আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
আফ্রিকার পর এবার সুইডেনে শনাক্ত হয়েছে মাঙ্কিপক্স। দেশটিতে মাঙ্কিপক্সের ভয়াবহ একটি ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়েছে। যা আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকা ব্যক্তির মাঝেও তা সংক্রমিত হচ্ছে।
আল জাজিরা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) সুইডিশ সরকার এ তথ্য জানিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এটি অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়বে।
সুইডেনের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রী জ্যাকব ফরসমেড বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমাদের দেশে মাঙ্কিপক্সের একটি বিপজ্জনক ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়েছে। যার নাম ক্লেল আই।
এদিকে আফ্রিকার কঙ্গসহ আরও কিছু দেশে মাঙ্কিপক্সি ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দুই বছরের মধ্যে আবারও বুধবার বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। তবে কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রে মাঙ্কিপক্স ছড়িয়ে পড়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
সুইডেনের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন বা সপ্তাহের মধ্যে এটি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে।
সুইডেন রাজ্যের মহামারি বিশেষজ্ঞ ম্যাগনাস গিসলেন এক বিবৃতিতে বলেন, যে ব্যক্তি মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি আফ্রিকা ভ্রমণ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চাইলে তাকে স্টকহোমে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ওই ব্যক্তির চিকিৎসার ফলে তা জনসাধারণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করবে না।’
বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হয়েছে কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ৫৪৮ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কঙ্গোর আশপাশের দেশগুলোতে এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
সুইডেনের জনস্বাস্থ্য সংস্থা বৃহস্পতিবার এএফপিকে জানিয়েছে, তারা ক্লেড ১বি সাবক্লেডে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। ভাইরাসের এই নতুন স্ট্রেন ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিআরসিতে বেড়েছে। সংস্থাটি একটি পৃথক বিবৃতিতে বলেছে, ‘স্টকহোমে একজন ব্যক্তির শরীরে ক্লেড১ ভেরিয়েন্টের এমপক্স সনাক্ত করা হয়েছে। আফ্রিকা মহাদেশের বাইরে এটিই প্রথম ঘটনা।
রাজ্যের মহামারী বিশেষজ্ঞ ম্যাগনাস গিসলেন বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আফ্রিকার সেই অংশে যেখানে এমপিক্স ক্লেড ১- এর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে এবং সফরের সময় ওই ব্যক্তি সংক্রামিত হয়।’
সুইডেনের জনস্বাস্থ্য সংস্থা আরো বলেছে, ‘আক্রান্ত ব্যক্তি স্টকহোমে চিকিৎসার জন্য এসেছেন। তবে সুইডেনে তিনি চিকিৎসা নেওয়ার মানেই এই নয় যে, বৃহত্তর পরিসরে মানুষের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে।’ কোপেনহেগেনে ডব্লিউএইচওর ইউরোপীয় আঞ্চলিক কার্যালয় বলেছে, ঘটনাটি কীভাবে সর্বোত্তমভাবে সমাধান করা যায়, তা নিয়ে তারা সুইডেনের সঙ্গে আলোচনা করছে।
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গত দুই বছরের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো এমপক্সের কারণে জরুরি অবস্থা জারি করা হলো। এর আগে ২০২২ সালে এর প্রাদুর্ভাবের কারণে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল।
মাঙ্কিপক্স ভাইরাসজনিত এ সংক্রমণ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআরসি) পর মধ্য ও পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতেও ছড়িয়েছে। মাংকিপক্স হিসেবে পরিচিত অত্যন্ত সংক্রামক এই রোগের প্রাথমিক প্রাদুর্ভাব চলাকালে কঙ্গোয় অন্তত ৪৫০ জনের মৃত্যু হয়।
মাঙ্কিপক্স ভাইরাস প্রথম পশু থেকে মানুষে সংক্রমিত হওয়ার পর এখন মানুষ থেকে মানুষেও ছড়াচ্ছে। এমপক্স ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ যেমন, যৌন সম্পর্ক, গায়ে গা লাগা ও অন্য জনের খুব কাছে গিয়ে কথা বলা বা নিঃশ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে ছড়ায়। এই রোগের সংক্রমণে জ্বরের মতো লক্ষণ দেখা দেয়, চামড়ায় ক্ষত তৈরি হয় আর এটি প্রাণঘাতী হতে পারে; এই রোগে আক্রান্ত প্রতি ১০০ জনের মধ্যে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়।