Dhaka সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জুলাইয়ের হারিয়ে যাওয়া নারী কণ্ঠস্বর খুঁজে বের করবো : নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সারাদেশের জুলাইয়ের যে সব নারী কণ্ঠস্বর হারিয়ে গিয়েছে আমরা তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করবো।

রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘জাতীয় নারী শক্তি’র আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান স্টেকহোল্ডার ছিল নারীরা। কিন্তু অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে একটি প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে জুলাইয়ের সেই সাহসী নারীরা এখন কোথায়?

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জুলাই আন্দোলনে সারাদেশে যে বিপুলসংখ্যক নারী রাজপথে নেমে এসেছিলেন, তাদের অনেকের কণ্ঠস্বর পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে। সেই সব নারী কর্মীদের খুঁজে বের করা এবং তাদের মতামত, অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশাগুলো সামনে নিয়ে আসা এখন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জুলাই আন্দোলনের অন্যতম বড় শক্তি ছিল নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। তাই যারা আন্দোলনের সময় সাহসিকতার সঙ্গে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের কণ্ঠ যেন হারিয়ে না যায়, সে জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে যত বড় গণআন্দোলন হয়েছে, সেখানে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন গণআন্দোলনেও নারীরা শুধু সমর্থন দেননি, বরং সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এসব আন্দোলনে সহিংসতার প্রধান লক্ষ্যও অনেক সময় নারীরাই হয়েছেন। তবুও নারীরা নিজেদের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে কখনো পিছিয়ে থাকেননি।

জাতীয় নারী শক্তির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান। ছবি : সংগৃহীত

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনের সূচনালগ্নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনা আন্দোলনকে নতুন মোড় দেয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের অগ্রভাগে নারীরা থাকায় তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। ওই সময় ঢাকা শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য ছাত্রী রাতের বেলায় রাজপথে নেমে এসে আন্দোলনে অংশ নেন। ফলে আন্দোলনের একটি নৈতিক শক্তি তৈরি হয় এবং তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আন্দোলনের সময় রাজপথে সক্রিয় থাকলেও পরবর্তী সময়ে অনেক নারী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত থাকতে পারেননি। সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক নানা বাস্তবতা, পারিবারিক চাপ এবং বিশেষ করে সাইবার বুলিংয়ের মতো সমস্যার কারণে অনেকেই পিছিয়ে গেছেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নারীদের লক্ষ্য করে যেভাবে অপপ্রচার ও হয়রানি চালানো হয়েছে, তা অনেককে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে এবং রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নারীদের অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘জাতীয় নারী শক্তি’ কাজ করবে। এই সংগঠন এনসিপির সহযোগী হিসেবে কাজ করলেও নারীদের বিষয়গুলোকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরবে এবং তাদের নিজস্ব অবস্থান থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে কাজ করবে। একই সঙ্গে সারাদেশে নারীদের সংগঠিত করা, তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ তৈরি করা এবং সামাজিক-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য এই সংগঠন কাজ করবে।

সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি বন্ধে সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারী কর্মী ও শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে নাহিদ ইসলাম ‘জাতীয় নারী শক্তি’ নামক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন। এই নতুন প্ল্যাটফর্মের মুখ্য সংগঠক হিসেবে নুসরাত তাবাসসুম, আহ্বায়ক হিসেবে মনিরা শারমিন এবং সদস্য সচিব হিসেবে ডা. মাহমুদা আলম মিতুর নাম ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন ভারত

জুলাইয়ের হারিয়ে যাওয়া নারী কণ্ঠস্বর খুঁজে বের করবো : নাহিদ ইসলাম

প্রকাশের সময় : ০৩:১০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সারাদেশের জুলাইয়ের যে সব নারী কণ্ঠস্বর হারিয়ে গিয়েছে আমরা তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করবো।

রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘জাতীয় নারী শক্তি’র আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান স্টেকহোল্ডার ছিল নারীরা। কিন্তু অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে একটি প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে জুলাইয়ের সেই সাহসী নারীরা এখন কোথায়?

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জুলাই আন্দোলনে সারাদেশে যে বিপুলসংখ্যক নারী রাজপথে নেমে এসেছিলেন, তাদের অনেকের কণ্ঠস্বর পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে। সেই সব নারী কর্মীদের খুঁজে বের করা এবং তাদের মতামত, অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশাগুলো সামনে নিয়ে আসা এখন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জুলাই আন্দোলনের অন্যতম বড় শক্তি ছিল নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। তাই যারা আন্দোলনের সময় সাহসিকতার সঙ্গে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের কণ্ঠ যেন হারিয়ে না যায়, সে জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে যত বড় গণআন্দোলন হয়েছে, সেখানে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন গণআন্দোলনেও নারীরা শুধু সমর্থন দেননি, বরং সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এসব আন্দোলনে সহিংসতার প্রধান লক্ষ্যও অনেক সময় নারীরাই হয়েছেন। তবুও নারীরা নিজেদের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে কখনো পিছিয়ে থাকেননি।

জাতীয় নারী শক্তির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান। ছবি : সংগৃহীত

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনের সূচনালগ্নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনা আন্দোলনকে নতুন মোড় দেয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের অগ্রভাগে নারীরা থাকায় তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। ওই সময় ঢাকা শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য ছাত্রী রাতের বেলায় রাজপথে নেমে এসে আন্দোলনে অংশ নেন। ফলে আন্দোলনের একটি নৈতিক শক্তি তৈরি হয় এবং তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আন্দোলনের সময় রাজপথে সক্রিয় থাকলেও পরবর্তী সময়ে অনেক নারী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত থাকতে পারেননি। সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক নানা বাস্তবতা, পারিবারিক চাপ এবং বিশেষ করে সাইবার বুলিংয়ের মতো সমস্যার কারণে অনেকেই পিছিয়ে গেছেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নারীদের লক্ষ্য করে যেভাবে অপপ্রচার ও হয়রানি চালানো হয়েছে, তা অনেককে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে এবং রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নারীদের অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘জাতীয় নারী শক্তি’ কাজ করবে। এই সংগঠন এনসিপির সহযোগী হিসেবে কাজ করলেও নারীদের বিষয়গুলোকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরবে এবং তাদের নিজস্ব অবস্থান থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে কাজ করবে। একই সঙ্গে সারাদেশে নারীদের সংগঠিত করা, তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ তৈরি করা এবং সামাজিক-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য এই সংগঠন কাজ করবে।

সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি বন্ধে সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারী কর্মী ও শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে নাহিদ ইসলাম ‘জাতীয় নারী শক্তি’ নামক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন। এই নতুন প্ল্যাটফর্মের মুখ্য সংগঠক হিসেবে নুসরাত তাবাসসুম, আহ্বায়ক হিসেবে মনিরা শারমিন এবং সদস্য সচিব হিসেবে ডা. মাহমুদা আলম মিতুর নাম ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।