Dhaka শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আমাদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হলো একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা : ইসি সানাউল্লাহ

পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : 

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন কমিশনের নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। আমাদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হলো একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। ইনশাল্লাহ, আমরা সেই পথেই এগিয়ে যাচ্ছি এবং এটি সফল হবে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) পটুয়াখালীতে জাতীয় সংসদ সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলকে সঙ্গে নিয়ে আমি পটুয়াখালী সফর করেছি। দুটি টিমের মাধ্যমে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। যদিও এখনো ১২ দিন বাকি, তারপরও ব্যক্তিগতভাবে প্রস্তুতি দেখে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট এবং আশাবাদী যে পটুয়াখালীতে একটি ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন কোনো নির্দিষ্ট শতাংশ ভোটের ওপর নির্ভর করে না। আমরা চাই শতভাগ ভোটার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হোক। সেই লক্ষ্যেই পরিবেশ ও পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। আশা করছি, মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে।

সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচনকালে সাধারণত যে পরিবেশ থাকে, তার তুলনায় এবার পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও তা সীমিত পরিসরে। আমরা চাই না নির্বাচনের কারণে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হোক। প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে কিছু উত্তেজনা থাকতে পারে, তবে তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকলে ভালো। নির্বাচনের পর আমরা সবাই একই সমাজে বসবাস করব।

বিলবোর্ড সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, বিলবোর্ডে রঙিন পোস্টার ব্যবহারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে ব্যানার, ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। ডিজিটাল বিলবোর্ড থাকলে সেগুলো সাদা-কালো করার প্রয়োজন নেই।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শুধুমাত্র সাধারণ জনগণকে অবহিত করতে পারবেন, সচেতন করতে পারবেন। তবে হ্যাঁ অথবা না ভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সাধারণ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের কোনো পক্ষ বা বিপক্ষ করার সুযোগ নেই। আমরা শুধুমাত্র এই ব্যাপারটাই স্পষ্ট করে দিয়েছি। তার মানে এটা দাঁড়াবে এ রকম সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা শুধুমাত্র সাধারণ জনগণকে অবহিত করতে পারবেন সচেতন করতে পারবেন। তবে হ্যাঁ অথবা না এর ভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন না।

মো. সানাউল্লাহ বলেন, আমরা শুধুমাত্র আইনকে রেফার করে দিয়েছি গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ২১নং ধারায় বলা আছে, সাধারণ নির্বাচনের যা যা নিষিদ্ধ রয়েছে তা গণভোটের জন্য নিষিদ্ধ।

পটুয়াখালীতে নির্বাচনী অবস্থা সম্পর্কে বলেন, ‘নির্বাচনের আর মাত্র ১২ দিন বাকি আছে। পটুয়াখালী নির্বাচনের প্রস্তুতি দেখে আমি খুব সন্তুষ্ট। আশা করছি এখানে একটি সুন্দর সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে এ বছর নির্বাচনের পরিস্থিতি অনেক ভালো। আমরা আশা করছি সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।’

সভায় আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটকেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়, ভিজিল্যান্স টিমের দায়িত্ব ও কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

রিয়ালের সামনে আবারো বেনফিকা, চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে-অফে কে কার মুখোমুখি

আমাদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হলো একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা : ইসি সানাউল্লাহ

প্রকাশের সময় : ১০:০৪:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : 

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন কমিশনের নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। আমাদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হলো একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। ইনশাল্লাহ, আমরা সেই পথেই এগিয়ে যাচ্ছি এবং এটি সফল হবে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) পটুয়াখালীতে জাতীয় সংসদ সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলকে সঙ্গে নিয়ে আমি পটুয়াখালী সফর করেছি। দুটি টিমের মাধ্যমে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। যদিও এখনো ১২ দিন বাকি, তারপরও ব্যক্তিগতভাবে প্রস্তুতি দেখে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট এবং আশাবাদী যে পটুয়াখালীতে একটি ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন কোনো নির্দিষ্ট শতাংশ ভোটের ওপর নির্ভর করে না। আমরা চাই শতভাগ ভোটার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হোক। সেই লক্ষ্যেই পরিবেশ ও পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। আশা করছি, মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে।

সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচনকালে সাধারণত যে পরিবেশ থাকে, তার তুলনায় এবার পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও তা সীমিত পরিসরে। আমরা চাই না নির্বাচনের কারণে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হোক। প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে কিছু উত্তেজনা থাকতে পারে, তবে তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকলে ভালো। নির্বাচনের পর আমরা সবাই একই সমাজে বসবাস করব।

বিলবোর্ড সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, বিলবোর্ডে রঙিন পোস্টার ব্যবহারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে ব্যানার, ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। ডিজিটাল বিলবোর্ড থাকলে সেগুলো সাদা-কালো করার প্রয়োজন নেই।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শুধুমাত্র সাধারণ জনগণকে অবহিত করতে পারবেন, সচেতন করতে পারবেন। তবে হ্যাঁ অথবা না ভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সাধারণ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের কোনো পক্ষ বা বিপক্ষ করার সুযোগ নেই। আমরা শুধুমাত্র এই ব্যাপারটাই স্পষ্ট করে দিয়েছি। তার মানে এটা দাঁড়াবে এ রকম সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা শুধুমাত্র সাধারণ জনগণকে অবহিত করতে পারবেন সচেতন করতে পারবেন। তবে হ্যাঁ অথবা না এর ভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন না।

মো. সানাউল্লাহ বলেন, আমরা শুধুমাত্র আইনকে রেফার করে দিয়েছি গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ২১নং ধারায় বলা আছে, সাধারণ নির্বাচনের যা যা নিষিদ্ধ রয়েছে তা গণভোটের জন্য নিষিদ্ধ।

পটুয়াখালীতে নির্বাচনী অবস্থা সম্পর্কে বলেন, ‘নির্বাচনের আর মাত্র ১২ দিন বাকি আছে। পটুয়াখালী নির্বাচনের প্রস্তুতি দেখে আমি খুব সন্তুষ্ট। আশা করছি এখানে একটি সুন্দর সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে এ বছর নির্বাচনের পরিস্থিতি অনেক ভালো। আমরা আশা করছি সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।’

সভায় আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটকেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়, ভিজিল্যান্স টিমের দায়িত্ব ও কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।