Dhaka শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তীরে এসে তরী ডুবলো বেঙ্গালুরুর, টানা সপ্তম হার

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১০:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪
  • ১৮৮ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে কলকাতার বিপক্ষে জার্সি বদলে ফেলার ঘোষণা দিয়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি কোহলিদের। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে তীরে এসে তরী ডুবেছে বেঙ্গালুরুর। শেষ ওভারের নাটকীয়তায় ১ রানে হারের তিতো স্বাদ পেয়েছে তারা। এতে টানা সপ্তম হারের দেখা পেলো দলটি।

রোববার (২১ এপ্রিল) ঘরের মাঠে ব্যাট করতে নেমে বেঙ্গালুরুকে ২২৩ রানের লক্ষ্য দেয় কলকাতা। জবাব দিতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ১০ উইকেট হারিয়ে ২২১ রান তুলতে পারে বেঙ্গালুরু। এতে ১ রানের জয় পায় কলকাতা।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দলীয় ৩৫ রানে দুই ওপেনার বিরাট কোহলি (১৮) ও ফাফ ডু প্লেসির (৭) উইকেট হারায় বেঙ্গালুরু। যদিও কোহলির আউট নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে মাঠেই। হার্শিত রানার ফুল টস বলটিকে নো বল দাবি করছিলেন কোহলি। কিন্তু রিভিও নিলেও আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।

এরপর উইল জ্যাকস ও রজত পাতিদার মিলে ১০০-এর বেশি রানের জুটি গড়ে সেই ধাক্কা সামাল দেন। দুজনেই পেয়েছেন ফিফটির দেখা। তবে ১ রানের ব্যবধানে দুজনেই বিদায় নিলে ফের পিছিয়ে পড়ে সফরকারীরা। এরপর দ্রুত ফিরে যান ক্যামেরন গ্রিন (৪) ও মহীপাল লোমরোর (৪)

টানা উইকেট হারালেও বেঙ্গালুরুর রানরেট স্বাস্থ্যবান ছিল। কিন্তু স্বীকৃত ব্যাটার ছাড়া জয়ের পথে হাঁটা সহজ ছিল না। তবে দীনেশ কার্তিক আজকেও ব্যাট হাতে ভরসা হয়ে ছিলেন। তার ১৮ বলে ২৫ রানের ইনিংসটি আশা দেখাচ্ছিল বেঙ্গালুরুকে। তবে ১৯তম ওভারের শেষ বলে কার্তিককে আউট করে দেন আন্দ্রে রাসেল। তাতে বেঙ্গালুরুর আশার বেলুন চুপসে যায়।

শেষ ওভারে ২১ রান মোটেই সহজ লক্ষ্য নয়। বেঙ্গালুরুর কোনো স্বীকৃত ব্যাটার নেই ক্রিজে। লোয়ার অর্ডার ব্যাটাররা মিলে মিচেল স্টার্কের ওভারে এত রান তুলে ফেলবেন, এত আশা হয়তো তারা নিজেরাও করেননি। কিন্তু পরিস্থিতি সেদিকেই যাচ্ছিল। কারণ এবারের আইপিএলে দেদারসে রান বিলিয়েছেন স্টার্ক। এই ম্যাচেও তার অন্যথা হয়নি।

নিজের প্রথম দুই ওভারেই ৩৬ রান খরচ করা এই অজি ফাস্ট বোলার ইনিংসের শেষ ওভারের শুরুতেই হজম করলেন ছক্কা। এক বল বিরতি দিয়ে টানা দুই ছক্কা। ৩টি ছক্কাই এলো কর্ন শর্মার ব্যাট থেকে। আর তাতে শেষ ২ বলে মাত্র ৩ রান দরকার ছিল বেঙ্গালুরুর। হাল ছেড়ে দেওয়ার মতো অবস্থা কলকাতার। কিন্তু কাহিনী তখনও শেষ হয়নি।

এবার ভাগ্য সহায় হলো স্টার্কের। পঞ্চম বলে তিনি কর্ন শর্মাকে (২০) কট অ্যান্ড বোল্ড করে ফেরালেন। আর শেষ বলে কোনোমতে বলে ব্যাট ছুঁইয়ে দৌড় দিলেন নতুন ক্রিজে আসা লোকি ফার্গুসন। পড়িমড়ি করে এক রান নিলেনও। কিন্তু দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে শিকার হলেন রানআউটের। দারুণ দক্ষতায় অনেকটা লাফিয়ে স্ট্যাম্প ভেঙে দিলেন কলকাতার উইকেটকিপার সল্ট। ফলে জয় থেকে এক রান দূরে থামলো বেঙ্গালুরু।

কলকাতার হয়ে সর্বোচ্চ দিন উইকেট শিকার করেন আন্দ্রে রাসেল। হার্সিত রানা এবং সুনিল নারিন নেন দুটি করে উইকেট। এছাড়াও ভারুণ চক্রবর্তী ও মিচেল স্টার্ক একটি করে উইকেট নেন।

এর আগে ঘরের মাঠে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ফিল সল্টের ব্যাটে ঝড়ো সূচনা পায় কলকাতা। পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে সল্ট আউট হওয়ার আগেই স্বাগতিকদের স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৫৬ রান। মাত্র ১৪ বলেই ৪৮ রান করে মোহাম্মদ সিরাজের বলে আউট হন সল্ট। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৩টি ছয়।

৬৬ রানের মাথায় আরেক ওপেনার সুনীল নারিন ইয়াশ দয়ালের শিকারে পরিণত হন। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান নারিন এদিন ১৫ বল খেলে ১০ রান করেন। পাওয়ার প্লের শেষ বলে অংকৃশ রঘুবংশীর (৩) উইকেট হারায় কলকাতা। তার আগেই অবশ্য স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৭৫ রান।

ঝড় তুলেছিলেন ভেঙ্কটেশ আইয়ারও। কিন্তু ৮ বলে ১৬ রান করেই গ্রিনের শিকারে পরিণত হন তিনি। অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ও ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার রিঙ্কু সিংয়ের জুটিতে ২৯ বলে ৪০ রান যোগ হয়। রিঙ্কু ১৬ বলে ২৪ রান করে লকি ফার্গুসনের বলে আউট হন।

রিঙ্কুর বিদায়ের পর হাত খুলতে থাকেন অধিনায়ক শ্রেয়াস। দলীয় ১৭৯ রানে বিদায়ের আগে পূর্ণ করেন অর্ধশতক। ৩৬ বলে ৭ চার ও ১ ছয়ে ৫০ রান করেন তিনি।

আন্দ্রে রাসেল এদিন কিছুটা ছন্দহারা হলেও শেষের দিকে ঝড় তুলে কলকাতাকে বড় সংগ্রহ এনে দেন রামনদীপ। মতর ৯ বলে ২টি করে চার ও ছয়ে ২৪ রান করেন তিনি। রাসেল ২০ বলে ৪ চারে ২৭ রান করেন।

এই জয়ে ফের দুইয়ে উঠে এলো কলকাতা। ৭ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১০। সমান পয়েন্ট নিয়েও নেট রানরেটে পিছিয়ে থাকায় তিনে নেমে গেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। আর শীর্ষে থাকা রাজস্থান রয়্যালসের সংগ্রহ ১২ পয়েন্ট।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

তীরে এসে তরী ডুবলো বেঙ্গালুরুর, টানা সপ্তম হার

প্রকাশের সময় : ১০:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪

স্পোর্টস ডেস্ক : 

ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে কলকাতার বিপক্ষে জার্সি বদলে ফেলার ঘোষণা দিয়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি কোহলিদের। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে তীরে এসে তরী ডুবেছে বেঙ্গালুরুর। শেষ ওভারের নাটকীয়তায় ১ রানে হারের তিতো স্বাদ পেয়েছে তারা। এতে টানা সপ্তম হারের দেখা পেলো দলটি।

রোববার (২১ এপ্রিল) ঘরের মাঠে ব্যাট করতে নেমে বেঙ্গালুরুকে ২২৩ রানের লক্ষ্য দেয় কলকাতা। জবাব দিতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ১০ উইকেট হারিয়ে ২২১ রান তুলতে পারে বেঙ্গালুরু। এতে ১ রানের জয় পায় কলকাতা।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দলীয় ৩৫ রানে দুই ওপেনার বিরাট কোহলি (১৮) ও ফাফ ডু প্লেসির (৭) উইকেট হারায় বেঙ্গালুরু। যদিও কোহলির আউট নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে মাঠেই। হার্শিত রানার ফুল টস বলটিকে নো বল দাবি করছিলেন কোহলি। কিন্তু রিভিও নিলেও আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।

এরপর উইল জ্যাকস ও রজত পাতিদার মিলে ১০০-এর বেশি রানের জুটি গড়ে সেই ধাক্কা সামাল দেন। দুজনেই পেয়েছেন ফিফটির দেখা। তবে ১ রানের ব্যবধানে দুজনেই বিদায় নিলে ফের পিছিয়ে পড়ে সফরকারীরা। এরপর দ্রুত ফিরে যান ক্যামেরন গ্রিন (৪) ও মহীপাল লোমরোর (৪)

টানা উইকেট হারালেও বেঙ্গালুরুর রানরেট স্বাস্থ্যবান ছিল। কিন্তু স্বীকৃত ব্যাটার ছাড়া জয়ের পথে হাঁটা সহজ ছিল না। তবে দীনেশ কার্তিক আজকেও ব্যাট হাতে ভরসা হয়ে ছিলেন। তার ১৮ বলে ২৫ রানের ইনিংসটি আশা দেখাচ্ছিল বেঙ্গালুরুকে। তবে ১৯তম ওভারের শেষ বলে কার্তিককে আউট করে দেন আন্দ্রে রাসেল। তাতে বেঙ্গালুরুর আশার বেলুন চুপসে যায়।

শেষ ওভারে ২১ রান মোটেই সহজ লক্ষ্য নয়। বেঙ্গালুরুর কোনো স্বীকৃত ব্যাটার নেই ক্রিজে। লোয়ার অর্ডার ব্যাটাররা মিলে মিচেল স্টার্কের ওভারে এত রান তুলে ফেলবেন, এত আশা হয়তো তারা নিজেরাও করেননি। কিন্তু পরিস্থিতি সেদিকেই যাচ্ছিল। কারণ এবারের আইপিএলে দেদারসে রান বিলিয়েছেন স্টার্ক। এই ম্যাচেও তার অন্যথা হয়নি।

নিজের প্রথম দুই ওভারেই ৩৬ রান খরচ করা এই অজি ফাস্ট বোলার ইনিংসের শেষ ওভারের শুরুতেই হজম করলেন ছক্কা। এক বল বিরতি দিয়ে টানা দুই ছক্কা। ৩টি ছক্কাই এলো কর্ন শর্মার ব্যাট থেকে। আর তাতে শেষ ২ বলে মাত্র ৩ রান দরকার ছিল বেঙ্গালুরুর। হাল ছেড়ে দেওয়ার মতো অবস্থা কলকাতার। কিন্তু কাহিনী তখনও শেষ হয়নি।

এবার ভাগ্য সহায় হলো স্টার্কের। পঞ্চম বলে তিনি কর্ন শর্মাকে (২০) কট অ্যান্ড বোল্ড করে ফেরালেন। আর শেষ বলে কোনোমতে বলে ব্যাট ছুঁইয়ে দৌড় দিলেন নতুন ক্রিজে আসা লোকি ফার্গুসন। পড়িমড়ি করে এক রান নিলেনও। কিন্তু দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে শিকার হলেন রানআউটের। দারুণ দক্ষতায় অনেকটা লাফিয়ে স্ট্যাম্প ভেঙে দিলেন কলকাতার উইকেটকিপার সল্ট। ফলে জয় থেকে এক রান দূরে থামলো বেঙ্গালুরু।

কলকাতার হয়ে সর্বোচ্চ দিন উইকেট শিকার করেন আন্দ্রে রাসেল। হার্সিত রানা এবং সুনিল নারিন নেন দুটি করে উইকেট। এছাড়াও ভারুণ চক্রবর্তী ও মিচেল স্টার্ক একটি করে উইকেট নেন।

এর আগে ঘরের মাঠে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ফিল সল্টের ব্যাটে ঝড়ো সূচনা পায় কলকাতা। পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে সল্ট আউট হওয়ার আগেই স্বাগতিকদের স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৫৬ রান। মাত্র ১৪ বলেই ৪৮ রান করে মোহাম্মদ সিরাজের বলে আউট হন সল্ট। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৩টি ছয়।

৬৬ রানের মাথায় আরেক ওপেনার সুনীল নারিন ইয়াশ দয়ালের শিকারে পরিণত হন। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান নারিন এদিন ১৫ বল খেলে ১০ রান করেন। পাওয়ার প্লের শেষ বলে অংকৃশ রঘুবংশীর (৩) উইকেট হারায় কলকাতা। তার আগেই অবশ্য স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৭৫ রান।

ঝড় তুলেছিলেন ভেঙ্কটেশ আইয়ারও। কিন্তু ৮ বলে ১৬ রান করেই গ্রিনের শিকারে পরিণত হন তিনি। অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ও ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার রিঙ্কু সিংয়ের জুটিতে ২৯ বলে ৪০ রান যোগ হয়। রিঙ্কু ১৬ বলে ২৪ রান করে লকি ফার্গুসনের বলে আউট হন।

রিঙ্কুর বিদায়ের পর হাত খুলতে থাকেন অধিনায়ক শ্রেয়াস। দলীয় ১৭৯ রানে বিদায়ের আগে পূর্ণ করেন অর্ধশতক। ৩৬ বলে ৭ চার ও ১ ছয়ে ৫০ রান করেন তিনি।

আন্দ্রে রাসেল এদিন কিছুটা ছন্দহারা হলেও শেষের দিকে ঝড় তুলে কলকাতাকে বড় সংগ্রহ এনে দেন রামনদীপ। মতর ৯ বলে ২টি করে চার ও ছয়ে ২৪ রান করেন তিনি। রাসেল ২০ বলে ৪ চারে ২৭ রান করেন।

এই জয়ে ফের দুইয়ে উঠে এলো কলকাতা। ৭ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১০। সমান পয়েন্ট নিয়েও নেট রানরেটে পিছিয়ে থাকায় তিনে নেমে গেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। আর শীর্ষে থাকা রাজস্থান রয়্যালসের সংগ্রহ ১২ পয়েন্ট।