Dhaka শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এবার ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ১০:৩৩:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৯৯ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিআইডি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অতীতের জাতীয় নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন অস্ত্রধারী পুলিশ নিয়োজিত ছিল। কিন্তু এবার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। তবে, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন অস্ত্রধারী পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছয়জন অস্ত্রধারী সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এ ছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অস্ত্র ছাড়া (লাঠিসহ) ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। যার মধ্যে থাকবেন ছয় জন পুরুষ আনসার সদস্য ও বাকি চার জন মহিলা আনসার সদস্য।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর; যা রোল মডেল হয়ে থাকবে। এ জন্য নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শতভাগ সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ড্রোন, ডগ স্কোয়াড, বিএনসিসি, স্কাউট ও গার্লস গাইডের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ থাকবে না।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে সর্বোচ্চ সততা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিটি ধাপে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, অতীতের নির্বাচনে সাধারণত প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন করে অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করতেন। তবে এবার নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে দুইজন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য এবং তিনজন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনলাইনে গুজব ও মিথ্যাচার প্রতিরোধে সিআইডিকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিভ্রান্তিকর তথ্য রোধে সিআইডির সাইবার ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজি মো. ছিবগাত উল্লাহ তার বক্তব্যে বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিআইডির মোট জনবলের প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হবে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু ও সফল করতে সিআইডি সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবে।

সভা শেষে ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনায় কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সিআইডির উপ-পুলিশ পরিদর্শক থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম এবং সভাপতিত্ব করেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজি মো.ছিবগাত উল্লাহ।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ময়মনসিংহে মিনি বাস উল্টে চালকের সহকারীসহ নিহত ২

এবার ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রকাশের সময় : ১০:৩৩:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিআইডি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অতীতের জাতীয় নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন অস্ত্রধারী পুলিশ নিয়োজিত ছিল। কিন্তু এবার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। তবে, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন অস্ত্রধারী পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছয়জন অস্ত্রধারী সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এ ছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অস্ত্র ছাড়া (লাঠিসহ) ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। যার মধ্যে থাকবেন ছয় জন পুরুষ আনসার সদস্য ও বাকি চার জন মহিলা আনসার সদস্য।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর; যা রোল মডেল হয়ে থাকবে। এ জন্য নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শতভাগ সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ড্রোন, ডগ স্কোয়াড, বিএনসিসি, স্কাউট ও গার্লস গাইডের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ থাকবে না।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে সর্বোচ্চ সততা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিটি ধাপে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, অতীতের নির্বাচনে সাধারণত প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন করে অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করতেন। তবে এবার নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে দুইজন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য এবং তিনজন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনলাইনে গুজব ও মিথ্যাচার প্রতিরোধে সিআইডিকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিভ্রান্তিকর তথ্য রোধে সিআইডির সাইবার ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজি মো. ছিবগাত উল্লাহ তার বক্তব্যে বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিআইডির মোট জনবলের প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হবে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু ও সফল করতে সিআইডি সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবে।

সভা শেষে ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনায় কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সিআইডির উপ-পুলিশ পরিদর্শক থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম এবং সভাপতিত্ব করেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজি মো.ছিবগাত উল্লাহ।