Dhaka শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গত ১৫ বছরের দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে, আমাদের পুনর্নির্মাণ করতে হবে : তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

গত ১৫ বছরের দুঃশাসনে দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। আমাদের বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ভাষানটেকে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনি প্রচারণায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, গত ১৫ বছরের দুঃশাসনে দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। আমাদের বাংলাদেশকে পুনর্র্নিমাণ করতে হবে। যদি বাংলাদেশকে পুনর্র্নিমাণ করতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কারণ, গণতান্ত্রিকভাবে যদি আপনারা আপনাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন, তাহলেই একমাত্র এলাকার সমস্যা নিয়ে তার কাছে যেতে পারবেন।

১৫ বছরের দুঃশাসন পেছনে ফেলে জনগণ এখন বড় পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষায় আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলাকার সমস্যা যদি সমাধান করতে হয়, দেশের উন্নয়ন যদি করতে হয় তাহলে অবশ্যই আমাদের গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করতে হবে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে। ভোট দিয়ে তার নিজের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে।

ভাসানটেকে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান

তারেক রহমান বলেন, শুধু জাতীয় নির্বাচনে নয়, একইসঙ্গে পৌরসভা-উপজেলা-ইউনিয়ন পরিষদ, সব জায়গায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। অর্থাৎ, সব জায়গায় জবাবদিহিতা থাকতে হবে। আর যারা জনপ্রতিনিধি হবেন, তাদের অবশ্যই জানতে হবে জনগণের সমস্যা কী। এ সময় জনসভা মঞ্চে স্থানীয় কয়েকজনকে ডেকে ভাষানটেকের মৌলিক সমস্যার কথাও শোনেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আন্দোলন ও সংগ্রাম হয়েছে। স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এখন দেশ গঠন করতে হবে। স্বৈরাচারের কারণে আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়েছিল। এখন দেশ পুনর্গঠনে নিজেদের প্রতিনিধি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করতে হবে। আমি, তুমি ও ডামির নির্বাচন যখন হয়েছে, তখন সমস্যা নিয়ে জনপ্রতিনিধির কাছে যাওয়া যায়নি। গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

জনসভায় অংশ নেয়া মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আপনাদের মুখ থেকে সমস্যা জানতে চাই। আমার প্রত্যাশা প্রতিটি জনপ্রতিনিধি আগামী দিনে জনগণের কাছে যাবেন, তাদের সমস্যা শুনে সমাধান করবেন।

এ সময় নিজের পরিকল্পনা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কৃষকের জন্য বিশেষ কার্ড, ঋণের ব্যবস্থা করে কৃষির উন্নয়নে কাজ করবে বিএনপি। এছাড়া যুবকদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে দক্ষ করে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে চাই আমরা। যাতে ভবিষ্যতে তারা কর্মসংস্থান, বিদেশে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে যাওয়া বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে পারে। নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করাসহ তাদের ক্ষমতায়নে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে বিএনপি কাজ করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

করব কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এই শপথ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধানের শীষকে যতবার জনগণ নির্বাচিত করেছে, ততবার উন্নতি হয়েছে মানুষের। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে সারাদেশে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে। সবার আত্মীয় স্বজনকেও অনুরোধ করবেন, ধানের শীষে ভোট দিতে।

বক্তব্য শুরুর আগে ভাষাণটেকের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি একজন ভ্যানচালক, গৃহিণী, বস্তিবাসী, ছাত্রদের সঙ্গে ভাষাণটেকের সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। পাশাপাশি নির্বাচিত হলে ও ক্ষমতায় গেলে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
ভবিষ্যতে জনপ্রতিনিধিদের জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখতে চান তারেক রহমান।

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, কৃষি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন এবং বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘কৃষকদের জন্য বিশেষ কার্ড চালু করা হবে, সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে এবং কৃষি খাতকে আধুনিক ও টেকসই করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি যুবকদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।’

নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণের কথাও জানান তারেক রহমান। একই সঙ্গে বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন ও জীবনমান উন্নয়নে বিএনপি কাজ করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, আমরা অতীতে দেখেছি এই জনগণের পাশে কারা এসে দাঁড়িয়েছে। কাজেই আমরা যদি অতীতের সবগুলো কাজ বিবেচনা করি, আমরা দেখব, একমাত্র ধানের শীষকে যতবার নির্বাচিত করেছে এই দেশের মানুষ, ততবারই এই দেশের উন্নয়ন হয়েছে। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে, ভালো পরিবর্তন হয়েছে। কাজেই আমি ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আপনাদের কাছে ভোট চেয়ে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি গত ১৫/১৬ বছর কী হয়েছে। চব্বিশের ৫ অগাস্ট দেশে একটি পরিবর্তন হয়েছে। আমি মনে করি, সারা দেশের মানুষ একটি পরিবর্তন চায়, ভালো পরিবর্তন চায়। মানুষের সমস্যাগুলো যাতে সমাধান হয়, মানুষের চলাফেরা, মানুষের নিরাপত্তা, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান, দেশে বেকার তরুণ-তরুণী যারা আছে, যুবক আছে, যারা কর্মহীন অবস্থায় আছে তাদের কর্মসংস্থান করা…এইগুলোর সমাধান চায় মানুষ।

সমাবেশ মঞ্চে ভাষানটেকের বাসিন্দাদের কয়েকজনকে ডেকে নেন তারেক রহমান। তাদের কাছে থেকে সমস্যার কথা শোনেন।

মঞ্চে ডাক পাওয়া বাসিন্দারা ভাসানটেকের বস্তিবাসীর পুনর্বাসন, নারীদের কর্মসংস্থান ও ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া তুলে ধরেন।

ভাষানটেকের মানুষের প্রত্যাশা শুনলেন তারেক, দিলেন প্রতিশ্রুতি

জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আমিও এ এলাকায় গত ৫০ বছর যাবত বড় হয়েছি। যদিও মধ্যে অনেকদিন বাইরে থাকতে হয়েছে আমাকে। তারপরও আমি আপনাদেরই একজন স্বাভাবিকভাবেই যখন আমি এই এলাকার প্রার্থী হয়েছি। আমি আপনাদের এতটুকু বলতে পারি, ইনশাআল্লাহ আপনাদের দোয়া, আল্লাহর রহমতে আগামী নির্বাচনে আমি জয়ী হলে এবং ধানের শীষ সরকার গঠনে সক্ষম হলে, আজকে এই যে কয়জন মানুষ এখানে উপস্থিত হাজার হাজার এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে যে সমস্যার কথা বলে গেছেন, ইনশাল্লাহ আমরা সেই সমস্যার সমাধান করব।

পাশের বসা সাবেক ফুটবল দলের অধিনায়ক আমিনুল হককে দেখিয়ে তিনি বলেন, এখানে আমিনুল হককে চেনেন। ফুটবল খেলতো। আমাদের দেশের তরুণ যুবক যারা আছেন সবাই আর ব্যারিস্টার, উকিল, ডাক্তার হবে না। এখানে অনেকে আছে খেলোয়াড় হতে চায়। আমরা দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থাটাকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে চাই যাতে আমদের দেশের ছেলে মেয়েরা প্রফেশনাল খেলোয়াড় হতে পারে। খেলা দিয়ে যাতে জীবিকা অর্জন করতে পারে। সেই প্রতিভাগুলো খুঁজে বের করে নিয়ে আসতে চাই।

তারেক বলেন, এই এলাকার মূল সমস্যা যদি সমাধান করতে হয়, একই সাথে সারা দেশের সামগ্রিক যে সমস্যা আছে মানুষের নিরাপত্তা, মানুষের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা,  এগুলাকে চিহ্নি করতে হলে অবশ্যই আগামী দিনে আমাদের গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এবং সাধারণ মানুষের দ্বারা নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। নির্বাচিত সরকারই মানুষর সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হবে।

গত ১৫/১৬ বছরে দেশের অনেক খাত ধ্বংস হয়ে গেছে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেছেন, “এই ধ্বংস হওয়ার ফলে দেশ অনেক পিছিয়ে গিয়েছে। আমাদের এগুলোকে পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এর জন্য গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কেন প্রতিষ্ঠিত করতে হবে? কারণ গণতান্ত্রিকভাবে আপনারা যদি আপনাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেন, তাহলেই কিন্তু আপনার এলাকার সমস্যা তার কাছে নিয়ে যেতে পারবেন।

তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর যে নির্বাচন হয়েছিল, সেই নির্বাচনে যে তথাকথিত এমপি ছিল, আপনারা কি তাদের যেতে পেরেছিলেন? আপনাদের এলাকার সমস্যা নিয়ে যেতে পেরেছেন? পারেন নাই। সেই জন্যই এলাকার সমস্যার সমাধান যদি করতে হয়, দেশের উন্নয়ন যদি করতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে। আপনারা যদি প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেন, শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন নয়, একইসঙ্গে সেটি পৌরসভা হোক, উপজেলা হোক, ইউনিয়ন পরিষদ হোক, সব জায়গায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের যদি এই এলাকার মূল সমস্যার সমাধান করতে হয়, দেশের সামগ্রিক যে সমস্যাগুলো আছে, মানুষের নিরাপত্তা, মানুষের কর্মসংস্থান, মানুষের শিক্ষা, মানুষের চিকিৎসা- এগুলো আমাদের সমাধান করতে হয় অবশ্যই আগামী দিনে গণতান্ত্রিক ও সাধারণ মানুষের দ্বারা নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। মানুষের নির্বাচিত সরকার মানুষের সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে। একইসঙ্গে আপনাদের আমি অনুরোধ করছি, যেই পরিকল্পনার কথাগুলো আপনাদের সামনে আমি তুলে ধরলাম, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে। আপনাদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব পরিচিত জন সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে, তাদের বলুন আপনারা। আজকে আপনাদের প্রার্থী হিসেবে আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে, আগামী ১২ তারিখে যেন তারা ধানের শীষকে নির্বাচিত করেন, এই দাবি আমি আপনাদের এলাকার সন্তান হিসেবে করছি।

রাজধানীর ভাসানটেকের বিআরবি স্কুল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য রাখছেন তারেক রহমান (ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল)

ভাষানটেকের সমাবেশ মঞ্চে তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানও ছিলেন। তিনি মাইক নিয়ে ভাষানটেকের বাসিন্দা, তরুণ শিক্ষার্থী, শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন স্তরের একজন করে ডেকে নেন। তাদের কাছে ভাসানটেকের সমস্যাগুলো শোনেন।

এসময় উপস্থিত সবাইকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে তিনি বলেন, করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। ধানের শীষকে যতবার নির্বাচিত করেছে ততবার দেশে উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। আমি ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আপনাদের কাছে আমি ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাচ্ছি। একইসঙ্গে অনুরোধ করছি আমার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে সবমন্ত্র বাংলাদেশে ধানের শীষের প্রার্থীদের জয়ী করতে হবে। এবং ভাসানটেকের আত্মীয়স্বজন সারাদেশে ছড়িয়ে আছে, তাদের সবাইকে অনুরোধ করবেন আগামী ১২ তারিখে যেন ধানের শীষে ভোট দেয়।

ভাসানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক কাদির মাহমুদের সভাপতিত্বে জনসভায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, নাজিম উদ্দীন আলম, ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দীন জুয়েল, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির, জাগপা নেতা খন্দকার লুৎফর রহমান বক্তব্য দেন।

এছাড়া ঢাকা-১৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টন, যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি রেজাউল করিম পল, ছাত্রদল পশ্চিমের সভাপতি রবিন খানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

গত ১৫ বছরের দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে, আমাদের পুনর্নির্মাণ করতে হবে : তারেক রহমান

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৬:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

গত ১৫ বছরের দুঃশাসনে দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। আমাদের বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ভাষানটেকে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনি প্রচারণায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, গত ১৫ বছরের দুঃশাসনে দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। আমাদের বাংলাদেশকে পুনর্র্নিমাণ করতে হবে। যদি বাংলাদেশকে পুনর্র্নিমাণ করতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কারণ, গণতান্ত্রিকভাবে যদি আপনারা আপনাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন, তাহলেই একমাত্র এলাকার সমস্যা নিয়ে তার কাছে যেতে পারবেন।

১৫ বছরের দুঃশাসন পেছনে ফেলে জনগণ এখন বড় পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষায় আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলাকার সমস্যা যদি সমাধান করতে হয়, দেশের উন্নয়ন যদি করতে হয় তাহলে অবশ্যই আমাদের গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করতে হবে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে। ভোট দিয়ে তার নিজের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে।

ভাসানটেকে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান

তারেক রহমান বলেন, শুধু জাতীয় নির্বাচনে নয়, একইসঙ্গে পৌরসভা-উপজেলা-ইউনিয়ন পরিষদ, সব জায়গায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। অর্থাৎ, সব জায়গায় জবাবদিহিতা থাকতে হবে। আর যারা জনপ্রতিনিধি হবেন, তাদের অবশ্যই জানতে হবে জনগণের সমস্যা কী। এ সময় জনসভা মঞ্চে স্থানীয় কয়েকজনকে ডেকে ভাষানটেকের মৌলিক সমস্যার কথাও শোনেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আন্দোলন ও সংগ্রাম হয়েছে। স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এখন দেশ গঠন করতে হবে। স্বৈরাচারের কারণে আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়েছিল। এখন দেশ পুনর্গঠনে নিজেদের প্রতিনিধি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করতে হবে। আমি, তুমি ও ডামির নির্বাচন যখন হয়েছে, তখন সমস্যা নিয়ে জনপ্রতিনিধির কাছে যাওয়া যায়নি। গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

জনসভায় অংশ নেয়া মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আপনাদের মুখ থেকে সমস্যা জানতে চাই। আমার প্রত্যাশা প্রতিটি জনপ্রতিনিধি আগামী দিনে জনগণের কাছে যাবেন, তাদের সমস্যা শুনে সমাধান করবেন।

এ সময় নিজের পরিকল্পনা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কৃষকের জন্য বিশেষ কার্ড, ঋণের ব্যবস্থা করে কৃষির উন্নয়নে কাজ করবে বিএনপি। এছাড়া যুবকদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে দক্ষ করে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে চাই আমরা। যাতে ভবিষ্যতে তারা কর্মসংস্থান, বিদেশে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে যাওয়া বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে পারে। নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করাসহ তাদের ক্ষমতায়নে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে বিএনপি কাজ করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

করব কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এই শপথ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধানের শীষকে যতবার জনগণ নির্বাচিত করেছে, ততবার উন্নতি হয়েছে মানুষের। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে সারাদেশে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে। সবার আত্মীয় স্বজনকেও অনুরোধ করবেন, ধানের শীষে ভোট দিতে।

বক্তব্য শুরুর আগে ভাষাণটেকের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি একজন ভ্যানচালক, গৃহিণী, বস্তিবাসী, ছাত্রদের সঙ্গে ভাষাণটেকের সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। পাশাপাশি নির্বাচিত হলে ও ক্ষমতায় গেলে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
ভবিষ্যতে জনপ্রতিনিধিদের জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখতে চান তারেক রহমান।

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, কৃষি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন এবং বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘কৃষকদের জন্য বিশেষ কার্ড চালু করা হবে, সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে এবং কৃষি খাতকে আধুনিক ও টেকসই করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি যুবকদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।’

নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণের কথাও জানান তারেক রহমান। একই সঙ্গে বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন ও জীবনমান উন্নয়নে বিএনপি কাজ করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, আমরা অতীতে দেখেছি এই জনগণের পাশে কারা এসে দাঁড়িয়েছে। কাজেই আমরা যদি অতীতের সবগুলো কাজ বিবেচনা করি, আমরা দেখব, একমাত্র ধানের শীষকে যতবার নির্বাচিত করেছে এই দেশের মানুষ, ততবারই এই দেশের উন্নয়ন হয়েছে। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে, ভালো পরিবর্তন হয়েছে। কাজেই আমি ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আপনাদের কাছে ভোট চেয়ে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি গত ১৫/১৬ বছর কী হয়েছে। চব্বিশের ৫ অগাস্ট দেশে একটি পরিবর্তন হয়েছে। আমি মনে করি, সারা দেশের মানুষ একটি পরিবর্তন চায়, ভালো পরিবর্তন চায়। মানুষের সমস্যাগুলো যাতে সমাধান হয়, মানুষের চলাফেরা, মানুষের নিরাপত্তা, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান, দেশে বেকার তরুণ-তরুণী যারা আছে, যুবক আছে, যারা কর্মহীন অবস্থায় আছে তাদের কর্মসংস্থান করা…এইগুলোর সমাধান চায় মানুষ।

সমাবেশ মঞ্চে ভাষানটেকের বাসিন্দাদের কয়েকজনকে ডেকে নেন তারেক রহমান। তাদের কাছে থেকে সমস্যার কথা শোনেন।

মঞ্চে ডাক পাওয়া বাসিন্দারা ভাসানটেকের বস্তিবাসীর পুনর্বাসন, নারীদের কর্মসংস্থান ও ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া তুলে ধরেন।

ভাষানটেকের মানুষের প্রত্যাশা শুনলেন তারেক, দিলেন প্রতিশ্রুতি

জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আমিও এ এলাকায় গত ৫০ বছর যাবত বড় হয়েছি। যদিও মধ্যে অনেকদিন বাইরে থাকতে হয়েছে আমাকে। তারপরও আমি আপনাদেরই একজন স্বাভাবিকভাবেই যখন আমি এই এলাকার প্রার্থী হয়েছি। আমি আপনাদের এতটুকু বলতে পারি, ইনশাআল্লাহ আপনাদের দোয়া, আল্লাহর রহমতে আগামী নির্বাচনে আমি জয়ী হলে এবং ধানের শীষ সরকার গঠনে সক্ষম হলে, আজকে এই যে কয়জন মানুষ এখানে উপস্থিত হাজার হাজার এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে যে সমস্যার কথা বলে গেছেন, ইনশাল্লাহ আমরা সেই সমস্যার সমাধান করব।

পাশের বসা সাবেক ফুটবল দলের অধিনায়ক আমিনুল হককে দেখিয়ে তিনি বলেন, এখানে আমিনুল হককে চেনেন। ফুটবল খেলতো। আমাদের দেশের তরুণ যুবক যারা আছেন সবাই আর ব্যারিস্টার, উকিল, ডাক্তার হবে না। এখানে অনেকে আছে খেলোয়াড় হতে চায়। আমরা দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থাটাকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে চাই যাতে আমদের দেশের ছেলে মেয়েরা প্রফেশনাল খেলোয়াড় হতে পারে। খেলা দিয়ে যাতে জীবিকা অর্জন করতে পারে। সেই প্রতিভাগুলো খুঁজে বের করে নিয়ে আসতে চাই।

তারেক বলেন, এই এলাকার মূল সমস্যা যদি সমাধান করতে হয়, একই সাথে সারা দেশের সামগ্রিক যে সমস্যা আছে মানুষের নিরাপত্তা, মানুষের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা,  এগুলাকে চিহ্নি করতে হলে অবশ্যই আগামী দিনে আমাদের গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এবং সাধারণ মানুষের দ্বারা নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। নির্বাচিত সরকারই মানুষর সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হবে।

গত ১৫/১৬ বছরে দেশের অনেক খাত ধ্বংস হয়ে গেছে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেছেন, “এই ধ্বংস হওয়ার ফলে দেশ অনেক পিছিয়ে গিয়েছে। আমাদের এগুলোকে পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এর জন্য গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কেন প্রতিষ্ঠিত করতে হবে? কারণ গণতান্ত্রিকভাবে আপনারা যদি আপনাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেন, তাহলেই কিন্তু আপনার এলাকার সমস্যা তার কাছে নিয়ে যেতে পারবেন।

তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর যে নির্বাচন হয়েছিল, সেই নির্বাচনে যে তথাকথিত এমপি ছিল, আপনারা কি তাদের যেতে পেরেছিলেন? আপনাদের এলাকার সমস্যা নিয়ে যেতে পেরেছেন? পারেন নাই। সেই জন্যই এলাকার সমস্যার সমাধান যদি করতে হয়, দেশের উন্নয়ন যদি করতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে। আপনারা যদি প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেন, শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন নয়, একইসঙ্গে সেটি পৌরসভা হোক, উপজেলা হোক, ইউনিয়ন পরিষদ হোক, সব জায়গায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের যদি এই এলাকার মূল সমস্যার সমাধান করতে হয়, দেশের সামগ্রিক যে সমস্যাগুলো আছে, মানুষের নিরাপত্তা, মানুষের কর্মসংস্থান, মানুষের শিক্ষা, মানুষের চিকিৎসা- এগুলো আমাদের সমাধান করতে হয় অবশ্যই আগামী দিনে গণতান্ত্রিক ও সাধারণ মানুষের দ্বারা নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। মানুষের নির্বাচিত সরকার মানুষের সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে। একইসঙ্গে আপনাদের আমি অনুরোধ করছি, যেই পরিকল্পনার কথাগুলো আপনাদের সামনে আমি তুলে ধরলাম, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে। আপনাদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব পরিচিত জন সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে, তাদের বলুন আপনারা। আজকে আপনাদের প্রার্থী হিসেবে আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে, আগামী ১২ তারিখে যেন তারা ধানের শীষকে নির্বাচিত করেন, এই দাবি আমি আপনাদের এলাকার সন্তান হিসেবে করছি।

রাজধানীর ভাসানটেকের বিআরবি স্কুল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য রাখছেন তারেক রহমান (ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল)

ভাষানটেকের সমাবেশ মঞ্চে তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানও ছিলেন। তিনি মাইক নিয়ে ভাষানটেকের বাসিন্দা, তরুণ শিক্ষার্থী, শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন স্তরের একজন করে ডেকে নেন। তাদের কাছে ভাসানটেকের সমস্যাগুলো শোনেন।

এসময় উপস্থিত সবাইকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে তিনি বলেন, করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। ধানের শীষকে যতবার নির্বাচিত করেছে ততবার দেশে উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। আমি ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আপনাদের কাছে আমি ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাচ্ছি। একইসঙ্গে অনুরোধ করছি আমার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে সবমন্ত্র বাংলাদেশে ধানের শীষের প্রার্থীদের জয়ী করতে হবে। এবং ভাসানটেকের আত্মীয়স্বজন সারাদেশে ছড়িয়ে আছে, তাদের সবাইকে অনুরোধ করবেন আগামী ১২ তারিখে যেন ধানের শীষে ভোট দেয়।

ভাসানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক কাদির মাহমুদের সভাপতিত্বে জনসভায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, নাজিম উদ্দীন আলম, ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দীন জুয়েল, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির, জাগপা নেতা খন্দকার লুৎফর রহমান বক্তব্য দেন।

এছাড়া ঢাকা-১৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টন, যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি রেজাউল করিম পল, ছাত্রদল পশ্চিমের সভাপতি রবিন খানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।