Dhaka মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এ বছরও সরকারি ব্যয়ে কাউকে হজে নেওয়া হবে না : ধর্ম উপদেষ্টা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০২:২২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৯৭ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

চলতি বছর হজ শেষে দুটি প্যাকেজের সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের তিন কোটির বেশি টাকা ফেরত দিতে পারবেন বলে জানিয়ে ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন গত বছরের মতো এবছরও সরকারি খরচে কাউকে হজে নেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, গত দেড় বছর অত্যন্ত স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সততার সঙ্গে আমি দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোকে সক্রিয়, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করে গেছি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও সততা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি, উৎসাহ-অনুপ্রেরণা জুগিয়েছি।

আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ২০২৫ সালের হজে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক সে দেশের একটি মেডিকেল সার্ভিস কোম্পানির সঙ্গে হজযাত্রী প্রতি দুই সৌদি রিয়াল হিসেবে একটি হেলথ সার্ভিস চুক্তি করা হয়েছিল। এবার হজে আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও নেগোসিয়েশন কুশলতার কারণে এই সেবা আমাদের দেশের সব হাজী বিনামূল্যে নিতে পারবেন। আমরা আশা করছি ২০২৬ এর হজ শেষে প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-২ এর হজযাত্রীদের তিন কোটির বেশি টাকা ফেরত দিতে পারবো।

জুলাই বিপ্লবের পর হজ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে দাবি করে তিনি বলেন, যৌক্তিক খরচে হজ পালনের যে জনআকাঙ্ক্ষা ছিল সেটি নিয়ে আমি বিশেষভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ ও নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে ২০২৫ সালের হজে বিমানভাড়া প্রায় ২৭ হাজার টাকা কমানো হয়। এবছর বিমানভাড়া গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৩ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। গত দুই বছরে পর্যায়ক্রমে ৪০ হাজার টাকা বিমানভাড়া হ্রাসের বিষয়টি উল্লেখ করার মতো অর্জন বলে আমি মনে করি।

তিনি আরো বলেন, ২০২৪ সালের হজে যেখানে বিমানভাড়া ছিল এক লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা, ২০২৬ সালের হজে এসে বিমানভাড়া হয়েছে এক লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এটাকে আরও কমানোর বিষয়ে আমি চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলাম।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, আমরা গত বছর সরকারি মাধ্যমের হাজিদের হজের খরচ নির্বাহ শেষে উদ্বৃত্ত ৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছি। এছাড়া, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হজ এজেন্সির অব্যয়িত প্রায় ৩৮ কোটি টাকা যেটা সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের আইবিএন হিসেবে পড়ে ছিল সেটা অব্যাহত যোগাযোগের মাধ্যমে আমরা ফেরত এনে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে ফেরত দিয়েছি।

তিনি বলেন, গত বছর হজে সৌদি প্রান্তে হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সমন্বিত চিকিৎসক ছাড়া ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাইরে কাউকে টিমে অন্তর্ভুক্ত করিনি এবং টিম সদস্য সংখ্যাও ২০২৪ এর তুলনায় আমরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কমিয়েছিলাম। গত বছর সরকারি ব্যয়ে কাউকে হজ নেওয়া হয়নি। এবছরও কাউকে নেওয়া হবে না।

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, গত বছর আমাদের হজ প্যাকেজ ছিল দুটি। এবছর আমাদের হজ প্যাকেজ তিনটি। এবছর সীমিত বা নির্দিষ্ট আয়ের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যেন হজ করতে পারেন সেজন্য আমরা একটি সাশ্রয়ী প্যাকেজ ঘোষণা করেছি; মাত্র ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকার হজ প্যাকেজ আমরা ঘোষণা করেছি। এবছর আমাদের হজের প্রস্তুতি আজ পর্যন্ত সন্তোষজনক। এরই মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমে হজযাত্রীদের বাড়িভাড়া, তাঁবু ভাড়া, পরিবহন চুক্তি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, এবছর হজ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এরই মধ্যে আমরা কিছু সাফল্য অর্জন করেছি। হজ প্যাকেজ-৩ এর সার্ভিস চার্জ সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানির সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ যোগাযোগের মাধ্যমে হজযাত্রী প্রতি প্রায় ৬০০ সৌদি রিয়াল কমানো হয়েছে। প্যাকেজ-৩ এর হজযাত্রীদের মক্কায় আবাসনের ব্যবস্থা করার কথা ছিল হারাম শরীফের বহিরাঙ্গণ থেকে ৬-৮ কিলোমিটারের মধ্যে। আজিজিয়া এলাকা থেকে হারাম শরীফ আসতে গেলে হাজিদের দুইবার গাড়ি পরিবর্তন করতে হয়। এটা হাজিদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে-এই বিবেচনায় আমরা হজ প্যাকেজ-৩ এর হাজিদের জন্য বাড়িভাড়া করেছি হারাম শরীফ থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে। এর ফলে হাজিদের যাতায়াতে বিড়ম্বনা লাঘব হয়েছে এবং তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হারাম শরীফে আদায় করতে পারবেন।

উপদেষ্টা বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শূন্যপদে ১৬৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মামলাজনিত কারণে ১৯৭ জনকে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা আশাবাদী, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি সাপেক্ষে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। নবম ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের ২৯ জন এবং ১০ থেকে ২০ তম গ্রেডের ৩২ জনকে বিধি মোতাবেক পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, নবম ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের শূন্যপদে জনবল নিয়োগের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, আমি ৯৫ শতাংশ সফল হয়েছি। আমার মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডে অনেক অর্গান আছে, অনুদান শাখা আছে। অনুদান শাখার মাধ্যমে দেশের মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, কবরস্থান এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

নিজের সফলতার খতিয়ান তুলে ধরে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, প্রশাসনিক কিছু জটিলতা ও জনবল সংকটের কারণে আমি শতভাগ সফল হতে পারিনি। প্রশাসনিক কাজ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তবে আমরা ইতোমধ্যে শূন্যপদ পূরণে ছয়জন কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিনি  বলেন, আর কিছুদিন সময় পেলে ওয়াকফ প্রশাসনকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে এবং জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসতে পারতাম। ওয়াকফ সংক্রান্ত কাজগুলো বেশ জটিল, বিশেষ করে ভূমি সংক্রান্ত মামলার কারণে হাইকোর্টে বছরের পর বছর শুনানি ঝুলে থাকে।

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের সংস্কার প্রসঙ্গে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, আমি দুইবার পাগলা মসজিদ পরিদর্শন করেছি। জেলা প্রশাসককে সেখানকার মোতাওয়াল্লির দায়িত্ব দেওয়ায় সেখানে শৃঙ্খলা ফিরেছে। বর্তমানে ছয়টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০৭ কোটি টাকা জমা আছে। আমরা সেখানে একটি আধুনিক কমপ্লেক্স তৈরির পরিকল্পনা করেছি। প্রথমে রুয়েটের সঙ্গে চুক্তি হলেও তারা কাজ করতে পারেনি, পরে বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি টিম পাঠানো হয়েছে।

বায়তুল মোকাররমের খতিব কর্তৃক গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বানে মানুষ উৎসাহিত হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, বায়তুল মোকাররমের খতিব, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি, বিভিন্ন ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও কর্মকর্তারা আমার সুপারিশে এবং প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনে রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক নিযুক্ত। আমি মনে করি, যারা রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়োজিত কর্মকর্তা, তাদের প্রত্যেককে অতিশয় দায়িত্বশীল হতে হবে এবং সতর্কতার সঙ্গে কথা বলতে হবে। এমন কোনো মন্তব্য করা উচিত নয় যা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করে।

তিনি বলেন, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এর খতিব ও ইমামরা সর্বজনশ্রদ্ধেয়। বর্তমান খতিব একজন বিজ্ঞ আলেম ও হাদিস বিশেষজ্ঞ। পুরো জাতি তাকে শ্রদ্ধা করে। তবে খতিবের কোনো বক্তব্য যদি কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে যায় বা রাষ্ট্রের অবস্থানের বিপরীতে যায়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা চাই বায়তুল মোকাররমের খতিবের পদটি বিতর্কমুক্ত থাকুক। খতিবের কোনো বক্তব্যে সরকার বিব্রত হোক—এমন পরিস্থিতি আমাদের কাম্য নয়।

তিনি সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিযুক্ত প্রত্যেকেরই দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন। সরকার বিব্রত হয় এমন মন্তব্য থেকে আমাদের সবার দূরে থাকা উচিত।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক নিয়োজিত আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্বশীল এবং সতর্কতার সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। সরকার বিব্রত হয় এরকম কোনো মন্তব্য থেকে আমাদের দূরে থাকা উচিত।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

রাজশাহীতে ট্রাক-ভটভটি সংঘর্ষে নিহত ২

এ বছরও সরকারি ব্যয়ে কাউকে হজে নেওয়া হবে না : ধর্ম উপদেষ্টা

প্রকাশের সময় : ০২:২২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

চলতি বছর হজ শেষে দুটি প্যাকেজের সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের তিন কোটির বেশি টাকা ফেরত দিতে পারবেন বলে জানিয়ে ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন গত বছরের মতো এবছরও সরকারি খরচে কাউকে হজে নেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, গত দেড় বছর অত্যন্ত স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সততার সঙ্গে আমি দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোকে সক্রিয়, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করে গেছি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও সততা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি, উৎসাহ-অনুপ্রেরণা জুগিয়েছি।

আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ২০২৫ সালের হজে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক সে দেশের একটি মেডিকেল সার্ভিস কোম্পানির সঙ্গে হজযাত্রী প্রতি দুই সৌদি রিয়াল হিসেবে একটি হেলথ সার্ভিস চুক্তি করা হয়েছিল। এবার হজে আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও নেগোসিয়েশন কুশলতার কারণে এই সেবা আমাদের দেশের সব হাজী বিনামূল্যে নিতে পারবেন। আমরা আশা করছি ২০২৬ এর হজ শেষে প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-২ এর হজযাত্রীদের তিন কোটির বেশি টাকা ফেরত দিতে পারবো।

জুলাই বিপ্লবের পর হজ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে দাবি করে তিনি বলেন, যৌক্তিক খরচে হজ পালনের যে জনআকাঙ্ক্ষা ছিল সেটি নিয়ে আমি বিশেষভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ ও নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে ২০২৫ সালের হজে বিমানভাড়া প্রায় ২৭ হাজার টাকা কমানো হয়। এবছর বিমানভাড়া গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৩ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। গত দুই বছরে পর্যায়ক্রমে ৪০ হাজার টাকা বিমানভাড়া হ্রাসের বিষয়টি উল্লেখ করার মতো অর্জন বলে আমি মনে করি।

তিনি আরো বলেন, ২০২৪ সালের হজে যেখানে বিমানভাড়া ছিল এক লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা, ২০২৬ সালের হজে এসে বিমানভাড়া হয়েছে এক লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এটাকে আরও কমানোর বিষয়ে আমি চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলাম।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, আমরা গত বছর সরকারি মাধ্যমের হাজিদের হজের খরচ নির্বাহ শেষে উদ্বৃত্ত ৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছি। এছাড়া, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হজ এজেন্সির অব্যয়িত প্রায় ৩৮ কোটি টাকা যেটা সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের আইবিএন হিসেবে পড়ে ছিল সেটা অব্যাহত যোগাযোগের মাধ্যমে আমরা ফেরত এনে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে ফেরত দিয়েছি।

তিনি বলেন, গত বছর হজে সৌদি প্রান্তে হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সমন্বিত চিকিৎসক ছাড়া ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাইরে কাউকে টিমে অন্তর্ভুক্ত করিনি এবং টিম সদস্য সংখ্যাও ২০২৪ এর তুলনায় আমরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কমিয়েছিলাম। গত বছর সরকারি ব্যয়ে কাউকে হজ নেওয়া হয়নি। এবছরও কাউকে নেওয়া হবে না।

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, গত বছর আমাদের হজ প্যাকেজ ছিল দুটি। এবছর আমাদের হজ প্যাকেজ তিনটি। এবছর সীমিত বা নির্দিষ্ট আয়ের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যেন হজ করতে পারেন সেজন্য আমরা একটি সাশ্রয়ী প্যাকেজ ঘোষণা করেছি; মাত্র ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকার হজ প্যাকেজ আমরা ঘোষণা করেছি। এবছর আমাদের হজের প্রস্তুতি আজ পর্যন্ত সন্তোষজনক। এরই মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমে হজযাত্রীদের বাড়িভাড়া, তাঁবু ভাড়া, পরিবহন চুক্তি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, এবছর হজ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এরই মধ্যে আমরা কিছু সাফল্য অর্জন করেছি। হজ প্যাকেজ-৩ এর সার্ভিস চার্জ সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানির সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ যোগাযোগের মাধ্যমে হজযাত্রী প্রতি প্রায় ৬০০ সৌদি রিয়াল কমানো হয়েছে। প্যাকেজ-৩ এর হজযাত্রীদের মক্কায় আবাসনের ব্যবস্থা করার কথা ছিল হারাম শরীফের বহিরাঙ্গণ থেকে ৬-৮ কিলোমিটারের মধ্যে। আজিজিয়া এলাকা থেকে হারাম শরীফ আসতে গেলে হাজিদের দুইবার গাড়ি পরিবর্তন করতে হয়। এটা হাজিদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে-এই বিবেচনায় আমরা হজ প্যাকেজ-৩ এর হাজিদের জন্য বাড়িভাড়া করেছি হারাম শরীফ থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে। এর ফলে হাজিদের যাতায়াতে বিড়ম্বনা লাঘব হয়েছে এবং তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হারাম শরীফে আদায় করতে পারবেন।

উপদেষ্টা বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শূন্যপদে ১৬৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মামলাজনিত কারণে ১৯৭ জনকে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা আশাবাদী, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি সাপেক্ষে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। নবম ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের ২৯ জন এবং ১০ থেকে ২০ তম গ্রেডের ৩২ জনকে বিধি মোতাবেক পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, নবম ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের শূন্যপদে জনবল নিয়োগের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, আমি ৯৫ শতাংশ সফল হয়েছি। আমার মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডে অনেক অর্গান আছে, অনুদান শাখা আছে। অনুদান শাখার মাধ্যমে দেশের মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, কবরস্থান এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

নিজের সফলতার খতিয়ান তুলে ধরে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, প্রশাসনিক কিছু জটিলতা ও জনবল সংকটের কারণে আমি শতভাগ সফল হতে পারিনি। প্রশাসনিক কাজ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তবে আমরা ইতোমধ্যে শূন্যপদ পূরণে ছয়জন কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিনি  বলেন, আর কিছুদিন সময় পেলে ওয়াকফ প্রশাসনকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে এবং জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসতে পারতাম। ওয়াকফ সংক্রান্ত কাজগুলো বেশ জটিল, বিশেষ করে ভূমি সংক্রান্ত মামলার কারণে হাইকোর্টে বছরের পর বছর শুনানি ঝুলে থাকে।

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের সংস্কার প্রসঙ্গে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, আমি দুইবার পাগলা মসজিদ পরিদর্শন করেছি। জেলা প্রশাসককে সেখানকার মোতাওয়াল্লির দায়িত্ব দেওয়ায় সেখানে শৃঙ্খলা ফিরেছে। বর্তমানে ছয়টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০৭ কোটি টাকা জমা আছে। আমরা সেখানে একটি আধুনিক কমপ্লেক্স তৈরির পরিকল্পনা করেছি। প্রথমে রুয়েটের সঙ্গে চুক্তি হলেও তারা কাজ করতে পারেনি, পরে বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি টিম পাঠানো হয়েছে।

বায়তুল মোকাররমের খতিব কর্তৃক গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বানে মানুষ উৎসাহিত হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, বায়তুল মোকাররমের খতিব, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি, বিভিন্ন ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও কর্মকর্তারা আমার সুপারিশে এবং প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনে রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক নিযুক্ত। আমি মনে করি, যারা রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়োজিত কর্মকর্তা, তাদের প্রত্যেককে অতিশয় দায়িত্বশীল হতে হবে এবং সতর্কতার সঙ্গে কথা বলতে হবে। এমন কোনো মন্তব্য করা উচিত নয় যা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করে।

তিনি বলেন, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এর খতিব ও ইমামরা সর্বজনশ্রদ্ধেয়। বর্তমান খতিব একজন বিজ্ঞ আলেম ও হাদিস বিশেষজ্ঞ। পুরো জাতি তাকে শ্রদ্ধা করে। তবে খতিবের কোনো বক্তব্য যদি কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে যায় বা রাষ্ট্রের অবস্থানের বিপরীতে যায়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা চাই বায়তুল মোকাররমের খতিবের পদটি বিতর্কমুক্ত থাকুক। খতিবের কোনো বক্তব্যে সরকার বিব্রত হোক—এমন পরিস্থিতি আমাদের কাম্য নয়।

তিনি সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিযুক্ত প্রত্যেকেরই দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন। সরকার বিব্রত হয় এমন মন্তব্য থেকে আমাদের সবার দূরে থাকা উচিত।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক নিয়োজিত আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্বশীল এবং সতর্কতার সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। সরকার বিব্রত হয় এরকম কোনো মন্তব্য থেকে আমাদের দূরে থাকা উচিত।