Dhaka শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জিম্বাবুয়েকে ধবলধোলাই করতে পারেনি টাইগাররা

স্পোর্টস ডেস্ক : 

ব্যাটিংয়ে শুরুটা ভালো হলো না বাংলাদেশের। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নাজমুল হোসেন শান্তরা টেনে তুললেন এরপর। বোলিংয়ে বাজে দিন কাটালেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, শেখ মাহেদীরা। জিম্বাবুয়েকেও আর ধবলধোলাই করতে পারেনি টাইগাররা।

৫ ম্যাচ সিরিজের শেষ ম্যাচে এসে সফরকারী জিম্বাবুয়ের কাছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারতে হলো বাংলাদেশকে। জয়ের জন্য ১৫৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার ব্রায়ান বেনেত এবং অধিনায়ক সিকান্দার রাজার ব্যাটে ১৮.৩ ওভারেই (৯ বল হাতে রেখে) ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের দেওয়া ১৫৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা খারাপ ছিল না জিম্বাবুয়ের। যদিও সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান ও রিশাদ হোসেন পাওয়ার প্লেতে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন। তবে সাইফউদ্দিন ও শেখ মেহেদীর কল্যাণে রোডেশিয়ানরা প্রথম পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে ৪৩ রান তোলে। তাদের উদ্বোধনী জুটি টিকে ৩৮ রান পর্যন্ত। এর ভেতর পুরো রানই এসেছে বেনেটের ব্যাটে। সাকিবের বলে আউট হওয়া তাদিওয়ানাশে মারুমানি করেন মাত্র ১ রান।

এরপর বেনেটের সঙ্গে ৭৫ রানের জুটি গড়েন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক রাজা। সেখানেই ম্যাচ জয়ের ভিত তৈরি হয়ে যায় সফরকারীদের। এক সাকিব ছাড়া সব বোলারের বলেই ভয়ডরহীন বাউন্ডারি খেলেছেন বেনেট। তার সঙ্গে ধীরে ধীরে তাল মিলিয়ে রাজাও রানের গতি বাড়িয়েছেন। একপর্যায়ে ৩৬ বলে ফিফটি তুলে নেন বেনেট, যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার দ্বিতীয়। সাইফউদ্দিনের বলে আউট হওয়ার আগে এই ওপেনার ৪৯ বলে ৫টি করে চার–ছক্কায় ৭০ রান করেছেন।

তখনও জিম্বাবুয়ের কাজ বাকি ছিল যা জোনাথন ক্যাম্পবেলকে সঙ্গে নিয়ে নিরাপদে পার হয়েছেন রাজা। দুজনের ৪৫ রানের জুটিতেই সফরকারীদের সিরিজে প্রথম জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। ৪৬ বলে ৬টি চার ও ৪ ছক্কায় জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ৭২ রানে অপরাজিত ছিলেন।

বাংলাদেশের হয়ে ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে এক উইকেট পেয়েছেন সাকিব। সমান ওভারে ৫৫ রান দিয়ে সাইফউদ্দিনও এক উইকেট শিকার করেছেন।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটাই নড়বড়ে হয়েছিল। প্রথম ওভারে সৌম্য সরকার ছয় হাঁকিয়ে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দেন। কিন্তু সেই আবহ টিকল অল্প কিছুক্ষণ। কারণ দলীয় ৯ রানেই ফিরলেন দুই ওপেনার। ৬ রানের ব্যবধানে আউট তাওহীদ হৃদয়ও। প্রথমে ব্লেসিং মুজারাবানির বলে পুল করতে গিয়ে ২ রান করে ফিরেছেন তানজিদ। মুজারাবানি বল ছাড়ার আগেই যেন মারার মাইন্ডসেট ঠিক করে রেখেছিলেন তামিম। তার বাড়তি বাউন্স পুল করতে গিয়ে টাইগার ওপেনার খাড়া ওপরে তুলে দেন। আর কোনো রান যোগ না করতেই পরের ওভারে স্পিনার ব্রায়ান বেনেটের বলে আউট সৌম্য। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে কাট করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দিলেন ৭ বলে ৭ রান করে।

দুই ওপেনারকে হারানোর ধাক্কা সামলানোর আগে আউট নড়বড়ে হৃদয়ও (৬ বলে ১)। তিনিও বেনেটের বলে কাট করতে গিয়ে হয়েছেন কট বিহাইন্ড। ৪.১ ওভারে ১৫ রান তুলতে বাংলাদেশের নেই ৩ উইকেট। সেখান থেকে শান্ত-রিয়াদ মিলে ৬৯ রানের জুটি গড়েন। যা ১৫ বা এর কম রানে ৩ উইকেট পড়ার পর চতুর্থ উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। আগের সর্বোচ্চ জুটিতেও ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ মিলে ২০১২ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে চতুর্থ উইকেটে ৬২ রানের জুটি বাধেন।

এরপর সুইপ করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়েছেন শান্ত। বাংলাদেশ অধিনায়কের বিদায়ে ভাঙে রিয়াদের সঙ্গে তার ৬৩ রানের জুটি। ২৮ বলে শান্ত ৩৬ রান করেছেন। এরপর সাকিবকে নিয়ে রিয়াদ যোগ করেন আরও ৩৯ রান। এরই মাঝে রিয়াদ ৩৬ বলে বলে ফিফটি তুলে নেন। অথচ এরপর আর সেভাবে রান করতে পারেননি তিনি। পরের ৮ বলে করলেন মাত্র ৪ রান। মিড উইকেটে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন সাকিব। তাকে ফিরতে হয়েছে ১৭ বলে ২১ রান করে।

শেষদিকে জাকের আলীর ১১ বলে ২৪ রানের ক্যামিওতে অবশ্য ১৫০ পেরিয়ে স্বাগতিকরা ভালো একটা সংগ্রহই পেয়ে যায়। শেষ ২ ওভারে উঠেছে ২৯ রান।

জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ২টি করে উইকেট নেন মুজারাবানি ও বেনেট। এ ছাড়া ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ও লুক জংউই একটি করে শিকার করেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

জিম্বাবুয়েকে ধবলধোলাই করতে পারেনি টাইগাররা

প্রকাশের সময় : ০২:২৭:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ মে ২০২৪

স্পোর্টস ডেস্ক : 

ব্যাটিংয়ে শুরুটা ভালো হলো না বাংলাদেশের। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নাজমুল হোসেন শান্তরা টেনে তুললেন এরপর। বোলিংয়ে বাজে দিন কাটালেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, শেখ মাহেদীরা। জিম্বাবুয়েকেও আর ধবলধোলাই করতে পারেনি টাইগাররা।

৫ ম্যাচ সিরিজের শেষ ম্যাচে এসে সফরকারী জিম্বাবুয়ের কাছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারতে হলো বাংলাদেশকে। জয়ের জন্য ১৫৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার ব্রায়ান বেনেত এবং অধিনায়ক সিকান্দার রাজার ব্যাটে ১৮.৩ ওভারেই (৯ বল হাতে রেখে) ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের দেওয়া ১৫৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা খারাপ ছিল না জিম্বাবুয়ের। যদিও সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান ও রিশাদ হোসেন পাওয়ার প্লেতে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন। তবে সাইফউদ্দিন ও শেখ মেহেদীর কল্যাণে রোডেশিয়ানরা প্রথম পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে ৪৩ রান তোলে। তাদের উদ্বোধনী জুটি টিকে ৩৮ রান পর্যন্ত। এর ভেতর পুরো রানই এসেছে বেনেটের ব্যাটে। সাকিবের বলে আউট হওয়া তাদিওয়ানাশে মারুমানি করেন মাত্র ১ রান।

এরপর বেনেটের সঙ্গে ৭৫ রানের জুটি গড়েন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক রাজা। সেখানেই ম্যাচ জয়ের ভিত তৈরি হয়ে যায় সফরকারীদের। এক সাকিব ছাড়া সব বোলারের বলেই ভয়ডরহীন বাউন্ডারি খেলেছেন বেনেট। তার সঙ্গে ধীরে ধীরে তাল মিলিয়ে রাজাও রানের গতি বাড়িয়েছেন। একপর্যায়ে ৩৬ বলে ফিফটি তুলে নেন বেনেট, যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার দ্বিতীয়। সাইফউদ্দিনের বলে আউট হওয়ার আগে এই ওপেনার ৪৯ বলে ৫টি করে চার–ছক্কায় ৭০ রান করেছেন।

তখনও জিম্বাবুয়ের কাজ বাকি ছিল যা জোনাথন ক্যাম্পবেলকে সঙ্গে নিয়ে নিরাপদে পার হয়েছেন রাজা। দুজনের ৪৫ রানের জুটিতেই সফরকারীদের সিরিজে প্রথম জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। ৪৬ বলে ৬টি চার ও ৪ ছক্কায় জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ৭২ রানে অপরাজিত ছিলেন।

বাংলাদেশের হয়ে ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে এক উইকেট পেয়েছেন সাকিব। সমান ওভারে ৫৫ রান দিয়ে সাইফউদ্দিনও এক উইকেট শিকার করেছেন।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটাই নড়বড়ে হয়েছিল। প্রথম ওভারে সৌম্য সরকার ছয় হাঁকিয়ে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দেন। কিন্তু সেই আবহ টিকল অল্প কিছুক্ষণ। কারণ দলীয় ৯ রানেই ফিরলেন দুই ওপেনার। ৬ রানের ব্যবধানে আউট তাওহীদ হৃদয়ও। প্রথমে ব্লেসিং মুজারাবানির বলে পুল করতে গিয়ে ২ রান করে ফিরেছেন তানজিদ। মুজারাবানি বল ছাড়ার আগেই যেন মারার মাইন্ডসেট ঠিক করে রেখেছিলেন তামিম। তার বাড়তি বাউন্স পুল করতে গিয়ে টাইগার ওপেনার খাড়া ওপরে তুলে দেন। আর কোনো রান যোগ না করতেই পরের ওভারে স্পিনার ব্রায়ান বেনেটের বলে আউট সৌম্য। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে কাট করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দিলেন ৭ বলে ৭ রান করে।

দুই ওপেনারকে হারানোর ধাক্কা সামলানোর আগে আউট নড়বড়ে হৃদয়ও (৬ বলে ১)। তিনিও বেনেটের বলে কাট করতে গিয়ে হয়েছেন কট বিহাইন্ড। ৪.১ ওভারে ১৫ রান তুলতে বাংলাদেশের নেই ৩ উইকেট। সেখান থেকে শান্ত-রিয়াদ মিলে ৬৯ রানের জুটি গড়েন। যা ১৫ বা এর কম রানে ৩ উইকেট পড়ার পর চতুর্থ উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। আগের সর্বোচ্চ জুটিতেও ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ মিলে ২০১২ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে চতুর্থ উইকেটে ৬২ রানের জুটি বাধেন।

এরপর সুইপ করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়েছেন শান্ত। বাংলাদেশ অধিনায়কের বিদায়ে ভাঙে রিয়াদের সঙ্গে তার ৬৩ রানের জুটি। ২৮ বলে শান্ত ৩৬ রান করেছেন। এরপর সাকিবকে নিয়ে রিয়াদ যোগ করেন আরও ৩৯ রান। এরই মাঝে রিয়াদ ৩৬ বলে বলে ফিফটি তুলে নেন। অথচ এরপর আর সেভাবে রান করতে পারেননি তিনি। পরের ৮ বলে করলেন মাত্র ৪ রান। মিড উইকেটে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন সাকিব। তাকে ফিরতে হয়েছে ১৭ বলে ২১ রান করে।

শেষদিকে জাকের আলীর ১১ বলে ২৪ রানের ক্যামিওতে অবশ্য ১৫০ পেরিয়ে স্বাগতিকরা ভালো একটা সংগ্রহই পেয়ে যায়। শেষ ২ ওভারে উঠেছে ২৯ রান।

জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ২টি করে উইকেট নেন মুজারাবানি ও বেনেট। এ ছাড়া ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ও লুক জংউই একটি করে শিকার করেন।