Dhaka বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কোনো নেতার ভাষণ বাজানোর জন্য হয়রানি করা উচিত নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো নেতার ভাষণ বাজানো বা শোনানোর কারণে কাউকে হয়রানি করা উচিত নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫: নতুন সংসদের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক একটি সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণকে কেন্দ্র করে কেউ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটাক এমনটি চান না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আশা করছি কোনো নেতার ভাষণকে কেন্দ্র করে কেউ এমন (অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা) করবে আমরা সেটি চাইনি।

তিনি বলেন, ফজলু ভাই (সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান) যেটি বলেছেন, এখনো একটি বক্তৃতার বিষয় নিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। আমি এগুলোর কোনো জবাব দিতে চাই না। আমাদের যে সামাজিক পরিস্থিতি ও পলিটিক্যাল কালচার, এটিকে আমরা ক্রমান্বয়ে উন্নত করার চেষ্টা করবো। কিন্তু ওভারনাইট এই পলিটিক্যাল কালচারে শতভাগ ডেমোক্রেটিক কালচারে আসতে পারিনি। আপনি যেটা আশা করছেন, সেটি ইনশাআল্লাহ একদিন আমরা পারবো। কিন্তু সেটির জন্য আমাদের সময় লাগবে। আমরা শতভাগ ডেমোক্রেটিক কালচারে আসতে চাই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে অনেকগুলোই সংসদে পাস বা সংশোধন করে গ্রহণ করতে হবে। তবে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ অনুমোদন বা বাতিলের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় বাস্তবিকভাবে সবগুলো একসঙ্গে পাস করা কঠিন হবে।

তিনি বলেন, সংসদ ১২ মার্চ বসার কথা থাকলেও মাঝখানে সাপ্তাহিক ছুটি, শবে কদর, জাতীয় দিবস ও দীর্ঘ ছুটির কারণে কার্যত সময় আরও কমে যাচ্ছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই ৩০ দিন কার্যদিবস নয়, ক্যালেন্ডার ডে। ফলে সময় খুব সীমিত। যেগুলো সম্ভব হবে সেগুলো বিল আকারে এনে পাস করব, কিছু সংশোধন করতে হবে, আর কিছু অধ্যাদেশ হয়তো স্বাভাবিকভাবেই ল্যাপস করবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার কমিশন সম্পর্কিত অধ্যাদেশটি সংসদে আলোচনার জন্য আনা হবে। বেশিরভাগ বিষয়ে ঐকমত্য থাকলেও কিছু ধারা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।

তিনি বলেন, মানবাধিকার আমাদের অঙ্গীকারের বিষয়। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও ৩১ দফা কর্মসূচিতে এ বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

গুম কমিশন সংক্রান্ত আইনসহ কয়েকটি অধ্যাদেশ বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে দায় নির্ধারণের (সুপেরিয়র লাইয়াবিলিটি) বিষয়ে কিছু অস্পষ্টতা আছে, যা সংসদীয় কমিটিতে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হবে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য আমাদের। তবে বাস্তবতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে এগোতে হবে।

‘ওভারনাইট’ পরিবর্তন সম্ভব নয় জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অর্জন করতে হলে দেশের সামাজিক ও ধর্মীয় বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা চাই মানবাধিকার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাক। কিন্তু আমাদের সমাজ, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের কারণে কিছু বিষয় ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, কিছু ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপ থাকলেও দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতের ‘ব্যাড প্র্যাকটিস’ দূর করে সংসদ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে গণতান্ত্রিক চর্চা বাড়াতে হবে। আমরা সংসদ থেকেই ভালো গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই। ধীরে ধীরে সেই সংস্কৃতি মাঠেও প্রতিষ্ঠিত হবে।

‘জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন’ হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে যেসব বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে, সেগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, জনগণ আমাদের ইশতেহার দেখে ভোট দিয়েছে। সেই ম্যান্ডেট অনুযায়ীই আমরা সংসদে সিদ্ধান্ত নেব।

সংলাপে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম-এর আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)-এর সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পঞ্চগড়-১ এর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির, টাঙ্গাইল-৮ এর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এর স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপিসহ অন্যান্য নাগরিক নেতৃবৃন্দ।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

কাতা‌রে আট‌কে পড়া‌দের জন‌্য দু‌টি বি‌শেষ ফ্লাই‌টের ব‌্যবস্থা

কোনো নেতার ভাষণ বাজানোর জন্য হয়রানি করা উচিত নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো নেতার ভাষণ বাজানো বা শোনানোর কারণে কাউকে হয়রানি করা উচিত নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫: নতুন সংসদের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক একটি সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণকে কেন্দ্র করে কেউ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটাক এমনটি চান না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আশা করছি কোনো নেতার ভাষণকে কেন্দ্র করে কেউ এমন (অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা) করবে আমরা সেটি চাইনি।

তিনি বলেন, ফজলু ভাই (সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান) যেটি বলেছেন, এখনো একটি বক্তৃতার বিষয় নিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। আমি এগুলোর কোনো জবাব দিতে চাই না। আমাদের যে সামাজিক পরিস্থিতি ও পলিটিক্যাল কালচার, এটিকে আমরা ক্রমান্বয়ে উন্নত করার চেষ্টা করবো। কিন্তু ওভারনাইট এই পলিটিক্যাল কালচারে শতভাগ ডেমোক্রেটিক কালচারে আসতে পারিনি। আপনি যেটা আশা করছেন, সেটি ইনশাআল্লাহ একদিন আমরা পারবো। কিন্তু সেটির জন্য আমাদের সময় লাগবে। আমরা শতভাগ ডেমোক্রেটিক কালচারে আসতে চাই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে অনেকগুলোই সংসদে পাস বা সংশোধন করে গ্রহণ করতে হবে। তবে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ অনুমোদন বা বাতিলের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় বাস্তবিকভাবে সবগুলো একসঙ্গে পাস করা কঠিন হবে।

তিনি বলেন, সংসদ ১২ মার্চ বসার কথা থাকলেও মাঝখানে সাপ্তাহিক ছুটি, শবে কদর, জাতীয় দিবস ও দীর্ঘ ছুটির কারণে কার্যত সময় আরও কমে যাচ্ছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই ৩০ দিন কার্যদিবস নয়, ক্যালেন্ডার ডে। ফলে সময় খুব সীমিত। যেগুলো সম্ভব হবে সেগুলো বিল আকারে এনে পাস করব, কিছু সংশোধন করতে হবে, আর কিছু অধ্যাদেশ হয়তো স্বাভাবিকভাবেই ল্যাপস করবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার কমিশন সম্পর্কিত অধ্যাদেশটি সংসদে আলোচনার জন্য আনা হবে। বেশিরভাগ বিষয়ে ঐকমত্য থাকলেও কিছু ধারা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।

তিনি বলেন, মানবাধিকার আমাদের অঙ্গীকারের বিষয়। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও ৩১ দফা কর্মসূচিতে এ বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

গুম কমিশন সংক্রান্ত আইনসহ কয়েকটি অধ্যাদেশ বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে দায় নির্ধারণের (সুপেরিয়র লাইয়াবিলিটি) বিষয়ে কিছু অস্পষ্টতা আছে, যা সংসদীয় কমিটিতে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হবে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য আমাদের। তবে বাস্তবতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে এগোতে হবে।

‘ওভারনাইট’ পরিবর্তন সম্ভব নয় জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অর্জন করতে হলে দেশের সামাজিক ও ধর্মীয় বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা চাই মানবাধিকার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাক। কিন্তু আমাদের সমাজ, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের কারণে কিছু বিষয় ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, কিছু ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপ থাকলেও দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতের ‘ব্যাড প্র্যাকটিস’ দূর করে সংসদ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে গণতান্ত্রিক চর্চা বাড়াতে হবে। আমরা সংসদ থেকেই ভালো গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই। ধীরে ধীরে সেই সংস্কৃতি মাঠেও প্রতিষ্ঠিত হবে।

‘জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন’ হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে যেসব বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে, সেগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, জনগণ আমাদের ইশতেহার দেখে ভোট দিয়েছে। সেই ম্যান্ডেট অনুযায়ীই আমরা সংসদে সিদ্ধান্ত নেব।

সংলাপে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম-এর আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)-এর সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পঞ্চগড়-১ এর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির, টাঙ্গাইল-৮ এর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এর স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপিসহ অন্যান্য নাগরিক নেতৃবৃন্দ।