Dhaka শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আর্সেনালের বিদায় করে সেমিফাইনালে বায়ার্ন

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০১:৪৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪
  • ১৯৭ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে আর্সেনালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ৪ বছর পর সেমিফাইনালে উঠেছে বায়ার্ন মিউনিখ। প্রথম লেগ ছিল ২-২ সমতার। ফলে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শেষ চারে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে জার্মান ক্লাবটি।

অপরদিকে ২০০৯ সালে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ চারে ওঠার সুযোগ পেয়েছিল। এরপর কেটে গেছে ১৪ বছর। অবশেষে এবার গানারদের সামনে দারুণ একটি সুযোগ এসেছিল। সেটিই পণ্ড করে দিলো বায়ার্ন।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) রাতে বায়ার্নের ঘরের মাঠে দুর্দান্ত লড়াই শুরু করে দুইদল। কেউই কাউকে একবিন্দু ছাড় দিয়ে খেলছে না।

ঘরের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় খেলতে নেমে আর্সেনালের বিপক্ষে সতর্ক ভঙ্গিতেই খেলা শুরু করে বায়ার্ন। ওদিকে আর্সেনালও ছিল সাবধানী। ফলে ম্যাচে আক্রমণের দেখাও মিলে একটু দেরিতেই।

প্রথম ২০ মিনিটে বায়ার্ন গোলে শটই নিতে পারেনি। ম্যাচের ২৪ মিনিটে প্রথম লক্ষ্যে শট নেয় বায়ার্ন, তবে জামাল জুসিয়ালার নেয়া শট প্রতিহত করে গানারদের গোলরক্ষক ডেভিড রায়া।

৩১ মিনিটে ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। মার্টিন ওডেগার্ডের কাছ থেকে পাওয়া বলে শট নিয়েছেন মানুয়েল নয়ারের হাত বরাবর। প্রথমার্ধে গোলমুখে বলার মতো সুযোগ ছিল দুটিই। গোলশূন্য ব্যবধানেই বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পর বায়ার্ন দুদফায় বল লাগিয়েছে পোস্টে। লিওন গোরেৎস্কার জোরালো হেড শুরুতেই ক্রসবারে লাগে। ফিরতি বলে রাফায়েল গেরেইরোর শট আর্সেনাল গোলকিপারের হাতের পর পোস্টে লাগে। ঘরের মাঠে এমন প্রচেষ্টা আরও তাঁতিয়ে দেয় বায়ার্নকে। ব্যবধান বাড়াতে হন্যে হয়ে ওঠে বাভারিয়ানরা।

গোল মিসের এই মহড়ায় ৬৪তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন কিমিখ। লেরয় সানের শট মাথার উপর থেকে হাত দিয়ে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন রায়া। তবে ঠিকঠাক পারেননি। ছুটে গিয়ে সেই বল দখলে নিয়ে খানিক সময় নিয়ে ক্রস করেন গেরেইরো। দারুণ গতিতে হেডে জাল খুঁজে নেন সুযোগসন্ধানী কিমিখ।

৮৭তম মিনিটে কাছ পোস্ট ঘেঁষে ওডেগারের চমৎকার শট নয়ারের হাত ছুঁয়ে বাইরে চলে যায়। তবে কর্নার দেননি রেফারি! বাকি সময়ে গোলের তেমন কোনো সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি আর্সেনাল। ফলে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় প্রিমিয়ার লিগের দলটিকে।

ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে বায়ার্নের প্রতিপক্ষে ইউরোপের সফলতম দল রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১-১ সমতার পর পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ ব্যবধানে জেতে কার্লো আনচেলত্তির দল।

বায়ার্নের শীর্ষ গোলদাতা হ্যারি কেইন ম্যাচ শেষে বলেন, অবিশ্বাস্য জয়। আমাদের জন্য এই মৌসুম ছিল কঠিন। আমাদেরকে লড়াই করতে হতো। আমরা জানতাম এটা কঠিন খেলা কিন্তু ঘরের মাঠে আমাদের ভক্তদের সামনে ভিন্ন কিছু করতে পারি, এই বিশ্বাস ছিল।

আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা বেশ কয়েকটি বদল আনলেও জার্মান বক্সে সত্যিকারের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। কোচ বলেছেন, ‘ফলটা আমাদের জন্য খুব দুঃখজনক ও হতাশার। ছোট ব্যবধানে হারতে হলো। প্রথম লেগে আমরা বাজেভাবে দুটি গোল খেয়েছিলাম। এই ম্যাচে দেখা গেলো কোনও একটি ভুল কিংবা কারও ব্যক্তিগত ঝলক পার্থক্য গড়ে দিলো। ওই গোল তাদের সত্যিই ভালো অবস্থানে নিয়েছিল। আমরা ছিলাম বিবর্ণ, তাতে করে তারা সুযোগ পেয়ে গেলো। এ কারণেই আমাদের বিদায় নিতে হলো।’

সেমিফাইনালে রিয়ালের মাঠের শত্রু বায়ার্ন মিউনিখ। শেষ চারের অন্য ম্যাচে পিএসজি লড়বে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

আর্সেনালের বিদায় করে সেমিফাইনালে বায়ার্ন

প্রকাশের সময় : ০১:৪৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪

স্পোর্টস ডেস্ক : 

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে আর্সেনালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ৪ বছর পর সেমিফাইনালে উঠেছে বায়ার্ন মিউনিখ। প্রথম লেগ ছিল ২-২ সমতার। ফলে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শেষ চারে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে জার্মান ক্লাবটি।

অপরদিকে ২০০৯ সালে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ চারে ওঠার সুযোগ পেয়েছিল। এরপর কেটে গেছে ১৪ বছর। অবশেষে এবার গানারদের সামনে দারুণ একটি সুযোগ এসেছিল। সেটিই পণ্ড করে দিলো বায়ার্ন।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) রাতে বায়ার্নের ঘরের মাঠে দুর্দান্ত লড়াই শুরু করে দুইদল। কেউই কাউকে একবিন্দু ছাড় দিয়ে খেলছে না।

ঘরের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় খেলতে নেমে আর্সেনালের বিপক্ষে সতর্ক ভঙ্গিতেই খেলা শুরু করে বায়ার্ন। ওদিকে আর্সেনালও ছিল সাবধানী। ফলে ম্যাচে আক্রমণের দেখাও মিলে একটু দেরিতেই।

প্রথম ২০ মিনিটে বায়ার্ন গোলে শটই নিতে পারেনি। ম্যাচের ২৪ মিনিটে প্রথম লক্ষ্যে শট নেয় বায়ার্ন, তবে জামাল জুসিয়ালার নেয়া শট প্রতিহত করে গানারদের গোলরক্ষক ডেভিড রায়া।

৩১ মিনিটে ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। মার্টিন ওডেগার্ডের কাছ থেকে পাওয়া বলে শট নিয়েছেন মানুয়েল নয়ারের হাত বরাবর। প্রথমার্ধে গোলমুখে বলার মতো সুযোগ ছিল দুটিই। গোলশূন্য ব্যবধানেই বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পর বায়ার্ন দুদফায় বল লাগিয়েছে পোস্টে। লিওন গোরেৎস্কার জোরালো হেড শুরুতেই ক্রসবারে লাগে। ফিরতি বলে রাফায়েল গেরেইরোর শট আর্সেনাল গোলকিপারের হাতের পর পোস্টে লাগে। ঘরের মাঠে এমন প্রচেষ্টা আরও তাঁতিয়ে দেয় বায়ার্নকে। ব্যবধান বাড়াতে হন্যে হয়ে ওঠে বাভারিয়ানরা।

গোল মিসের এই মহড়ায় ৬৪তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন কিমিখ। লেরয় সানের শট মাথার উপর থেকে হাত দিয়ে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন রায়া। তবে ঠিকঠাক পারেননি। ছুটে গিয়ে সেই বল দখলে নিয়ে খানিক সময় নিয়ে ক্রস করেন গেরেইরো। দারুণ গতিতে হেডে জাল খুঁজে নেন সুযোগসন্ধানী কিমিখ।

৮৭তম মিনিটে কাছ পোস্ট ঘেঁষে ওডেগারের চমৎকার শট নয়ারের হাত ছুঁয়ে বাইরে চলে যায়। তবে কর্নার দেননি রেফারি! বাকি সময়ে গোলের তেমন কোনো সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি আর্সেনাল। ফলে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় প্রিমিয়ার লিগের দলটিকে।

ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে বায়ার্নের প্রতিপক্ষে ইউরোপের সফলতম দল রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১-১ সমতার পর পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ ব্যবধানে জেতে কার্লো আনচেলত্তির দল।

বায়ার্নের শীর্ষ গোলদাতা হ্যারি কেইন ম্যাচ শেষে বলেন, অবিশ্বাস্য জয়। আমাদের জন্য এই মৌসুম ছিল কঠিন। আমাদেরকে লড়াই করতে হতো। আমরা জানতাম এটা কঠিন খেলা কিন্তু ঘরের মাঠে আমাদের ভক্তদের সামনে ভিন্ন কিছু করতে পারি, এই বিশ্বাস ছিল।

আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা বেশ কয়েকটি বদল আনলেও জার্মান বক্সে সত্যিকারের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। কোচ বলেছেন, ‘ফলটা আমাদের জন্য খুব দুঃখজনক ও হতাশার। ছোট ব্যবধানে হারতে হলো। প্রথম লেগে আমরা বাজেভাবে দুটি গোল খেয়েছিলাম। এই ম্যাচে দেখা গেলো কোনও একটি ভুল কিংবা কারও ব্যক্তিগত ঝলক পার্থক্য গড়ে দিলো। ওই গোল তাদের সত্যিই ভালো অবস্থানে নিয়েছিল। আমরা ছিলাম বিবর্ণ, তাতে করে তারা সুযোগ পেয়ে গেলো। এ কারণেই আমাদের বিদায় নিতে হলো।’

সেমিফাইনালে রিয়ালের মাঠের শত্রু বায়ার্ন মিউনিখ। শেষ চারের অন্য ম্যাচে পিএসজি লড়বে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে।