নিজস্ব প্রতিবেদক :
শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের স্থগিত পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। তবে কীভাবে মূল্যায়ন হবে তার সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডগুলো আলোচনা করবেন। এরপর তারা হয়তো একটা সিদ্ধান্ত নেবেন।
বুধবার (২১ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, এইচএসসির অর্ধেক পরীক্ষা হয়েছে। এই পরীক্ষাগুলো এবং এসএসসিতে প্রাপ্ত ফলাফল মিলিয়ে হয়তো রেজাল্ট তৈরি করা হতে পারে। তবে এটা আমার এককভাবে বলার কোনো বিষয় না। এটার জন্য এক্সপার্ট কমিটি আছে। সেই কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
এইচএসসির স্থগিত পরীক্ষাগুলো বাতিল করা হয়েছে। এখন মূল্যায়ন কীভাবে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই, কালকে যে ঘটনা ঘটেছে তারপরে চিন্তা করার সুযোগ পাইনি। আমি আগে থেকই কিছু বলবো না, শিক্ষা বোর্ডগুলোর আসল সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা। অর্ধেক পরীক্ষা হয়ে গেছে এগুলো সব মিলে কী করবেন, সেটা এখনো আমি জানি না। আমার সরাসরি সে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথাও না, এটা এক্সপার্টরা দেখবেন।
বাতিল পরীক্ষাগুলো আবার নেওয়ার দাবি উঠেছে। এখন পরীক্ষা নেওয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা তো ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের দেওয়ার কথা, তিনি যে ঘোষণা দিয়েছেন সেটাই বলবৎ থাকবে।
বই ছাপাতে এবার কোনো ধরনের দুর্নীতি হবে না বলে জানিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ইতিমধ্যে যেসব বই ছাপার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল, তা বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার বই ছাপার মান ও কাগজের মান ভালো হবে। কারণ, এবার দুর্নীতি হবে না।
ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, দেশের সবগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। সবার গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে ভিসি নিয়োগ করা হবে বলে উল্লেখ করে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
উপাচার্য নিয়োগের বিষয়ে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, আগে যে সুবিধা ছিল, বিশেষ করে যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের শিক্ষকদের একটা সংগঠন থাকে। সেখান থেকে টেনে একজনকে উপাচার্য বানিয়ে দেওয়া হতো। আমাদের ক্ষেত্রে তো সেই সুযোগ পাচ্ছি না। এখন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব শিক্ষককে আমরা চিনি তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
উপাচার্যদের যোগ্যতা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যক্তিত্ব এবং প্রশাসনিক দক্ষতার দিক থেকে যারা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য—এরকম শিক্ষকদের তালিকা তৈরি করছি। যত দ্রুত সম্ভব আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগ দেব।