Dhaka সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকা মহানগরীর ৩৭ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র : ডিএমপি কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ঢাকা মহানগরীতে ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৩৭টি ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ডিএমপি কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা সংক্রান্ত’ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে থাকবে বডি ক্যামেরা। ডিএমপিতে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১৬১৪টি। এই কেন্দ্রগুলোতে ৪ জন করে পুলিশ সদস্য থাকবে। ৫১৭টি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। ৩৭টি ঝুঁকিপূর্ব কেন্দ্র রয়েছে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ৩৭টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, এই কেন্দ্রগুলোতে সাতজন করে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এছাড়া থাকবে বডি ক্যামেরা।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ডিএমপির ২৫ হাজার সদস্যের নির্বাচনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোতায়েন থাকবে ডিএমপির স্পেশাল রিজার্ভ ফোর্স, বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড।

হাদি হত্যা মামলায় জাতিসংঘের তদন্তের দাবি জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীদের ওপর নিজে লাঠিচার্জ করার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তবে সেদিন কর্তব্যরত মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের ওপরে গণহারে পুলিশের হামলা, মারধর, নির্যাতনের ঘটনায় প্রশ্ন শুনেও উত্তর এড়িয়ে গেলেন তিনি।

তিনি বলেন, যমুনাতে সরকার প্রধানের বাসভবন ঘেরাও করে ঢোকার চেষ্টা করলে এ অবস্থায় ডিএমপি কমিশনারের বসে থাকার সুযোগ আছে? আমি শুধু নিজেই যাইনি, আইজিপিকে ফোন করেছি।

গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আন্দোলন দমনে ডিএমপি কমিশনার নিজে কেন লাঠিচার্জ করলেন এবং উনার লাঠিচার্জের পর পুলিশ সদস্যরা অতিউৎসাহী হয়ে সাংবাদিকদের বেধড়ক পিঠিয়েছে ও ক্যামেরা ভাঙচুর, ল্যাং মেরে ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটায় পুলিশ। এমনটা কেন হলো ও যেসব পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনকারী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘যমুনাতে সরকার প্রধানের বাসভবন ঘেরাও করে ঢোকার চেষ্টা করলে এ অবস্থায় ডিএমপি কমিশনারের বসে থাকার সুযোগ আছে? আমি শুধু নিজেও যায়নি আইজিপিকে ফোন করেছি, ‘ভাই আমি একা পারতেছি না ইউ শুড কাম হেল্প মি’। যতক্ষণে উনি এসেছে আমরা ততক্ষণে আন্দোলকারীদের সরিয়ে দিয়েছি।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আপনারা এটা লেখেন, গত ১৫ মাসে ১০-২০টা লোক রাস্তা ব্লক করে ফেলে, প্রেগন্যান্ট মহিলা ডেলিভারির জন্য হাসপাতালে যেতে পারে না, হার্ট অ্যাটাকের রোগী যেতে পারছে না, পরীক্ষার্থী যেতে পারছে না, বিমানবন্দরের পেলেন মিস করতেছে, এগুলো লেখেন।

তিনি বলেন, শহরটাকে নিরাপদ রাখেন, মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখেন। আপনারা কথায় কথায় রাস্তা বন্ধ করেন, এটা কি মিথ্যা বলছি আমি? আপনিই (প্রশ্নকারী সাংবাদিক) তো মুভমেন্ট করতে পারেন না।

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যদের ওপর পুলিশের লাটিপেটার ঘটনার বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ওই দিন ছুটির দিন থাকায় ইনফর্মাল ড্রেসে আমি চুল কাটাচ্ছিলাম। তখন খবর পেলাম যমুনায় আন্দোলনকারীরা ঘিরে ধরেছে। আমি কোনো রকম প্রস্তুতি নিয়ে আসি, এসে দেখি অবস্থা ভয়াবহ। যেখানে সরকার প্রধান থাকেন, সেখানে যদি আন্দোলনকারীরা ঢুকে যায়, তাহলে পুলিশ কমিশনারের বসে থাকার সুযোগ আছে কিনা?

তবে সাংবাদিকদের ওপরে পুলিশের হামলা মারধরের ঘটনায় কোনো উত্তর দেননি তিনি। জড়িত অতিউৎসাহী পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত কিংবা ব্যবস্থা সম্পর্কেও কোনো মন্তব্য করেননি ডিএমপি কমিশনার।

নির্বাচন কেন্দ্রিক কোনো ধরনের হুমকি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো থ্রেট নাই, পরিবেশ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ভালো চলছে। ক্রাইম নাই, রাস্তা ব্লকিং নাই। ঢাকা শহরের জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ বললেও এই বিশাল জনগোষ্ঠীর শহরে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চমৎকার।

পুলিশের নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক অবস্থান পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, গত ১৫ মাস ধরে তিনি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এই সময়ে পুলিশ কোনো বিশেষ দলের হয়ে কাজ করেনি। পুলিশের কাজের ধরনই প্রমাণ করে যে তারা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষপাতিত্ব করছে না। পুলিশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সাংবাদিক, ডাক্তার এবং প্রকৌশলীসহ সব পেশাজীবীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সাংবাদিকদের ওপর হামলার আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন যে, পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনায় গণমাধ্যম কর্মীরাও রয়েছেন এবং কারো নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তারা করছেন না।

ভোট কারচুপি ও গুজবের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার পর প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে ব্যালটের মুডিগুলো গণনা করা হবে। বক্সে যতগুলো ব্যালট থাকবে তা অবশ্যই মুডির সংখ্যার সঙ্গে মিলতে হবে; যদি বাহির থেকে বাড়তি ব্যালট ঢোকানো হয়, তবে তা গণনায় ধরা পড়বে এবং সেই ফলাফল কেউ মেনে নেবে না। তিনি এই ধরনের অপপ্রচারকে গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানান।

ট্রাফিক জ্যামের কারণে ডেইলি স্টার ও দৈনিক প্রথম আলোতে হামলার সময় পুলিশ যেতে পারেনি বলে দাবি করে শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ডেইলি স্টার ও দৈনিক প্রথম আলোতে যে আক্রমণ হলো রাত ১১টার সময় ট্রাফিক জ্যামের কারণে আমার অফিসারদের সময় মতো সেখানে পাঠাতে পারেনি। যমুনাতে সরকার প্রধানের বাসভবন ঘেরাও করে ঢোকার চেষ্টা করলে সে অবস্থায় ডিএমপি কমিশনারের বসে থাকার সুযোগ আছে? আমি শুধু নিজেও যাইনি, আইজিপিকে ফোন করেছি, ‘ভাই আমি একা পারতেছি না, ইউ শুড কাম অ্যান্ড হেল্প মি’। যতক্ষণে উনি এসেছে আমরা ততক্ষণে আন্দোলকারীদের সরিয়ে দিয়েছি।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) সরওয়ার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এম নজরুল ইসলাম।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ঢাকা মহানগরীর ৩৭ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র : ডিএমপি কমিশনার

প্রকাশের সময় : ০১:০৬:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ঢাকা মহানগরীতে ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৩৭টি ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ডিএমপি কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা সংক্রান্ত’ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে থাকবে বডি ক্যামেরা। ডিএমপিতে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১৬১৪টি। এই কেন্দ্রগুলোতে ৪ জন করে পুলিশ সদস্য থাকবে। ৫১৭টি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। ৩৭টি ঝুঁকিপূর্ব কেন্দ্র রয়েছে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ৩৭টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, এই কেন্দ্রগুলোতে সাতজন করে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এছাড়া থাকবে বডি ক্যামেরা।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ডিএমপির ২৫ হাজার সদস্যের নির্বাচনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোতায়েন থাকবে ডিএমপির স্পেশাল রিজার্ভ ফোর্স, বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড।

হাদি হত্যা মামলায় জাতিসংঘের তদন্তের দাবি জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীদের ওপর নিজে লাঠিচার্জ করার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তবে সেদিন কর্তব্যরত মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের ওপরে গণহারে পুলিশের হামলা, মারধর, নির্যাতনের ঘটনায় প্রশ্ন শুনেও উত্তর এড়িয়ে গেলেন তিনি।

তিনি বলেন, যমুনাতে সরকার প্রধানের বাসভবন ঘেরাও করে ঢোকার চেষ্টা করলে এ অবস্থায় ডিএমপি কমিশনারের বসে থাকার সুযোগ আছে? আমি শুধু নিজেই যাইনি, আইজিপিকে ফোন করেছি।

গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আন্দোলন দমনে ডিএমপি কমিশনার নিজে কেন লাঠিচার্জ করলেন এবং উনার লাঠিচার্জের পর পুলিশ সদস্যরা অতিউৎসাহী হয়ে সাংবাদিকদের বেধড়ক পিঠিয়েছে ও ক্যামেরা ভাঙচুর, ল্যাং মেরে ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটায় পুলিশ। এমনটা কেন হলো ও যেসব পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনকারী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘যমুনাতে সরকার প্রধানের বাসভবন ঘেরাও করে ঢোকার চেষ্টা করলে এ অবস্থায় ডিএমপি কমিশনারের বসে থাকার সুযোগ আছে? আমি শুধু নিজেও যায়নি আইজিপিকে ফোন করেছি, ‘ভাই আমি একা পারতেছি না ইউ শুড কাম হেল্প মি’। যতক্ষণে উনি এসেছে আমরা ততক্ষণে আন্দোলকারীদের সরিয়ে দিয়েছি।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আপনারা এটা লেখেন, গত ১৫ মাসে ১০-২০টা লোক রাস্তা ব্লক করে ফেলে, প্রেগন্যান্ট মহিলা ডেলিভারির জন্য হাসপাতালে যেতে পারে না, হার্ট অ্যাটাকের রোগী যেতে পারছে না, পরীক্ষার্থী যেতে পারছে না, বিমানবন্দরের পেলেন মিস করতেছে, এগুলো লেখেন।

তিনি বলেন, শহরটাকে নিরাপদ রাখেন, মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখেন। আপনারা কথায় কথায় রাস্তা বন্ধ করেন, এটা কি মিথ্যা বলছি আমি? আপনিই (প্রশ্নকারী সাংবাদিক) তো মুভমেন্ট করতে পারেন না।

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যদের ওপর পুলিশের লাটিপেটার ঘটনার বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ওই দিন ছুটির দিন থাকায় ইনফর্মাল ড্রেসে আমি চুল কাটাচ্ছিলাম। তখন খবর পেলাম যমুনায় আন্দোলনকারীরা ঘিরে ধরেছে। আমি কোনো রকম প্রস্তুতি নিয়ে আসি, এসে দেখি অবস্থা ভয়াবহ। যেখানে সরকার প্রধান থাকেন, সেখানে যদি আন্দোলনকারীরা ঢুকে যায়, তাহলে পুলিশ কমিশনারের বসে থাকার সুযোগ আছে কিনা?

তবে সাংবাদিকদের ওপরে পুলিশের হামলা মারধরের ঘটনায় কোনো উত্তর দেননি তিনি। জড়িত অতিউৎসাহী পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত কিংবা ব্যবস্থা সম্পর্কেও কোনো মন্তব্য করেননি ডিএমপি কমিশনার।

নির্বাচন কেন্দ্রিক কোনো ধরনের হুমকি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো থ্রেট নাই, পরিবেশ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ভালো চলছে। ক্রাইম নাই, রাস্তা ব্লকিং নাই। ঢাকা শহরের জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ বললেও এই বিশাল জনগোষ্ঠীর শহরে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চমৎকার।

পুলিশের নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক অবস্থান পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, গত ১৫ মাস ধরে তিনি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এই সময়ে পুলিশ কোনো বিশেষ দলের হয়ে কাজ করেনি। পুলিশের কাজের ধরনই প্রমাণ করে যে তারা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষপাতিত্ব করছে না। পুলিশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সাংবাদিক, ডাক্তার এবং প্রকৌশলীসহ সব পেশাজীবীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সাংবাদিকদের ওপর হামলার আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন যে, পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনায় গণমাধ্যম কর্মীরাও রয়েছেন এবং কারো নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তারা করছেন না।

ভোট কারচুপি ও গুজবের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার পর প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে ব্যালটের মুডিগুলো গণনা করা হবে। বক্সে যতগুলো ব্যালট থাকবে তা অবশ্যই মুডির সংখ্যার সঙ্গে মিলতে হবে; যদি বাহির থেকে বাড়তি ব্যালট ঢোকানো হয়, তবে তা গণনায় ধরা পড়বে এবং সেই ফলাফল কেউ মেনে নেবে না। তিনি এই ধরনের অপপ্রচারকে গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানান।

ট্রাফিক জ্যামের কারণে ডেইলি স্টার ও দৈনিক প্রথম আলোতে হামলার সময় পুলিশ যেতে পারেনি বলে দাবি করে শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ডেইলি স্টার ও দৈনিক প্রথম আলোতে যে আক্রমণ হলো রাত ১১টার সময় ট্রাফিক জ্যামের কারণে আমার অফিসারদের সময় মতো সেখানে পাঠাতে পারেনি। যমুনাতে সরকার প্রধানের বাসভবন ঘেরাও করে ঢোকার চেষ্টা করলে সে অবস্থায় ডিএমপি কমিশনারের বসে থাকার সুযোগ আছে? আমি শুধু নিজেও যাইনি, আইজিপিকে ফোন করেছি, ‘ভাই আমি একা পারতেছি না, ইউ শুড কাম অ্যান্ড হেল্প মি’। যতক্ষণে উনি এসেছে আমরা ততক্ষণে আন্দোলকারীদের সরিয়ে দিয়েছি।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) সরওয়ার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এম নজরুল ইসলাম।