছিল, সেই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করাটাই মূল ফোকাসের জায়গা ছিল। সেখানে বিভিন্ন দলের নোট অব ডিসেন্ট আছে এবং মূলত পরিষ্কারভাবে এই বিষয়ে ঐক্যমত তৈরি হয়েছিল যে জুলাই জাতীয় সনদ বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের যে মতপার্থক্য হচ্ছে সেটা নোট অব ডিসেন্ট আকারে থাকবে। এবং রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ইশতেহারে সেই নোট অব ডিসেন্টগুলো, তাদের মতামতগুলো নিয়ে জনগণের কাছে যাবে, যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে সেই দলের মতামতটাই তখন এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে।

এ সময় তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও ‘বিতর্ক’ চলমান তুলে ধরেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, পরবর্তীকালে এই জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি কী হবে সেটা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এবং সেই বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের সমাপ্তি এখনো ঘটেনি।

দলীয় প্রধানের দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, আমি দলের সাথে আছি, দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতেই আছি, রাজনৈতিক পরিষদে আছি। দলের প্রতি আনুগত্য, দলের অধীনস্থ থাকা সেই প্রশ্নে কোনো ইয়ে নাই। প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করা মানে এটা দলীয় প্রধানের দায়িত্বের জায়গাটা আমরা মনে করি যে সরকারের সাথে দলের যে একটা সম্পর্ক, সেই সম্পর্কের মধ্যে জনগণের স্বার্থের জায়গাটা সরকারও প্রতিনিধিত্ব করবে, দলও করবে।

বাস্তবতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে সরকারের দায়িত্ব পালন করাটা একটা বেশ সময়ের ব্যাপার। যে আপনার সেখানে একটা নির্দিষ্ট সময় দিতে হয় কাজের চাপটা আপনার… সেই দিক থেকে আবার যখন দলের দায়িত্ব থাকে এবং সেটার আমি অনেক সময় দেখা যায় যে দুটোর কাজের সমন্বয় করাটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সেটাও একটা বড় ফ্যাক্টর ছিল যে বাস্তবতা।

গত বছরের ৩ নভেম্বর ঢাকার সাভারে অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী নির্বাচিত হন। সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে ৫৫ সদস্যের নতুন নির্বাহী কমিটিও গঠন করা হয়।

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক হিসেবে দলটির প্রতীক ‘মাথাল’ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জোনায়েদ সাকি।

পরে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে তাকে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে শুধু পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রাখা হয় তাকে।

আবহাওয়া

অন্য সরকার থাকলে তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় ছিল না : চিফ হুইপ

দলীয় পদ ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি

প্রকাশের সময় : ০২:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন।

জোনায়েদ সাকির পদত্যাগের পর দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলুকে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের বিষয় নিয়ে বরং যে স্বাক্ষর করা হয়েছিল, সেই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করাটাই মূল ফোকাসের জায়গা ছিল। সেখানে বিভিন্ন দলের নোট অব ডিসেন্ট আছে এবং মূলত পরিষ্কারভাবে এই বিষয়ে ঐক্যমত তৈরি হয়েছিল যে জুলাই জাতীয় সনদ বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের যে মতপার্থক্য হচ্ছে সেটা নোট অব ডিসেন্ট আকারে থাকবে। এবং রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ইশতেহারে সেই নোট অব ডিসেন্টগুলো, তাদের মতামতগুলো নিয়ে জনগণের কাছে যাবে, যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে সেই দলের মতামতটাই তখন এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে।

এ সময় তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও ‘বিতর্ক’ চলমান তুলে ধরেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, পরবর্তীকালে এই জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি কী হবে সেটা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এবং সেই বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের সমাপ্তি এখনো ঘটেনি।

দলীয় প্রধানের দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, আমি দলের সাথে আছি, দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতেই আছি, রাজনৈতিক পরিষদে আছি। দলের প্রতি আনুগত্য, দলের অধীনস্থ থাকা সেই প্রশ্নে কোনো ইয়ে নাই। প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করা মানে এটা দলীয় প্রধানের দায়িত্বের জায়গাটা আমরা মনে করি যে সরকারের সাথে দলের যে একটা সম্পর্ক, সেই সম্পর্কের মধ্যে জনগণের স্বার্থের জায়গাটা সরকারও প্রতিনিধিত্ব করবে, দলও করবে।

বাস্তবতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে সরকারের দায়িত্ব পালন করাটা একটা বেশ সময়ের ব্যাপার। যে আপনার সেখানে একটা নির্দিষ্ট সময় দিতে হয় কাজের চাপটা আপনার… সেই দিক থেকে আবার যখন দলের দায়িত্ব থাকে এবং সেটার আমি অনেক সময় দেখা যায় যে দুটোর কাজের সমন্বয় করাটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সেটাও একটা বড় ফ্যাক্টর ছিল যে বাস্তবতা।

গত বছরের ৩ নভেম্বর ঢাকার সাভারে অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী নির্বাচিত হন। সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে ৫৫ সদস্যের নতুন নির্বাহী কমিটিও গঠন করা হয়।

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক হিসেবে দলটির প্রতীক ‘মাথাল’ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জোনায়েদ সাকি।

পরে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে তাকে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে শুধু পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রাখা হয় তাকে।