নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিগত বছরগুলোর চেয়ে এ বছর এখনও নির্বাচনের পরিবেশ ভালো বলে দাবি করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
প্রেস সচিব বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত চার জনের প্রাণহানি হয়েছে। এসব ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও নির্বাচনের পরিবেশ বিগত সরকারের আমলের চেয়ে ভালো।
শফিকুল আলম বলেন, বিগত সরকারের আমলে হওয়া নির্বাচনগুলোর এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ ভালো। ২০১৪ সালের আগে নির্বাচনে সহিংসতায় ১১৫ জন নিহত হয়েছেন। সেই হিসেব নির্বাচনী পরিবেশ ভালো। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যথেষ্ট সহিষ্ণুতা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শফিকুল আলম বলেন, আমরা মনে করছি— রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনও যথেষ্ট সহিষ্ণতা আছে এবং একটা- দুইটা অবশ্যই বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। আমরা সেটা অস্বীকার করছি না।
প্রেস সচিব বলেন, ইলেকশন ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে ২২ জানুয়ারি। আজকে ২৯ জানুয়ারি, ৮ দিনের মতো হয়েছে। এখানে তো আপনারা দেখছেন, যে ঘটনা ঘটছে যতদূর দেখা গেছে, আমাদের পুলিশের হিসাবে মারা গেছেন চারজন। এই ইলেকশন শিডিউল ঘোষণার পর মারা গেছেন মোট চারজন। ইলেকশনের এখনও প্রায় দুই সপ্তাহ বাকি আছে। এখনও বলার মতো কিছু হয়নি। কিন্তু আপনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি যে ইলেকশন হলো— তার আগের আপনি যদি ইলেকশনের সহিংসতা দেখেন, ওই ইলেকশনে ১১৫ জন মারা গিয়েছিল। সে অনুযায়ী আমরা মনে করি, রাজনৈতিক দলগুলো যথেষ্ট সহিষ্ণু আচরণ করছেন। তারা ভালো ক্যাম্পেইন করছেন এবং সত্যিকার অর্থে আপনি দেখবেন যে, তারা আইনগুলো মেনে চলছেন। আপনি খুব কম পোস্টার দেখবেন। পোস্টার কিন্তু আমরা সেরকম দেখছি না। আচরণবিধি খুব ভালোভাবে তারা মানছেন। আমরা আশা করছি, আগামী দিনগুলো অনেকটা বেটার যাবে। আর গ্র্যাজুয়ালি সিকিউরিটি ফোর্সেস ডিপ্লয়মেন্ট শুরু হবে। সে ক্ষেত্রে সিচুয়েশন আরও বেটার হবে, ইনশআল্লাহ।
সংবাদ সম্মেলনে কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ, আমদানি নীতি অধ্যাদেশসহ ১১টি অধ্যাদেশ পাশ হয়েছে বলেও জানান প্রেস সচিব।
প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশের খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অধ্যাদেশ–২০২৬-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন এবং বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণীজাত পণ্য সংঘনিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিবছর ২৩ মার্চ ‘বিএনসিসি ডে’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তিবিরোধী কনভেনশনের ৭০(১) ধারার আওতায় বাংলাদেশ কর্তৃক পূর্বে দেওয়া ঘোষণা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ক্যারিবীয় দেশ গায়ানায় বাংলাদেশের একটি নতুন কূটনৈতিক মিশন (সারফেয়ার্স/লোয়ার লেভেল মিশন) স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে ২০২৫–২০২৮ সময়কালের আমদানি নীতি আদেশের খসড়া, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ–২০২৬ এবং কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ–২০২৬–এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক ‘হেগ কনভেনশন অন সিভিল অ্যাসপেক্টস অব ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ড অ্যাবডাকশন-১৯৮০-এ বাংলাদেশের পক্ষভুক্ত হওয়ার প্রস্তাবও বৈঠকে অনুমোদন পায়।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, এসব সিদ্ধান্ত নারীদের সুরক্ষা, মানবাধিকার সংরক্ষণ, ক্রীড়া উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও নগর উন্নয়নে কাঠামোগত সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শেরপুরে জামায়াত নেতার মৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপ প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, ‘‘আমরা ঘটনার নিন্দা জানিয়েছি এবং পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। ঘটনা তদন্ত করে যারা এ ঘটনায় দায়ী, তাদেরকে চিহ্নিত করে যত দ্রুত সম্ভব তাদের গ্রেফতার করা যায়, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কাজ শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি এবং যিনি ঘটনার শিকার, ওনার মরদেহ আজকে বিকালে এলাকায় পৌঁছালে— জানাজা শেষে রাত আটটা নাগাদ পুলিশ জানিয়েছে, ওনার দাফন সম্পন্ন হবে। দাফন সম্পন্ন হলে পুলিশের পক্ষ থেকে ওনার পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হবে— তারা মামলা করতে ইচ্ছুক কিনা। যদি তারা মামলা করতে ইচ্ছুক হয় এবং তারা এ ঘটনায় কাউকে দায়ী করেন, তাহলে তাদের দাখিলকৃত এজাহার অনুযায়ী মামলা রজু করা হবে। যদি তারা অন্যভাবে ইচ্ছা করেন, তাহলে পুলিশ নিজ দায়িত্বে মামলা করবে এবং মামলা যখনই হোক পুলিশ জানিয়েছে, তাদের তদন্ত চলমান আছে। তারা চেষ্টা করছে, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং তথ্য প্রমাণ ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে যারা প্রকৃতভাবে দায়ী এ ঘটনার জন্য, তাদের চিহ্নিত করা সঠিকভাবে এবং চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা।’’
তিনি আরও জানান, অবশ্যই শক্ত পদক্ষেপ তো নেওয়া হচ্ছেই। শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেই ঘটনার ভিডিও ফুটেজসহ তথ্য উপস্থিত যারা আছে, সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে যারা প্রকৃতভাবে দায়ী, তাদের খুঁজে বের করা হচ্ছে। কারণ আপনি জানেন, কালকে যখন ঘটনাটা ঘটেছে, সেখানে অনেক মানুষ ছিল। ঢালাও একটা গ্রেফতার অভিযান না করে যারা ঘটনার জন্য প্রকৃতভাবে দায়ী, তাদেরকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে যাতে গ্রেফতার করা যায়, সেজন্য পুলিশ খুব নিভিড়ভাবে তদন্ত করছে। পরিবারের সাথেও যোগাযোগ রাখছে ভিকটিমের সঙ্গে, যাতে করে নিরপরাধ কেউ গ্রেফতার না হয়, বা অযথা হয়রানির শিকার না হয়, কিন্তু প্রকৃত অপরাধীরা যাতে কোনোভাবেই ছাড় না পায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















