Dhaka রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আকাশপথে ঢাকা-বরিশাল যাতায়াতে ভোগান্তি, মিলছে না পর্যাপ্ত ফ্লাইট

বরিশাল জেলা প্রতিনিধি : 

যাত্রী চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ঢাকা-বরিশাল আকাশপথে একের পর এক ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়ায় চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিয়মিত যাত্রীরা। একসময় প্রতিদিন আটটি ফ্লাইট চলাচল করলেও বর্তমানে সপ্তাহে মাত্র দুই দিন দুটি করে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। ফলে স্বল্প সময়ে রাজধানীতে যাতায়াতের সুযোগ হারিয়ে বাধ্য হয়ে সড়কপথে দীর্ঘ ভ্রমণ করতে হচ্ছে যাত্রীদের।

বর্তমানে শুক্রবার ও রোববার বেসরকারি বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুটি ফ্লাইট চলাচল করলেও যাত্রী চাহিদার তুলনায় তা একেবারেই অপ্রতুল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্র জানায়, বর্তমানে শুক্রবার ও রোববার ফ্লাইট চালু রয়েছে। আগে বৃহস্পতিবার একটি ফ্লাইট চালু থাকলেও এয়ারক্রাফট সংকটের কারণে সেটি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে বৃহস্পতিবারের ফ্লাইটটি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রীদের চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। তারা দ্রুত এই রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

বরিশাল বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, পদ্মা সেতু চালুর আগে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস প্রতিদিন চারটি, বাংলাদেশ বিমান ও নভোএয়ার দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করত। পরে নানাবিধ সংকটের অজুহাতে প্রথমে নভোএয়ার ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়। এরপর ইউএস-বাংলা দৈনিক চারটি থেকে কমিয়ে দুটি এবং একপর্যায়ে যাত্রী সংকট দেখিয়ে সেগুলোর চলাচলও বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ বিমান নিয়মিত ফ্লাইট চালু রাখলেও একসময় যাত্রী সংকটের অজুহাতে তা সপ্তাহে তিন দিনে সীমিত করা হয়।

সর্বশেষ গত বছরের ২৫ জুলাই থেকে সাময়িকভাবে এই রুটে ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বরিশালসহ পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার সঙ্গে আকাশপথে দ্রুত যোগাযোগ ব্যাহত হয়। পরে ৮ আগস্ট থেকে সপ্তাহে দুই দিন শুক্রবার ও রোববার ৭৪ আসনের ‘ড্যাশ ৮-কিউ৪০০ মডেলের উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হয়।

নিয়মিত যাত্রী শফিকুল ইসলাম বলেন, যাত্রী চাহিদা থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত ফ্লাইট না থাকায় আমাদের সড়কপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময় ও কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।

আরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ঢাকা-বরিশাল রুটে অল্প সময়ে যাতায়াত সম্ভব হলেও লোকসানের অজুহাতে ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে, যা বোধগম্য নয়। দ্রুত সব এয়ারলাইনস প্রতিদিন ফ্লাইট চালু করবে, এটাই প্রত্যাশা করি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমান সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী কিছুটা কমলেও মাঝেমধ্যে ফ্লাইট পুরোপুরি ভর্তি থাকে। ফ্লাইট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বিমান কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করছে।

বরিশাল বিমানবন্দরে কর্মরত বাংলাদেশ এয়ারলাইনস গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রান্ত খান বলেন, বর্তমানে প্রতিটি ফ্লাইট ৭০-৮০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। যাত্রী সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। আরও একটি ফ্লাইট যোগ হলে যাত্রীদের উপকার হবে।

নিরাপত্তা সহকারী মনমত সরকার বলেন, ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ালে যাত্রীও বাড়বে। আগে নিয়মিত ফ্লাইট ছিল এবং যাত্রীও ছিল। সুবিধাজনক সিডিউল করা গেলে পরিস্থিতি আরও ভালো হবে।

এদিকে বরিশালের ট্রাভেলস এজেন্সিগুলো মনে করছে, রোববার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে এবং বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে ফ্লাইট সিডিউল নির্ধারণ করা হলে যাত্রী সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে।

বরিশাল বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার বলেন, ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী সংখ্যা সন্তোষজনক। এ বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। নীতিগত সিদ্ধান্ত উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষই জানাতে পারবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

নাহিদ ইসলাম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ইসির শোকজ

আকাশপথে ঢাকা-বরিশাল যাতায়াতে ভোগান্তি, মিলছে না পর্যাপ্ত ফ্লাইট

প্রকাশের সময় : ০৯:০৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

বরিশাল জেলা প্রতিনিধি : 

যাত্রী চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ঢাকা-বরিশাল আকাশপথে একের পর এক ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়ায় চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিয়মিত যাত্রীরা। একসময় প্রতিদিন আটটি ফ্লাইট চলাচল করলেও বর্তমানে সপ্তাহে মাত্র দুই দিন দুটি করে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। ফলে স্বল্প সময়ে রাজধানীতে যাতায়াতের সুযোগ হারিয়ে বাধ্য হয়ে সড়কপথে দীর্ঘ ভ্রমণ করতে হচ্ছে যাত্রীদের।

বর্তমানে শুক্রবার ও রোববার বেসরকারি বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুটি ফ্লাইট চলাচল করলেও যাত্রী চাহিদার তুলনায় তা একেবারেই অপ্রতুল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্র জানায়, বর্তমানে শুক্রবার ও রোববার ফ্লাইট চালু রয়েছে। আগে বৃহস্পতিবার একটি ফ্লাইট চালু থাকলেও এয়ারক্রাফট সংকটের কারণে সেটি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে বৃহস্পতিবারের ফ্লাইটটি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রীদের চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। তারা দ্রুত এই রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

বরিশাল বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, পদ্মা সেতু চালুর আগে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস প্রতিদিন চারটি, বাংলাদেশ বিমান ও নভোএয়ার দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করত। পরে নানাবিধ সংকটের অজুহাতে প্রথমে নভোএয়ার ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়। এরপর ইউএস-বাংলা দৈনিক চারটি থেকে কমিয়ে দুটি এবং একপর্যায়ে যাত্রী সংকট দেখিয়ে সেগুলোর চলাচলও বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ বিমান নিয়মিত ফ্লাইট চালু রাখলেও একসময় যাত্রী সংকটের অজুহাতে তা সপ্তাহে তিন দিনে সীমিত করা হয়।

সর্বশেষ গত বছরের ২৫ জুলাই থেকে সাময়িকভাবে এই রুটে ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বরিশালসহ পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার সঙ্গে আকাশপথে দ্রুত যোগাযোগ ব্যাহত হয়। পরে ৮ আগস্ট থেকে সপ্তাহে দুই দিন শুক্রবার ও রোববার ৭৪ আসনের ‘ড্যাশ ৮-কিউ৪০০ মডেলের উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হয়।

নিয়মিত যাত্রী শফিকুল ইসলাম বলেন, যাত্রী চাহিদা থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত ফ্লাইট না থাকায় আমাদের সড়কপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময় ও কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।

আরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ঢাকা-বরিশাল রুটে অল্প সময়ে যাতায়াত সম্ভব হলেও লোকসানের অজুহাতে ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে, যা বোধগম্য নয়। দ্রুত সব এয়ারলাইনস প্রতিদিন ফ্লাইট চালু করবে, এটাই প্রত্যাশা করি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমান সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী কিছুটা কমলেও মাঝেমধ্যে ফ্লাইট পুরোপুরি ভর্তি থাকে। ফ্লাইট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বিমান কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করছে।

বরিশাল বিমানবন্দরে কর্মরত বাংলাদেশ এয়ারলাইনস গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রান্ত খান বলেন, বর্তমানে প্রতিটি ফ্লাইট ৭০-৮০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। যাত্রী সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। আরও একটি ফ্লাইট যোগ হলে যাত্রীদের উপকার হবে।

নিরাপত্তা সহকারী মনমত সরকার বলেন, ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ালে যাত্রীও বাড়বে। আগে নিয়মিত ফ্লাইট ছিল এবং যাত্রীও ছিল। সুবিধাজনক সিডিউল করা গেলে পরিস্থিতি আরও ভালো হবে।

এদিকে বরিশালের ট্রাভেলস এজেন্সিগুলো মনে করছে, রোববার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে এবং বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে ফ্লাইট সিডিউল নির্ধারণ করা হলে যাত্রী সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে।

বরিশাল বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার বলেন, ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী সংখ্যা সন্তোষজনক। এ বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। নীতিগত সিদ্ধান্ত উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষই জানাতে পারবে।