কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে বাবার মরদেহ দেখে বারবার ভেঙে পড়েন হাজতি মিলন মিয়া (৪৫)। রাজনৈতিক মামলায় আটক থাকায় বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলের (সাময়িক মুক্তি) আবেদন করেছিলেন তিনি। তবে সেই আবেদন নামঞ্জুর হলে শেষ পর্যন্ত বাবার মরদেহ আনা হয় কারাগারে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে এ ঘটনা ঘটে। এ দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্বজন ও উপস্থিত ব্যক্তিরা।
মিলন মিয়া (৪৫) কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর এলাকার বাসিন্দা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা মামলায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে কারাগারে আছেন। ওই মামলায় জামিন পেলেও সম্প্রতি বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। মিলন মিয়া আওয়ামী লীগের কোনও পদ-পদবিতে নেই বলেও দাবি করেছেন স্বজনরা।
স্বজন ও আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিলনের বাবা ফুল মিয়া (৭০) দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর পর বাবার জানাজায় অংশ নিতে মিলন মিয়ার প্যারোলে মুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। তবে আবেদন নামঞ্জুর করে মরদেহ কারা ফটকে নিয়ে দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
মিলনের চাচা মতিউর রহমান বলেন, ‘কারাগারে বাবার মরদেহ দেখে মিলন কান্নায় ভেঙে পড়ে। প্যারোলে মুক্তির অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত মরদেহ কারাগারে আনতে হয়েছে। মিলন আওয়ামী লীগের কোনও পদ-পদবিতে ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘আমার ভাতিজাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা একটি মামলায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গ্রেফতার করে ভৈরব থানা পুলিশ। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি একটি মামলায় জামিন হলেও বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। আমাকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও অন্য স্বজনরা পান সাধারণ সাক্ষাতের সুযোগ। ৬০ কিলোমিটার দূর থেকে মরদেহ কারাগারে আনতে হয়েছে। এই সময় দাফন-কাফনে থাকার কথা। কিন্তু আমাদের ছুটতে হয়েছে আদালত আর কারাগারে।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল মোমেন ভূঁইয়া বলেন, ‘মিলনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ নেই। একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর আবার নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের পদে নেই। কোনও মামলায় এজাহারনামীয় আসামিও নন। পুলিশ সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করেছে।’
কিশোরগঞ্জ কারাগারের জেল সুপার রিতেশ চাকমা বলেন, ‘জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারের ফটকে মরদেহ দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়।’
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 






















