Dhaka শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাফরুল্লাহ-নিক্সনের ২৩ চেয়ারম্যানসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী বিএনপিতে

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :

গত এক মাসে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় জাফরুল্লাহ ও নিক্সন চৌধুরীর ২৩ চেয়ারম্যানসহ ৪-৫ হাজার নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন। গত এক মাসে বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশ কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম খান বাবুলের হাতে ফুল দিয়ে চেয়ারম্যানসহ ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগের নেতাকর্মী যোগদান করেন।

বর্তমান ও সাবেক যেসব চেয়ারম্যান যোগদান করেছেন তারা হলেন- ভাঙ্গা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. কাউছার ভূঁইয়া ও মোশারফ হোসেন, ভাইস-চেয়ারম্যান এচাহাক মোল্লা ও পারুলী বেগম এবং ঘারুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনসুর মুন্সী ও সাবেক চেয়ারম্যান শফিউদ্দিন মোল্লা, কালামৃর্ধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল মাতুব্বর ও সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হক, আজিমনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান হাওলাদার ও সাবেক চেয়ারম্যান মোতালেব, তুজারপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান অলিউর রহমান ও সাবেক চেয়ারম্যান পরিমল চন্দ্র, হামেরদী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান খোকন মিয়া ও সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার মাতুব্বর, চুমুরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহাগ মাতুব্বর, চান্দ্রা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক মোল্লা ও সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন, মানিকদাহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাচ্চু মিয়া, নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহাবুর আলম, কাওলিবেড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম দুদুমিয়া, নাসিরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর খান, ভাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল হক মিরু মুন্সি, ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুবাহান মুন্সী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ওই সাবেক ঘারুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, চুমুরদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও মো. জালাল মিয়া।

যোগদানের পর থেকে চলছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। এসব ও চেয়ারম্যান ও নেতাকর্মীদের ৩-৪টি করে মামলা রয়েছে। তারা গ্রেফতার এড়াতে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এমন মন্তব্য করেছেন অনেক বিএনপির নেতা। তবে ভোটের মাঠে বিএনপির কতটুকু সাফল্য বয়ে আনবে এটাই দেখার বিষয়।

আবার কয়েকজন বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিক্সন চৌধুরী ও জাফরুল্লাহর শাসনামলে এরাই ছিল সামনের কাতারে এবং কাজী জাফরুল্লাহ জেলে ও নিক্সন চৌধুরী পলাতক থাকার পরও সেসব নেতাকর্মী তারাই আবার সামনের কাতারে স্থান পেয়েছেন।

তবে বিএনপির নেতাকর্মী বিগত ১৭ বছর ধরে জেল জুলুম ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এটা তারা বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না বলে নাম প্রকাশ না করা শর্তে এসব মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. ওবায়দুল আলম সম্রাট বলেন, আমাদের নেতা শহিদুল ইসলাম বাবুল ভাই ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন ইনশাল্লাহ তিনি জয়যুক্ত হবেন। গত এক মাস ধরে আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী বাবুল ভাইয়ের সঙ্গে যোগদান করেছেন। তারা ৫ আগস্ট ও পরবর্তীতে কোনো অপরাধীর সঙ্গে জড়িত নয়, তারা কেউ আন্তর্জাতিক অপরাধমূলক কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। বিধায় জাফরুল্লাহ ও নিক্সন চৌধুরীর নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী বাবুল ভাইয়ের হাত ধরে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। তবে যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত তারা পালিয়ে গেছে। তাদের কাউকে বিএনপিতে যোগদান করাননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন-তাদের জন্য বিএনপির দরজা খোলা।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

জাফরুল্লাহ-নিক্সনের ২৩ চেয়ারম্যানসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী বিএনপিতে

জাফরুল্লাহ-নিক্সনের ২৩ চেয়ারম্যানসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী বিএনপিতে

প্রকাশের সময় : ০৯:৩৪:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :

গত এক মাসে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় জাফরুল্লাহ ও নিক্সন চৌধুরীর ২৩ চেয়ারম্যানসহ ৪-৫ হাজার নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন। গত এক মাসে বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশ কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম খান বাবুলের হাতে ফুল দিয়ে চেয়ারম্যানসহ ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগের নেতাকর্মী যোগদান করেন।

বর্তমান ও সাবেক যেসব চেয়ারম্যান যোগদান করেছেন তারা হলেন- ভাঙ্গা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. কাউছার ভূঁইয়া ও মোশারফ হোসেন, ভাইস-চেয়ারম্যান এচাহাক মোল্লা ও পারুলী বেগম এবং ঘারুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনসুর মুন্সী ও সাবেক চেয়ারম্যান শফিউদ্দিন মোল্লা, কালামৃর্ধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল মাতুব্বর ও সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হক, আজিমনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান হাওলাদার ও সাবেক চেয়ারম্যান মোতালেব, তুজারপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান অলিউর রহমান ও সাবেক চেয়ারম্যান পরিমল চন্দ্র, হামেরদী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান খোকন মিয়া ও সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার মাতুব্বর, চুমুরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহাগ মাতুব্বর, চান্দ্রা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক মোল্লা ও সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন, মানিকদাহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাচ্চু মিয়া, নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহাবুর আলম, কাওলিবেড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম দুদুমিয়া, নাসিরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর খান, ভাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল হক মিরু মুন্সি, ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুবাহান মুন্সী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ওই সাবেক ঘারুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, চুমুরদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও মো. জালাল মিয়া।

যোগদানের পর থেকে চলছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। এসব ও চেয়ারম্যান ও নেতাকর্মীদের ৩-৪টি করে মামলা রয়েছে। তারা গ্রেফতার এড়াতে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এমন মন্তব্য করেছেন অনেক বিএনপির নেতা। তবে ভোটের মাঠে বিএনপির কতটুকু সাফল্য বয়ে আনবে এটাই দেখার বিষয়।

আবার কয়েকজন বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিক্সন চৌধুরী ও জাফরুল্লাহর শাসনামলে এরাই ছিল সামনের কাতারে এবং কাজী জাফরুল্লাহ জেলে ও নিক্সন চৌধুরী পলাতক থাকার পরও সেসব নেতাকর্মী তারাই আবার সামনের কাতারে স্থান পেয়েছেন।

তবে বিএনপির নেতাকর্মী বিগত ১৭ বছর ধরে জেল জুলুম ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এটা তারা বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না বলে নাম প্রকাশ না করা শর্তে এসব মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. ওবায়দুল আলম সম্রাট বলেন, আমাদের নেতা শহিদুল ইসলাম বাবুল ভাই ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন ইনশাল্লাহ তিনি জয়যুক্ত হবেন। গত এক মাস ধরে আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী বাবুল ভাইয়ের সঙ্গে যোগদান করেছেন। তারা ৫ আগস্ট ও পরবর্তীতে কোনো অপরাধীর সঙ্গে জড়িত নয়, তারা কেউ আন্তর্জাতিক অপরাধমূলক কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। বিধায় জাফরুল্লাহ ও নিক্সন চৌধুরীর নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী বাবুল ভাইয়ের হাত ধরে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। তবে যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত তারা পালিয়ে গেছে। তাদের কাউকে বিএনপিতে যোগদান করাননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন-তাদের জন্য বিএনপির দরজা খোলা।