Dhaka শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সঙ্কটে বন্ধের শঙ্কায় গাজার অনেক হাসপাতাল, নিহত আরো ৩৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বর্বর হামলায় আরও ৩৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা ৪০ হাজার ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া গত বছরের অক্টোবর থেকে চলা এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৯২ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজা উপত্যকাজুড়ে কমপক্ষে আরও ৩৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে। অন্যদিকে গাজার হাসপাতালগুলো সতর্ক করে বলেছে, হাসপাতালে জ্বালানির ঘাটতির কারণে শিশুরা মারা যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সোমবারের হতাহতদের মধ্যে ১৩ জন গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন। আল জাজিরা অ্যারাবিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা সিটির পশ্চিম দিকে জাতিসংঘ পরিচালিত শাতি শরণার্থী শিবিরে ফিলিস্তিনিদের একটি দলকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে ৯ জনের প্রাণ যায়।

গাজা সিটির উত্তর দিকে একটি বেসামরিক গাড়িতে ইসরায়েলি বাহিনীর বোমাবর্ষণে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি তথ্যকেন্দ্র (প্যালইনফো) এমনটি জানিয়েছে। এটি আরও বলছে, গাজা সিটির দক্ষিণ দিকের সাবরা অঞ্চলে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো বাড়িতে বাড়িতে গুলি করছিল।

উত্তর গাজায় অবস্থিত কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক হুসাম আবু সাফিয়া আল জাজিরাকে বলেন, ১১ শিশু নার্সারি ও নিবিড় পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে রয়েছে। জ্বালানি স্বল্পতায় আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের মৃত্যুঝুঁকি রয়েছে।

গাজা থেক আল জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খুদারি বলেন, আবু সাফিয়া সতর্ক করে দিয়ে বলেন, শিশুদের মধ্যে নবজাতকরা উত্তর গাজায় জ্বালানি না প্রবেশ করা পর্যন্ত ঝুঁকিতে।

তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি গাড়ি বহর জ্বালানি ও ওষুধ নিয়ে উত্তর গাজার দিকে যাচ্ছে। তবে তারা এখনো তারা ইসরায়েলি বাহিনীর সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় তল্লাশি চৌকিতেই আটকে আছে। এ কারণে তাদের হাসপাতালে যাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ৭ অক্টোবর থেকে ৩৩টি চিকিৎসা স্থাপনা বন্ধ হয়েছে। বাকি হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম চালু রাখতে দিনে চার হাজার লিটার জ্বালানি প্রয়োজন হয়।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

মূলত গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সত্ত্বেও ইসরায়েল অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে তার নৃশংস আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, ইসরায়েলি হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজার ১৩৯ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া আরও ৯২ হাজার ৭৪৩ জন মানুষ আহত হয়েছেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

পরিবেশের টেকসই উন্নয়নে অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে : পরিবেশ উপদেষ্টা

জ্বালানি সঙ্কটে বন্ধের শঙ্কায় গাজার অনেক হাসপাতাল, নিহত আরো ৩৫

প্রকাশের সময় : ০৭:৫৭:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০২৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বর্বর হামলায় আরও ৩৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা ৪০ হাজার ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া গত বছরের অক্টোবর থেকে চলা এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৯২ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজা উপত্যকাজুড়ে কমপক্ষে আরও ৩৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে। অন্যদিকে গাজার হাসপাতালগুলো সতর্ক করে বলেছে, হাসপাতালে জ্বালানির ঘাটতির কারণে শিশুরা মারা যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সোমবারের হতাহতদের মধ্যে ১৩ জন গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন। আল জাজিরা অ্যারাবিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা সিটির পশ্চিম দিকে জাতিসংঘ পরিচালিত শাতি শরণার্থী শিবিরে ফিলিস্তিনিদের একটি দলকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে ৯ জনের প্রাণ যায়।

গাজা সিটির উত্তর দিকে একটি বেসামরিক গাড়িতে ইসরায়েলি বাহিনীর বোমাবর্ষণে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি তথ্যকেন্দ্র (প্যালইনফো) এমনটি জানিয়েছে। এটি আরও বলছে, গাজা সিটির দক্ষিণ দিকের সাবরা অঞ্চলে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো বাড়িতে বাড়িতে গুলি করছিল।

উত্তর গাজায় অবস্থিত কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক হুসাম আবু সাফিয়া আল জাজিরাকে বলেন, ১১ শিশু নার্সারি ও নিবিড় পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে রয়েছে। জ্বালানি স্বল্পতায় আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের মৃত্যুঝুঁকি রয়েছে।

গাজা থেক আল জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খুদারি বলেন, আবু সাফিয়া সতর্ক করে দিয়ে বলেন, শিশুদের মধ্যে নবজাতকরা উত্তর গাজায় জ্বালানি না প্রবেশ করা পর্যন্ত ঝুঁকিতে।

তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি গাড়ি বহর জ্বালানি ও ওষুধ নিয়ে উত্তর গাজার দিকে যাচ্ছে। তবে তারা এখনো তারা ইসরায়েলি বাহিনীর সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় তল্লাশি চৌকিতেই আটকে আছে। এ কারণে তাদের হাসপাতালে যাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ৭ অক্টোবর থেকে ৩৩টি চিকিৎসা স্থাপনা বন্ধ হয়েছে। বাকি হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম চালু রাখতে দিনে চার হাজার লিটার জ্বালানি প্রয়োজন হয়।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

মূলত গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সত্ত্বেও ইসরায়েল অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে তার নৃশংস আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, ইসরায়েলি হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজার ১৩৯ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া আরও ৯২ হাজার ৭৪৩ জন মানুষ আহত হয়েছেন।