স্পোর্টস ডেস্ক :
সময়টা একদমই ভালো কাটছিল না, ক্লাব সমর্থকদের কাছ থেকেই শুনতে হচ্ছিল দুয়ো-এমন কঠিন সময়ে নিজেকে দারুণভাবে মেলে ধরলেন ভিনিসিউস জুনিয়র। বাঁ দিক দিয়ে মুহূর্মুহু আক্রমণ শাণিয়ে নাড়িয়ে দিলেন প্রতিপক্ষের রক্ষণের ভিত। তিনটি গোলে অবদান রাখার পর, জালে বলও পাঠালেন তিনি। জোড়া গোল করলেন কিলিয়ান এমবাপে। মোনাকোকে গুঁড়িয়ে ছন্দে ফেরার আভাস দিল রিয়াল মাদ্রিদ।
সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে দাপুটে পারফরম্যান্সে সব সমালোচনা জবাব দিল আলভারো আরবেলোয়ার দল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে জিতল ৬-১ গোলে। তাদের বাকি দুই গোলদাতা ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো ও জুড বেলিংহ্যাম।
আসরে আগের তিন রাউন্ডের দুটিতে হেরেছিল রেয়াল, এর মধ্যে সবশেষ ম্যাচে ঘরের মাঠে হেরেছিল ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে। দারুণ পারফরম্যান্সেই এখানে জয়ের পথে ফিরল তারা।
পয়েন্ট তালিকায়ও বড় লাফ দিল টুর্নামেন্টের রেকর্ড চ্যাম্পিয়নরা। সাত ম্যাচে পাঁচ জয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে উঠল তারা। আসরে দ্বিতীয় হারের পর ৯ পয়েন্ট নিয়ে ২০ নম্বরে আছে মোনাকো।
গত সপ্তাহে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে হারের পর, দ্বিতীয় স্তরের দলের বিপক্ষে হেরে রেয়াল ছিটকে পড়ে কোপা দেল রে থেকে। সবশেষ ম্যাচে গত শনিবার লা লিগায় লেভান্তের বিপক্ষে জিতলেও, সমর্থকদের দুয়ো শুনতে হয় ঘরের মাঠে।
সমর্থকদের মন জয় করার মিশনে এবার ম্যাচের শুরুটা দুর্দান্ত হয় রিয়ালের। ডান দিক দিয়ে গোছানো আক্রমণে পঞ্চম মিনিটেই দলকে এগিয়ে দেন এমবাপে। ডি-বক্সে ফেদেরিকো ভালভের্দের ছোট পাস পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় গোলটি করেন ফরাসি তারকা।
১৯তম মিনিটে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ হারায় মোনাকো। ফাঁকায় বল পেয়ে আট গজ দূর থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন আনসু ফাতি।
দারুণ এক পাল্টা-আক্রমণে ২৬তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ান এমবাপে। গোলটির পেছনে অসাধারণ অবদান গত ম্যাচে ঘরের মাঠেই দুয়ো শোনা ভিনিসিউস জুনিয়রের। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের থ্রু পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকেই ডানদিকে বাড়ান তিনি, গোলরক্ষক এগিয়ে এসে পা বাড়ালেও আটকাতে পারেননি, প্রথম ছোঁয়ায় প্লেসিং শটে জালে পাঠান এমবাপে।
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এ নিয়ে ১১ গোল নিয়ে তালিকার শীর্ষে আছেন এমবাপে। এই প্রতিযোগিতায় আগে এক আসরে আট গোলের বেশি করতে পারেননি তিনি।
৩১তম মিনিটে ভাগ্য সহায় হয়নি মোনাকোর; ডাচ ডিফেন্ডার জর্ডান টেজের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া বুলেট গতির শট ক্রসবারে বাধা পায়। পাঁচ মিনিট পর ফরাসি মিডফিল্ডার মাহনেজ আক্লিউশের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া।
দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে দারুণ গোলে ব্যবধান বাড়ান মাস্তানতুয়োনো। বল পায়ে ডি-বক্সে ঢুকলেও শট নিতে পারেননি ভিনিসিউস, একটু ভারসাম্য হারালেও হারাননি বল, বাড়ান ডান দিকে সতীর্থকে। কোনাকুনি শটে দূরের পোস্ট বল লক্ষ্যে পাঠান তরুণ আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
তিন মিনিট পর আবার বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠেন ভিনিসিউস। ডি-বক্সে ঢুকে চেষ্টা করেন আর্দা গিলেরকে খুঁজে নেওয়ার, কিন্তু গিলেরের কাছে বল যাওয়া আটকাতে গিয়ে নিজেদের জালে পাঠিয়ে দেন জার্মান ডিফেন্ডার টিলো কেহরাহ।
ম্যাচ জুড়ে দুর্দান্ত খেলা ভিনিসিউস ৬৩তম মিনিটে নাম লেখান স্কোরলাইন। মাঝমাঠের কাছে গিলের প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে বাড়ান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে। বলে ধরে ডি-বক্সে ঢুকে জায়গা বানিয়ে বুলেট গতির শট নেন তিনি, বল ক্রসবারের নিচের দিকে লেগে গোললাইন পেরিয়ে যায়।
মুহূর্তের ভুলে ৭২তম মিনিটে গোল হজম করে রিয়াল। বল ক্লিয়ার না করে অহেতুক ডি-বক্সে নিজেদের মধ্যে বল দেওয়া-নেওয়া করছিল তারা। এর মাঝেই কোর্তোয়ার ছোট পাস কী বুঝে না ধরে ছেড়ে দেন দানি সেবাইয়োস, আর বল ধরেই জালে পাঠান টেজে।
৮০তম মিনিটে এমবাপের ব্যর্থ ফ্রি কিকের পরও, ডি-বক্সের একটু বাইরে পজেশন হারিয়ে ফেলে মোনাকো। ভালভের্দে বল ধরেই থ্রু পাস বাড়ান, আর জায়গা বানিয়ে দলের ষষ্ঠ গোলটি করেন এর আগে গোলমুখে সহজ সুযোগ হারানো বেলিংহ্যাম।
বাকি সময়েও দারুণ কিছু আক্রমণ করে তারা। সুযোগও আসে। গোল করার দুই মিনিটের মধ্যে বেলিংহ্যাম সুযোগ তৈরি করেন আরেকটি, কিন্তু শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।
আক্রমণ কম করেনি মোনাকোও। বল দখলে দুই দলই সমানে-সমান। আক্রমণেও প্রায় তাই। রেয়াল গোলের জন্য ২৫ শট নিয়ে ছয়টি লক্ষ্যে রাখতে পারে। আর মোনাকোর ২০ শটে ছয়টি লক্ষ্যে থাকে; কিন্তু তারা কাজে লাগাতে পারেনি অধিকাংশই। দারুণ সব সেভ করে তাদের সামনে বাধা হয়ে ছিলেন থিবো কোর্তোয়া।
স্পোর্টস ডেস্ক 
























