নিজস্ব প্রতিবেদক :
একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে কাজ করবে সরকার—এমনটাই জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঈদ-পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে বর্তমান সরকার জোরালোভাবে কাজ চালিয়ে যাবে। একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতি পাওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে এবং সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
তিনি বলেন, একাত্তরের গণহত্যা নিয়ে সরকার কাজ করবে—এটি অত্যন্ত জরুরি। কারণ আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে এই ইতিহাস গভীরভাবে জড়িত।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের কাছে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়টি ভারতীয় দূতের কাছে মৌখিকভাবে তোলা হলেও, এখন পর্যন্ত দেশটিকে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়নি বর্তমান সরকার।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকারে আসার পর এক মাস হয়েছে। সেই এক মাসে ভারতের হাই কমিশনারে সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়ে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে; ওই মিটিংয়ে ওই কথা বলা হয়েছে। গত ১৭ বছরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলা আছে, কোনটার সাজা হয়েছে; আরও যারা আছে। তাদের ব্যাপারেও আমরা কথা বলেছি।
এ সরকার আসার পর শেখ হাসিনাকে ফেরাতে আনুষ্ঠানিক চিঠি যায়নি এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা তো কথাই বলেছি। এটাতো অলরেডি চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যার অভিযোগে ভারতে গ্রেপ্তারদের ফেরত আনার বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে কিছু কাজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চলমান। তারা (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) আমাদের আপডেট দেওয়ার পর তাদের (ভারতের) সঙ্গে কথা বলবো।
তিনি বলেন, আর কনস্যুলার অ্যাক্সেস নিয়েও আলোচনা চলছে। আমরা আশা করি, খুব শিগগিরই তা পেয়ে যাব।
কনস্যুলার অ্যাক্সেস পেতে এত দেরি কেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা ভারত বলতে পারবে। আমরা তো পুশ করছি। হাদি হত্যার আসামি যদি ভারতে গ্রেপ্তার হয়ে থাকে, তাদের ফিরিয়ে এনে সাজা দেওয়াটা আমাদের অগ্রাধিকার। সেটার বিচার আমরা নিশ্চিত করবো।
ভারত থেকে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি জ্বালানি মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে। আমরা যতদূর জানি একটা সবুজ সংকেত আমরা পেয়েছি।
ইরানে থাকা বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা হবে কি না, এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইরানে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি আছেন, যাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘আজকে পর্যন্ত আমাদের কাছে যে খবর আছে, তারা নিরাপদে আছেন। তারা সেখানে অনিরাপদে নেই। তেহরান মিশনের সাথে সর্বদা তাদের যোগাযোগ আছে। তারা যদি কোনো জীবনের ঝুঁকিতে থাকে, তাহলে অবশ্যই আমরা ফিরিয়ে আনব।’
মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ বারবার বলে আসছে যুদ্ধ বন্ধ হোক এবং কূটনৈতিক মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হোক। প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মিশনগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সবার ফেরত আসা সম্ভব নয়। তবে যারা আসতে আগ্রহী তারা যেন আসতে পারে, সেজন্য কাজ করছি।’
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















