Dhaka শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঈদের আগে চড়া মুরগির বাজার, দাম কমেছে সবজির

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর বাজারে আবারও বাড়তির দিকে নিত্যপণ্যের দাম। বিশেষ করে মুরগি ও গরুর মাংসের বাজারে বেড়েছে দাম। তবে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে সবজির বাজারে। ক্রেতা কম থাকায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কিছুটা কমেছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আশেপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

বিভিন্ন ধরনের মুরগির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে কাঁচামরিচ, লেবু ও শশার দাম।

বাজারে দেখা যায়, সোনালি কক মুরগি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৩৬০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩০ টাকা বেড়ে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৩২০ টাকা, সাদা লেয়ার ৩১০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭০০ টাকা কেজি দরে।
তালতলা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আবুল কাশেম বলেন, প্রতিবছর রমজানের শেষ দিকে মুরগির দাম বাড়ে, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গত সপ্তাহেও তিনি ৩৩০ টাকা কেজি দরে কক মুরগি কিনেছেন, যা এখন ৩৬০ টাকা হয়েছে। তবে গরুর মাংসের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল বলেও তিনি জানান।

বাজারে গরুর মাংস ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গরুর কলিজা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১২০০ টাকায়।

অন্যদিকে বাজারে শীতকালীন বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। শিম ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৬০ টাকা, দেশি গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা এবং সালগম ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি প্রতি পিস ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা এবং লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে বরবটি ১০০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৮০ টাকা, কচুর লতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা, পটল ৮০ টাকা এবং ধুন্দল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচামরিচের দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকা কমে এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকায় নেমেছে। লেবু বিক্রি হচ্ছে হালি প্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। দেশি শসা ৮০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৪০ টাকা এবং খিরাই শসা কেজি প্রতি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাছের দামে কিছুটা তারতম্য দেখা গেছে। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি প্রতি প্রায় ১২০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রামের ইলিশ ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছ ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৭০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে আলু ও পেঁয়াজের দাম আগের মতোই রয়েছে। নতুন আলু ১৬ থেকে ১৮ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। হাঁসের ডিম ২০০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি মুরগির ডিম হালি ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ঈদের এখনো ৭ থেকে ৮ দিন বাকি থাকলেও সেমাই ও চিনির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই পাওয়া যাচ্ছে। খোলা লাচ্ছা সেমাই কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছোট প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাই ৪৫ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলা সেমাই নামে পরিচিত সাধারণ মানের সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

এভারকেয়ারে মির্জা আব্বাসের শয্যাপাশে প্রধানমন্ত্রী

ঈদের আগে চড়া মুরগির বাজার, দাম কমেছে সবজির

প্রকাশের সময় : ০১:১৮:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর বাজারে আবারও বাড়তির দিকে নিত্যপণ্যের দাম। বিশেষ করে মুরগি ও গরুর মাংসের বাজারে বেড়েছে দাম। তবে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে সবজির বাজারে। ক্রেতা কম থাকায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কিছুটা কমেছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আশেপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

বিভিন্ন ধরনের মুরগির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে কাঁচামরিচ, লেবু ও শশার দাম।

বাজারে দেখা যায়, সোনালি কক মুরগি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৩৬০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩০ টাকা বেড়ে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৩২০ টাকা, সাদা লেয়ার ৩১০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭০০ টাকা কেজি দরে।
তালতলা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আবুল কাশেম বলেন, প্রতিবছর রমজানের শেষ দিকে মুরগির দাম বাড়ে, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গত সপ্তাহেও তিনি ৩৩০ টাকা কেজি দরে কক মুরগি কিনেছেন, যা এখন ৩৬০ টাকা হয়েছে। তবে গরুর মাংসের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল বলেও তিনি জানান।

বাজারে গরুর মাংস ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গরুর কলিজা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১২০০ টাকায়।

অন্যদিকে বাজারে শীতকালীন বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। শিম ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৬০ টাকা, দেশি গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা এবং সালগম ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি প্রতি পিস ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা এবং লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে বরবটি ১০০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৮০ টাকা, কচুর লতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা, পটল ৮০ টাকা এবং ধুন্দল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচামরিচের দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকা কমে এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকায় নেমেছে। লেবু বিক্রি হচ্ছে হালি প্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। দেশি শসা ৮০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৪০ টাকা এবং খিরাই শসা কেজি প্রতি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাছের দামে কিছুটা তারতম্য দেখা গেছে। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি প্রতি প্রায় ১২০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রামের ইলিশ ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছ ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৭০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে আলু ও পেঁয়াজের দাম আগের মতোই রয়েছে। নতুন আলু ১৬ থেকে ১৮ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। হাঁসের ডিম ২০০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি মুরগির ডিম হালি ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ঈদের এখনো ৭ থেকে ৮ দিন বাকি থাকলেও সেমাই ও চিনির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই পাওয়া যাচ্ছে। খোলা লাচ্ছা সেমাই কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছোট প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাই ৪৫ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলা সেমাই নামে পরিচিত সাধারণ মানের সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়।