Dhaka সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকায় পৌঁছেছে দুবাইয়ে নিহত আহমেদ আলীর মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি আহমেদ আলীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে এমিরেটস ইকে ৫৮২ (EK 582 )নম্বর ফ্লাইটযোগে ঢাকা পৌঁছায় তার মরদেহ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবা‌য়েদ ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক আহমেদ আলীর মরদেহ গ্রহণ করতে ঢাকা এয়ারপোর্টে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বিমানবন্দ‌রে উপস্থিত ছিলেন।

444

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আজ পর্যন্ত ৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সৌদি আরবে ২ জন, বাহরাইনে ১ জন ও দুবাইয়ে ১ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত ১৪ জনের মতো আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট শুরু হওয়ার পর যখন ফ্লাইট বন্ধ ছিল, তখন থেকেই যাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা করাসহ সংকট নিরসনে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, আজকেও আমরা সৌদিতে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। টাঙ্গাইলের নিবাসী নিহত বাচ্চু মিয়ার পরিবারের সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে।

নুরুল হক  বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জের যিনি মারা গিয়েছেন তার পরিবারের সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি। আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪ জন আহত আছেন। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে থাকা আমাদের দূতাবাসগুলো তাদের পূর্ণাঙ্গ সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেহেতু এই সংকটের ওপর আমাদের কোনো হাত নেই, তাই প্রবাসীদের প্রতি আমাদের পরামর্শ হলো- যতটুকু সম্ভব সংঘাতপূর্ণ এবং বিশেষ করে যে স্থানগুলো আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে, সেই এলাকাগুলো এড়িয়ে চলুন।

সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দেওয়া সতর্কতামূলক সাইরেন ও দিকনির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি প্রবাসীদের প্রতি অনুরোধ জানান, যাতে ওই দেশগুলোর আইনবিরোধী কোনো কনটেন্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার না করা হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, আমরা খুবই হৃদয়বিদারক একটি পরিস্থিতিতে এখানে এসেছি। বাংলাদেশের কাছে নাগরিকদের নিরাপত্তাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন,, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং নিহত আলী আহমেদের পরিবারের সদস্যরা মরদেহ মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় নিয়ে যাবেন। সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকদের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন,, গতকাল রিয়াদে আরও দুজন নিহত হয়েছেন। তাদের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। শামা ওবায়েদ বলেন, আমরা আশা করি যুদ্ধের এই অবস্থার অবসান ঘটবে এবং আমাদের আর কোনো মৃত্যু দেখতে হবে না।

ঢাকায় লাশ গ্রহণ ও ঢাকা থেকে সিলেটের মৌলভীবাজারে মরদেহ নিজ বাসভবনে পৌঁছানো পর্যন্ত সার্বিক সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

এয়ারপোর্টের সার্বিক কার্যক্রম শেষে বিমানযোগে মরদেহ নেওয়া হবে সিলেটের মৌলভীবাজারে।

আহমদ আলী দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে বসবাস করতেন। ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তিনি নিহত হন। পরিবারের সদস্যরা জানান, গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানেই তাকে সমাহিত করা হবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ঢাকায় পৌঁছেছে দুবাইয়ে নিহত আহমেদ আলীর মরদেহ

প্রকাশের সময় : ১২:৩১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি আহমেদ আলীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে এমিরেটস ইকে ৫৮২ (EK 582 )নম্বর ফ্লাইটযোগে ঢাকা পৌঁছায় তার মরদেহ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবা‌য়েদ ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক আহমেদ আলীর মরদেহ গ্রহণ করতে ঢাকা এয়ারপোর্টে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বিমানবন্দ‌রে উপস্থিত ছিলেন।

444

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আজ পর্যন্ত ৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সৌদি আরবে ২ জন, বাহরাইনে ১ জন ও দুবাইয়ে ১ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত ১৪ জনের মতো আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট শুরু হওয়ার পর যখন ফ্লাইট বন্ধ ছিল, তখন থেকেই যাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা করাসহ সংকট নিরসনে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, আজকেও আমরা সৌদিতে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। টাঙ্গাইলের নিবাসী নিহত বাচ্চু মিয়ার পরিবারের সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে।

নুরুল হক  বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জের যিনি মারা গিয়েছেন তার পরিবারের সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি। আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪ জন আহত আছেন। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে থাকা আমাদের দূতাবাসগুলো তাদের পূর্ণাঙ্গ সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেহেতু এই সংকটের ওপর আমাদের কোনো হাত নেই, তাই প্রবাসীদের প্রতি আমাদের পরামর্শ হলো- যতটুকু সম্ভব সংঘাতপূর্ণ এবং বিশেষ করে যে স্থানগুলো আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে, সেই এলাকাগুলো এড়িয়ে চলুন।

সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দেওয়া সতর্কতামূলক সাইরেন ও দিকনির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি প্রবাসীদের প্রতি অনুরোধ জানান, যাতে ওই দেশগুলোর আইনবিরোধী কোনো কনটেন্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার না করা হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, আমরা খুবই হৃদয়বিদারক একটি পরিস্থিতিতে এখানে এসেছি। বাংলাদেশের কাছে নাগরিকদের নিরাপত্তাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন,, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং নিহত আলী আহমেদের পরিবারের সদস্যরা মরদেহ মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় নিয়ে যাবেন। সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকদের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন,, গতকাল রিয়াদে আরও দুজন নিহত হয়েছেন। তাদের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। শামা ওবায়েদ বলেন, আমরা আশা করি যুদ্ধের এই অবস্থার অবসান ঘটবে এবং আমাদের আর কোনো মৃত্যু দেখতে হবে না।

ঢাকায় লাশ গ্রহণ ও ঢাকা থেকে সিলেটের মৌলভীবাজারে মরদেহ নিজ বাসভবনে পৌঁছানো পর্যন্ত সার্বিক সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

এয়ারপোর্টের সার্বিক কার্যক্রম শেষে বিমানযোগে মরদেহ নেওয়া হবে সিলেটের মৌলভীবাজারে।

আহমদ আলী দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে বসবাস করতেন। ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তিনি নিহত হন। পরিবারের সদস্যরা জানান, গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানেই তাকে সমাহিত করা হবে।