Dhaka সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাগেরহাটে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় সড়কের ছোট বড় খানাখন্দে ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি : 

বাগেরহাটের দশানী-রামপাল-মোংলা আঞ্চলিক মহাসড়ক ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় সড়কটিতে ছোট বড় খানাখন্দ, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি, বৃষ্টির দিনে কাদা ও রাস্তা দেবে ভারী যানবাহন আটকে যাওয়ায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়ক সংস্কারের দাবিতে দফায় দফায় মানববন্ধন, দপ্তরে দপ্তরে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দশানী থেকে কাশিমপুর পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে দেখা যায়, মির্জাপুর এলাকায় সড়কের মাঝে রাস্তা দেবে আটকে আছে ট্রাক। রাস্তা খুঁড়ে চলছে উদ্ধার কাজ। পাশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, মহেন্দ্রর মতো ছোট ছোট যানবাহন। ঝুঁকি থাকায় যাত্রী নামিয়ে যানবাহনগুলো ঠেলে পার করা হচ্ছে। নিজেদের দুর্ভোগ কমাতে সড়কের অনেক জায়গায় ইট বিছিয়ে দিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া পুরো সড়কই ভাঙাচোরা। হেলেদুলে চলছে যানবাহন। তার ওপর অর্ধনির্মিত ব্রিজ ও কালভার্টের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দাসহ সড়ক ব্যবহারকারীদের। দীর্ঘদিন সড়কটির সংস্কার কাজ না হওয়ায় পিচঢালা সড়কটি যেন গ্রামের মেঠোপথ হয়ে গেছে।

মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা ফয়সাল শেখ বলেন, দিন যাচ্ছে, রাস্তা আরও খারাপ হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের হই না এখন। কখনো ট্রাক উল্টে পড়ে কখনো আবার ইজিবাইকের চাকা ভেঙে যায়। রাস্তা নিয়ে আমাদের এই দুর্ভোগ কবে শেষ হবে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। মাঝে মাঝে মনে হয় বাড়িঘর বিক্রি করে চলে যাই।

রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে কাড়াপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী রানা আকুঞ্জি বলেন, দোকানপাট খুলতে পারি না, ধুলাবালিতে ভরে যায়। এই রাস্তায় মালামাল বোঝায় করে কোনো গাড়ি আসতে চায় না। মালামাল নিয়ে আসতে হলে ৫০০ টাকার ভাড়া ১০০০ টাকা দিতে হয়। অতিরিক্ত এ ভাড়া দিতে গিয়েতো পণ্যের পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়।

আরিফ হাসান নামের এক অটোচালক বলেন, দুইদিন পরপর গাড়ি গ্যারেজে নিতে হয়। খোয়ার জন্য গাড়ির টায়ার, টিউব ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। মাঝেমাঝে চাকা ফেটে যায়। অটোরিকশা চালিয়ে যা আয় করি তার বেশিরভাগই গ্যারেজে দিয়ে আসতে হয়।

ইমন শেখ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, অর্ধনির্মিত কালভার্টের কারণে এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা হয়। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় কাদা-পানি জমে যায়। ২০ টাকার ভাড়া ৪০ টাকা দিয়ে কলেজে যেতে হয়। একটু রাত হলে রিকশা, ইজিবাইক আসতেও চায় না।

স্থানীয় বাসিন্দা তানজীম আহমেদ বলেন, অন্তত ৫-৭ বছর মানুষের দুর্ভোগের কোনো শেষ নেই। সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে যায়। বাগেরহাট জেলার ভিতরে এমন খারাপ রাস্তা আর কোথাও নাই।

বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দশানী-রামপাল-মোংলা আঞ্চলিক মহাসসড়কটি প্রশস্তকরণ, সম্প্রসারণ ও সংস্কারের জন্য চারটি প্যাকেজে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০২২ সালের আগস্ট মাসে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ৩৩ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটিতে ৮টি সেতু, ২১টি কালভার্ট রয়েছে। জমি অধিগ্রহণ, সংস্কার ও নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬৭ কোটি টাকা।

প্রথম প্যাকেজে দশানী থেকে হেলাতলা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহাবুব ব্রাদার্স। এক বছরের বেশি সময় তাদের কাজ বন্ধ ছিল। দুই দফা সময় বাড়িয়েও মাত্র ১৫ শতাংশ কাজ শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। দফায় দফায় সময় বাড়িয়েও কাজ শেষ করতে না পারায় ২২ মে তাদের কার্যাদেশ বাতিল করে সড়ক বিভাগ। এছাড়া বাকি তিনটি প্যাকেজের গিলাতলা বাজার থেকে রামপাল হয়ে মোংলা পর্যন্ত ২৩ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার সড়কের ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

এ বিষয়ে বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, দুই দফায় সময় বাড়িয়েও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্স। অবশেষে ২২ মে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে শিগগিরই সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণের কাজ করা হবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বাগেরহাটে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় সড়কের ছোট বড় খানাখন্দে ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

প্রকাশের সময় : ০২:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি : 

বাগেরহাটের দশানী-রামপাল-মোংলা আঞ্চলিক মহাসড়ক ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় সড়কটিতে ছোট বড় খানাখন্দ, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি, বৃষ্টির দিনে কাদা ও রাস্তা দেবে ভারী যানবাহন আটকে যাওয়ায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়ক সংস্কারের দাবিতে দফায় দফায় মানববন্ধন, দপ্তরে দপ্তরে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দশানী থেকে কাশিমপুর পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে দেখা যায়, মির্জাপুর এলাকায় সড়কের মাঝে রাস্তা দেবে আটকে আছে ট্রাক। রাস্তা খুঁড়ে চলছে উদ্ধার কাজ। পাশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, মহেন্দ্রর মতো ছোট ছোট যানবাহন। ঝুঁকি থাকায় যাত্রী নামিয়ে যানবাহনগুলো ঠেলে পার করা হচ্ছে। নিজেদের দুর্ভোগ কমাতে সড়কের অনেক জায়গায় ইট বিছিয়ে দিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া পুরো সড়কই ভাঙাচোরা। হেলেদুলে চলছে যানবাহন। তার ওপর অর্ধনির্মিত ব্রিজ ও কালভার্টের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দাসহ সড়ক ব্যবহারকারীদের। দীর্ঘদিন সড়কটির সংস্কার কাজ না হওয়ায় পিচঢালা সড়কটি যেন গ্রামের মেঠোপথ হয়ে গেছে।

মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা ফয়সাল শেখ বলেন, দিন যাচ্ছে, রাস্তা আরও খারাপ হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের হই না এখন। কখনো ট্রাক উল্টে পড়ে কখনো আবার ইজিবাইকের চাকা ভেঙে যায়। রাস্তা নিয়ে আমাদের এই দুর্ভোগ কবে শেষ হবে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। মাঝে মাঝে মনে হয় বাড়িঘর বিক্রি করে চলে যাই।

রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে কাড়াপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী রানা আকুঞ্জি বলেন, দোকানপাট খুলতে পারি না, ধুলাবালিতে ভরে যায়। এই রাস্তায় মালামাল বোঝায় করে কোনো গাড়ি আসতে চায় না। মালামাল নিয়ে আসতে হলে ৫০০ টাকার ভাড়া ১০০০ টাকা দিতে হয়। অতিরিক্ত এ ভাড়া দিতে গিয়েতো পণ্যের পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়।

আরিফ হাসান নামের এক অটোচালক বলেন, দুইদিন পরপর গাড়ি গ্যারেজে নিতে হয়। খোয়ার জন্য গাড়ির টায়ার, টিউব ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। মাঝেমাঝে চাকা ফেটে যায়। অটোরিকশা চালিয়ে যা আয় করি তার বেশিরভাগই গ্যারেজে দিয়ে আসতে হয়।

ইমন শেখ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, অর্ধনির্মিত কালভার্টের কারণে এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা হয়। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় কাদা-পানি জমে যায়। ২০ টাকার ভাড়া ৪০ টাকা দিয়ে কলেজে যেতে হয়। একটু রাত হলে রিকশা, ইজিবাইক আসতেও চায় না।

স্থানীয় বাসিন্দা তানজীম আহমেদ বলেন, অন্তত ৫-৭ বছর মানুষের দুর্ভোগের কোনো শেষ নেই। সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে যায়। বাগেরহাট জেলার ভিতরে এমন খারাপ রাস্তা আর কোথাও নাই।

বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দশানী-রামপাল-মোংলা আঞ্চলিক মহাসসড়কটি প্রশস্তকরণ, সম্প্রসারণ ও সংস্কারের জন্য চারটি প্যাকেজে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০২২ সালের আগস্ট মাসে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ৩৩ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটিতে ৮টি সেতু, ২১টি কালভার্ট রয়েছে। জমি অধিগ্রহণ, সংস্কার ও নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬৭ কোটি টাকা।

প্রথম প্যাকেজে দশানী থেকে হেলাতলা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহাবুব ব্রাদার্স। এক বছরের বেশি সময় তাদের কাজ বন্ধ ছিল। দুই দফা সময় বাড়িয়েও মাত্র ১৫ শতাংশ কাজ শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। দফায় দফায় সময় বাড়িয়েও কাজ শেষ করতে না পারায় ২২ মে তাদের কার্যাদেশ বাতিল করে সড়ক বিভাগ। এছাড়া বাকি তিনটি প্যাকেজের গিলাতলা বাজার থেকে রামপাল হয়ে মোংলা পর্যন্ত ২৩ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার সড়কের ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

এ বিষয়ে বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, দুই দফায় সময় বাড়িয়েও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্স। অবশেষে ২২ মে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে শিগগিরই সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণের কাজ করা হবে।